টি-২০ প্রতিপক্ষ বোলারের হ্যাটট্রিক মানেই বাংলাদেশ- অটুট ঐতিহ্য রক্ষা করে চলছে বাংলার ব্যাটার
আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম হ্যাটট্রিকটি হয়েছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে। এরপর কেটে গেছে অনেক বছর কিন্তু এই প্রবণতা এখনও চলমান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও কয়েকজন বোলার বাংলাদেশের বিপক্ষে এই বিরল কীর্তি গড়েছেন। গতকাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে মোট ৮টি হ্যাটট্রিক হয়েছে। টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক একটি বিরল এবং আকর্ষণীয় ঘটনা। বোলারদের জন্য এটি গৌরবের, কিন্তু ব্যাটারদের জন্য হতাশার। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এখন এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রায়ই সাক্ষী হচ্ছেন। যেখানে বিশ্বের সেরা বোলারদের বিরুদ্ধে নিজেদের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসছেন।
টি-২০ সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিকের শিকার হওয়া ছাড়াও আর কিছু রেকর্ড যোগ করে ফেলেছ। টি-২০ ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম হ্যাটট্রিকটি বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমেই লেখেছি। তারপর আরো দুটা আছে রেকর্ড বুকে স্থায়ী হয়ে। বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ টি-টোয়েন্টি হ্যাটট্রিকের মধ্যে তিনটিতে আউট হয়েছেন যা বিশ্বের বিরল ইতিহাস। অভিষেকে প্রথম কোনো বোলারের হ্যাটট্রিক যা বাংলাদেশকেই সাক্ষী রেখে রচিত হয়েছে। আসুন জেনে নিই সেই সব বোলারদের নাম যারা বাংলাদেশের বিপক্ষে পরপর তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে নিজেদের স্থান করে নিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। আর কোন তিনজন বাংলাদেশি ব্যাটার ছিলেন ইতিহাস সৃষ্টিতে তাদের নাম।
ব্রেট লি, কেপটাউন (২০০৭/০৮):
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম হ্যাটট্রিকটি করেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি পেসার ব্রেট লি। ২০০৭ সালের উদ্বোধনী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন তিনি।
এই হ্যাটট্রিকের শিকার হয়েছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, মাশরাফি মোর্তাজা এবং অলোক কাপালি। এই ঘটনাটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে থেকে গেছে।
লাসিথ মালিঙ্গা, কলম্বো (২০১৬/১৭):
ক্রিকেটের আরেক কিংবদন্তি লাসিথ মালিঙ্গা তার ক্যারিয়ারে একাধিক হ্যাটট্রিক করেছেন। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য হ্যাটট্রিক ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে। ২০১৬/১৭ মৌসুমে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে মালিঙ্গার বিধ্বংসী বোলিংয়ের শিকার হন মুশফিকুর রহিম, মাশরাফে মোর্তাজা এবং মেহেদী হাসান মিরাজ।
দীপক
চাহার, নাগপুর (২০১৯/২০):
২০১৯/২০ মৌসুমে ভারতের
নাগপুরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত বোলিং করেন দীপক চাহার। তিনি পরপর তিন বলে শফিউল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান এবং আমিনুল ইসলামের উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। এই ম্যাচটিতে তার
স্পেলটি ছিল অসাধারণ।
নাথান এলিস, ঢাকা (২০২১):
২০২১ সালে ঢাকার মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলার নাথান এলিসের সামনে পড়েছিল বাংলাদেশ। সিরিজের শেষ ম্যাচে দারুণ বোলিং করে মাহমুদউল্লাহ, মুস্তাফিজুর রহমান এবং মেহেদি হাসানকে পরপর তিন বলে ফিরিয়ে দেন এলিস। এই হ্যাটট্রিকটি ছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেকে প্রথম কোনো বোলারের হ্যাটট্রিক।
করিম জানাত, সিলেট (২০২৩):
২০২৩ সালে সিলেটে আফগানিস্তানের পেসার করিম জানাতের হ্যাটট্রিকের শিকার হয় বাংলাদেশ দল। তার হ্যাটট্রিকের শিকার হয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ এবং নাসুম আহমেদ।করিম জানাত ডান হাতি বোলার। ছবিটা সুন্দর করতে একটু ঘুরিয়ে বাম হাতি বোলিং স্টাইল করতে হয়েছে।
নুয়ান থুশারা, সিলেট (২০২৩/২৪):
২০২৩/২৪ মৌসুমে শ্রীলঙ্কার বোলার নুয়ান থুশারা সিলেটের মাঠেই পরপর তিন বলে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের তারকা ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত, তৌহিদ হৃদয় এবং মাহমুদউল্লাহকে।
প্যাট কামিন্স, নর্থ সাউন্ড (২০২৪):
২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন। তার শিকার হয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান এবং তৌহিদ হৃদয়।
রোমারিও শেফার্ড, চট্টগ্রাম (২০২৫/২৬):
২০২৫/২৬ মৌসুমে চট্টগ্রামের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলার রোমারিও শেফার্ড বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন। তার শিকার হয়েছিলেন নুরুল হাসান, তানজিদ হাসান এবং শরিফুল ইসলাম।
উপরের আট হ্যাটট্রিকের শিকার ব্যাটার তালিকা থেকে বলা যাচ্ছে আমাদের মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ, মেহেদি হাসান এবং তৌহিদ হৃদয় খুব কাছেই আছে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের রেকর্ড এ ভাগ বসাতে। চারজনই সমান দুই বার করে হ্যাটট্রিক আউটের অংশ হয়ে রয়েছেন। এই বারবার হ্যাটট্রিকের ঘটনা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের ব্যাটারদের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখা এবং চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রেখে খেলার ক্ষেত্রে উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি দলের জন্য একটি সতর্কবার্তা এবং ভবিষ্যতে এই ধরণের পরিস্থিতি এড়াতে কৌশলগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। জানি না টিম ম্যানেজমেন্ট কোচ বা অন্য কোচিং স্টাফ তারা কি ব্যাটার নামার আগে বলে দেয় না হ্যাটট্রিকটা আটকাতে হবে বা হ্যাটট্রিক যাতে না হয়। আমরা যখন স্কুল লাইফে ক্রিকেট খেলতাম সিনিয়ার বা বন্ধুরা বলতো হ্যাটট্রিক চাঞ্জ ঠেক দেইস কিন্তু। এ ধরনের রেকর্ড যে আমাদের জন্য লজ্জার কবে বুঝবে আমাদের ক্রিকেটারগণ।
--- বাউল পানকৌড়ি
ফুটবল জাদুকর সৈয়দ আব্দুস সামাদ---Click to Read
.jpg)







