ঐ শীত কবে পড়বো দেশে : ডাইনি হাওয়ার কনকনে চাবুক হাবিজাবি কথামালা
বুড়ো সন্ন্যাসী শীত আইসা পড়ছে। ঐ শীত কবে পড়বো দেশে?
কোন শীত!
ডাইনি হাওয়ার কনকনে চাবুক।
এমন শীতের নাম শুনি নাই।
শুনবা কেমনে আগে তো বলি নাই। চা দেও সাথে একটা সিগারেট। শীত কিন্তু মজার।
মজার কেমন?
ছয় পায়ে পিল পিল চলি আর কিচি মিচি ডাকি। শীতের সঞ্চয় চাই খাদ্য খুজেতেছি তাই।
মজা পাইলাম শুনে। দেখি এই শীতের শুরুতেই রাশিয়ার একটা পার্টি দিতে হইবো।
বস পার্টি শব্দটা বয়কট করো হাসি পায়। নাপা পার্টি তারপর আর কতশত পার্টি। রাশিয়ার পানীয় ব্যবস্থা করতে চাও ভাল। তাহলে সাথে একটা পোড়া মুরগীর ইন্তেজাম রাইখো। শেয়ার করতে বইলো না। কারন এই শীতে আমার হাত শূন্য দেউলিয়া আমি।
এই শীতেই দেউলিয়া হলি আফসুস।
মজার এই শীতে নামে একটা কবিতা আছে বুদ্ধ দেব বসুর। প্রথম লাইনটা সুন্দর- আমি যদি মরে যেতে পারতুম এই শীতে।
জানলাম! মরিস আগামী সপ্তাহে পোড়া মুরগী খাইয়া তারপর।
রাম লক্ষ্মনের রাতে বুড়ো সন্ন্যাসী পোড়া মুরগী হইবো না। পোড়া হাঁস চাই।
হাঁস বাধ। শিশু হাঁস পাতি হাঁস আর নানা হাসের কারনে হাঁস খাওয়া ছাইড়া দিছি। হাঁস গুলিরে দেখতে যেমন বিরক্ত লাগে সাথে কেমন ঘৃনাও লাগে।
ও আমার হাঁসের ছাও রে! ও মিয়া ভাই কে কাউয়ায় নিছে?
মজার এই গানটা পোড়া মুরগী পার্টিতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে রাখবো।
খাওয়াবা পোড়া মুরগী আর গান শোনাবা ও আমার হাঁসের ছাও রে। এই ধরনের ফোক ফিউশন টাইপ গান আগে ব্যান্ডের প্রতিটা অ্যালবামেই একটা দুটা থাকতো। গুরু আজম খানের ছিলো। সোলসের ছিলো এমনকি নগর বাউলের জেমসের প্রথম অ্যালবাম স্টেশন রোডে রূপ সাগরে গানটা ছিল। তবে চাইম আর খালিদ মিলেই এর জনপ্রিয়তা সৃষ্টি করে।
সিগারেট জ্বালা।
তা তো জ্বালামু। মাথায় কে যেনো নাচতাছে।
কে সে?
বুড়ো সন্ন্যাসী সর্প ! যে সর্পের চোখ নাই শিং নাই নোখ নাই, ছোটে না কি হাটে না কাউকে যে কাটে না।
সর্প সর্প করিস না তোকে এমনেই রাতে সাপে দৌড়ায়।
বুড়ো সন্ন্যাসী মজার সাপে দৌড়ায় না নাগিনী একদিন আসছিলো। গল্পটা শুনো। আমি যা ভয় পাইছিলাম মধ্যরাতে হাঠৎ ঘুঙুরের শব্দ রুমে। বালিশের পাশে রাখা গ্যাস লাইটারের লাইটা জ্বালাতেই দেখি নাগিনী নাচচ্ছে। ভয়তো বুঝছোই আমার মায়ের যে ঘুম হালকা এসে যদি দেখে রুমে নাগিনী নাচচ্ছে কি এক মসিবত। সাহস সঞ্চয় করেই বলি মধ্যরাতে নাচার জন্য আমার রুমটাই আপনার পছন্দ হলো। কবে কোন কালে পাহাড়ে সাপ খাইছিলাম সেই কথা তুললো। আমি উত্তর দিলাম স্টাডি ট্যুড়ে গিয়ে বন্ধুরা একজনের পালায় পড়ে সাপ না কি খাইসি জানি না। জানতে পারলাম যে সাপ ভক্ষণ করছিলাম সে ছিলো তার সপ্তম প্রেমিকা। এতদিন পর আমার খোঁজ পাইছে এখন আমাকে শাস্তি দিবে। তাও আবার মৃত্যুদন্ড। সক্রেটিসের মত বিষ পানে মৃত্যু আমিও আনন্দ প্রকাশ করে বললাম দেন বিষের পেয়ালা। তার আগে বারান্দায় চলেন আরাম করে একটা সিগারেট ধরাই। আমার মায়ের ঘ্রান শক্তি খুব প্রখর রুমে স্লাইডিং ডোর বন্ধ করে বারান্দায় দাড়িয়ে সিগারেট ধরালেও ঘ্রান তার কাছে পৌছে যায়। যা নিয়ে সকালের নাস্তার টেবিলে কথা শোনায়। রাত তখন তিনটার কাছাকাছি পাশে দাড়িয়ে আছে অর্ধেক সাপ অর্ধেক রমনী দেহের নাগিনী হাতে তার বিষের পেয়ালা।
সিগারেট জ্বালাতেই আচানক ঘটনা। সেই কালো কাকটা কিং সোলায়মানের কাকটা বারন্দায় রেলিংয়ে এসে বসলো। কি টাইমিং চিন্তা করো বিষের পেয়ালা হাতে নাগিনী আর রেলিংয়ে কাক রূপে কুইন অফ সেবার হুদ হুদ পাখি। নাগিনী পাশ থেকে জানতে চায় এইটা কি পাখি। উত্তরে বলি কি পাখি জানি না তবে কখন জীবনান্দের চিল আবার হাসন রাজার কুড়া পাখি। আবার কিং সোলায়মানের হুদ হুদ পাখি কুইন অফ সেবার খোঁজ এনে দিয়েছিলো সেই পাখি। আমি কাক পছন্দ করি বলে কাক হয়েই আসে যেমন আপনি সাপ হয়ে আসছেন। এতো রাক্ষসীনি বলে নাগিনী বিষের পেয়ালা আমার হাতে দিয়ে হাওয়া। কাকটা বলে দেখি দেও খেয়ে দেখি কি আছে পেয়ালাতে। আমার কিছুদিন ধরে এলার্জির সমস্যা হচ্ছে হতে পারে এই ঔষুধেই কাজ হবে। এ পেয়ালায় ঔষুধ না আছে বিষ। কাকটা অবাক করে দিয়ে বলে তোমার কি ঘ্রান শক্তি নস্ট হয়ে গেছে? এতো বিষ না এ হচ্ছে পেয়াজের রস। তোমার চুল পড়ে যাচ্ছে মাথায় মাখো ভাল কাজ হবে। ঘ্রান নিলাম জিহ্বে লাগিয়ে দেখলাম এতো সত্যিই পেয়াজের রস। কি অদ্ভুত নাগিনী আমার মাথার চুল পড়া কমাতেই এত রাতে এসে এতসব নাটক করলো।
আর শুনতে চাইনা তোর আবোল তাবোল গল্প। ঢাকার ঐ রাস্তাটায় তোর কার সাথে যেনো দেখা হয়েছিলো।
আচ্ছা আচ্ছা ঐটা তো গত শীতের কাহিনী। ঢাকার ঐ পথটাতে অনেকেেই বিভ্রম হয়। হঠাৎ সঞ্জীব চৌধুরি হনহন করে হেটে যাচ্ছে। জিজ্ঞেস করি দাদা কি খবর। পৃথিবীতে তো শান্তি রক্ষিত হলো না?স্বর্গের কি অবস্থা। হাসি দিয়ে বলে বুঝলি স্বর্গের অবস্থা ভয়াবহ শুধু আউলা বাতাস খেলে। ইনানা, অ্যাথিনা, ভেনাস সবার চুলে আগুন লেগে গেছে। মজার গুরু এরা কারা। আর তো রাগ। তোর দেখি মিথোলজির উপর কোন জ্ঞানই নাই। দু:খিত সত্যিই জানা নাই চুলে আগুন লাগার কি কারন বলেন কে দিলো আগুন জানতে চাইলাম। মজার একটা উত্তর দিয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলেন।
উত্তরটা কি?
উত্তর নেই মাঝরাতে ডুবেছে মাতাল।
আচ্ছা বুঝলাম তাঁর নিজের গান থেকে মেরে দিছে। ইনানা, অ্যাথিনা, ভেনাস এর কারা।
তোমার তো দেখি মিথোলজির সম্পর্কে জ্ঞান আমার থেকেও আরও কম। ইনানা, অ্যাথিনা, ভেনাস এরা হচ্ছেন প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবী। শান্তি, যুদ্ধ, ন্যায়বিচার, রাজনৈতিক ক্ষমতার আর শস্যের দেবী। মেসোপটেমিয়, গ্রীক আর রোমান মিথের এই তিনজন প্রচন্ড ক্ষমতাধর দেবী। তারা নিজেরাই চিন্তায় আছে হঠাৎ সুন্তরবন নোংরা এক খরগোশের কারনে অশান্ত হয়ে গেলো। মজার বাকিটা শোনো। রাতের শেষ সিগারেটটা জ্বালাতে বারান্দায় যেতেই কাকটা হাজির। এসেই জারি তুমি কি মনে করে ইনানার চুলে আগুন লাগিয়ে দিলে। ইনানা বাইজেইনটাইন সময়ের দেবী আমি কত মান্য করি জানো। কুইন সেবা শুনলে তোমার মাথায় মাথা থাকবে না। চিন্তা করো অবস্থা।
তোর তো দেখি ভয়ংকর অবস্থা তৌহিদি জনতার সাহায্য ছাড়া মাথা রক্ষা করা সম্ভব না।
বুড়ো সন্ন্যাসী মজার হলো বাংলাদেশের তৌহিদি জনতা শান্তিতে নোবেল মেডেল পাবার যোগত্য ও কাজকর্ম করে ফেলছে। সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচের ইসলামি দেশেও এরকম ইসলাম রক্ষার কোন তৌহিদি নামে জনতা নাই। ইসলাম রক্ষার পুরো দায়িত্ব আমাদের তৌহিদি জনতার।
হাবিজাবি কথামালা নিজের মনে কথা। যে নিজেই নিজের সঙ্গে কথা বলে, প্রশ্ন করে, আবার উত্তরও খোঁজে। কখনো রাগে, কখনো ব্যঙ্গে, আবার কখনো নিঃশব্দ অভিমানেই উঠে আসে এই হাবিজাবি কথাগুলো।
--- বাউল পানকৌড়ি
বনের আদিম গ্রন্থের গল্প- নোংরা খরগোশের রাজত্ব হাবিজাবি কথামালা--Click to Readহাবিজাবি কথামালা-কিং সোলায়মানের হুদ হুদ পাখি --Click to Read
Read on mobile
