ওয়ারফেজ: আমাদের কৈশোরের নস্টালজিয়া আর চার দশকের বাংলা হেভি মেটালের কিংবদন্তি ব্যান্ডের পথচলা

ওয়ারফেজ: চার দশকের দ্রোহ, দর্শন ও বাংলা হেভি মেটালের কিংবদন্তি যাত্রা

বাংলাদেশের হেভি রক ও মেটাল সংগীতের ইতিহাসে যে কয়টি ব্যান্ড সময়কে অতিক্রম করে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে, ওয়ারফেজ তাদের অন্যতম। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এই ব্যান্ডটি কেবল গানই করেনি, তৈরি করেছে একটি শক্তিশালী সংগীত দর্শন যেখানে প্রতিবাদ, ভালোবাসা, দর্শন ও আত্মানুসন্ধান মিলেমিশে এক অনন্য ধারা সৃষ্টি করেছে। ইংরেজি হেভি মেটালের দাপটের সময়ে বাংলা ভাষায় হেভি মেটাল গান করে ওয়ারফেজ যে সাহসী পথচলার সূচনা করেছিল, সেটিই আজ বাংলাদেশের রক সংগীতের ভিত্তির অন্যতম স্তম্ভ। ১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু করে আজ পর্যন্ত অসংখ্য ভাঙা গড়া, পরিবর্তন ও সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ওয়ারফেজ প্রমাণ করেছে গান যদি সত্য হয়, তবে তা কখনো পুরোনো হয় না।


ওয়ারফেজ দেশে রক ও মেটাল ঘরানার পথপ্রদর্শক হিসেবে পরবর্তী সময়ে প্রগ্রেসিভ রক/মেটাল ও হার্ড রক ব্যান্ডগুলোর উত্থানে বড় ভূমিকা রাখে। ব্যান্ডটি গঠিত হয় ৬ জুন ১৯৮৪। শুরুতে কামাল (বেস), হেলাল (ড্রামস), মীর ও নাঈমুল (গিটার) এবং বাপ্পী (ভোকাল) থাকলেও নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে পরে কামাল লিড গিটার সাথে নতুন সদস্য হয়ে যোগ দেন বাবনা (বেস), টিপু (ড্রামস), রাশেদ ও পরে সুনজয় (ভোকাল) এবং রাসেল আলী (কিবোর্ডস)। প্রথমদিকে ওয়েস্টার্ন কাভার করলেও ২৬ এপ্রিল ১৯৯১-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে BAMBA-র কনসার্টে নিজেদের বাংলা গান পরিবেশন করে ব্যাপক সাড়া পায়। এবং নিজেদের স্বতন্ত্র প্রথম অ্যালবাম প্রকাশ করে। আজকের থাকছে ওয়ারফেজের মুক্তি পাওয়া সকল স্টুডিও অ্যালবামের বিস্তারিত তথ্য, কালজয়ী গান এবং কিংবদন্তি মিউজিশিয়ানদের তালিকা।

অ্যালবাম: ওয়ারফেজ (১৯৯১)

প্রথম অ্যালবাম ব্যান্ডের নামে প্রকাশিত হয় Warfaze ১৯৯১ সালে সারগাম এর ব্যানার থেকে ক্যাসেট আকারে প্রকাশিত হয়।

🎸 অ্যালবামের লাইন-আপ:
কামরান রহমান সঞ্জয় (ভোকাল) • শেখ মনিরুল আলম টিপু (ড্রামস) • ইব্রাহিম আহমেদ কমল (গিটার) • রাসেল আলী (কি-বোর্ড) • মেহমুদ জাগলুর করিম বাবনা (বেস)।

🎵 ট্র্যাক লিস্ট:
1️⃣ একটি ছেলে (কথা: বাবনা করিম, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
2️⃣ বসে আছি (কথা: বাবনা করিম, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
3️⃣ বিচ্ছিন্ন আবেগ (কথা: বাবনা করিম কণ্ঠ: তুষার আহমেদ, ইন ঢাকা)
4️⃣ স্বাধীকার (কথা: বাবনা করিম, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
5️⃣ নিস্তব্ধতা (কথা: রাসেল আলী, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
6️⃣ কৈশোর (কথা: বাবনা করিম, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
7️⃣ আশা (কথা: রাসেল আলী, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
8️⃣ রাত্রি (কথা: বাবনা করিম, কণ্ঠ: সুনজয়)
9️⃣ বৃষ্টি নামছে (কথা: বাবনা করিম, কণ্ঠ: বাবনা করিম)
🔟 সন্ধ্যা (কথা: রাসেল আলী, কণ্ঠ: সঞ্জয়)

অ্যালবাম: অবাক ভালবাসা (১৯৯৪)

দ্বিতীয় অ্যালবাম অবাক ভালবাসা প্রকাশিত হয় ১৯৯৪ সালে সারগাম এর ব্যানার থেকে ক্যাসেট আকারে প্রকাশিত হয়। এই অ্যালবামে ব্যান্ডের অফিশিয়াল লোগো প্রথমবার ব্যবহার করা হয়। যা এখন ব্যবহার করছে এবং এটি তৈরি করেছিলেন মাসকট মোনেম।

🎸 অ্যালবামের লাইন-আপ:
কামরান রহমান সঞ্জয় (ভোকাল) • শেখ মনিরুল আলম টিপু (ড্রামস) • ইব্রাহিম আহমেদ কমল (গিটার) • রাসেল আলী (কি-বোর্ড) • মেহমুদ জাগলুর করিম বাবনা (বেস)।

🎵 ট্র্যাক লিস্ট:
1️⃣ অন্ধ জীবন (কথা: বাবনা করিম, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
2️⃣ অন্যভুবন(একটি ছেলে ক্রমশ): (কথা: বাবনা করিম, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
3️⃣ অবাক ভালবাসা (কথা: বাবনা করিম কণ্ঠ: বাবনা করিম)
4️⃣ বন্দি নিয়তি (কথা: সমর, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
5️⃣ যখন (কথা: বাবনা করিম কণ্ঠ: বাবনা করিম)
6️⃣ কেউ নেই একা (কথা: বাবনা করিম, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
7️⃣ নির্বাসন (কথা: বাপ্পী খান ও বাবনা, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
8️⃣ নীল স্বপন (কথা: বাবনা করিম কণ্ঠ: বাবনা করিম)
9️⃣ এক + এক = দুই (কথা: বাবনা করিম কণ্ঠ: বাবনা করিম)
🔟 শেখানো বর্ণনা (কথা: বাবনা করিম, কণ্ঠ: সঞ্জয়)

অ্যালবাম: জীবনধারা (১৯৯৭)

তৃতীয় অ্যালবাম জীবনধারা প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সাউন্ডটেক এর ব্যানার থেকে ক্যাসেট আকারে প্রকাশিত হয়। এই অ্যালবামটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শেষবার যেখানে সঞ্জয়, বাবনা, কামাল, টিপু এবং ফুয়াদ একই অ্যালবামে একসাথে ছিলেন বাজিয়ে ছিলেন। অ্যালবামের মূল প্রকাশনার সময় কোকা-কোলা ছিল এর এক স্পন্সর।

🎸 অ্যালবামের লাইন-আপ:
কামরান রহমান সঞ্জয় (ভোকাল) • শেখ মনিরুল আলম টিপু (ড্রামস) • ইব্রাহিম আহমেদ কমল (গিটার) • ফুয়াদ ইবনে রাব্বি ফুয়াদ (কি-বোর্ড) • মেহমুদ জাগলুর করিম বাবনা (বেস)।

🎵 ট্র্যাক লিস্ট:
1️⃣ জীবনধারা (কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
2️⃣ মৌনতা (কথা: মাহমুদ খুরশিদ, কণ্ঠ: বাবনা)
3️⃣ ধূপছায়া (কথা: মাহমুদ খুরশিদ, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
4️⃣ রূপচাঁদ (কথা: বাবনা, কণ্ঠ: বাবনা)
5️⃣ ক্রমশঃ (কথা: বাবনা করিম কণ্ঠ: সঞ্জয়)
6️⃣ তুমি (কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
7️⃣ হেঁয়ালী (কথা: ফাইজার ও জাহাঙ্গীর হায়দার, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
8️⃣ পথ চলা (কথা: সুমন কণ্ঠ: সঞ্জয়)
9️⃣ জননী (কথা: বাবনা করিম কণ্ঠ: বাবনা করিম)
🔟 নিঃশব্দে (কথা: কমল, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
⏸️ দিন বদল (কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
1️⃣2️⃣ অজান্তে কথা: বাবনা করিম কণ্ঠ: বাবনা করিম)

অ্যালবাম: অসামাজিক (১৯৯৮):

ওয়ারফেজ ব্যান্ডের চতুর্থ অ্যালবাম অসামাজিক প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ জি-সিরিজের ব্যানার থেকে প্রথমে ক্যাসেট আকারে প্রকাশিত হয় এবং পরে ২০০১ সালে সিডি জুয়েল কেস ফরম্যাটে ভিন্ন ভিন্ন কভার আর্টসহ পুনঃপ্রকাশ করা হয়। ই অ্যালবামটিই ছিল ব্যান্ডে ভোকাল হিসেবে সুনজয়ের এবং কিবোর্ডে ফুয়াদের শেষ কাজ। একই সময়ে বাবনা করিমের জায়গায় বেজ গিটার ও ভোকালে যোগ দেন সুমন (Faith/Aurthohin) এবং ইকবাল আসিফ জুয়েল যুক্ত হন Legend ব্যান্ড থেকে গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট হিসেবে। তবে ড্রামসে থাকেন টিপু এবং গিটারে কামাল। “অসামাজিক” অ্যালবামটি ছিল বিশেষভাবে ব্যতিক্রম, কারণ এতে তিনজন ভোকাল একসাথে কাজ করেন এবং ব্যান্ডের বহুমাত্রিক সংগীতধারা তুলে ধরেন। অ্যালবামটি উৎসর্গ করা হয়েছিল ব্যান্ডের প্রিয়ভাজন আহমেদ ইশহাক আব্দুল্লাহ খান-এর স্মৃতির প্রতি, এবং নাফিজ সাদিকের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সমবেদনা জানানো হয়।

🎸 অ্যালবামের লাইন-আপ:
কামরান রহমান সঞ্জয় (ভোকাল) • শেখ মনিরুল আলম টিপু (ড্রামস) • ইব্রাহিম আহমেদ কমল (গিটার) • ফুয়াদ ইবনে রাব্বি (কি-বোর্ড) • সাইদুস সালেহীন খালেদ সুমন (বেস) • ইকবাল আসিফ জুয়েল (গিটার)।

🎵 ট্র্যাক লিস্ট:
1️⃣ অসামাজিক (কথা:কমল, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
2️⃣ নেই প্রয়োজন (কথা:কমল, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
3️⃣ রূপালী স্রোতে (কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার, কণ্ঠ: জুয়েল)
4️⃣ অশনি সংকেত (কথা: জুয়েল, কণ্ঠ: সঞ্জয় ও জুয়েল)
5️⃣ বন্ধু (কথা: কমল, কণ্ঠ: জুয়েল)
6️⃣ ধূসর মানচিত্র (কথা: হাসান ইমতিয়াজ, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
7️⃣ প্রতিচ্ছবি (কথা: সুমন, কণ্ঠ: সুমন)
8️⃣ জাতিস্মর (কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার কণ্ঠ: জুয়েল)
9️⃣ মহানগর (কথা: কমল, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
🔟 এমন দিনে (কথা: কমল, কণ্ঠ: সঞ্জয়)
⏸️ কেউ নেই আঁধারে (কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার, কণ্ঠ: জুয়েল)

অ্যালবাম: আলো (২০০১):

আলো” হলো ব্যান্ড ওয়ারফেজ-এর পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম। এটি ২০০১ সালে সাউন্ডটেক প্রোডাকশনের ব্যানারে প্রকাশিত হয়। এই অ্যালবামটি আসে ব্যান্ডের বড় ধরনের লাইনআপ পরিবর্তনের পর। সুনজয় যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ায় তার জায়গায় নতুন ভোকালিস্ট হিসেবে যোগ দেন মিজান। একই সঙ্গে সুমন একক ক্যারিয়ার গড়তে ব্যান্ড ছেড়ে যান এবং পরবর্তীতে গড়ে তোলেন আর্থহীন; তাঁর পরিবর্তে বেজে যোগ দেন বিজু। গিটারিস্ট ইকবাল আসিফ জুয়েল-এর জায়গায় আসেন বালাম, যিনি ভোকালও করেছেন। এছাড়া ১৯৯৯ সাল থেকে কিবোর্ডিস্ট হিসেবে শামস পূর্ণকালীনভাবে যুক্ত হন। আর ব্যান্ডের অভিজ্ঞ সদস্য কামাল (গিটার) ও টিপু (ড্রামস) আগের মতোই ছিলেন।

🎸 অ্যালবামের লাইন-আপ:
মিজানুর রহমান মিজান (ভোকাল) • শেখ মনিরুল আলম টিপু (ড্রামস) • ইব্রাহিম আহমেদ কমল (গিটার) • শামস মনসুর গনি (কি-বোর্ড) • বিজু (বেস) • কাজী মোহাম্মদ আলী জাহাঙ্গীর বালাম (ভোকাল/গিটার)।

🎵 ট্র্যাক লিস্ট:
1️⃣ বেওয়ারিশ (কথা:আশিক, কণ্ঠ: মিজান)
2️⃣ হতাশা (কথা:কমল, কণ্ঠ: মিজান)
3️⃣ যতদূরে (কথা: বালাম, কণ্ঠ: বালাম)
4️⃣ আর কত কাল (কথা:কমল, কণ্ঠ: মিজান)
5️⃣ স্মৃতিগুলো (কথা: কমল/বালাম, কণ্ঠ: বালাম)
6️⃣ বৃষ্টি (কথা: হাসান ইমতিয়াজ সুমন, কণ্ঠ: মিজান)
7️⃣ মৃত্য এলিজি (কথা: হাসান ইমতিয়াজ সুমন, কণ্ঠ: মিজান)
8️⃣ সময় (কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার কণ্ঠ: বালাম)
9️⃣ আলো (কথা: হাসান ইমতিয়াজ সুমন, কণ্ঠ: মিজান)
🔟 নেই তুমি (কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার কণ্ঠ: বালাম)

অ্যালবাম: মহারাজ (২০০৩)

মহারাজ হলো ব্যান্ড ওয়ারফেজ-এর ষষ্ঠ অ্যালবাম। ২০০৩ সালের জুন মাসে একতার মিউজিক থেকে ক্যাসেট, জুয়েল কেস সিডি এবং পেপারব্যাক সিডি তিন ফরম্যাটে প্রকাশিত হয়। অ্যালবামটির মূল থিম ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গণতান্ত্রিক দেশে থেকেও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ও কষ্টের গল্প। এর আগের অ্যালবাম আলো এর মতো এ অ্যালবামেও ব্যান্ডে বড় ধরনের লাইনআপ পরিবর্তন ঘটে। আলো প্রকাশের পর প্রায় ২০ বছর টানা সংগীতচর্চার পর কামাল কিছুদিনের জন্য বিরতি নেন এবং তার স্থানে মেটাল মেজ ব্যান্ডের গিটারিস্ট সাজ্জাদ যুক্ত হন। এ লাইনআপে বেশ কিছু শো করা হলেও ২০০২ সালে বেজিস্ট বিজু কানাডায় চলে গেলে তার জায়গায় যোগ দেন আর্টসেল ব্যান্ডের সিজান। তারপর আবার পরিবর্তন আসে যখন ভোকালিস্ট মিজান ব্যক্তিগত কারণে ও একক ক্যারিয়ারের জন্য ব্যান্ড ছেড়ে যান। ফলে ব্যান্ডে প্রথমবারের মতো একমাত্র প্রধান ভোকাল হিসেবে দায়িত্ব নেন বালাম। আলো অ্যালবামের তিনটি গানে ব্যান্ডে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। এদিকে কামাল আবার ব্যান্ডে ফিরে আসেন এবং সবাই মিলে মহারাজ অ্যালবামটির রেকর্ডিং সম্পন্ন করেন। অ্যালবামটি উৎসর্গ করা হয় শান্তিকামী কোটি জনতাকে, যারা আজও নতুন পৃথিবীর স্বপ্নদেখে।

🎸 অ্যালবামের লাইন-আপ:
শেখ মনিরুল আলম টিপু (ড্রামস) • ইব্রাহিম আহমেদ কমল (গিটার) • শামস মনসুর গনি (কি-বোর্ড) • সিজান (বেস) • কাজী মোহাম্মদ আলী জাহাঙ্গীর বালাম (ভোকাল/গিটার) • সাজ্জাদ (গিটার)।

🎵 ট্র্যাক লিস্ট:
1️⃣ বাঙালীরা আর কত দেখবে (কথা:সাজ্জাদ, কণ্ঠ: বালাম)
2️⃣ বসন্ত (কথা:সাজ্জাদ, কণ্ঠ: বালাম)
3️⃣ হারিয়ে তোমাকে (কথা: শামস, কণ্ঠ: বালাম)
4️⃣ হেরেছো (কথা:বালাম/সাজ্জাদ, কণ্ঠ: বালাম)
5️⃣ স্বপ্ন তুমি নও (কথা: কমল, কণ্ঠ: বালাম)
6️⃣ মহারাজ (কথা: শামস, কণ্ঠ: বালাম)
7️⃣ অতীত (মনে পড়ে ক্রমশঃ) (কথা:সাজ্জাদ, কণ্ঠ: বালাম)
8️⃣ শেষ গ্রহর (কথা:সাজ্জাদ, কণ্ঠ: বালাম)
9️⃣ সুখ (কথা: কমল, কণ্ঠ: বালাম)
🔟 সাইক্লোন (কথা: বালাম কণ্ঠ: বালাম)

অ্যালবাম: পথচলা (২০০৯)

পথচলা ব্যান্ড ওয়ারফেজ-এর প্রথম কম্পিলেশন অ্যালবাম এবং ধারাবাহিক হিসেবে সাত নম্বর অ্যালবাম। ২০০৯ সালে জি-সিরিজ/অগ্নিবীণা ব্যানারে ক্যাসেট ও পেপারব্যাক সিডি এই দুই ফরম্যাটে প্রকাশিত হয়। অ্যালবামের নামটি নেওয়া হয়েছিল তাদের তৃতীয় অ্যালবাম জীবনধারার জনপ্রিয় গান পথচলা থেকে। যা ছিল ব্যান্ডটির ২৫ বছরের সংগীতযাত্রা উদ্‌যাপনের স্মারক। এতে ওয়ারফেজের আগের অ্যালবামগুলোর ১১টি জনপ্রিয় গান নতুনভাবে রেকর্ড করা হয় এবং সাথে ২টি নতুন গান তোমাকে ও অমানুষ। এই অ্যালবামটি ব্যান্ডটির ২৫ বছর পূর্তি/সিলভার জুবিলি উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত করা হয়। ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকার শেরাটন হোটেলের উইন্টার গার্ডেনে আয়োজিত লেগেসি কনসার্টে ওয়ারফেজের প্রায় সকল সাবেক সদস্যরাই উপস্থিত ছিল। যা তাদের ঐতিহ্য ও অবস্থানকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করে। ব্যান্ডটি তাদের দীর্ঘদিনের ভক্ত-সমর্থক এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ সারগাম, সাউন্ডটেক, জি-সিরিজ, অগ্নিবীণা ও একতার মিউজিক সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। অ্যালবামটির স্পনসর ছিল নোকিয়া। যারা তাদের XpressMusic ফোন সিরিজের (৫৮০০ ও ৫১৩০) ক্রেতাদের জন্য অ্যালবাম প্রকাশের আগেই পথচলা” অ্যালবামের গানগুলো প্রি-লোডেড অবস্থায় সরবরাহ করে। মহারাজ অ্যালবামের পর ওয়ারফেজ আবারও বেশ কিছু লাইনআপ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। ভোকালিস্ট বালাম একক ক্যারিয়ারের জন্য ব্যান্ড ছাড়লে তার জায়গায় ফিরে আসেন সাবেক ভোকালিস্ট মিজান। একই সময়ে আর্টসেল এর সিজান দুই ব্যান্ড একসাথে চালানো কঠিন হওয়ায় ওয়ারফেজ ছাড়েন এবং তার জায়গায় মেটাল মেজ ব্যান্ডের বেজিস্ট রজার যোগ দেন। অন্যদিকে গিটারিস্ট সাজ্জাদ ব্যান্ড ছাড়লে কামাল তখনকার সহকর্মী হিসেবে ভাইব ব্যান্ডের ওনি হাসান কে যুক্ত করেন। ব্যান্ডটি দীর্ঘদিন পর একটি স্থিতিশীল লাইনআপ পাওয়া দেখা যায়। যা প্রায় পাঁচ বছর টিকে ছিল এবং এতে ব্যান্ডটি নতুন তরুণ শ্রোতাদের কাছেও ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই ধারাবাহিক সাফল্যই শেষ পর্যন্ত ২৫ বছর পূর্তি কনসার্ট এবং পথচলা অ্যালবামটির মর্যাদাপূর্ণ প্রকাশকে আরও তাৎপর্যময় করে তোলে।

🎸 অ্যালবামের লাইন-আপ:
মিজানুর রহমান মিজান (ভোকাল) • শেখ মনিরুল আলম টিপু (ড্রামস) • ইব্রাহিম আহমেদ কমল (গিটার) • শামস মনসুর গনি (কি-বোর্ড) • রজার (বেস) • ওনি (গিটার)।

🎵 ট্র্যাক লিস্ট: ওয়ারফেজের আগের অ্যালবামগুলোর ১১টি জনপ্রিয় গান নতুনভাবে রেকর্ড করা গানগুলোর ভোকাল ছিল মিজান এবং অবাক ভালবাস গানে কন্ঠ দিয়েছিল বাবনা- • বসে আছি • অবাক ভালবাসা • হতাশা • নেই প্রয়োজন • স্বাধিকার • যতদূরে • ধুসর মানচিত্র • আশা • সময় • অসামাজিক • পথচলা। এবং নতুন দুটি ট্রাক-

1️⃣ অমানুষ (কথা:কমল, কণ্ঠ: মিজান)
2️⃣ তোমাকে (কথা:শাসম, কণ্ঠ: মিজান)

অ্যালবাম: সত্য (২০১২)

সত্য ব্যান্ড ওয়ারফেজ এর ধারাবাহিক হিসেবে অষ্টম অ্যালবাম। এটি ২১ অক্টোবর ২০১২ সালে ডেডলাইন মিউজিক এর ব্যানারে কেবলমাত্র পেপারব্যাক সিডি ফরম্যাটে প্রকাশিত হয়। অ্যালবামটির সাউন্ডে ব্যান্ডের পুরনো হেভি মেটাল ঘরানার শক্ত উপস্থিতির পাশাপাশি ছিল আধুনিক হার্ড রক, সফট রক ব্যালাড এবং দ্রুতগতির রিফ সত্য অ্যালবামটিকে একটি আলাদা মাত্রা দেয়। অ্যালবামটির স্পনসর ছিল বাংলালিংক এবং তাদের জন্যই ওয়ারফেজ একটি বোনাস ইন্সট্রুমেন্টাল ট্র্যাক তৈরি করে। পাশাপাশি এবিসি রেডিও ৮৯.২ এফএম ছিল সত্য অ্যালবামের একমাত্র রেডিও পার্টনার।

🎸 অ্যালবামের লাইন-আপ:
মিজানুর রহমান মিজান (ভোকাল) • শেখ মনিরুল আলম টিপু (ড্রামস) • ইব্রাহিম আহমেদ কমল (গিটার) • শামস মনসুর গনি (কি-বোর্ড) • রজার (বেস) • ওনি (গিটার)।

🎵 ট্র্যাক লিস্ট:
1️⃣ আগামী (কথা:শামস, কণ্ঠ: মিজান)
2️⃣ না (কথা:শামস, কণ্ঠ: মিজান)
3️⃣ রূপকথা (কথা: কমল, কণ্ঠ: মিজান)
4️⃣ পূর্ণতা (কথা:শামস, কণ্ঠ: মিজান)
5️⃣ যেদিন (কথা:শামস, কণ্ঠ: মিজান)
6️⃣ সত্য (কথা:শামস, কণ্ঠ: মিজান)
7️⃣ প্রজন্ম ২০১২ (কথা: কমল, কণ্ঠ: মিজান)
8️⃣ জনস্রোত (কথা:শামস, কণ্ঠ: মিজান)
9️⃣ প্রতীক্ষা (কথা: কমল, কণ্ঠ: মিজান)


ওয়ারফেজ কেবল একটি ব্যান্ডের নাম বাংলাদেশের হাজারো তরুণের রক ও মেটাল সংগীতের হাতেখড়ি। দীর্ঘ চার দশকের এই যাত্রায় বহুবার লাইন-আপ পরিবর্তন হয়েছে, সময় বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি তাদের গানের গভীরতা আর আমাদের সেই উন্মাদনা। শৈশব কৈশোরের নস্টালজিয়া থেকে শুরু করে আজকের প্রজন্মের দ্রোহ সবখানেই ওয়ারফেজ এক অনিবার্য নাম। গান যদি সত্য হয়, তবে তা যে কালের সীমা ছাড়িয়ে অমর হয়ে যায়। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ কিংবদন্তি এই ব্যান্ড। বাংলা হেভি মেটালের পতাকাবাহী হয়ে ওয়ারফেজ আরও বহু বছর আমাদের হৃদয়ে স্পন্দিত হোক এটাই প্রত্যাশা শুভকামনা আর ভালবাসা।

আপনার মতামত: ওয়ারফেজের ৮টি অ্যালবামের মধ্যে আপনার অল-টাইম ফেভারিট কোনটি? কমেন্টস করে জানাতে পারেন আমাদের জানাতে পারেন। 🎸🤘🔥

বাউল পানকৌড়ি--
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url