ছোট এই চিহ্ন (@) তিন হাজার বছরের পুরনো, যা এখন আমাদের প্রতিদিনের ঠিকানার পদচিহ্ন
একটি ছোট বক্র প্যাচানো রেখা “@”
দেখতে সাধারণ, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে মানব ইতিহাসের এক গভীর নকশা। প্রাচীন ল্যাটিনের পাতায় তার প্রথম জন্ম, মধ্যযুগীয় হিসাবের খাতায় তার ফিরে আসা। আর সে হয়ে উঠেছে আমাদের ডিজিটাল যুগের পদচিহ্ন। যে প্রতীকের মাধ্যমে আমরা চিঠি পাঠাই অদৃশ্য দূরত্ব পেরিয়ে। যে চিহ্ন আজ মানুষে মানুষে সংযোগের অন্যতম ভরসা । “@” সে হচ্ছে সময়ের বুকে আঁকা এক অদৃশ্য আলোকরেখা। যা প্রমাণ করে একটি প্রতীক পারে ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে আসতে। আমাদের ইমেইল ঠিকানা, সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এবং ডিজিটাল জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ছোট্ট চিহ্ন যেন সময়ের বুকে আঁকা এক নীরব রেখা, যেখানে অতীতের ছায়া মিশে গেছে ডিজিটাল এই যুগে আমাদের প্রতিদিনের ঠিকানায়।
আজকের ডিজিটাল বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত চিহ্নগুলোর মধ্যে একটি হলো “@”। আমাদের ইমেইল ঠিকানা, সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল, এবং অনলাইন লেনদেন প্রায় সব জায়গায় এই চিহ্ন দেখা যায়। কিন্তু এই পরিচিত প্রতীকটির ইতিহাসটি অনেকের অজানা। কারণ এটি প্রাচীন ল্যাটিন থেকে শুরু করে মধ্যযুগীয় বাণিজ্যিক হিসাবরক্ষণ এবং আধুনিক ডিজিটাল যুগে পৌঁছানোর এক দীর্ঘ পথ পাড়িয়ে দিয়ে এসেছে। সম্প্রতি গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ছোট্ট চিহ্নটির ইতিহাস ৩,০০০ বছরেরও বেশি পুরনো। বিভিন্ন ভাষাবিদ ও চিহ্নতত্ত্ব গবেষক দীর্ঘদিন ধরে “@” চিহ্নের উৎস এবং বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁরা প্রাথমিকভাবে এটি ল্যাটিন ভাষার একটি সংক্ষিপ্ত রূপ ছিল ধরে তাদের গবেষণা দাঁড় করিয়েছেন। মধ্যযুগে এটি বাণিজ্যিক হিসাবরক্ষণে ‘প্রতি’ (per) অর্থে ব্যবহৃত হত। উদাহরণস্বরূপ ব্যাখ্যা করেন এক সময়ের চালান বা হিসাবের খাতে লেখা হত “5 apples @ 2 coins each”, যা বোঝাত প্রতি ২ কয়েনে ৫টি আপেল। এটি ছিল ব্যবসায়িক হিসাবরক্ষার একটি সহজ কিন্তু কার্যকরী পদ্ধতি।
ইন্টারনেটের উদ্ভবের সঙ্গে সঙ্গে এই চিহ্নটি পুরোপুরি নতুন গুরুত্ব পেল। ১৯৭১ সালে কম্পিউটার প্রোগ্রামার রে-টমলিনসন প্রথমবার ইমেইল ঠিকানায় “@” চিহ্ন ব্যবহার করেন। তার উদ্দেশ্য ছিল ব্যবহারকারীর নাম এবং সার্ভারের নাম আলাদা করা। রে-টমলিনসনের এই উদ্ভাবন অবশেষে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগের ধরনই পরিবর্তন করে দিল। চিহ্নটির ভিন্ন দেশে ভিন্ন নামে ডাকা হয়। বাংলা কোন নাম কি আছে, আমার জানা নাই। চিহ্নটির ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তন দেখায় যে, প্রতিটি সমাজ এটিকে নিজস্ব রূপে গ্রহণ করেছে, কিন্তু মূল অর্থ প্রায় একই সংযোগ ও মাপের প্রতীক। “@” চিহ্ন শুধু একটি চিহ্ন নয়, এটি বর্তমান সময়ের ডিজিটাল সংযোগের প্রতীক। প্রাচীন থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত এর যাত্রা স্মরণ করিয়ে দেয় কিভাবে একটি ছোট্ট প্রতীক মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ধরন বদলাতে পারে। তবে চিহ্নটির জনপ্রিয়তা কেবল প্রযুক্তির সঙ্গে সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্তরে এটি একটি আইকন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে হ্যান্ডেল বা ট্যাগ হিসেবে “@” ব্যবহার মানুষের পরিচয় ও যোগাযোগের ধরনকে আরও সহজ এবং সংহত করেছে। ভবিষ্যতে এই চিহ্নের ইতিহাস আরও গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত হবে যে, আমাদের ডিজিটাল জীবন কেবল প্রযুক্তি নয়, বরং প্রাচীন প্রতীক ও সাংস্কৃতিক ধারা থেকেও গভীরভাবে প্রভাবিত। ছোট্ট এই চিহ্নটি আজকের বিশ্বকে সংযুক্ত করেছে এবং এটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় প্রতীক কখনও কখনও ইতিহাসের ধারাবাহিকতার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে।
--- বাউল পানকৌড়ি
বাবা আদম মসজিদ বাংলার সুলতানি স্থাপত্যশৈলীর এক উজ্জ্বল নিদর্শন---Click to Readবিজ্ঞাপন থেকে আপনার বিশেষ অফার নিশ্চিত করতে এখনই ক্লিক করুন---View Offer