শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ১৪ ডিসেম্বর: ১৯৭১-এর গণহত্যায় নিহত জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ
উদয়ের পথে শুনি কার বাণী
ভয় নাই ওরে ভয় নাই
নিঃশেষে প্রান যে করিবে দান
ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।
১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গভীর বেদনাবিধুর অধ্যায়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার পরিকল্পিতভাবে দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের হত্যা করে। জাতিকে মেধাশূন্য করার এই ষড়যজ্ঞে প্রাণ হারানো শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ও তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতেই তাঁদের স্মরণ।
১. শহীদ বুদ্ধিজীবী: এ.এন.এম. মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১)। পুরো নাম আবু নয়ীম মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী। প্রখ্যাত বাঙালি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক এবং ভাষাবিজ্ঞানী, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার ও রাজাকার বাহিনী কর্তৃক অপহৃত ও শহীদ হন।
২. শহীদ বুদ্ধিজীবী গিয়াস উদ্দিন আহমেদ (১৯৩৩-১৯৭১)। ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপক যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার ও রাজাকার বাহিনী কর্তৃক অপহৃত ও শহীদ হন।
৩. শহীদ বুদ্ধিজীবী এস. এম. এ. রাশীদুল হাসান (১ নভেম্বর, ১৯৩২ - ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১) একজন বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ, শহীদ বুদ্ধিজীবী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এ দেশীয় রাজাকার তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষক আনোয়ার পাশার বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। ২২ দিন পর অন্যান্য বুদ্ধিজীবীদের মৃতদেহের সাথে তার লাশ ঢাকার মিরপুরের রায়েরবাজার বদ্ধভূমিতে পাওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
৪. শহীদ বুদ্ধিজীবী মোহাম্মদ আনোয়ার পাশা (১৯২৮-১৯৭১) ছিলেন একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রখ্যাত কবি এবং ঔপন্যাসিক । যিনি ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকারদের হাতে হিসেবে অপহৃত ও নির্মমভাবে শহীদ হন।
৫. শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা (১৯৩১-১৯৭১) ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চিকিৎসক, লেখক ও প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী, যিনি ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকারদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন।
৬. শহীদ বুদ্ধিজীবী যোগেশ চন্দ্র ঘোষ (১৮৮৭-১৯৭১) ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, আয়ুর্বেদ শাস্ত্র বিশারদ ও সাধনা ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। যিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার ও রাজাকার বাহিনী কর্তৃক নিহত হন। তিনি জগন্নাথ কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন ।
৭. শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদ সাবের (জন্ম: ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৩০ - মৃত্যু: ৩১ মার্চ, ১৯৭১) ছিলেন একজন কথাশিল্পী, সাংবাদিক। ৯৭১ সালের ৩১ মার্চ পাকিস্তানি সামরিক জান্তা নিয়ন্ত্রিত পাক হানাদার বাহিনী পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে দৈনিক সংবাদ পত্রিকার কার্যালয়ে আর সেই আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান সংবাদ অফিসে ঘুমন্ত থাকা বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সাংবাদিক শহীদ সাবের।
৮. শহীদ বুদ্ধিজীবী ফজলুর রহমান খান (২ মার্চ ১৯৩৯-মার্চ ২৬, ১৯৭১) ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ভোর রাতে পাকিস্তানি সেনারা তাকে তার তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমান জহুরুল হক হল) আবাসিক শিক্ষকদের বসবাসের ভবনের নিজ শয়ন কক্ষে গুলি করে হত্যা করে।
৯. শহীদ বুদ্ধিজীবী রণদা প্রসাদ সাহা (১৫ নভেম্বর ১৮৯৬ - ৭ মে ১৯৭১) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি ব্যবসায়ী, সমাজসেবক, দানবীর এবং মানবতাবাদী, যিনি আর. পি. সাহা নামেই বেশি পরিচিত; ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকারদের হাতে অপহৃত ও শহীদ হন।
১০. শহীদ বুদ্ধিজীবী জহির রায়হান (১৯৩৫-১৯৭২) ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, ঔপন্যাসিক ও গল্পকার, যিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় 'স্টপ জেনোসাইড' ও 'জীবন থেকে নেওয়া'র মতো কালজয়ী কাজ করেছেন এবং ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি মিরপুরের বধ্যভূমিতে বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে নিখোঁজ হন, যাঁর অন্তর্ধান আজও এক অমীমাংসিত রহস্য।
১১. শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ শামশাদ আলী (১৯৩৪-১৯৭১) ছিলেন একজন বাংলাদেশী চিকিৎসক এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া একজন বুদ্ধিজীবী, যিনি সংস্কৃতিমনা, ক্রীড়াবিদ ও গায়ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতেন; তাকে ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ধরে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে।
১২. শহীদ বুদ্ধিজীবী সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য (৩ আগস্ট ১৯১৫ - ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১) ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের একজন শিক্ষক। ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর দুপুরবেলা মাইক্রবাস নিয়ে কয়েকজন ছাত্র( রাজাকার) এসে সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্যকে বলে স্যার আমাদের সাথে যেতে হবে। তাকে চোখ বাধা অবস্থায় বর্তমান মীরপুর শহীদ মিনারে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়। সন্তোষচন্দ্রর লাশ যখন পাওয়া যায় তখন তার মুখের ভিতর কোন দাঁত ছিল না, মাথায় কোন চুলও ছিল না।
১৩. শহীদ বুদ্ধিজীবী ফেরদৌস-দৌলা বাবলু (১৯৩৯-১৯৭১) ছিলেন কবি, অভিনয় শিল্পী। মালোপাড়া, রাজশাহী। ভারত থেকে ট্রেনিং নিয়ে আবার রাজশাহী ফিরে আসেন এবং বিভিন্ন অপারেশনে অংশ নেন। একই সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপালের সহায়তায় চাকরি করতে থাকেন। এখান থেকেই একাত্তরের ২৬ নভেম্বর এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ইপিকাফ কমান্ডার রিয়াজউদ্দিনের সহায়তায় পাঞ্জাবি ক্যাপ্টেন চাকরিস্থল থেকে ধরে নিয়ে যায়। কালো কাপড়ে দুজন বাবলুকে চিনিয়ে দেয়। তারপর আর ফিরে আসেননি বাবলু।
১৪. শহীদ বুদ্ধিজীবী ক্যাপ্টেন এ.কে.এম. নুরুল আবসার (১৯৪২-১৯৭১), ১৯৭১ সালে এপ্রিল/মে মাসের দিকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার জন্য জীপে করে সৈয়দপুর থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পর আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। জানা যায় এই বীর একাই পাকিস্থানের ২০টা ট্যাংক বিকল করে দিয়েছিলেন।
১৫. শহীদ বুদ্ধিজীবী মিজানুর রহমান মিজু (১৯৪৮-১৯৭১) ছিলেন একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা ও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, যিনি পিরোজপুর মহকুমার ট্রেজারি অফিসার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং সম্ভবত ডিসেম্বরের ৯ বা ১৬ তারিখে খান সেনাদের হাতে ধরা পড়ে শহীদ হন।
১৬. শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব (জি. সি. দেব নামে পরিচিত) ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের একজন প্রখ্যাত অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দার্শনিক। যিনি ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক শহীদ হন; তিনি ছিলেন মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক।
১৭. শহীদ বুদ্ধিজীবী এ.এন.এম মুনিরুজ্জামান ১৯২৪-১৯৭১) ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যাণ বিভাগে শিক্ষক। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকসেনারা তাঁর বাসভবনে ঢুকে তাঁকে হত্যা করে। তাঁর বড় ছেলে, এক ভাই ও ভাগ্নেও একই সঙ্গে হত্যার শিকার হন।
১৮. শহীদ বুদ্ধিজীবী মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী (২২শে জুলাই, ১৯২৬ - ১৪ই ডিসেম্বর, ১৯৭১) ছিলেন মননশীল প্রবন্ধকার, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষক, শিক্ষাবিদ। ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর আল-বদর বাহিনী তাকে তার বাসা থেকে অপহরণ করে এবং হত্যা করে।
১৯. শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. সিরাজুল হক খান (১ জানুয়ারি ১৯২৪ - ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১) ছিলেন ঢাকা বিশ্বদ্যালয়েল শিক্ষক। ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর আল-বদর বাহিনী তাকে তার বাসা থেকে অপহরণ করে এবং হত্যা করে।
২০. শহীদ বুদ্ধিজীবী একে এম নুরুল হক ছিলেন বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য শিক্ষা সংগঠক ও বুদ্ধিজীবী, যিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন; তার পরিবার আজও তার সঠিক মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার সঠিক তথ্য জানে না, তিনি ছিলেন একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
২১. শহীদ বুদ্ধিজীবী খাজা নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া (Khwaja Nizamuddin Bhuyan) ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে একজন অকুতোভয় বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা যিনি ১৯৭১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর কানাইঘাটে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন।
২২. শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লা কায়সার (১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯২৭ - ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১) ছিলেন একজন বাংলাদেশী সাংবাদিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবী। তার প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লা। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আলবদর বাহিনীর কজন সদস্য তাকে তার বাসা ২৯, বিকে গাঙ্গুলী লেন থেকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর তিনি আর ফেরেন নি।
২৩. শহীদ বুদ্ধিজীবী আলতাফ মাহমুদ (জন্ম: ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৩৩ - অন্তর্ধান: ১৯৭১) একজন বাংলাদেশি সুরকার, সংস্কৃতিকর্মী ও স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা। তিনি একজন ভাষাসৈনিক ছিলেন এবং শহিদ দিবস নিয়ে রচিত আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো গানটির বর্তমান সুরটিও তারই করা। ১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট পাকিস্তানি বাহিনী তাকে আটক করে। তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। তার বাসা থেকে আরো অনেক গেরিলা যোদ্ধা আটক হয়। এদের অনেকের সাথে তিনিও চিরতরে হারিয়ে গেছেন।
২৪. শহীদ বুদ্ধিজীবী জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা (১০ জুলাই, ১৯২০ - ৩০ মার্চ, ১৯৭১) একজন বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদ। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে ২৫ মার্চ রাতের গণহত্যার সময় তিনি ঢা.বি.-এর জগন্নাথ হলে আবাসিক শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেদিন তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর দ্বারা গুলিবিদ্ধ ও আহত হন, এবং চারদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ মার্চ, ১৯৭১-এ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
২৫. শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আব্দুল আলীম চৌধুরী (১৯২৮-১৯৭১) ছিলেন একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর চৌধুরীকে আল-বদর জঙ্গিরা অপহরণ করে। ঢাকার রায়েরবাজার গণকবরে আরও অনেক বুদ্ধিজীবীদের মৃতদেহের সাথে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়।
২৬. শহীদ বুদ্ধিজীবী সিরাজউদ্দিন হোসেন (১ মার্চ ১৯২৯ - ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশী সাংবাদিক ছিলেন। তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের সংবাদ ও নির্বাহী সম্পাদক। ১০ ডিসেম্বর রাতে, আল-বদর ও রাজাকার সদস্যদের সাথে কয়েকজন পাকিস্তানি সৈন্য তাকে শান্তিনগরের চামেলীবাগে তার বাসভবনে ধরে নিয়ে যায়। তিনি আর কখনও ফিরে আসেননি এবং তার মৃতদেহও পাওয়া যায়নি।
২৭. শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. আবুল খায়ের (১ এপ্রিল ১৯২৯ - ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১) ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকা ফুলার রোডের ৩৫/বি নম্বর বাসা থেকে একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে তাকে অপহরণ করা হয়।
--- বাউল পানকৌড়ি
স্বাধীনতার অগ্নিশিখা সংগ্রাম থেকে লাল সবুজের পতাকার ইতিহাস--Click to Read
৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ: পাক হানাদার ও রাজাকারদের গণহত্যার নৃশংসতার ইতিহাস--Click to Readমুক্তিযুদ্ধ ও ডাকটিকিট: স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আটটি ডাকটিকিটে--Click to Read
