আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশি বোলারদের হ্যাটট্রিক রেকর্ড ও যত ইতিহাস
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশি বোলারদের হ্যাটট্রিক রেকর্ড ও যত ইতিহাস
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে বাংলাদেশে হ্যাটট্রিক আছে সাতটি। টেস্ট ক্রিকেটে ২টি, ওয়ান ডে ক্রিকেটে ৫টি এবং টি-২০ তে কোন হ্যাটট্রিক এখন পর্যন্ত নাই। রেকর্ডটি কিন্তু খুবই ভাল বলা যায়। টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক আজকে পর্যন্ত ৪৯টি আর ওয়ানডে ক্রিকেটে আজকে পর্যন্ত হ্যাটট্রিক হয়েছে ৫২টি। হ্যাটট্রিকের গৌরব অর্জন আরও বেশি হলে আনন্দ হত।
আসুন জেনে নিই সেই সব গর্বিত নাম যারা বাংলাদেশের হয়ে পরপর তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে নিজেদের স্থান করে নিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। আর কোন তিনজন অন্য দেশের ব্যাটার ছিলেন ইতিহাস সৃষ্টিতে তাদের নাম।
১. অলক কাপালি (টেস্ট হ্যাটট্রিক)
বছর: ২০০৩
ফরম্যাট: টেস্ট
প্রতিপক্ষ: পাকিস্তান
স্থান: পেশোয়ার
বছর: ২০০৩
ফরম্যাট: টেস্ট
প্রতিপক্ষ: পাকিস্তান
স্থান: পেশোয়ার
বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হ্যাটট্রিকের যাত্রা শুরু হয় অলক কাপালির হাত ধরে। ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে পেশোয়ার টেস্টে ইতিহাস গড়েন তিনি। শাব্বির আহমেদকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সূচনা করেন কাপালি। এরপর টানা দুই বলে তুলে নেন দানিশ কানেরিয়া ও উমর গুলের উইকেট। এই কীর্তির মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট হ্যাটট্রিক বোলার হিসেবে নাম লেখান। আহা আনন্দ।
বছর: ২০০৬
ফরম্যাট: ওয়ানডে
প্রতিপক্ষ: জিম্বাবুয়ে
স্থান: হারারে
২০০৬ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখেন শাহাদাত হোসেন। হারারে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পরপর তিন বলে আউট করেন মুফাম্বিসি, চিগাম্বুরা ও প্রসপার উতসেয়া। এর মাধ্যমেই ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম হ্যাটট্রিকের ইতিহাস লেখা হয়ে যায়।
৩. আব্দুর রাজ্জাক (ওয়ানডে হ্যাটট্রিক)
বছর: ২০১০
ফরম্যাট: ওয়ানডে
প্রতিপক্ষ: জিম্বাবুয়ে
স্থান: মিরপুর
বাংলাদেশের সেরা স্পিনারদের একজন আব্দুর রাজ্জাক ২০১০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ওয়ানডেতে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকটি করেন। মিরপুরে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিকসহ মোট ৫ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন রাজ্জাক, যা বাংলাদেশকে ৬ উইকেটের বড় জয় এনে দেয়। পরপর তিন বলে প্রসপার উতসেয়া, রেমন্ড উইলিয়াম প্রাইস এবং ক্রিস্টোফার ববি এমপোফু এর উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক সফল করে।
৪. সোহাগ গাজী (টেস্ট হ্যাটট্রিক)
বছর: ২০১৩
ফরম্যাট: টেস্ট
প্রতিপক্ষ: নিউজিল্যান্ড
স্থান: চট্টগ্রাম
২০১৩ সালে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক দারুণ কীর্তি গড়েন সোহাগ গাজী। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এক টেস্ট ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি ব্যাট হাতে সেঞ্চুরিও করেছিলেন তিনি। তিনি বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার যিনি একই টেস্ট ম্যাচে হ্যাটট্রিক ও সেঞ্চুরি করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। তাঁর হ্যাটট্রিক শিকারিরা ছিলেন ক্যারি জি এন্ডারসন, জেমস ওয়াটলিং ও ডগলাস ব্রেসওয়েল। গর্ব করা মত কৃর্তি।
৫. রুবেল হোসেন (ওয়ানডে হ্যাটট্রিক)
বছর: ২০১৩
ফরম্যাট: ওয়ানডে
প্রতিপক্ষ: নিউজিল্যান্ড
স্থান: মিরপুর
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত সিরিজে টেস্টে সোহাগ গাজীর সেই কীর্তির পর ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করেন স্পিড স্টার রুবেল হোসেন। মিরপুরের হোম ও ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রুবেলের শিকার হন ক্যারি জি এন্ডারসন, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও জিমি নিশাম। ঐ সময়টায় খুব কাছাকাছি দুইটা সিরিজে নিউজিল্যান্ড সম্ভবত হোয়াইট ওয়াস হয়েছিলো।
৬. তাইজুল ইসলাম (ওয়ানডে হ্যাটট্রিক)
বছর: ২০১৪
ফরম্যাট: ওয়ানডে
প্রতিপক্ষ: জিম্বাবুয়ে
স্থান: মিরপুর
বিশ্বের ৩৬তম এবং বাংলাদেশের চতুর্থ বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করেন তাইজুল ইসলাম। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাঁর অভিষেক ওয়ানডে ম্যাচেই এই দুর্লভ কৃতিত্ব দেখান তিনি। এইটাও একটা ক্রিকেট রেকর্ড। তিনি পরপর তিন বলে আউট করেন টেন্ডাই ল্যারি চাতারা, জন নিয়ুম্বু এবং তিনশে পানিঙ্গারা কে।
বছর: ২০১৭
ফরম্যাট: ওয়ানডে
প্রতিপক্ষ: শ্রীলঙ্কা
স্থান: ডাম্বুলা
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পঞ্চম ও সর্বশেষ হ্যাটট্রিকটি করেন স্পিড স্টার তাসকিন আহমেদ। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনি এই কীর্তি গড়েন। আসেলা গুনারত্নে, সুরঙ্গা লাকমাল ও নুয়ান প্রদীপকে পরপর তিন বলে আউট করে তিনি হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে হ্যাটট্রিক মানে শুধু তিন বলে তিন উইকেট অর্জন নয় অবশ্যই আমাদের কাছে গর্বের অর্জন। অলক কাপালি থেকে তাসকিন আহমেদ তাঁদের প্রত্যেকের হাতেই লেখা আছে একেকটি উজ্জ্বল অধ্যায়। বাংলাদেশি বোলারদের এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বিশ্ব ক্রিকেটে দেশের পতাকা উঁচু করে রাখবে এটাই প্রত্যাশা। সামনে হ্যাটট্রিক হলেই এই লেখায় তা যোগ করে দেওয়া হবে। সেই আশা আর প্রার্থনা।
টি-২০ প্রতিপক্ষ বোলারের হ্যাটট্রিক মানেই বাংলাদেশ--Click to Read
Read on mobile








.jpg)