হাবিজাবি কথামালা: কিং সোলায়মানের হুদ হুদ পাখির বার্তা ও অন্ধ চোখের গল্প

রাত যখন নিঝুম হয়, আর নাগরিক কোলাহল থেমে গিয়ে কেবল সিগারেটের আগুনের লাল আভা আর চায়ের কাপের মৃদু বাষ্প অবশিষ্ট থাকে, তখনই বারান্দার রেলিংয়ে এসে বসে জগতের সব রহস্য। আমাদের চেনা ‘কাউয়া’ যখন নিজেকে কিং সোলায়মানের প্রাচীন বার্তাবাহক ‘হুদ হুদ’ বলে পরিচয় দেয়, তখন বুঝতে হবে বাস্তব আর কল্পনার দেয়ালটা ভেঙে গেছে। ‘হাবিজাবি কথামালা’র এই পর্বে আমরা এমন এক অদ্ভুত দরকষাকষির গল্প শুনবো, যেখানে একটি আনন্দের খবরের বিনিময়ে চড়া মূল্য দিতে হয় নিজের চোখ দুটিকে। বাউল পানকৌড়ির কলমে উঠে আসা এই নিশীথ যাপনের আখ্যান কি কেবলই বিভ্রম, নাকি অন্ধ হয়ে সত্যকে দেখার এক নতুন দর্শন? চলুন, সেই রহস্যময় বারান্দার মায়াবী অন্ধকারে প্রবেশ করি।

রাত দেড়টায় বারান্দার রেলিংয়ে বসা রহস্যময় কাক, পাশে চায়ের কাপ ও সিগারেটের ধোঁয়া।

অল্প মন খারাপ ভাব, রাত দেড়টায় দাড়িয়ে ছিলাম বারান্দায়
সিগারেট হাতে ছিলো আর এক কাপ চা
হঠাৎ আট তলার উপরে আমার বারান্দার রেলিংয়ে
একটা কাক উড়ে এসে বসে।
ভয় পাবার কথা আমিও ভয় পেলাম, তারপর অবাক
কাকটা বলছে আমি কাক না ?
মজার আপনি তাহলে কি আপনি করেই বলি ?
কাক উত্তর দেয় সে হচ্ছেন কিং সোলায়মানের হুদ হুদ পাখি এবং
একজন বার্তা বাহক।

মাঝ রাতে কার ভালো লাগে বলেন কাকের সাথে কথা বলতে
কাকের সুন্দর একটা নাম আছে “কাউয়া” আমার এই নামটাই পছন্দ
কাউয়া বলাতে রাগ করলো, বলে আসছিলাম আনন্দের খবর নিয়ে
কাউয়া বলে মন খারাপ করে দিলে তারপরই
উড়ে চলে গেলো পৃথিবীর সমান দুই পাখা নিয়ে।


আমার মন খারাপ হলো, কস্ট পেলো কাকটা
চোখ বন্ধ করে কিং সোলায়মানের কাককে ডাকছি
যখন বলছি আয় আমার মাথায় বসতে দিবো
চাইলে আমার মগজ কিছু খেতে দিবো।
মজার আর নিমেষেই চলে আসছে খুব খুশি
কুইন সেবার প্রাচীন গল্প শোনাবে আর আমার মগজ খাবে।


ঘুম পাড়ানোর মন্ত্র জানো পাখি হুদ হুদ কাক
না জানি না, তোমার চোখ দুইটা খুলে এক পিরিচে দেও
খেয়ে টেয়ে আনন্দের খবরটা বলে চলে যাই।
তারপর থেকে আমি অন্ধ, চোখে দেখি না
চোখ ফোটাবার ক্ষমতা যে কার ছিলো!
ভুলে গেছি, চিন্তা কথা বলে।

নীল আকাশে ডানা মেলা কিং সোলায়মানের বার্তাবাহক হুদ হুদ পাখি বা অলৌকিক বার্তাবাহক


রাত দেড়টার নিস্তব্ধতায় বারান্দার রেলিংয়ে বসা সেই হুদ হুদ কাক আসলে আমাদের অবচেতনের এক বার্তাবাহক। আমরা সবাই জীবনের কোনো এক মোড়ে দাঁড়িয়ে এমন এক 'আনন্দের খবর' খুঁজি, যার বিনিময়ে নিজের সবচেয়ে মূল্যবান কিছু উৎসর্গ করতেও দ্বিধা করি না। চোখ দুটি পিরিচে সাজিয়ে দিয়ে অন্ধ হওয়ার এই ট্র্যাজেডি আসলে এক চরম সত্যের ইঙ্গিত জগতের কোলাহল আর দৃশ্যমান মায়া যখন বন্ধ হয়, তখনই হয়তো প্রকৃত 'চিন্তা' কথা বলে ওঠে। বাউল পানকৌড়ির এই হাবিজাবি কথামালা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, পরম প্রাপ্তির পথ সবসময় সহজ নয়; কখনো কখনো অদেখা জগতকে চিনতে হলে বর্তমানের দৃষ্টি বিসর্জন দিতে হয়। এই অন্ধত্ব আসলে এক নতুন আলোর অপেক্ষায় থাকা এক পথিকের নীরব প্রার্থনা।


---বাউল পানকৌড়ি
হাবিজাবি কথামালা: তিন আলোকবর্ষ দূরের আড্ডা, ফিনিক্সের ডানা ও এক কাপ চাবনের আদিম গ্রন্থের গল্প: নোংরা খরগোশের রাজত্ব ও এক চিত্রকরের বয়ান
Next Post
No Comment
Add Comment
comment url