সঞ্জীব চৌধুরীর লেখা গান: সময়ের দেয়াল পেরিয়ে ফিরে আসে হা হা শূন্য আকাশ কাঁপাও –পর্ব ১
সঞ্জীব চৌধুরী বাংলা সংগীতের বহুমুখী প্রতিভার নাম । শুধু দলছুট ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা নন ছিলেন একজন গীতিকার সুরকার, গায়ক, কবি ও চেতনাসম্পন্ন সাংবাদিক। প্রেম, প্রতিবাদ, দ্রোহ ও সমাজ সংবেদনশীলতার মিশেলে যিনি গড়ে তুলেছিলেন অনন্য এক সঙ্গীতধারা। তাঁর গান মানুষের সুখ-দুঃখ, সামাজিক অসঙ্গতি, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও সাধারণ জীবনের বেদনাকে নিঃসংকোচ উচ্চারণ করেছে। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের মাকালকান্দিতে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় কর্মী হিসেবে ছাত্রজীবন থেকেই যুক্ত ছিলেন বাম রাজনৈতিক চেতনায়। পরে সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষে আজকের কাগজ, ভোরের কাগজ ও যায়যায়দিনে কাজ করে ফিচার সাংবাদিকতায় নতুন ধারার সূচনা করেন। দলছুটের আহ্ (১৯৯৭), হৃদয়পুর (২০০০), আকাশ চুরি (২০০২) ও জোছনা বিহার (২০০৭) অ্যালবামগুলো প্রেম, মানবিকতা, শহুরে বাস্তবতা ও প্রতিবাদের ভাষায় তাকে ব্যান্ডসংগীতে আলাদা মর্যাদা দেয়। আর একক অ্যালবাম স্বপ্ন বাজী (২০০৫) তীক্ষ্ণ করে তাঁর মানবিক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে। ২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তাঁর গান, সুর, মনন ও প্রতিবাদের চেতনা আজও সমান প্রাসঙ্গিক তরুণদের অনুপ্রাণিত করে। সমাজকে ভাবায় এবং বাংলা সংগীতে বহুমাত্রিকতার এক বিরল উত্তরাধিকার হয়ে বেঁচে থাকে। সঞ্জীব চৌধুরী তাঁর মাত্র ৪২ বছরের জীবনে খুব বেশি গান লেখননি তবে যে অল্প সংখ্যক গান রেখে গেছেন সেগুলোই বাংলা সংগীতে সৃষ্টি করেছে গভীর ও স্থায়ী ছাপ। শব্দের শুদ্ধতা, চিন্তার তীক্ষ্ণতা আর অনুভূতির সত্যতাই তাঁর প্রতিটি গানে তাকে অনন্য করে তুলেছে। আজকের লেখায় থাকছে সঞ্জীব চৌধুরীর লেখা গানগুলোর লিরিক্স এর প্রথম পর্ব- সময়কে অতিক্রম করে ফিরে আসা সুর।
সঞ্জীব চৌধুরী তাঁর মাত্র ৪২ বছরের জীবনে খুব বেশি গান লেখননি তবে যে অল্প সংখ্যক গান রেখে গেছেন সেগুলোই বাংলা সংগীতে সৃষ্টি করেছে গভীর ও স্থায়ী ছাপ। শব্দের শুদ্ধতা, চিন্তার তীক্ষ্ণতা আর অনুভূতির সত্যতাই তাঁর প্রতিটি গানে তাকে অনন্য করে তুলেছে। আজকের লেখায় থাকছে সঞ্জীব চৌধুরীর লেখা গানগুলোর লিরিক্স এর প্রথম পর্ব- সময়কে অতিক্রম করে ফিরে আসা সুর।
0️⃣2️⃣ ভর দুপুর
0️⃣3️⃣ চোখ
0️⃣4️⃣ ইয়াসমিন
0️⃣5️⃣ চাঁদের জন্য গান
0️⃣6️⃣ বাজি
0️⃣7️⃣ আন্তর্জাতিক ভিক্ষা সংগীত
0️⃣8️⃣ কার ছবি নেই
0️⃣9️⃣ সমুদ্রসন্তান
1️⃣0️⃣ চলতে চলতে
1️⃣1️⃣ জলকুমারী
1️⃣2️⃣ টুকরো কথা
🎼 সানগ্লাশ 🎼
অ্যালবাম- আহ/দলছুট
কন্ঠ- সঞ্জীব চৌধুরী
সাল- ১৯৯৭
দেয়ালে তোমার ছবি অন্ধকার
তুমি ছায়াঘেরা সুদূরের মুখ
বাগানে দাঁড়িয়ে আছো স্মৃতির পাথর
ওই পাথরের চোখে সানগ্লাস
ভেতরে লাফিয়ে ওঠে অন্ধ রাত
দেখে নেবো দেখে নেবো সব
স্বপ্ন করেছো খুন কোন মায়াবিনী
কেন অন্ধের চোখে সানগ্লাস।
কেউ নেই
কেউ নেই
কেউ নেই, নেই, কিছু নেই
সবাই ফিরেছে ঘরে ফেরার সময়
শুধু তোমার সময় হলো না।
দেখো এখন চোখের নিচে কালো দাগ
কার নখের আঁচড় ভেতরেই
সফল মানুষ হাঁটে দীর্ঘ পায়ে
তুমি তাদের ভীড়েই হারালে
তুমি সিঁড়ি ভাঙো
কতো সিঁড়ি ভাঙো
কিনে ফেলেছো কি স্বর্গের সিঁড়ি
শুধু দূর থেকে হাত নাড়ে সেই ছবি
দেখো ছবি জুড়ে স্থির সানগ্লাস।
ফেরাও
ফেরাও
ফেরাও আমাকে, সর্বনাশ
সবাই ফিরেছে ঘরে ফেরার সময়
কেন আমার সময় হলো না।।
🎼 ভর দুপুর 🎼
অ্যালবাম- আহ/দলছুট
কন্ঠ- সঞ্জীব চৌধুরী/ বাপ্পা মজুমদার
সাল- ১৯৯৭
ভর দুপুরে তিন কুকুরে
খাচ্ছে কেন দূর্বাঘাস
কারো কারো মনে কেন
বারো মাসেই ভাদ্র মাস।
ভর দুপুরে টিনের চালে
ভূতে মারে ঢেলা
চ্যালচ্যালাইয়া চলতে আছে
ভন্ড বাবার চ্যালা
ভূত তাড়ানোর জবর মন্ত্র
ফুঁকতে আছে ফুসুর ফাঁস।
শ্বশুর থাকেন কুয়েত সিটি
স্বামী থাকেন সৌদি
ফ্ল্যাট বাড়িটা আগলে রাখেন
হারাধনের বৌদি
ভুর দুপুরে চোখের জল
আর নদীর জলে হাসুরপাস।।
🎼 চোখ 🎼
অ্যালবাম- আহ/দলছুট
কন্ঠ- সঞ্জীব চৌধুরী
সাল- ১৯৯৭
কারো চোখে হাহাকার
কারো চোখে রংবাহার
কারো চোখে মরনের লোবান
কারো চোখে শুধুই বিনাশ
হাতছানি দেয় সর্বনাশ
কারো চোখে কেবল অন্ধকার।
ভেঙ্গে পড়ে চোখ
কারো চোখেরই কোলে
চোখেরই ছায়া
কারো চোখেতে দোলে
কারো চোখ যায় ডুবে
চোখেরই জলে
কালো চশমায় রাতকানা
অন্ধের ঘরে দুঃখের হানা
শুধু কষ্টেরই উত্পাত
ঘোলা চোখে মরণ হাসে
লাশ কাটা ঘর রক্তে ভাসে
চোখে অসুখের উল্লাস।
আমার মনেতে নাই সুখ
চোখের মাঝে বসত করে
অন্য লোকের চোখ
আমার ভিন্ন চোখে ভিন্ন ছবি
দেখায় ভিন্ন লোক
দিকে দিকে লক্ষ চোখ
তারই ভিড়ে একটি চোখ
ধরা পড়ে গেছি সেই চোখে
সে চোখের মাঝে আরশী নগর
ভালবাসাবাসি মনের খবর
ধরি পড়শীকে চোখে।।
🎼ইয়াসমিন 🎼
অ্যালবাম- আহ/দলছুট
কন্ঠ- সঞ্জীব চৌধুরী/বাপ্পা মজুমদার
সাল- ১৯৯৭
ঘরে ফিরতে চাইলেই কি ঘরে ফেরা যায়? সবাই কি ঘরে ফিরতে পারে? ইয়াসমিন। দিনাজপুরের ইয়াসমিন। কিশোরী ইয়াসমিন ঘরে ফিরতে চেয়েছিলো। কিন্তু কী অন্ধকার সে পথ। কী নিষ্ঠুর সে পথ। ইয়ানমিনের আর কোনদিন বাড়ি ফেরা হয় না। ঢাকা-টু-দিনাজপুর অন্ধকারে লোপাট হয়ে যায়। আর রাক্ষকের মুখোশ পরে কসাইগুলো হাসে। পুলিশের ব্যাটন হাতে কসাইগুলো হাসে। আর তাকে ধর্ষন করা হয়। তাকে ধর্ষন করা হয়। তাকে মেরে ফেলা হয়। ইয়াসমিন ইয়াসমিন। আহ আহ আহ।
পোড়ে রক্তচোষা ডাকলো প্যাঁচা
অলুক্ষনে রাত
আসে অন্ধকারে চুপিসারে
ভীষন কালো হাত
লোল ঝরে তার লোলুপ জিহ্বা
ছিঁড়লো হৃদয় বীণ।
আহ ইয়াসমিন আহা ইয়াসমিন আহ ইয়াসমিন
আহ ইয়াসমিন আহা ইয়াসমিন আহ ইয়াসমিন।
হাত বাড়ালে বন্ধু মেলে
হাত বাড়ালেই সুখ
সুখের ঘরে হামলে পড়ে
নিষিদ্ধ অসুখ।
রক্ত ভেজা উত্তরী বায়
স্বপ্ন হয় বিলীন
আহ ইয়াসমিন আহা ইয়াসমিন আহ ইয়াসমিন
আহ ইয়াসমিন আহা ইয়াসমিন আহ ইয়াসমিন।
ঘরে খোঁজে কোন বালিকা
নিঠুর পথে একা
ঠিকানা তার যায় হারিয়ে
মিলে না ঘরে দেখা
দোহাই কালো রাতে আধার
দোহাই পথের বীণ
আহ ইয়াসমিন আহা ইয়াসমিন আহ ইয়াসমিন
আহ ইয়াসমিন আহা ইয়াসমিন আহ ইয়াসমিন।।
🎼চাঁদের জন্য গান 🎼
অ্যালবাম-হৃদয়পুর/দলছুট
কন্ঠ- সঞ্জীব চৌধুরী
সাল- ২০০০
আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ
আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছিল চাঁদ
আমার চোখ গেল ধরেছে সুন্দর।
মেয়ে তুমি এভাবে তাকালে কেন
এমন মেয়ে কি করে বানালে ঈশ্বর
বুঝিনা
এমন মেয়ে কি করে বানালে ঈশ্বর
আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ
আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছিল চাঁদ।
শহরে এসেছে এক নতুন পাগল
ধর তাকে ধরে ফেল এখনই সময়
ধর তাকে ধরে ফেল এখনই সময়
বলি
ধর তাকে ধরে ফেল এখনই সময়
পাগল রাগ করে চলে যাবে খুঁজেও পাবেনা
পাগল কষ্ট চেপে চলে যাবে
ফিরেও আসবে না
মেয়ে আমাকে ফেরাও
আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ
আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছিল চাঁদ।
কে আমাকে হাত ধরে নিয়ে এল তোমার উঠানে
আমি যে বসেই আছি খোল দরজা
বলি খোল দরজা
আমি রাগ করে চলে যাব ফিরেও আসব না
আমি কষ্ট চেপে চলে যাব খুঁজেও পাবেনা
মেয়ে আমাকে ফেরাও
আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ
আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছিল চাঁদ।।
🎼বাজি 🎼
অ্যালবাম-হৃদয়পুর/দলছুট
কন্ঠ- বাপ্পা মজুমদার
সাল- ২০০০
তুমি আমার বায়ান্ন তাস
শেষ দানে ও আছি
তোমার নামে ধরেছি আমার
সর্বস্ব বাজী।
সম্ভাবনার এ পিঠ ও পিঠ
শেষ মুদ্রায় রাজী
কার ঘরে যায় করতালি
উড়ছে আলোর বাজি।
কার ঘরের দান ছুটছে ঘোড়া
দেখ ওই উল্লাসে গ্যালারী
পড়ছে ফেটে চিল চিৎকার
মন জুয়াড়ির বাড়ি
পাশার দান যাক না ঘুরে
কাল কে না হয় আজই।
তুমি প্রথম বলিনা এমন
শেষ হতে পারো কি
তাই নিয়েছি শেষ বিকেলে
নি;স্ব হওয়ার ঝুঁকি
শেষ বিকেলের একরোখা জেদ
আশার ঘোরে বাঁচি।।
🎼আন্তর্জাতিক ভিক্ষা সংগীত 🎼
অ্যালবাম-হৃদয়পুর/দলছুট
কন্ঠ- সঞ্জীব চৌধুরী/বাপ্পা মজুমদার
সাল- ২০০০
আল্লাহর ওয়াস্তে দুইডা ভিক্ষা দেন গো মা
আমি অন্ধ ফকির বাবা
চোখে দেখি না হাবাগোবা
ভাঙ্গা লাডি ফুডা থালা
হাতে হারিকেন পিঠে ঝোলা
আল্লাহর ওয়াস্তে দুইডা ভিক্ষা দেন গো মা।
দেরে পাথর যন্ত্রমন্ত্রর
ভিক্ষা চাইলেই ধুরছাই খেচ্চর
ভিক্ষা সম্বল ভিক্ষাই মঙ্গল
ভিক্ষা দিয়াই জাতীয় উন্নয়ন
আল্লাহর ওয়াস্তে দুইডা ভিক্ষা দেন গো মা।
আমার ছিড়া ছালার বস্তা কই
আমায় ঠেইল্যা নেওয়ার গাড়ি কই
আমার হাইকোর্ট চেনাবার রাস্তা কই
আল্লাহর ওয়াস্তে দুইডা ভিক্ষা দেন গো মা।
আমার সোনামনি জাদু কই
আমায় ধইরা নেওয়ার পিচ্চি কই
আমায় ভিক্ষা দিবা না হে
আল্লাহর ওয়াস্তে দুইডা ভিক্ষা দেন গো মা।
🎼কার ছবি নেই 🎼
অ্যালবাম-আকাশ চুরি/দলছুট
কন্ঠ- সঞ্জীব চৌধুরী
সাল- ২০০২
কার ছবি নেই কেউ কি ছিল
এই ভেবে ডুবে গেছে রাত
প্রশ্নেও নেই উত্তর নেই
মাঝরাতে ডুবেছে মাতাল
নেই কাছে নেই গল্প তোমার
চমকে উঠে ডাকে আয় কাছে আয়।
চাঁদনি গেছে দূরের আঙিনায়
কার ঘরে চাঁদ জেগে রয়
নাম শুধু নাম জ্বলে অবিরাম
এইখানে আমিও ছিলাম
বলেছ বারণ বলেছ বিদায়
স্বপ্ন বাড়ায় তবু হাত ডাকে আয়।
আয়না ভাঙে সে স্বপ্ন ভাঙে
কার ঘরে ভেঙে পড়ে ঘুম
গল্প ভাঙে তবু গল্প জমে
এই চোখে রাত্রি নিঝুম
একলা এই ঘর একলা প্রহর
থমকে দাঁড়ায় কুয়াশায় কুয়াশায়।
🎼সমুদ্র সন্তান 🎼
অ্যালবাম-স্বপ্নবাজি
কন্ঠ- সঞ্জীব চৌধুরী
সাল- ২০০৫
চোখটা এতো পোড়ায় কেন
ও পোড়া চোখ সমুদ্রে যাও
সমুদ্র কী তোমার ছেলে
আদর দিয়ে চোখে মাখাও।
বুক জুড়ে এই বেজান শহর
হা হা শূন্য আকাশ কাঁপাও
আকাশ ঘিরে শংখচিলের
শরীর চেরা কান্না থামাও
আকাশ ঘিরে শংখচিলের
শরীর চেরা কান্না থামাও
সমুদ্র কী তোমার ছেলে
আদর দিয়ে চোখে মাখাও।
আমি তোমার কান্না কুড়াই
কান্না উড়াই কান্না তাপাই,
কান্না পানি পান করে যাই
এমন মাতাল কান্না লিখি
কান্না পানি পান করে যাই
এমন মাতাল কান্না লিখি
সমুদ্র কী তোমার ছেলে
আদর দিয়ে চোখে মাখি।
🎼 চলতে চলতে 🎼
অ্যালবাম-জোছনা বিহার/দলছুট
কন্ঠ- সঞ্জীব চৌধুরী
সাল- ২০০৭
চলতে চলতে অনেকটা পথ চলে এলাম
বলতে বলতে অনেক কথাই বলে গেলাম
আখের রসে আরেকটুকু মিষ্টি দিও
আখের রসে আরেকটুকু মিষ্টি দিও
প্রভু
আখের রসে আরেকটুকু মিষ্টি দিও।
ওই শিশুটি দারুণ শীতে কাঁপছে কেমন
রাস্তা জুড়ে ভিড়ের মাঝে জীবন যেমন
ওই শিশুটির ভবিষ্যতে বৃষ্টি দিও
ওই শিশুটির ভবিষ্যতে বৃষ্টি দিও
আখের রসে আরেকটুকু মিষ্টি দিও
প্রভু
আখের রসে আরেকটুকু মিষ্টি দিও।
ক্রীতদাসের হাসি শুনি নিজের ভেতর
হাসছে ছুরি ধরছে ছড়ি মাথার উপর
এই জমানার কৃতদাসকে মুক্তি দিও
এই জমানার কৃতদাসকে মুক্তি দিও
আখের রসে আরেকটুকু মিষ্টি দিও
প্রভু
আখের রসে আরেকটুকু মিষ্টি দিও।
ওই ছেলেটি এমন কেন ঝিমিয়ে কাটায়
আকাশটা কি আগুনপুরী মৃত্যু ভাটায়
ওই ছেলেটির মৃত্যুকুপে জীবন দিও
ওই ছেলেটির মৃত্যুকুপে জীবন দিও
আখের রসে আরেকটুকু মিষ্টি দিও
প্রভু
আখের রসে আরেকটুকু মিষ্টি দিও।।
🎼জল কুমারী 🎼
অ্যালবাম-কিংবদন্তি/দলছুট-সোলস
কন্ঠ- পার্থ বড়ুয়া
সাল- ২০০৮
জলে ছিলে ডুবুডুবু জল কুমারী
কেন যে ডাঙ্গা এলে জল কুমারী
কালি রাঙা রোদে জাগে মরুভূমি
জলশূন্য পরম বাতাস মরুভূমি
আমারে সমুদ্রে নিবা চল পথ ধরি
তরলে লবণে ভাঙে জলের খোয়ারি
জলে ছিলে ডুবুডুবু জল কুমারী
কেন যে ডাঙ্গা এলে জল কুমারী।
আহারে মাছের কন্যা রুপালি নদী
এই ঘর ঘটিবাটি দিলাম সবই
কোন সে ভ্রমরা জাতি বাগানে পুরুষ
রাত জেগে পদ্য লেখে ফুলের পাঁচালি
জলে ছিলে ডুবুডুবু জল কুমারী
কেন যে ডাঙ্গা এলে জল কুমারী।
কে কাঁদে দৈবের ঘরে নিশির ফোয়ারা
কার জন্য এত কিছু উড়াল ডানা
খরায়নি রাখে কত দিন আসে যায়
এই খরকালে কই কাটছ সাঁতার
জলে ছিলে ডুবুডুবু জল কুমারী
কেন যে ডাঙ্গা এলে জল কুমারী।
🎼টুকরো কথা 🎼
অ্যালবাম-টুকরো কথা/দলছুট
কন্ঠ- বাপ্পা মজুমদার
সাল- ২০০৮
ঘড়ির কাঁটা মন মানে না সই
কাঁটাবনের রাস্তা জুড়ে ছায়া ঝিমায় ওই
পেছনে ফেরে মাছের ছবি
ঘরের মাঝে বন
ফুলওয়ালী বিক্রি করে মন।
আমার কিছু লাগে না ভালো
লাগে না ভালো কেন
রেস্টুরেন্টে সহসা কার মুখের ছায়া যেন
বসে পড়লো সঙ্গী সাথী
ঝড়ের তোড়ে কাপ
মধ্যমণি চমকে ওঠে ছায়ার ভাঁজে সাপ।
টুকরো কথা হঠাৎ হাসি ধুলোর ওড়াওড়ি
আমার কেন লাগে না ভালো
ভিড়ের জড়াজড়ি
হাসি উড়ল ধুলো ঝরল
কী অদ্ভুত গান
বাক্য মরে ভেতর বাড়ি
নাড়ী ছেঁড়ার টান।
সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিটি গানই সময়ের সীমানা পেরিয়ে মানুষের মনে বেঁচে আছে। তাঁর গানের ভাষা ছিল সহজ কিন্তু ভাবনা ছিল গভীর ছিল প্রেম, প্রতিবাদ, সমাজ, মানুষ আর জীবনের নির্মম সত্য। তাই তাঁর লেখা গানগুলো শুধু সংগীত নয় যেখানে সঞ্জীবের মানুষ, সমাজ আর জীবনের প্রতি গভীর মমতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠে।
--- বাউল পানকৌড়ি
কফিল আহমেদ এর গানের কথা--Click to Readকনসার্ট ফর ফাইটার্স ২০০৫ এবং একজন সঞ্জীব চৌধুরী--Click to Read
ইব্রাহিম আহমেদ কমল এর লেখা গান--Click to Read
Read on mobile


