হাবিজাবি কথামালা: তিন আলোকবর্ষ দূরের আড্ডা, ফিনিক্সের ডানা ও এক কাপ চা

সবাই থাকে আত্মার কাছাকাছি আর আমি থাকি তিন আলোকবর্ষ দূড়ে।
এত দূরে?
হে! আকাশ গঙ্গার এক নামহীন গ্রহে। মাঝে মাঝে তাজিংডংয়ের চূড়ায় আসি ধ্যান করতে। তখন পরিচিত সবাইকে স্মরণ করি খোঁজ খবর নেই। আপনাকে স্মরন করেছি নাকি জানতে চাচ্ছেন?
জানতে তো চাই চাপাবাজের চাপাবাজি।
কী বলেন! আচ্ছা আপনার বাসার ডোর বেলে সমস্যা নাই তো? একবার এক বাসার ডোর বেলে হাত দিয়েই শেষ বাকিটা ইতিহাস।


বাসার ডোর বেল ঠিক আছে আপনি নিজে এসে পরীক্ষা করে দেখে যেতে পারেন।
মজার আপনার হাসি শব্দে ভরসা পাচ্ছি না। দরজাতে নক করেই বলবো।
কী বলবেন?
বলবো হাতে সময় খুব অল্প। এক কাপ চায়ে টু চামচ চিনি। আর অবশ্যই চায়ের কাপ পিরিচসহ দেবেন। গরম চা পিরিচে ঢেলে তাড়াতাড়ি শেষ করা যায়।
বাসায় খুব ভালো টোস্ট বিস্কুট আছে সাথে দেব?
তাহলে আরেক কাপ চা আর একটা চামচ দিতে হবে চায়ের কাপে। মজার ভাতের চামচ না ছোট টেবিল স্পুন। আমি আবার চায়ের কাপে টোস্ট বিস্কুট ভিজিয়ে নরম না করে খেলে টেস্ট পাই না।
আপনার জন্য দু কাপ চা আর টোস্ট বিস্কুট ব্যবস্থা করে রাখছি আসেন।
ধন্যবাদ আপনি অতিথি পরায়ণ ভালো মানুষ।
আমি আপনার সাথে ধ্যানে যেতে চাই।
আমার সাথে ধ্যানে যাবেন! চিন্তা কথা বলে।
চিন্তা কী বলে শুনতে চাইনা আপনি কি বলেন শুনি।
আমার সাথে সিগারেট আছে একটা লাইটার হবে?
না লাইটার বাসায় নাই। বাসায় ফায়ার বক্স আছে।
কাঠি ম্যাচ দিয়ে সিগারেট ধরাতেই আমার আনন্দ।
তাহলে এখনই আসুন। আপনার সাথে ধ্যানে যাবার আলোচনাটা শেষ করি।
একটু সময় লাগবে।
কী কারণে?
সাথে করে সিংহল সমুদ্রের কবিতা নিয়ে আসবো সেই কারণে।
সিংহল সমুদ্রের কবিতা নিয়ে আসলে আপনার জন্য নিজে রান্না করবো।
কী রান্না করবেন শুনি?
ভুনা খিচুড়ি আর ডিম ভাঁজা।
অন্য কিছু রান্না করা যায় না?
অন্য কিছুটা কী?
খিচুড়ির সাথে গরু ভুনা। সাদা ভাত হলে ডিম রান্না ঘন ডাল আর আলু ভর্তা। সাদা ভাত হলে ইলিশ মাছ ভাজা সাথে মাছের তেল। সাদা ভাত হলে বেগুন ভাজা কুমড়া ফুলের বড়া অমৃত।
আপনার আসা লাগবে না। আমাদের বাসার ডোর বেলটা নষ্ট।
আহা চড়ই পাখির কষ্ট!


চড়ই পাখিটা কে? আপনার কুইন অব সেবার কাকটা এখন চড়ই হয়ে আসে।
মজার হলো গত বৃহ:বার বাসায় ছিলাম। রাত বারটার পর বারান্দায় দাড়া‌তেই কাকটা উড়ে এসে রেলিংয়ে বসেই ব‌লে এক কাপ চা এ‌নে দেও। মাথার যন্ত্রনায় শেষ। মজার কি জন‌্য জন্য জানতে চাইলাম। যা বললো এরকম উনি যে গাছটা‌য় বাসা বা‌নি‌য়ে দুস্ট কো‌কি‌লের বাচ্চা‌কে আদর য‌ত্মে বড় কর‌ছে। তার দুই গাছ সাম‌নে মানুষ‌দের বিয়ের হলুদ সন্ধ‌্যা হ‌চ্ছে। বাবা নাম দি‌য়ে‌ছো হলুদ সন্ধ‌্যা তাহ‌লে সন্ধ‌্যায় শেষ ক‌রে ফে‌লো। সাইয়া সাইয়া, কা‌লো চশমা, লাল গোলাপী আবার জিগায় কি সব গান বাজা‌চ্ছে আর রা‌শিয়ার মিশাই‌লের মত আতশবা‌জির শব্দে তার মাথা ধরে গেছে। বলি চা এনে দিতে পারি যদি আমাকে দুইটা পাখা এনে দেন। আমি উড়ে উড়ে সি‌লিং দেখ‌তে সিস্টিন চ্যাপেল যা‌বো। খুব গম্ভীর কন্ঠে কা‌কের পাখা নি‌য়ে এত দূড় যেতে পারবে না। তোমা‌কে এ‌নে দি‌বো অ্যালবাট্রস না হয় ফিনিক্স পা‌খির পাখা। আশ্বাস দিয়েছে কো‌কি‌লের বাচ্চাটা উড়াল দেয়া শিখ‌লেই ফিনিক্স পা‌খির পাখা সন্ধা‌নে বের হ‌য়ে যা‌বে। মজার চি‌র কৃতজ্ঞ থাক‌বো বলতে বলে কৃতজ্ঞ থাক‌তে হ‌বে না। তু‌মি ভুলে যাও আ‌মি সামন‌্য কাক আ‌মি কিং সোলায়মা‌নের প্রিয় হুদ হুদ পা‌খি। তোমার মত প‌রিচয় ঘোপন ক‌রে থা‌কি বাউল পান‌কৌ‌ড়ির কথা আ‌মি জা‌নি।


নিজেকে আড়াল করে বাউল পানকৌড়ি সাজা কিংবা চড়ুই পাখির কষ্টের ভেতর দিয়ে জীবনের মানে খোঁজা—এই সবটাই যেন এক গভীর দর্শনের অংশ। আমরা সবাই আসলে নিজের নিজের গ্রহে বাস করি, আর মাঝে মাঝে চা-বিস্কুটের অছিলায় একে অপরের জগতের ডোরবেলে হাত দেই। হুদ হুদ পাখির ডানা দিয়ে সিস্টিন চ্যাপেল দেখার যে আকুতি, তা আসলে মানুষের অসীম অজানাকে জানারই চিরন্তন তৃষ্ণা। খিচুড়ি-ডিম ভাজার লোভ আর ফিনিক্সের ডানার স্বপ্ন এই দুইয়ের মাঝখানেই বেঁচে থাকে আমাদের 'হাবিজাবি' অথচ অতি প্রয়োজনীয় জীবন।

--- বাউল পানকৌড়ি



Read on mobile
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url