কফিল আহমেদ এর গানের কথা : পাখির ডানায় ঘাসফড়িংয়ের চোখে

কফিল আহমেদের গান, প্রকৃতি আর মানুষের অনুভূতির অনন্য মেলাবন্ধন। যেখানে পাখি, ঘাসফড়িং, মাঠ আর জীবনের গল্প এক সুরে বাঁধা। বাংলাদেশের সমসাময়িক শিল্প সাহিত্য এবং সংগীতে এক অনন্য ও স্বতন্ত্র নাম কফিল আহমেদ। ১৯৬২ সালের ১ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী একইসঙ্গে কবি, গায়ক, চিত্রশিল্পী এবং দার্শনিক মননের এক উজ্জ্বল ধারক। গণমানুষের গান, সর্বপ্রাণবোধ, প্রকৃতির প্রতি গভীর সংহতি এসব মিলিয়ে কফিল আহমেদের শিল্পসত্তা এক বিস্তৃত জগৎ তৈরি করেছে। যেখানে পাখি গরু ঝড় ঘাস সবাই কথা বলে আর সবাই স্বাধীন চরিত্র। কফিল আহমেদ জলরঙ কিংবা আক্রিলিক যে মাধ্যমই হোক শিল্পের প্রতি তার নিবিড় অনুরাগ তাকে রেখেছে বহুমাত্রিক স্রষ্টার সারিতে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে হাজার বছরের বাংলা গান" আয়োজনের মধ্য দিয়ে গণমানুষের সঙ্গীতে তার প্রবেশ। লালনগীতি, চর্যাগীতি, লোককথা, প্রকৃতিবোধ এগুলো তার ভাবনার সঙ্গে মিশে গিয়ে জন্ম দিয়েছে একটি আলাদা সঙ্গীতদর্শন। ২০০২ সালে প্রকাশিত প্রথম গানের সংকলন সেই যাত্রাকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যায়। আজ থাকছে কফিল আহমেদের গানের লিরিক্স। তাঁর গান শুনে শব্দ ধরে ধরে লিরিক্স তোলা সত্যিই একটু কঠিন।কারণ সুর আর কথার ভেতর এমন মায়া। এমন গভীরতা মিশে থাকে যে মনে হয় প্রতিটি লাইনই যেন আলাদা কোনো পৃথিবী থেকে আসছে। তবু সেই সুরভরা কথাগুলোকে যতটা সম্ভব নিখুঁতভাবে তুলে আনার চেষ্টা করেছি।

0️⃣1️⃣ গঙ্গাবুড়ি গঙ্গাবুড়ি শোন
0️⃣2️⃣ মাসানোবোফুকোওকা
0️⃣3️⃣ আফ্রিকা আফ্রিকা
0️⃣4️⃣ আগুন ঘুমাই আগুন খাই 
0️⃣5️⃣ আর যাবো না ঠাকুরবাড়ি
0️⃣6️⃣ চাঁদ খুঁজে পাবে 
0️⃣7️⃣ শঙ্খ যাইও বন্ধুর বাড়ি
0️⃣8️⃣ একটা বাছুর যাচ্ছে উড়ে
0️⃣9️⃣ বাঘ বন্দি সিংহ বন্দি
1️⃣0️⃣ গান হল নিরাপদ
1️⃣1️⃣ বানিয়েছি ডুগডুগি বাজাও বাজাও
1️⃣2️⃣ বন্ধু থাকো বন্ধু থাকো
1️⃣3️⃣ একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া উঠে দাঁড়ালো
1️⃣4️⃣ বুক টান বুক টান টান করে দাঁড়াও
1️⃣5️⃣ প্রেস নোট
1️⃣6️⃣ নীল কানাড়ার মাঠে কে যাও
1️⃣7️⃣ চোখের সামনে পুড়ছে যখন 
1️⃣8️⃣ প্রতিদিন গান প্রতিদন প্রাণ 

কফিল আহমেদের গানে প্রকৃতি কোনো উপমা নয় স্বতন্ত্র একেকটি জীবন্ত চরিত্র। পাতা, পাখি, ঝড়, ঘর, রাখাল, গরু, মাঠ কিংবা ঘাস সবাই নিজের বেদনা ও হাহাকার ভাষায় প্রকাশ করতে পারে। মানুষের গান ও প্রকৃতির প্রাণ একই সুরের বন্ধনে বাঁধা। এখানে কেউ কারও কর্তা নয় সবাই কফিল আহমেদে গানের অংশ। 


 🎵 গঙ্গাবুড়ি গঙ্গাবুড়ি শোন 🎵

এ বসি
একটু কাঁদি, ধুলার পাহাড়ে
ধুলার পাহাড়ে
কাঁদলে কিরে ধুলার পাহাড়ে
গঙ্গাবুড়ি গঙ্গা বয়ে যাবে
গঙ্গাবুড়ি গঙ্গাবুড়ি শোন
এত সুন্দর নামটি তোমার
কে দিয়েছে বলো।

নামে চুমু নাইরে আমার নামে ঘুম নাই
প্রাণে প্রাণে মেলাবোই
বলে রাখি বলে রাখি
গঙ্গাবুড়ি গঙ্গাবুড়ি শোন
এত সুন্দর নামটি তোমার
কে দিয়েছে বলো।

এমনতো হতেই পারে 
গাইতে গাইতে
কাঁদতে কাঁদতে যে কেউ
ঘুমিয়েছে ঘুমিয়েছে
কাঁদলে কিরে ধুলার পাহাড়ে
গঙ্গাবুড়ি গঙ্গা বয়ে যাবে
গঙ্গাবুড়ি গঙ্গাবুড়ি শোন
এত সুন্দর নামটি তোমার
কে দিয়েছে বলো।

ঘুম জুড়ে ও ঘুম জুড়ে
পথে রংধনুর একটা সাঁকো পড়ে
সাঁকো পড়ে, সাঁকো পড়ে
কাঁদলে কিরে ধুলার পাহাড়ে
কাঁদলে কিরে ধুলার পাহাড়ে
গঙ্গাবুড়ি গঙ্গা বয়ে যাবে
গঙ্গাবুড়ি গঙ্গাবুড়ি শোন
এত সুন্দর নামটি তোমার
কে দিয়েছে বলো।।

বয়ে চলো ও জলোধরো
কাঁদলে কিরে ধুলার পাহাড়ে
কাঁদলে কিরে ধুলার পাহাড়ে
গঙ্গাবুড়ি গঙ্গা বয়ে যাবে
গঙ্গাবুড়ি গঙ্গাবুড়ি শোন
এত সুন্দর নামটি তোমার
কে দিয়েছে বলো।।


 🎵 মাসানোবোফুকোওকা 🎵 

পাখিটার কথা বলি যে কারন
আমাদেরও ডানা কাটা
গরুটার কথা বলি যে কারন
আমাদেরও চোখ বাঁকা
মাসানোবোফুকোওকা
মাসানোবোফুকোওকা
মাসানোবোফুকোওকা
মাসানোবোফুকোওকা।

কত বৃষ্টি বাদলা মন উতলা
ভিজেনা তো কোন ছায়া
আলো ছায়ার বনে 
ভাঙা ডালে দেখো
ছোট ফুল কতো একা
মাসানোবোফুকোওকা
মাসানোবোফুকোওকা
মাসানোবোফুকোওকা
মাসানোবোফুকোওকা।

ছবিটার কথা বলি না কারন
ছবিটা তো শুধু আঁকা
ছবিটা কি শুধু আঁকা!
তুমি আমি যদি এতো ফাঁকা তবে
ছবিটারে কেনো রাখা
মাসানোবোফুকোওকা
মাসানোবোফুকোওকা
মাসানোবোফুকোওকা
মাসানোবোফুকোওকা।

কতো মরিচ ফুলে মরিচা জ্বেলেছি
মরীচিকা কি আলোটা
লাগে মরীচিকা কি আলোটা
পাখা ঝাঁপটাই পাখা ঝাঁপটাই
ভাঙা তো যায় না খাঁচাটা
পাখা ঝাঁপটাই ঝাঁপটাই
ডাকি লাল মোরগের ডাকটা
মাথা নত না করা
মাথা নত না করা
মাথা নত না করা
মাসানোবোফুকোওকা।
এই পাখিটার কথা বলি যে কারন
আমাদেরও ডানা কাটা
গরুটার কথা বলি যে কারন
আমাদেরও চোখ বাঁকা
আহা মাথা নত না করা
মাথা নত না করা
মাথা নত না করা
মাসানোবোফুকোওকা।


 🎵 আফ্রিকা আফ্রিকা 🎵  

ওগো আমি ছিলাম যেনো
এজিয়ন সাগরের উপকূলে
দস্যু জলদস্যু এলে
ভয়, ভয় জেগে থাকা।
ছোট ছোট দ্বীপ গুলি নিয়ে
কালো কালো উপকথা ছুঁয়ে
আফ্রিকা আফ্রিকা
ঐ ক্রীতদাসী মেয়েটির
ক্রীতদাসী মেয়েটির
না বলা রূপকথা
কালো কালো কালো কালো
উপকথা ছুঁয়ে
ছোট ছোট দ্বীপ গুলি নিয়ে।

আকাশের প্রটোকল মানবে না মেঘ
সাগরের সীমানা মানবে না ঢেউ
তবুও গঙ্গায় বাধ দিলে
গঙ্গায় বাধ দিলে
ঢেউয়ে ঢেউয়ে বাধা দিলে
বাসু দেব কাঁদে মা দৈব্য কি কাঁদে
বৈঠক বসে গোল বৈঠক বসে
বৃথা সংঘ বসে জাতীসংঘ বসে
আফ্রিকা আফ্রিকা
ঐ ক্রীতদাসী মেয়েটির
ক্রীতদাসী মেয়েটির
না বলা রূপকথা
কালো কালো কালো কালো
উপকথা ছুঁয়ে
ছোট ছোট দ্বীপ গুলি নিয়ে।

আমার তো কোন পোষা পাখি নাই
সোনাদানা শিকলে মন বাধি না
কোন মন বাধি না
সুন্দরবন জুড়ে কাটাতার দিলে
চিড়িয়াখানার শিশু বানর কাঁদে
মা হরিনী কাঁদে
হরিনী কাঁদে মা বন্দিনী কাঁদে
টারজান জাগে যদি টারজান থাকে
টারজান জোগো যদি টারজান থাকো
রূপকথা রূপ ধরে টারজান জাগো।
আফ্রিকা আফ্রিকা
ঐ ক্রীতদাসী মেয়েটির
ক্রীতদাসী মেয়েটির
না বলা রূপকথা
কালো কালো কালো কালো
উপকথা ছুঁয়ে
ছোট ছোট দ্বীপ গুলি নিয়ে।


🎵 আগুন ঘুমাই আগুন খাই  🎵

আগুন ঘুমাই আগুন খাই 
আমি এবং আমার আগুন
আমরা দুজন জমজ বোন
জমজ ভাই।।

আগুন তুমি মাটির তলায় আধারে ছিলে
আগুন তুমি পাথরের চাপা ঘুমে ছিলে
আগুন তুমি মেয়েটির মনে সঙ্গপণে লুকিয়ে ছিলে
লুকিয়ে ছিলে লুকিয়ে ছিলে  লুকিয়ে ছিলে
কি করে যাই হে আমি কি করে যাই
আগুন আমি তোমায় ছেড়ে কি করে যাই। 

আগুন তুমি সিগারেটে নয় ছাই ভস্ম
আগুন তুমি ভাড়াটে লোকালে ঘটে যাওয়া নয় হত্যাপ্রবন
আগুন তুমি গেরিলার বুকে ঘুমি থাকা গ্রেনেড ছিলে
কি করে যাই হে আমি কি করে যাই
আগুন আমি তোমায় ছেড়ে কি করে যাই। ।


 🎵 আর যাবো না ঠাকুরবাড়ি  🎵

আর যাবো না ঠাকুরবাড়ি
আমার রাধার নাইরে শাড়ি
শশী তুমি ডুবে যাও
সূর্য
সূর্য তুমি নিভে যাও
অন্ধকারে স্বর্গ আঁকো
অন্ধকারে স্বর্গ আঁকো, স্বর্গ আঁকো
যে চিনে সে চিনে নেবে 
অন্ধকারে ঠাকুরবাড়ি।

ওর এত রাত দুপুরে 
কার মনে কে কান্না করে
হু হু করে কান্না করে
ও রাত তুমি ঘুম দাও, 
ও ঘুম তুমি কি চাও
পাষাণ তুমি মরো নাকো
পাষাণ তুমি মরো নাকো, 
মরো নাকো
চিতানলে শাড়ি আঁকো
যে চিনে সে চিনে নেবে 
চিতানলে রাধার শাড়ি 
আর যাবো না ঠাকুরবাড়ি, 
আমার রাধার নাইরে শাড়ি।।


🎵 চাঁদ খুঁজে পাবে 🎵

চাঁদ খুঁজে পাবে জলমগ্ন রাত
নদী খুঁজে পাবে তোমার নগ্ন পা
আমি টের পাই পাতাটার নিশ্বাস
রক্তে গোধূলী নিভে গেছে বুঝি
নিধারুন কোলাহলে।

শিশু খুঁজে পাবে লাল নীল কত পাখি
পাখি খুঁজে পাবে ঘনঘন ঝোপজার
রক্তে গোধূলী নিভে গেছে বুঝি
নিধারুন কোলাহলে।

চাঁদ খুঁজে পাবে
আর দেখি আরও দেখ
দেখলাম মধুপুরে চোখের নিকটে
কয়টা হরিণ বান্ধা আছে কাঁটাতার ঘেরা বনে
হনুমান ঝুলে আছে পাতাটাতা খুঁজে বনে
পাতাটাতা নাই বনে হনুমান মরে জলে।

হরিণেরা কি জানে ভালোবাসি তোমারে
হনুমান কি জানে ভালোবাসি তোমারে
কয়টা হরিণ বান্ধা আছে চোখের নিকটে
কয়টা হরিণ বান্ধা আছে কাঁটাতার ঘেরা বনে।

হরিণেরে ছেড়ে দাও
চোখ দুটা খুলে দাও
কয়টা হরিণ বান্ধা আমার চোখের নিকটে
কয়টা হরিণ বান্ধা তোমার চোখের নিকটে
কয়টা হরিণ বান্ধা আছে কাঁটাতার ঘেরা বনে

আর বলি আরো বলো
বাংলার আকাশে 
উড়ে যাওয়া জেটজঙ্গীর দিকে ছুঁড়ে মারছি আ
দাউদাউ করা সারাটা দুপুরে বস্তিতে পোড়া আ
কসাইখানার বাছুরের ডাক 
শেষডাক যতো আ 
হাম্বা হাম্বা 
বাগানের চারা গাছেরে 
ডেকে ডেকে বলি 
ডেকে ডেকে বলি 
রাস্তায় নেমে আ।।


🎵 সাতটা শঙখ একবারে বাজাবো 🎵

সাতটা শঙখ একবারে বাজাবো
পুরোটা সপ্তক একসাথে বাজাবো
বাঘের বুকে জাগলো বুঝি 
সাগর দেশের ঝড়
পাখির ডানায় দারুন শক্তি
দারুন শক্তি
গরুর চোখে মায়া
গরুর চোখে মায়া লাগে
শিংয়ে জাগে সাহস।

শঙ্খ যাইও বন্ধুর বাড়ি
শঙ্খ কইও তুমি তারই
নিশীথে, চাঁদ নিশীথে
তুমিও শঙ্খ একলা শঙ্খ 
রাতটারে জাগায়োও।

শঙ্খ যাইও বন্ধুর বাড়ি
শঙ্খ কইও তুমি তারই
শঙ্খ বললো
এ বাড়ি নাই, বন্ধুর বাড়ি নাই।
গরুর বুকে জাগলো বুঝি মাঠের হাহাকার
গরুর বললো
হে আমার মাঠ নাই আমার ঘাস নাই
চাষার বুকে জাগলো বুঝি গরুর হাহাকার
আর চাষা বললো
হে আমার মাঠ নাই আমার গরু নাই।


🎵 একটা বাছুর যাচ্ছে উড়ে 🎵

 ঘন্টা ঘুঙুর ঘন্টা ঘুঙুর বাজলো লোকালয়ে
বাছুরের গলে চুমু খেয়েছিলো কোন রাখালে
ছুরি চালাবার আগে আগে
ঘুঙুর খুলে নিও গো গলার ঘুঙুর খুলে নিও
চুমুটুমু খুলে নিও গো গলার চুমুটুমু খুলে নিও
একটা বাছুর ও যাচ্ছে উড়ে
ঘন্টা ঘুঙুর ঘন্টা ঘুঙুর বাজলো লোকালয়ে।

ঘুঙুর বাজছিলো পায়ে পায়ে পলে পলে
ঘন্টা বাজছিলো কারাগারে ইশকুলে
ঘন্টা বাজছিলো ওমন্দিরে লোকালয়ে
ঘন্টা বাজছিলো কারাগারে ইশকুলে
ঘন্টা ঘুঙুর এবং ছুরি বাজলো চিতকারে
ছুরি চালাবার আগে আগে 
বাঁধন খুলে নিও গো চোখের বাঁধন খুলে নিও
চুমুটুমু খুলে নিও গো চোখের চুমুটুমু খুলে নিও 
একটা বাছুর যাচ্ছে উড়ে
ঘন্টা ঘুঙুর ঘন্টা ঘুঙুর বাজলো লোকালয়ে।।।


 🎵 বাঘ বন্দি সিংহ বন্দি 🎵

বাঘ বন্দি সিংহ বন্দি 
ও বাঘ বন্দি সিংহ বন্দি 
বন্দি আমার হিয়া
বন্দি তোমার হিয়া
বন্ধুরে 
শিকল ছিঁড়িয়া দে মরি দেখিয়া
একবার ছাড়িয়া দে মরি দেখিয়া।

আ শিকলে বান্ধা আমি 
আ শিকলে বান্ধা তুমি
আ শিকলে বান্ধা 
শিকল ছিঁড়িয়া দে মরি দেখিয়া
একবার ছাড়িয়া দে মরি দেখিয়া।

কী সন্ধানে যাইবা তুমি
কী সন্ধানে যাবো আমি
কার দুঃখ লইয়া
একবার জিরাইয়া যাও 
বেহুলারে লইয়া
নদীরে 
একবার জিরাইয়া যাও 
বেহুলারে লইয়া।।


🎵 গান হলো নিরাপদ 🎵

গান হলো নিরাপদ
তাই বসে থাকো
সুর গুলি পলাতক
তাই শুয়ে থাকো।

কোন সুরই বাঁশির মত বাঁজে না তো
কোন বাঁশি সানাইয়ের মত কাঁদে না তো
প্রতিক্ষনে দেহ ঘরো
প্রতিক্ষনে মন শৈশব সাজিয়ও
দেহ রূপরত।

কোন বাঁশি সানাইয়ের মত কাঁদে না তো
কোন সানাই তোমার মত একা নয় তো
ওগো গান হলো নিরাপদ
তাই বসে থাকো
সুর গুলি পলাতক
তাই ছবি থাকো।


 🎵 বানিয়েছি ডুগডুগি বাজাও বাজাও 🎵

সহোদরা জ্বলন্ত অগ্নির
তুমি মহা সৃষ্টির সহোদর
সহোদরা জ্বলন্ত অগ্নির
অগ্নি চেতনায় শান দাও
শান দাও শান দাও
বানিয়েছি ডুগডুগি
বাজাও বাজাও।

তুমি নও ঘুমন্ত কবরে
তুমি নও প্রেতো হাঁসি শ্মশানে
আমি চাষ করি চাষ কবর
আমি ঢালি জল ঢালি শ্মশানে
শ্মশানে কবরে ঘুম ঘুম জাগাও জাগাও
বানিয়েছি ডুগডুগি
বাজাও বাজাও।

তুমি জাগো মহুয়ার রাত্রিরে
তুমি শোনো বাঁশি বাঁজে হাহাকার
হাহাকার হাহাকার হাহাকার
শ্মশানে কবরে ঘুম ঘুম জাগাও জাগাও
বানিয়েছি ডুগডুগি
বাজাও বাজাও।
তোমার মাথার খুলি করোটি ও হাড়ে
বানিয়েছি ডুগডুগি বাজাও বাজাও।।


🎵বন্ধু থাকো, বন্ধু থাকো🎵

বন্ধু থাকো, বন্ধু থাকো
বন্ধু থাকো, বন্ধু থাকো
থাকো আমার মনে
থাকো আমার রঙ্গে
থাকো আমার অঙ্গে।

রাজার ফুল বাগানে যাই
একটু হাঁটিয়া বেড়াই
আমার প্রাণে শান্তি নাই।

বন্ধু ডাকো বন্ধু ডাকো 
বন্ধু ডাকো বন্ধু ডাকো 
ডাকো তোমার ডাকে।

তুমি বসো তোমারও ঢঙ্গে
বন্ধু নাচো বন্ধু নাচো 
বন্ধু নাচো বন্ধু নাচো 
নাচো তোমার ছন্দে
বন্ধু জাগো বন্ধু জাগো 
বন্ধু জাগো বন্ধু জাগো 
জাগো জাগরণে।।


🎵 একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া উঠে দাঁড়ালো🎵

ছিঁড়ে নিলো 
ছোঁ মেরে ছিঁড়ে নিলো
ঘাসফড়িংয়ের চোখটা
একটা পাখি এসে ছিঁড়ে নিলো
ঘাসফড়িংয়ের চোখটা।

কবি কবি তুমি দেখছো কি
এমনি ছিল এমনিতো ছিলো সকালের শুরুটা
একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া উঠে দাঁড়ালো
ওরা বললো 
আমার মা  
আমাকে পাঠিয়েছে তোমার কাছে  
এখন তুমি কি করবে কি করবে
পৃথিবী বলো পৃথিবী
এখন তুমি কি করবে কি করবে
কেবলি রূপকথাটা ছড়িয়ে দিলাম 
চোখের সামনে।

ঘোড়া খুড়ে গানে গানে 
তুমি এলোমেলো হবে কে
ধূলাবালি হবে কি
মাটি বলো মাটি
তোমার ন্যাংটা বাচ্চাটা কই
হাতে হাতে খোলা গাঁ তোল দেই মাটি
বলো মাটি তোমার ন্যাংটা বাচ্চাটা কই।

রাতভর ছিল তোমার মুখে যে সূর্যটা বাঁধানো
সূর্যটা জাগানোর সূর্যটা ছোড়ানো
একটা সকাল এসে 
ছোঁ মেরে ছিঁড়ে নিলো
মুখের সূর্যটা
তোমার মুখের সূর্যটা
কবি কবি তুমি দেখছো কি
এমনি ছিল এমনিতো ছিলো সকালের শুরুটা
একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া উঠে দাঁড়ালো
একটা পাখ ভাঙা পাখি উড়াল দিলো।

পাখি গাইলো
আমার মা  কা কা 
আমাকে পাঠিয়েছে তোমার কাছে  
এখন তুমি কি করবে কি করবে
পৃথিবী বলো পৃথিবী
এখন তুমি কি করবে কি করবে
কেবলি রূপকথাটা ছড়িয়ে দিলাম 
চোখের সামনে।
একটা পাখ ভাঙা পাখি উড়াল দিলো
একটা ঘাড় ভাঙা ঘোড়া উঠে দাঁড়ালো।।


🎵 বুক টান বুক টান টান করে দাঁড়াও 🎵

বুক টান বুক টান টান করে দাঁড়াও
নয় দৃশ্য সকল ভিতরেই মরে গেছো
ঘাসগুলো খুব গোপনে ফোঁটায় ছোট ছোট সাদা ফুল
ছোট ছোট সাদা ফুল
উঁকি দেয় ফুল
উঁকি দিয়ে ফুল
ঝরে যাবে তুমি কেনো
উঁকি দেয় ফুল
উঁকি দিয়ে ফুল
ঝরে যাবে তুমি কেনো
বুক টান বুক টান টান করে দাঁড়াও
নয় দৃশ্য সকল ভিতরেই মরে গেছো। 

ফুটপাত ধরো রাত্রির থেকে বাড়ি গুলি কতো দূরে
বাড়ি গুলি কতো দূরে
মন লুকিয়েছি মন
লুকিয়েছো মন
দেহটা লুকাবো কই
তুমি লুকাইয়ো না
তুমি লুকাইয়ো না রূপ
পুরোটা প্রকাশ হও
বুক টান বুক টান টান করে দাঁড়াও
নয় দৃশ্য সকল ভিতরেই মরে গেছো।

ঝড়ো রাত্রি বাড়িটা কাঁপছে
জানালাটা খুলে দাও
দরজাটা খুলে দাও
জানলাগুলি ও ঘর ছেড়ে
পাখি হয়ে উড়ে যাও
উড়ে যাও উড়ে যাও উড়ে যাও 
কাঠুরিয়া ও ভাই কাঠুরিয়া 
তোমার নিজ হাতে নিজ হাত
কেটে দাও কেটে দাও কেটে দাও
বুক টান বুক টান টান করে দাঁড়াও
নয় দৃশ্য সকল ভিতরেই মরে গেছো।

গান বলে বুঝি জল্লাদের দুই পায়ের 
কাছে ক’ফোটা চোখের জল
ক’ফোটা চোখের জল ক’ফোটা চোখের জল
সোনার রাজার মতোই কুৎসিত 
সব প্রকরণ কুৎসিত
বুক টান বুক টান টান করে দাঁড়াও
নয় দৃশ্য সকল ভিতরেই মরে গেছো।

ঘাস কুলি খোপ গোপনে ফোটায় 
ছোট ছোট সাদা ফুল
ছোট ছোট সাদা ফুল
উঁকি দেয় ফুল
উঁকি দিয়ে ফুল
ঝরে যাবে তুমি কেন
খাঁচা বন্দি পাখিটার থেকে সুর্যটা কতো দূরে
সুর্যটা কতো দূরে
বলো ভালোবাসা থেকে সময়ের এতো 
দূরে থাকা হয় কেন
বুক টান বুক টান টান টান করে দাঁড়াও
নয় দৃশ্য সকল ভিতরেই মরে গেছো।।


🎵 প্রেস নোট শুধু প্রেস নোট 🎵

আমার তালা বদ্ধ রেখে
আমারে আগুনে পুড়িয়ে মেরে
প্রেস নোট শুধু প্রেস নোট
আমি চাই না আমি চাই না আমি চাই না
বদ্ধ দম বদ্ধ ঘরে 
আমারে আটক মানি না
তোমার এই আটক মানি না।

কারখানা কেন বন্দি শিবির
জীবন কেন এতটা স্থবির
এত কাজ তবু মজুরি পাই না
বাঁচার মত মজুরি পাই না
মানি না আমি মানি না
বদ্ধ দম বদ্ধ ঘরে 
আমারে আটক মানি না
তোমার এই আটক মানি না।

শুনে যা মা উড়ে গেছে  দূর বিদেশে
ক্লান্ত দেহ পরে আছে লাশের ওপাশে
কোথাও বুঝি বাজে বাঁশি
ঘুম জাগানিয়া ঘুম জাগানিয়া
চল বন্ধু চল শিকল ছিঁড়িয়া
চল সংগ্রামি চল শিকল ছিঁড়িয়া।।

কারখানা কেন বন্দি শিবির
জীবন কেন এতটা স্থবির
একি কাজ তবু মজুরি তফাৎ
নারী ও পুরুষে মজুরি তফাৎ
মানি না আমি মানি না
বদ্ধ দম বদ্ধ ঘরে 
আমারে আটক মানি না
তোমার এই আটক মানি না।


🎵 নীল কানাড়ার মাঠে কে যাও 🎵

নীল কানাড়ার মাঠে কে যাও
ও কে যাও কে যাও
হে কে যাও লাঙল বাইতে
হে আমি নিজেই যাবো 
নিজেই যাবো 
জলখাবার দিতে।

মাঠে মাঠে দানার আগুন ফুটেছে
মাঠে মাঠে বন্ধু আমায় ডেকেছে
নীল কানাড়ার মাঠে কে যাও
ও কে যাও কে যাও
হে কে যাও লাঙল বাইতে
হে আমি নিজেই যাবো 
নিজেই যাবো 
জলখাবার দিতে।

দিকে দিকে বাঁশিরা সুর তুলেছে
সুরে সুরে বাঁশিরা ডাক দিয়েছে
মাঠে মাঠে বন্ধু আমায় ডেকেছে
নীল কানাড়ার মাঠে কে যাও
ও কে যাও কে যাও
হে কে যাও লাঙল বাইতে
হে আমি নিজেই যাবো 
নিজেই যাবো 
জলখাবার দিতে।


🎵 চোখের সামনে পুড়ছে যখন 🎵

আমার এ চোখের সামনে
পুড়ছে যখন মন সুন্দর গ্রাম
আমার মন সুন্দর গ্রাম
অজগরের হা’য়ের থেকে
জন্মালো আকাশ নাকি
অজগরের হায় হায়
খেলা করছে শিশু যিশু
ও যে মানব শিশু
যিশু আমার কুঠার হাতে
চন্দ্র কোঁপায়।

যিশু আমার চন্দ্র হাতে
পাতালপুরে যায় সে আমায়
নিয়ে যেতে চায় সে আমায়
নিয়ে যেতে চায় আমি যাই নাই
আমি যেতে পারি না
আমি যাই নাই।


🎵 প্রতিদিন গান প্রতিদন প্রাণ 🎵

প্রতিদিন ভাঙি 
প্রতিদিন গড়ি
প্রতিদিন ভুলি না 
প্রতিদিন গান
প্রতিদিন প্রাণ
প্রতিদিন ঠিকানা।

যে আগুন লেগেছে
তা হঠাৎ নিভবে না
যদি বৈশাখি রোদে 
হঠাৎ বৃষ্টি নামে
তবে কি চাষার হৃদয় জুড়াবে
মাঠ হারাবার দেশে।

ও যখন বৃষ্টি এল শহরে
ও তখন ঘরে ছিল বাইরে চেয়ে
ও শহর পুড়ছে যখন আগুন খড়ায়
ইচ্ছা করো বৃষ্টি লাগুক সারা বেলা
যে আগুন লেগেছে
তা হঠাৎ নিভবে না
যদি বৈশাখি রোদে 
হঠাৎ বৃষ্টি নামে
তবে কি চাষার হৃদয় জুড়াবে
মাঠ হারাবার দেশে।


কফিল আহমেদের গান শুধুই শিল্প নয় এগুলো একটি দর্শন, একটি জীবনবোধ, একটি আধুনিক লোকসাহিত্য। তিনি প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ককে যে স্বর ও প্রতীকে তুলে ধরেন, তা একইসঙ্গে রাজনৈতিক, দার্শনিক ও অন্তর্মুখী। ‘মাসানোবোফুকোওকা’র মতো গানে ধ্বনি, শব্দ, রঙ এবং ভাবনা একত্র হয়ে জন্ম দেয় নতুন এক সঙ্গীত চিন্তা আর একটা বাছুর আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় মানুষ ও প্রাণের গভীর সহাবস্থানের গল্পে। আধুনিক নগরসভ্যতা যেখানে প্রাণকে বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দেয়, সেখানে কফিল আহমেদের গান মনে করিয়ে দেয় পৃথিবী কোনো একক প্রাণীর সম্পত্তি নয়। প্রত্যেক সত্তারই মূল্য রয়েছে। তার প্রতিটি সুর, প্রতিটি লাইন, প্রতিটি চরিত্র মানুষের ব্যথা, প্রকৃতির আহ্বান এবং বেঁচে থাকার গভীর তাড়না বহন করে। আজ, যখন আবার নতুন করে তার গান প্রকাশ পাচ্ছে, তখন কফিল আহমেদের শিল্পযাত্রা এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। শ্রোতারা যেমন তার গানে জীবনের সত্য খুঁজে পান, তেমনি শিল্পীও নিজের দর্শনকে পুনরাবিষ্কার করেন প্রতিটি সৃষ্টিতে। এই পথচলা দীর্ঘ হোক, গানগুলো আরও মানুষের কাছে পৌঁছাক এই প্রত্যাশাতেই কফিল আহমেদের সঙ্গীতজগতের সঙ্গে আমাদের নতুন যাত্রা শুরু। ভালবাসা অবিরাম কফিল আহমেদ। আপনি বেঁচে থাকেন হাজার বছর। আমাদের প্রার্থনা আর ভালবাসা। 



--- বাউল পানকৌড়ি
ধ্রুব এষ এর লেখা গান যত--Click to Read
বাবনা করিমের লেখা যত গান--Click to Read
ইব্রাহিম আহমেদ কমল এর লেখা গান--Click to Read






Read on mobile

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url