লালন পরম্পরায় সাধক ও মরমি কবি সূফি দার্শনিক বাউল পাঞ্জু শাহ-এর গান

লালন-পরম্পরায় সাধক ও মরমি কবি সূফি দার্শনিক বাউল পাঞ্জু শাহ-এর গান:

বাংলার বাউল ফকিরি ধারায় এমন কয়েক জন সাধক রয়েছেন যাদের গান আজও মনের গভীরে আলো জ্বেলে রাখে। সাধক পাঞ্জু শাহ তেমনই এক নাম। যিনি একইসাথে বাউল ফকির ও দরবেশে মন মহাজন। কেউ বলেন ফকির কেউ বলেন বাউল আবার কেউ মনে করেন তিনি ছিলেন সূফি দার্শনিক। কিন্তু একটা বিষয় সরল তাঁর গান বাউল ফকিরি সাধনার আসল চেতনার ধারক এবং ফকির লালন সাঁই তাঁর চিন্তা ও সাধনার মূলে। লালন ফকিরের ভাব তত্ত্ব পাঞ্জু শাহের গানে প্রবলভাবে প্রতিফলিত। চিন্তায় দর্শনে এমনকি সাধন পদ্ধতিতেও লালন সাঁইয়ের অনুগামী। মনে করা হয় ফকির লালন সাঁইয়ের মৃত্যুর পর সাধক সমাজে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল সেটি অনেকটাই পূরণ করেছিলেন পাঞ্জু শাহ।


মরমি সাধক পাঞ্জু শাহ ১২৫৮ বঙ্গাব্দের (১৮৫১ খ্রিস্টাব্দ) ২৮শে শ্রাবণ ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা খাদেম আলী খোন্দকার ও মাতা জোহরা বেগম ছিলেন ঐ গ্রামের প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের সদস্য। খাদেম আলী খোন্দকারের ছিল পাঁচ সন্তান শাহারন নেছা, তহিরন নেছা, পাঞ্জু খোন্দকার, ওয়াসিম উদ্দিন খোন্দকার এবং আইমানী নেছা। পারিবারিক কারনে পাঞ্জু শাহের পিতা শৈলকুপা ত্যাগ করে হরিশপুরে গমন করেন। এবং এই হরিশপুরেই সাধক পাঞ্জু শাহের সাধন সৃষ্টির শুরুটা হয়। তিনি নিজেই বলেছেন বসতি মোকাম মোর হরিশপুর গ্রাম। পাঞ্জু শাহ বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেন নাই। গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে আরবি ও ফারসি ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর পিতা ছিলেন ধর্মপ্রাণ শাস্ত্রানুরাগী একজন মুসলমান। যিনি বাংলা ভাষা শিক্ষার বিরোধী ছিলেন। ফলে পাঞ্জু শাহ শৈশবে বাংলা ভাষায় সাবলীল ছিলেন না। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেন মাতৃভাষা না জানলে চিন্তার পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। ষোলো বছর বয়সে তিনি হরিশপুর নিবাসী মহর আলী বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে গোপনে বাংলা ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করেন। চব্বিশ বছর বয়সে তিনি চুয়াডাঙ্গার আইলহাস-লক্ষ্মীপুর গ্রামের আবদুর রহমান খোন্দকারের কন্যা ছন্দন নেছাকে বিয়ে করেন। পুণ্যবতী ও গুণবতী এই জীবনসঙ্গিনী পাঞ্জু শাহকে নানা দিক থেকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন। দু’বছর পর তাঁদের প্রথম সন্তান শামসউদ্দীনের জন্ম হয়, পরে দুই কন্যা কলিমন নেছা ও ছালেহা খাতুন। সাতাশ বছর বয়সে পিতার মৃত্যুর পর সংসারের সমস্ত দায়িত্ব তাঁর কাঁধে এসে পড়ে। কৈশোরকাল থেকেই তিনি মরমী সাধনার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন, তবে পিতার ভয়ে প্রকাশ্যে কোনো ফকিরি মজলিশে যোগ দেননি। পিতার মৃত্যুর পর তিনি স্বাধীনভাবে সুফি সাধনায় মনোনিবেশ করেন এবং হিবাজতুল্লাহ খোন্দকার নামে এক তত্ত্বজ্ঞ সাধকের নিকট দীক্ষা গ্রহণ করেন। এবং সূফি সাধনায় মননিবেশ করে ২০০ এর অধিক গান তিনি রচনা করেছেন। ১৮৯০ সালে পাঞ্জু শাহের লেখা কাব্যগ্রন্থ ছহি ইস্কি ছাদেকী গওহোর প্রকাশিত হয়। এর অর্থ হচ্ছে সত্যিকারের প্রেমের মুক্ত বা সত্যপ্রেমের রত্ন। স্রষ্টার প্রতি আত্মার গভীর অনুরাগ ও মরমি আকর্ষণের প্রতীক। জানা যায় বইটির তিনটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল। এতে সুফিতত্ত্বের গভীর ব্যাখ্যা নৈতিক উপদেশ এবং মানুষের অন্তর্দর্শন সম্পর্কিত আধ্যাত্মিক বার্তা সংকলিত ছিলো। বইটির ভূমিকায় তিনি লিখেছিলেন, এ কিতাব ইমানেতে যে জন পড়িবে আল্লার যে ভেদ সেই অবশ্য পাইবে। ভূমিকা থেকেই বোঝা যায় পাঞ্জু শাহ তাঁর কাব্যকে কেবল সাহিত্য নয় বরং আধ্যাত্মিক জাগরণের পথ নির্দেশিকা হিসেবে দেখতেন। তিনি যেমন মনের মানুষ’খুঁজেছেন তেমনি অধর মানুষ অনুসন্ধানে থেকেছেন সারাজীবন। তাঁর গানে মানুষ ভজনার তত্ত্ব সর্বোচ্চ স্থান পেয়েছে। এই মহান মরমি সাধক সূফি কবি ১৩২১ বঙ্গাব্দের ২৮ শ্রাবণ হরিশপুরে পাঞ্জু শাহ্ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

পাঞ্জু শাহ

-(১)-

অধর চাঁদ মেলে মুর্শিদ আঁধার ঘুচালে 
দেখবি লীলা, চাঁদের খেলা, খেলা দ্বিদলে
চাঁদের সিংহাসন উদয়
তিল পরিমাণ জায়গা বুঝায়
রঙমহল তাই।
পাঞ্জাতন সে আসন ঘেরে সকলে।
অমাবস্যা সে চাঁদের নাই
দিবানিশি হচ্ছে উদয়
দেখলে দেখা যায়।
মানব-জনম সফল হবে সে চাঁদ দেখিলে।
দেখে শুনে সাধন করে
সে জন যাবে ভবপারে
সে চরণ ধরে।
পাঞ্জু বলে সাধের জনম গেল বিফলে।

-(২)-

অধর মানুষ নদীর কূলে ঘাট বাঁধিয়াছে
তাহে মণিমুক্তা ভিয়ান করে ঘাটে 
শান বেঁধে দিয়াছে 
পদ্মা যমুনা মিলে
ভাগীরথীর লোনা জোয়ারে
তিন ধারে তিন নদীর জলে 
জোয়ার-ভাটা খেলিতেছে।
আদ্য মানুষ অধর চাঁদে
এক রূপে তিন রূপ ধরেছে
তিন ধারে তিন রসে মিশে বারাম দিতেছে।
মানুষ তিন রতি হয়ে
তিন রসে সোয়ার দিয়ে
সাধারণী সামঞ্জসা সামর্থা 
তিন নাম ধরেছে গরল রসে সাধারণী।
সামঞ্জসা শাস্ত্র শুনি
সামর্থা অমৃত রসে বিরাজ করতেছে
যে জন রসিক হয়েছে
রসের ভিয়ান জেনেছে
গুরুর কৃপায় ঘাটে নেমে 
তিন রতি উজান করেছে।
রস-রতি উজান হলে
গোপী-কৃপা তাইরি মেলে
সহজ রূপে নয়ন দিয়ে জেন্দা মরেছে
হিরুচাঁদ কয় ভাব না জেনে 
পাঞ্জু ঘুরে মলি মিছে।

-(৩)-

অযোগ্য বলে গুরু ফেলো না আমায়
আমি চরণ-দাসের যোগ্য নয়
যোগ্য লোকের দয়া গুরু, করে জগতে সবাই,
তোমা বিনে অধম জনে কেহ না সুধায়।
দয়াল, সাধু-মুখে শুনি
পাষাণ-দলন পতিত পাবন তোমার নামের ধ্বনি
তাই শুনিয়ে স্মরণ নিলাম যদি দয়া হয়
এ জগতে আমা বলতে আর তো কেহ নাই।
গুরু, শুনি তোমার রায়
জগাই-মাধাই মেরেছিল কাদা ফেলে গায়
বুকে বহে রুধির-ধারা, তবু হয়ে দয়াময়
হরিনাম দিয়ে তারে কোল দিলে নিতাই।
শুনি অহল্যা এক নারী
মুনি-পত্নী স্বামীর বাক্যে পাষাণ হলেন তিনি
চরণ-ধূলা দিয়ে তারে মানবি করলে তাই
অধীন পাঞ্জু চেয়ে আছে ঐ ধূলার আশায়।

-(৪)-

আগে দেহের খবর জানো রে আমার মন 
দেহতত্ত্ব না জানিলে জনম যাবে অকারণ 
দেহবৃক্ষের পাঁচটি শাখা
দশ ডালে তার দশটি পাতা
সেই বৃক্ষে বসে আছে মহানন্দ মহাজন।
বিষয় বিষে মন চঞ্চলা
বিবাদী করে ছলা কলা
মন বিবাগী বাগ মানে না
 নষ্ট করে পিতৃধন।
গুরুর দাসী হও আগে
প্রেমতরি বাও অনুরাগে
পাঞ্জু বলে তবেই হবে 
মহাসুখের আগমন। 

-(৫)-

আজব কারখানা বোঝা সাধ্য কার
সাঁই করেন লীলা ভবের পর
এই মানুষে রঙ্গরসে বিরাজ করেন 
সাঁই আমার।
একটি ছিলেন দুটি হলেন
 নীরে-ক্ষীরে যুগল তার
পুরুষ-প্রকৃতি ঘটে হরেক 
রঙে দেন বাহার।
পাপির ঘটে রঙ্গ দেখে 
হাকিম ঘটে দেন বিচার,
দরিদ্রের ঘটে বসে ফিরতেছেন
 সাঁই দ্বার বে দ্বার।
পাঞ্জু বলে মানব-লীলা 
করেছেন সাঁই চমৎকার,
মানুষ ধরো মানুষ ভজো
মন যাবি তুই ভবপার। 

-(৬)-

আমার কি এত দয়া হবে
জগতের স্বামী এই কপালে মিলিবে
জনম নাপাকে যায়
পাক দেহ হলো নাই
সাঁই গো।
ভক্তিহীন জীবের দয়া, কিসে বা হইবে 
জীবের জীবন ধন
আহা রে সে নিরাঞ্জন
সাঁই গো।
এমন অধম জনে কেনো দেখা দিবে
ভজন নাহিক জানি
কোন গুণে গুণমণি
সাঁই গো।
এমন যে অভাগিনী দাসী বানাইবে
গেল জনম বিফলে
ঘিরে নিল মায়াজালে
সাঁই গো
পাঞ্জু বলে অন্তিম কালে
বাম না হইবে।

-(৭)-

আল্লা খুশি হবে কোন কামে
সাধু গুরু দয়া করে বলো এ গোলামে
রোজা ও নমাজ করি
ভালো হয় আপনারি
সাঁই গো।
নেকি কামে বেহেস্ত যে দিবেন আদমে
খয়রাত যাহা করি
সেই নেকি আপনারি
সাঁই গো।
আত্মসুখ জন্য আল্লা ডাকি দমে দমে 
সাধনে অটল হই
খোদা সঙ্গে মিশে যাই
সাঁই গো।
গোলামি কি তাতে হয় খোদার কদমে 
যেই হয় গুরু কাজি
আল্লা তাহে হবে রাজি
সাঁই গো
পাঞ্জু বলে মন তুমি মজো 
গুরু-প্রেমে।

-(৮)-

আল্লার নাম করো দম-বদমে 
হলো নাফি এজবাত নিজ নামে 
নাম করিলে উদ্ধার পাব
আল্লা পাব কোন কামে।
শুনি বারো বুরুজে
কোন বুরুজে কিসে থাকে
 কি নাম ধরে
বরজোখ ধ্যানে রূপ দেখা যায়
মঞ্জিল আর মোকামে।
মালাকুত মোকামে
সিয়া সফেদ লাল জরদ
চার রঙ ধরে
অতুলনা মুর্শিদের রূপ 
মাখা আছে আদমে।
রঙ দেখি ধ্যানে
অধর চাঁদকে ধরা যাবে 
বলো কোন সাধনে
সাধন-সন্ধান জানো বলি 
সাধুর কদমে
সিদ্ধি হবে সাধনে।
খোদা প্রাপ্তি কিসে হবে 
ভজন বিনে
পাঞ্জু বলে ভজন 
আল্লার আলমে আর কলমে।

-(৯)-

আল্লা পাবে সত্য প্রেমি হলে 
সূর্যের ধিয়ানে যেমন রয়েছে কমলে
জলেতে কমল রয়
স্বভাব তাহার হয়
সাঁই গো।
বিকশিত সূর্যোদয়ে মুদিতাস্ত গেলো
যে দিকে সুরুয চলে
কমল সে দিকে হেলে
সাঁই গো।
ফেরে না সে কোনোকালে 
ঝাড়ি তুফান হলে 
তেমনি আশকদার
পতিকে করেছে সার
সাঁই গো।
যদি হয় ছারেখার তবু নাহি টলে
মন রে কমল হও
গুরুপদে মন দাও
সাঁই গো।
ভবকুলে কালি দাও 
ভুলো না করো ভোলে 
হীন পাঞ্জু আলাঝালা
না জানে পিরিতি জ্বালা
সাঁই গো
মেলে কি মালেক আল্লা 
মূঢ়ার কপালে ॥ 

-(১০)-

আল্লার বান্দা কিসে হয়
নবির উম্মত হলে জানা যায়
আল্লার বান্দা নবির উম্মত
এ জগতে সবাই কয়।
আঠারো হাজার আলমে আছে
নব্বই হাজার কালাম তার
সিনা, সফিনা দুই ভাগে রয়
তিরিশ হাজার এই দুনিয়ায়
ষাট হাজার কালামে আহাদ
তার খবর আর কেবা পায়।
জেন্দেগি ভর বন্দেগি করিতে
মোরে সবাই কয়
গোলামি করিলে বান্দা
হাদিসে তা জানা যায়
কিসে হয় আল্লার গোলামি
খোলা নাই ভেদ সফিনায়।
ভেদ জানিয়া নুর সাধিলে
কালাম-সিনা হয় আদায়
সাধন বর্ত নুরে-নীরে
বরজোখ-ভজন তাই
পাঞ্জু বলে আহাদ কালামে
দয়া করবেন দয়াময়। 

-(১১)-

এমন দুর্লভ জনম হারাইও না
পাথরে ঠুকিলে মাথা, 
এমন জনম আর হবে না।
চৌরাশি লক্ষ যোনী
পশু আদি শৃগাল গৃধিনী
ব্রহ্ম দরেন্দা।
জনম পেয়ে মানব হয়ে
মানুষ কেনে চেনো না 
সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি
চার যুগে মন কোথায়ি ছিলি
ডুবে দেখতে হয়।
মিছে দুদিনের দায় দুকূল হারায়
শেষ ভাবনা ভাবো না
ধন পুত্র জরু মালে
কে ঠেকাবে অন্তিম কালে
কি হবে উপায়।
সেদিন আপনার জন্যে কাঁদবে সবাই
তোর জন্যে কেউ কাঁদবে না 
ব্যথার ব্যথিত কে আছে মন
কারে বলো আপন আপন
হিরুচাঁদে কয়
অধীন পাঞ্জু বলে মায়াজালে
গুরুর চরণ ভুলো না

-(১২)-

কি সাধনে আল্লাতালা পাই
সাধন-ভজন ভুলে দিন গেল ভাই
সন্ন্যাসী হইয়া কেউ
সর্বত্যাগী হলো সেও
সাঁই গো।
শুনি সেহ ভ্রমে ভুলে ফিরিছে সদাই 
ঘর ছেড়ে বনে যায়
রিপু তার সঙ্গে রয়
সাঁই গো।
বনে গেলে আল্লা পাব এখানে কি নাই 
আমি কোথা সে কোথায়
কোথা গেলে তারে পাই
সাঁই গো।
ভেবে দেখি দেহ ছাড়া নাহি কোনো ঠাঁই 
নুরে আছে নিরাকার
জেনে সাধ্য করো তার
সাঁই গো
পাঞ্জু বলে দিন গেলে আর হবে নাই।

-(১৩)-

ক্ষমো হে অপরাধে
দাসী করে অনুরোধে 
তুমি দীনবন্ধু করুণাসিন্ধু
আমারে দিও না বাদ।
গগনচন্দ্র উদয় করো
তিমির অন্ধকার হরো
পাপী তাপী সবাকার
জ্যোতি লাগে গায়।
কোটি চন্দ্র যিনি কিরণ
নামটি শুনি দয়াল চাঁদ 
সৃষ্টিকর্তা তোমায় দেখি
কেনো করো দুখীতাপী
ভক্তের করো দীপ্ত আঁখি
পাপীর অন্ধকার।
করো, কারো দীপ্ত, করো অন্ধ
তুমি আবার কেমন চাঁদ
তুমি বাঞ্ছা কল্পতরু
পতিত পাবন জগৎ গুরু।
পাঞ্জু বল করে না কার
যা করো এবার
তোমার নামের জোরে পাষাণ গলে
আমায় গলায় মায়াফাঁদ।

-(১৪)-

খুঁজে কি আর পাবি সে অধরা
 সে নয়ন তারা 
এই মানুষে মিশে আছে
গোপীর মনচোরা
লীলা সাঙ্গ করে গোরা,
স্বরূপেতে মিশে আছে
মায়া পাশরা।
স্বরূপ রূপ রসে মিশে 
রসে হয়ে ভোরা
রসের আলো হয় ছেতারা
রসেতে রূপ গিলটি করা
দর্পণের পারা।
রসের নদী জোয়ার এসে 
বহে তিনটি ধারা 
কারুণ্যে তারুণ্যামৃত
লাবণ্যে তার তিনটি অর্থ
রসিক জানে তা
তারা নদীর কূলে ভ্রমর ধরে,
পাঞ্জু মণিহারা।

-(১৫)-

খোদার আশকি যেই হবে 
ষোল আনা এক তোলা ওজন হইবে 
ভবের ওজন ভাই
রতি হতে ঠিক তাই
হায় গো।
বে-ওজন মাল সেই খোদা নাহি লবে 
ওজনের মূল এই
এক তোলা জানো ভাই
হায় গো।
কিসে হয় তোলা ঠিক জানিয়া লইবে
এক তোলা বাটখারা
দেখ সে কেমন ধারা
হায় গো।
সের মন কাঁচা পাকা তোলা ঠিক রবে
যথায় যে ওজন হয়
তোলা কভু নড়ে নাই
হায় গো।
শরিয়ত, মারফত তাহাতে জানিবে 
ভবে যত কারবার
করিবারে পরোয়ার
হায় গো।
খাস ভাণ্ডারের তোলা ভেজে দেয় সবে 
অচিন সে তোলা ভাই
এমান আমান তাই
হায় গো।
তাহার ওজনে সাঁই কবুল পড়িবে 
হীন পাঞ্জু কেন্দে কয়,
সত্য করে বলি তাই
হায় গো
ভজন সাধন ভাই তোলাতে হইবে।

-(১৬)-

গুরু তুমি ফেলো না অধমে 
বাঞ্ছা আছে গোলাম হবো তোমার কদমে
অযোগ্য হয়ে মুই
কদমেতে ছায়া চাই
সাঁই গো।
বাঞ্ছা হয় তব রূপ, ভাবি দমে দমে 
তোমা পানে যে চায়
রিপু তার বাঁদী হয়
সাঁই গো।
রিপু শান্ত করি আমি বলো কোন কামে 
দয়া করো দয়াময়
ভেবে দেখি বেলা নাই
সাঁই গো।
কোন ঘড়ি এসে মোরে ধরে নিবে যমে 
চালাও সিদা রাহে সাঁই
তোমায় যেন ভুলি নাই
সাঁই গো
পাঞ্জু বলে এমান যে হয় 
আল্লার নামে।

-(১৭)-

গুরু বস্তু না জেনে
এমন সাধের জনম
যায় রে যমের ভুবনে 
স্বভাবের গুণে
কু-পথে গমনে
সে ধন সাধনে
বঞ্চিত হলি মন।
সেবা অপরাধী
নামে হলি বাদী
ঘিরে এলো শমনে 
মন করিলি হেলা
ডুবে এলো বেলা
ভবপাড়ের ভেলা
শ্রীগুরুর চরণ।
ভজনবিহীন
হলি চিরদিন
চরণ পাবি কোন গুণে 
করে ভবের খেলা
সুখে হলি ভোলা
ঘটে এলো জ্বালা
অন্তিম সামনে।
সাধনশূন্য দেহ
সুধাবে না কেহ
বোঝে না পাণ্ডুর মনে ।

-(১৮)-

চতুর্দলের ফল পাবি মন গাঁজা খেলে
নেশা বড়ো ধন দেখো রঙমহলে 
আমার হুশার খোল, ব্রহ্মার কমণ্ডল
কৃষ্ণ দিলেন বাঁশি নৈচা করে
মহাদেবের বরে রে।
কলকে দিলেন মোর ধুতরা ফুলে 
মদন-মোহন গন্ধমাদন
পাতাল-ভুবন ফিরছে রথে চড়ে
জগতের হরি রে।
তাই গাঁজাখোরের কপালে মেলে 
কৈলাসের ভবানী, গোকুলের গোপিনী
শক্তি আহলাদিনী
দেখা হলে তখন বৃন্দাবন তমালে রে
পেড়ো কি মন্দিরে।
কাশী-মক্কা দোলে হৃদ কমলে 
গাঁজাখোর পেলে সকালে বৈকালে
ঝিনুকেরই গড়ে যেমন মতি জ্বলে
অধীন পাঞ্জু বলে ছলে রে
মর্ম নাহি পেলে
পণ্ডিতের দলে মিথ্যা বলে।

-(১৯)-

চিনলি না মুর্শিদ রতন করলি না যতন
কিসে মন তুই হবি তারণ।
তোরে আর কি বলব মন, গেল জনম
না করলি সে চরণ সাধন।
বলি মন ভবের কারণ
করে গুমান আর কত কাল রবে জীবন।
যেদিন আসবে শমন, করবে দমন
লুটে নিবে মহারতন।
সরলকে করলে গরল
গরলকে করলে সরল, ওরে মনা।
চৌদিকে মহাগরল ও পাপী মন
কিসে পাবি চাঁদের কিরণ।
পাঞ্জু কাঁদে পড়ে ফাঁদে
ভব নদীর বিষম যাতন।
হিরুচাঁদ কাট এ ফাঁদ খোল নয়ন
নিজ গুণে দিয়ে চরণ।

-(২০)-

জাতির বড়াই কি
ইহকাল পরকাল জাতে করে কি 
মনে বলে অগ্নি জ্বেলে দিব রে জাতির মুখি
এক জাতির বোঝা লয়ে মিছে হলাম বয়ে
চিরকাল কাটালাম আমি মানী মানুষ হয়ে
মানের গৌরব কুলের গৌরব ধন্ধবাজী সব দেখি।
যত লোক সব পেটের জ্বালায় দেশান্তরী হয়
হিন্দু-মুসলমানের বোঝা মাথায় করে বয়
কারবা জাতি কেবা দেখে ঘরে এলে চিহ্ন কি 
জাতে অন্ন নাহি দিবে রোগে না ছাড়িবে।
পাপ করিলে কোম্পানী-জাত ধরে নিয়ে যাবে
মৃত্যু হলে যাবো চলে জাতির উপায় হবে কি
মন ডাকো আল্লা বলে কুলের গৌরব ফেলে
অকূলের কূল মালেক আল্লা তারে লেহ চিনে
পাঞ্জু বলে যত করলাম সকলই ফাঁকিঝুকি।

-(২১)-

তারে ধরবো কি সাধনে
ব্ৰহ্মা-আদি না পায় যারে যুগ-যুগান্তর বসে ধ্যানে ।
বেদ-পুরাণে পাবে না রে নীরূপ নিরাকারে
নিরাকারে জ্যোতির্ময়ে বসে আছে নিত্যস্থানে।
অনাদির আদি মানুষ আছে সে অতি গোপনে
সেই মানুষে সাধ্য করে রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবনে।
চিন্তামণি ভূমি-বৃক্ষ সেই কল্পমহী বনে
গোপীকৃপা যার হয়েছে, সেই পেয়েছে রত্ন ধনে।
সখি-রূপ যে দেখেছে সেই গুরুর ধিয়ানে
পাঞ্জু বলে সেই রসিকের দাসী হবো শ্রীচরণে।

-(২২)-

তিনটি রসের ভিয়ান যে জানে
সেই পাবে নিরঞ্জনে
শাম্ভু গরল সাধ্য করে
সেই সুধার মিলনে।
যেমন দুগ্ধ-জলে মিলন করিলে
হংস পাখি পান করে বেছে
রসিকজনা হংস হয়
সেই সুধার মিলনে।
অমাবস্যায় গরল প্রকাশে
অমূল্য হয় সাঁই আগমনে
অতি সাবধানে সাধন করে
প্রেমের রসিকগণে।
পদের শেষ দ্বিতীয়ার প্রথমে
রত্ন মেলে তিন রস মিলনে
অধীন পাঞ্জু বলে রত্ন পেলে
তারে ছোঁবে না শমনে।

-(২৩)-

ত্রিবেণীর তিনধারে সুধার জোয়ারে ভাসে
সুখ-সাগরে মানুষ খেলে বেহাল বেশে
উতালে সুধাসিন্ধু সুধারে সুধাবিন্দু
সুখময় সিন্ধুজলে ছলে সাঁতার খেলে।
জীব নিস্তারিতে জোয়ার এসে 
ভ্রমর মানুষ যায় গো ভেসে
অমাবস্যায় তিথি নাস্তি জোয়ারে তিথি উক্তি
অমাবস্যা, প্রতিপদ দ্বিতীয়া তিন দিন চলে।
ধরবি যদি অধর মানুষ থাকো নদীর কূলে বসে
জোয়ারের ভাটা শেষে মানুষ যায় অচিন দেশে
কিছুকাল গুমান করে গোপনে তিন মৌজা ফোটে
সেদিন স্বরূপেতে কিরণ দিয়ে মানুষ যায় গোলকে মিশে।
অনুরাগী যে হইবে ত্রিবেণীর রূপ দেখিবে,
সহজে অধর ধরে যাবে ঐ চরণে মিশে
হিরুচাঁদ কয় মানুষ খুঁজে 
পাঞ্জু মলি দেশ বিদেশে।

-(২৪)-

দম জেনে লও দমের মালা গলে 
আল্লা মুহম্মদ আদমে 
এক দমে তিন মেলে
আদমে সাঁইজির খেলা
জপ দম দমের মালা
দূর করো তসবি মালা
মন-মালায় ধন মেলে
মনের মানুষ দমে জপে 
বসাও হৃদ-কমলে 
আদমে দমের শুমার
এক লাখ চৌত্রিশ হাজার
রাতদিন জ্ঞান খবর
চব্বিশ হাজার মূলে
ভুলে আল্লা এক দম ফেলা
মানা হয় দলিলে 
যে জপে দমের মালা
জানে সে কাবাতুল্লা
বায়তুল্লার ঘর আল্লাতালা
দিবেন তার দেলে
তাই জানিতে অধীন পাঞ্জু
ফিরতেছে বদ্‌হালে। 

-(২৫)-

দয়াল গুরু ভুলে
জনম মায়ার ভোলে পড়ে রে
গেল বিফলে।
ভুল হলো মোর মূল সাধনে
কি বলে জবাব দিবো রে
নিকাশে কালে।
ভবনদী পারের বিধি
কি আমার আছে
ভজনশূন্য দেহ গুরু।
ছোঁবে কোন গুণে রে
অন্তিমকালে গুরুর চরণ 
পারের সম্বল ভব-নদীতে।
মন হলি তুই ভক্তিহীন
চরণ মেলে কিসে রে
আমার কপালে।
ভুলে রলাম ভবের কূলে
কূল পাবো কিসে
ভেবে দেখ রে অবোধ মন তুই
হারা হলি দিশে রে 
কূল গেল কূলে।
মনপ্রাণ দিন থাকিতে
সঁপো গুরুতে
এ দিন গেলে সে দিন পাবো
গুরু সখা হলে রে
পাঞ্জু তাই বলে।

-(২৬)-

দিন আমার গিয়াছে, দিনমণি লুকাইয়াছে
দীনবন্ধু গুরু কোথায় রয়েছে
মন আমার হয় উদাসী
কার সনে পোহাবো নিশি
মনের বাসনা মনে বসে রয়েছে
জানি কার বাসরে বন্ধু পালিয়েছে।
মন একা ভবে এলো
গুরু এসে দোসর হলো
পাষণ্ড মন আমার দোসর ছেড়েছে
তাইতো আশাবৃক্ষ ছেদন হয়েছে।
ঘোর নিশি চোখে ছানি
আমি হলাম একাকিনী
কিসে পোহাই রজনী কম্প হয়েছে
অধীন পাঞ্জু গুরুর দোহাই দিতেছে।

-(২৭)-

দিন থাকিতে গুরুর চরণ সত্য বলে ধরো 
গুরুর চরণ ধরে ভবপারের উপায় কিছু করো
আসতে গুরু যাইতে গুরু একাল পরকাল
সুখ পেয়ে আনন্দে ভোলো দুঃখে ডেকে মরো।
সুখের সময় আনন্দেতে নিত্য সেবা করো
ঐ রূপ হৃদ-কমলে উদয় করে নামে ডঙ্কা মারো
যত্ন করলে রত্ন মেলে শুনি সাধুর দ্বারে 
গুরুর যত্ন করে কত অধম পেয়েছে কিনারো।
অধীন পাঞ্জু বলে মোর কপালে এত ছিল ফ্যার
হিরুচাঁদ নিজ গুণে ভজনহীনে মনোবাঞ্ছা পোরো।

-(২৮)-

দীনের রাসুল এসে আরব শহরে দীনের বাতি জ্বেলেছে 
দীনের বাতি রাসুলের রূপ উজালা করেছে।
মুহম্মদ নাম নুরুতে হয় নবুয়তে নবি নাম কয়
রাসুলউল্লা ফানাফিল্লা আল্লাতে মিশেছে।
মুহম্মদ হন সৃষ্টিকর্তা নবি নামে ধর্মদত্তা
শরিয়তের ভেদ ওতে রেখে শরা বুঝায়েছে ।
জাহেরা ভেদ জাহেরাতে আশেকের ভেদ পুশিদাতে
মহর-নবুয়ত আশকদারকে দেখায়ে দিয়েছে।
রাসুল-রূপ যার মনে আছে তার মনের আঁধার ঘুচে গেছে
অধীন পাঞ্জু ভাব না জেনে ভ্রমেতে ভুলেছে।

-(২৯)-

ধরা যায় রে অধরে 
যদি নিষ্ঠা হয় স্বরূপদ্বারে 
মূলাধার সেই অটল বৃক্ষ 
আছে দুটি ফল ধর।
লাল শ্বেত দুটি ফুল 
মাতাপিতা নাম ধরে
অটলের বরাতি মানুষ
 গড়েছে ফল মৈথুন করে।
অটল মানুষ নিজ রূপ 
স্বরূপে সে রঙ ধরে
পিতামাতা পদ্মফুলে
ভাসিছে সমুদ্দুরে।
মহাযোগ সমুদ্দুরে 
অটল রূপ ঝলক মারে
পাঞ্জু বলে তিরধারে 
ধরো ভাটা জোয়ারে।

-(৩০)-

নবিকে চিনে করো ধ্যান 
আহাম্মদে আহাদ মেলে 
আহাদ মানে ছব্বহান। 
আতিউল্লাহ আতিয়র রাসুল 
দলিলে আছে প্ৰমাণ 
আল্লার নুরে নবির জন্ম
নবির নুরে সারেজাহান।
নুরেজানে আদমতনে বসত 
করে বর্তমান আওল 
আখের জাহের বাতেন 
চারি রূপে বিরাজমান।
বাতেনে গোপনে থেকে 
জাহেরে দেন তরিক দান 
তরিক ধরো, সাধন করো,
আখেরে পাবা আসান
বর্তমানে নাহি জেনে 
পাঞ্জু হলো হতজ্ঞান ।

-(৩১)-

নবিকে চেনা হলো ভার 
নবি না চিনিলে ভবে কেমনে হইবা পার 
জেন্দা থেকে না পাইলে মলে তো পাবা না আর 
খবর শুনি মদিনাতে নবি হলেন এন্তেকাল
হায়াতুল মোরসালিন বলে কেনো লিখলেন পরোয়ার 
দেখে শুনে অনুমানে দেলে ধাঁধা হয় আমার
মনে বলে নবি মলে দুনিয়া রইত না আর 
আছে সত্য নবি বর্ত চিনে করো রূপ নিহার
হিরচাঁদের চরণ ভুলে পাঞ্জু হলো ছারেখার 

-(৩২)-

নিগূঢ় লীলা রসিকজনা জানে 
যে অধিকারী হয় ভজনে 
অবতারে হয় কাণ্ডারি জীবের
 নিস্তার কারণে।
দয়া করো নিতাই রূপে
কারো কাছে হজরত নবি
সাঁই একা একেশ্বর।
কাহে হিন্দু কাহে মুসলমান
মিলজুল হও সাঁই সেবনে 
কেহ পুরুষ, কেহ প্রকৃতি।
সর্ব ঘটে সাঁইর বসতি
করছে খেলা রসরতি
দেখি জগতময়।
এক দিকে হয় ব্রহ্মার সৃষ্টি
আর দিকে প্রেম সাধু জানে 
নিত্যলীলা যত ইতি।
গুরু দেহে করে স্থিতি
যোগ্য দেহ তার
শুদ্ধ ভক্তি অহৈতুকী
মূঢ় পাঞ্জুর ঘটবে কেনে।

-(৩৩)-

পাপের কারখানা 
গুরুর বাক্য কেটে সাধু হবা
মনে ভেবো না
গুরু সুখের সুখী হবা
অন্তিমে শ্রীচরণ পাবা
মন রে।
তাই বলে কুল নাশ করিলে
মদনজ্বালা গেল না 
রস না জেনে রসিক হলে
গুরুনিষ্ঠা না করিলে
মন রে।
মদ-খাওয়া মাতালের মতো
মাতালে চরণ পাবা না 
বাঞ্ছা ছিল ভজন করে
ভবসিন্ধু যাব তরে
মন রে
পাঞ্জু বলে রিপুর দোষে
হয়ে গেল দিনকানা।

-(৩৪)-

বিনা সাধনে তার কি ধরা যায় 
বেদ-পুরাণে যার চিহ্ন নাই 
আসমান-জমিন জোড়া মানুষ
মাকড়ার জালে ছাপিয়ে রয়।
কিঞ্চিৎ রূপে জগত আলো
চর্মচোখে টের না পায়
দিব্য নয়ন হলে পরে
দেখতে পায় সে জ্যোতির্ময়।
নিরাকারে জ্যোতির্ময় সে
তারই আকার জগতময়
নীরের হিল্লোলে মানুষ
স্বরূপ দ্বারে বারাম দেয়।
দেখলে সে দ্বার হয় চমৎকার
জীবে কি তার মর্ম পায়
পাঞ্জু বলে সাধুজনে
যোগ-সাধনে ধরে তাই।

-(৩৫)-

মবুদ আল্লার খবর না জানি 
আছে নির্জনে সাঁই নিরঞ্জনমণি 
অতি নিগুম ঘরে বিরাজ করে সাঁই গুণমণি 
তথা নাহি দিবা রজনী
যখন নাহি ছিল আসমান আর জমিন
অন্ধকারে হেমন্ত বাও বইছিল আপনি
সেই বাতাসে গায়বি আওয়াজ হলো তখনি
তা জানেন জগত জননী।
সেই আওয়াজ ভরে ডিম্ব হয় শুনি
ডিম্ব ভেঙে আসমান-জমিন গঠনের রব্বানি
শুনি সাততালা আসমানের পরে রয়েছেন তিনি
আছে অচিন মানুষ অচিনি।
সেই ডিম্বের খেলা আদমে খেলে
চেতন মুর্শিদ চিনে ধরলে সে ভেদ জানাবে
পাঞ্জু বলে না ডুবিলে রতন কি মেলে
ডুবলে হবি ধনী।

-(৩৬)-

শুধু কি আল্লা বলে ডাকলে তারে
পাবি ওরে মন পাগেলা 
যে ভাবে আল্লাতালা বিষম লীলা
ত্রিজগতে করছে খেলা।
কতজন জপে মালা তুলসীতলা
হাতে ঝোলে মালার ঝোলা
আরো কত হরি বলি মারে তালি
নেচে গেয়ে হয় মাতেলা।
কত জন হয় উদাসী তীর্থবাসী
মক্কাতে দিয়েছে মেলা
কেউবা মসজিদে বসে তাঁর উদ্দেশ্যে
সদায় করছে আল্লা আল্লা।
স্বরূপে মানুষ মিশে স্বরূপ দেশে
বোবায় কালায় নিত্য লীলা
স্বরূপের ভাব না জেনে চাম কিনে
হচ্ছে কত গাজির চেলা।
নিত্য সেবায় নিত্য লীলা চরণ মালা
ধরা দিবে অধর কালা
পাঞ্জু তাই করে হেলা ঘটলো জ্বালা
কি হবে নিকাশের বেলা।


--- বাউল পানকৌড়ি
সুফি সাধক শিতালং শাহের গান--Click to Read
বাউল সাধক খোদা বক্স সাঁই এর গান--Click to Read

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url