বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডেতে যত হ্যাটট্রিক: পরিসংখ্যানের পাতা
ক্রিকেট মাঠে একটি হ্যাটট্রিক (Hat-trick) হলো বোলারদের জন্য এক বিরল ও চূড়ান্ত সাফল্যের মুহূর্ত। টানা তিন বলে তিনটি উইকেট তুলে নেওয়ার এই কীর্তি ক্রিকেট ইতিহাসে বার বার জন্ম দিয়েছে রোমাঞ্চকর গল্পের। প্রায় আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ। এই দীর্ঘ পথচলায় টাইগাররা যেমন নিজেদের নামে অনেক রেকর্ড গড়েছেন, তেমনি কিছু অবিস্মরণীয় ঘটনার সাক্ষীও হয়েছেন। এর আগে টি-২০ তে হ্যাটট্রিকে শিকার বাংলাদেশ নিয়ে একটি পরিসংখ্যান ছিলো। আজকে থাকছে টেস্ট (Test) এবং ওয়ানডে (ODI) এই দুই ফরম্যাট মিলিয়ে ঠিক কতবার বাংলাদেশের তিন ব্যাটসম্যানকে আউট করে কোন সে বোলার! বাংলাদেশের বিপক্ষে অর্জন সেই সব বোলারদের নাম কী আর সেই ঐতিহাসিক ম্যাচগুলো কবে হয়েছিল?
আজকে পর্যন্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট এবং ওডিআইতে মোট ছয়টি হ্যাটট্রিক হয়েছে। সমান সমান অথাৎ তিনটি করে। আর টি-২০ তে আছে আমাদের রেকর্ড আটটি হ্যাটট্রিকের লজ্জা। একদিনের আর্ন্তজাতিক ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম হ্যাটট্রিকটিা ছিলো বিশ্ব রেকর্ডের অংশ। মজার হল টি-২০ এর প্রথম হ্যাটট্রিকটা ছিলো বিশ্ব রেকর্ডের অংশ।
🏏 একদিনের আর্ন্তজাতিক 🏏
২০০৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে চামিন্দা ভাস ওয়ানডে ইতিহাসের এক অনন্য হ্যাটট্রিক করেন। যা প্রথম বল থেকে এবং একই ওভারের প্রথম তিন বলে করা প্রথম হ্যাটট্রিক হিসেবে বিশ্ব রেকর্ডে। ইনিংসের প্রথম বলেই তিনি হান্নান সরকারকে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন যা কিংবদিন্ত হিটার হান্নান সরকারের ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক গলে সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করে। পরের বলেই মোহাম্মদ আশরাফুল ধীর হয়ে আসা ডেলিভারিতে কট এন্ড বোল্ড তুলে দেন। তৃতীয় বলটিতে এহসানুল হক সিজান ব্যাটের বাইরের ধার ছুঁয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে দেন। এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয় ক্রিকেট ইতিহাসের এই বিরল হ্যাটট্রিক। চামিন্দা ভাস নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম ডেলিভারি থেকেই হ্যাটট্রিক করা এবং প্রথম ওভারের প্রথম তিন বলে হ্যাটট্রিক করা একমাত্র বোলার হিসেবে। বিশ্বকাপের মঞ্চ পিটারমারিটজবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকা তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৩।
আর্ন্তজাতিক একদিনের ম্যাচে ২য় হ্যাটট্রিকের শিকারও ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য একটি অনন্য রেকর্ড। অভিষেকেই কাগিসো রাবাদা দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ২০১৫ সালে মিরপুরে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ওয়ানডেতে অভিষেকেই কাগিসো রাবাদা ইনিংসের শুরুতেই পরপর তামিম ইকবাল, লিটন দাস এবং মাহমুদউল্লাহকে আউট করে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দিয়েছিলেন। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ে বাংলাদেশ মাত্র ১৬০ রানে অলআউট হয়, আর ১৬১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করে দক্ষিণ আফ্রিকা স্বচ্ছন্দ জয়ে ম্যাচ শেষ করে। তারিখ ছিল ১০ জুলাই ২০১৫।
বাংলাদেশের একদিনের ক্রিকেটের তৃতীয় হ্যাটট্রিকের শিকার হয় তাও আরেক বোলারের অভিষেকে ম্যাচে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের মাটিতে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে এই হ্যাটট্রিক রেকর্ড করেছিলেন শ্রীলঙ্কান পেসার শেহাদ মাদুশঙ্কা। পরপর তিন বলে মাশরাফি, রুবেল এবং রিয়াদ ভাইকে আউট করে হ্যাটট্রিক পূর্ন করেছিল শ্রীলংকার এই বোলার। মজার একটা তথ্য দেই। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ওডিআইতে দুইবার হ্যাটট্রিক শিকার হওয়া ব্যাটার। আর টি-২০তে তিন বার। ওস্তাদের টেস্ট ম্যাচেরও হ্যাটট্রিক শিকার হওয়া রেকর্ড আছে। যা একটু পরে জানতে পারবেন। এই এক রেকর্ড বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে মহা বিরল ঘটনা। আগামীতে একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশ নতুন হ্যাটট্রিকের শিকার হলে এখানে আপডেট করা হবে। ধন্যবাদ।
🏏 টেস্ট ক্রিকেট 🏏
বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম হ্যাটট্রিকের শিকার হয় ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের মাটিতে । বোলারের নাম অ্যান্ডি ব্লিগনট ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার। পরপর তিন বলে হান্নান সরকার, মোহাম্মদ আশরাফুল এবং মুশফিকুর রহমান বাবুকে আউট করে হয়ে যান বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম হ্যাটট্রিক শিকার করা বোলার। হারারে স্পোর্টস ক্লাব, হারারে ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০০৪।
বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট হ্যাটট্রিক শিকার করে নিউজিল্যান্ডের জেমস ফ্রাঙ্কলিন। ২০০৪ সালেই ২০ অক্টোবরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। পরপর তিন বলে তুলে নেয় মানজারুল ইসলাম রানা, মোহাম্মদ রফিক এবং তাপস বৈশ্য এর ্উইকেট।
২০২০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন পাকিস্থানের নাসিম শাহ। যা ছিল একটি রেকর্ড। মাত্র ১৬ বছর বয়সে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহানে সর্বকনিষ্ঠ হ্যাটট্রিক শিকারীর নাম লিখান। পরপর তিন বলে নাজমুল হোসেন শান্ত, তাইজুল ইসলাম এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে আউট করে এই কৃর্তি অর্জন করে পাকিস্থানের নাসিম শাহ। সেই সাথে মাহমুদুল্লা রিয়াদ টেস্ট ওয়ানডে এবং টি-২০তে হ্যাটট্রিকের শিকার হবার বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। আরেকটা তথ্য হল মাহমুদুল্লাহ ছয়টি হ্যাটট্রিক শিকার আউটে কোনটাতেই প্রথম উইকেটে ছিলেন না। হয় দ্বিতীয় বা তৃতীয়। মানে উনি হ্যাটট্রিক ঠেকাতে পুরোপরিই ব্যর্থ হয়েছিলেন।
ক্রিকেটের ময়দানে হ্যাটট্রিক সবসময়ই এক বিরল ও স্মরণীয় ঘটনা। যা যে কোনো বোলারের জন্যই চ্যালেঞ্জিং। এই আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের পথচলায় এমন কিছু কঠিন মুহূর্ত এসেছে। আমাদের ব্যাটারদের জন্য অবশ্যই হতাশার এবং ব্যর্থতার। এই পরিসংখ্যানগুলো টাইগার সমর্থকদের জন্য সামান্য হতাশার হলেও এটি বিশ্ব ক্রিকেটেরই অংশ। আমাদের হ্যাটট্রিক উইকেট শিকারী বোলার আছে। অনন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেটের হ্যাটট্রিক উইকেট পাওয়া এবং দেওংয়া একটি লেখার ধারাবাহিকতা শেষ হলো। লেখা গুলোতে সব সময় এই রেকর্ড আপডেট করা হবে।
--- বাউল পানকৌড়ি





