অন্নদাশঙ্কর রায়: ছড়া পঞ্চাশ
“যতকাল রবে পদ্মা যমুনা
গৌরী মেঘনা বহমান
ততকাল রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান”
যতদিন বাংলাদেশ থাকবে। যতদিন বাংলার মানুষ স্বাধীনতার মূল্য ও বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ স্মরণ করবে, ততদিন কবি অন্নদাশঙ্কর রায়ের নামও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে। তাঁর বঙ্গবন্ধু কবিতা চিরকাল বাঙালির হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার অমলিন সাক্ষ্য হয়ে থাকবে। অন্নদাশঙ্কর রায় বাংলাদেশের এক অকৃত্রিম বন্ধু। মুক্তিযুদ্ধের সময় অন্নদাশঙ্কর রায় দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের পাশে। সংগঠিত করেছিলেন কলকাতার কবি, শিল্পী ও সাহিত্যিকদের বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তহবিল সংগ্রহে মিছিলের ডাক দিলেন অন্নদাশঙ্কর রায়। মিছিলে বঙ্গবন্ধুর ছবি অনেকের বুকে ছিল, আমারও। আমার বিশ্বাস ছিল আমাদের সংগ্রাম বৃথা যাবে না। যায়নি। বঙ্গবন্ধু আমার ভেতরে আত্মিকতায় আপন। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি কবি অন্নদাশঙ্কর রায়ের ভালোবাসা ছিল গভীর আত্মিক ও নির্ভেজাল। তিনি বাংলাদেশকে কেবল একটি ভূখণ্ড হিসেবে দেখেননি দেখেছিলেন হৃদয়ের আবাসভূমি হিসেবে। যে দেশ তাঁর যৌবনের অর্ধেক জুড়ে ছিল সেই দেশই তাঁকে দিয়েছিল ভাষার উষ্ণতা, বন্ধুতার নির্যাস, আর মানুষের প্রতি অফুরন্ত মায়া। এই দেশ আমার প্রিয় দেশ। এই দেশের মানুষ আমার প্রিয় মানুষ। এই দেশে ও এদের সঙ্গে আমার অর্ধেক যৌবন অতিবাহিত হয়েছে। এই দেশে আমার তিনটি সন্তানের জন্মভূমি। আমি এই দেশের প্রতি এক প্রকার নাড়ির টান অনুভব করি। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ এবং অন্নদাশঙ্কর রায় এই নিয়ে আজকে লেখা নয়। অন্নদাশঙ্কর রায়ের লেখা ছড়া। প্রিয় পঞ্চাশটি ছড়া। আপনার ভাল লাগবে। বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু কবি অন্নদাশঙ্কর রায় এর জন্ম ১৫ মার্চ ১৯০৪ এবং মৃত্যু ২৮ অক্টোবর ২০০২। আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
1️⃣ ইরা তারা 📚
ইরা ইরা ইরানী
রাঙ্গা মাথায় চিরুনি।
ইরা যাবে তেহারান
ওরা ভেবে হয়রান।
পথ গেল হারিয়ে
গাড়ী গেল ছাড়িয়ে
এলেতোড় কেলেতোড় মেলেতোড়
পৌছাল বেলেতোড়।।
2️⃣ নাগা খাঁ 📚
আগরতলার
আগা খাঁ
সোঁদরবনের
বাঘা খাঁ।
এদের সঙ্গে
মারামারি
করতে যাবে
এই পাড়াবই
দেড় বছরের
নাগা খাঁ।
3️⃣ ব্যাঙের ছড়া 📚
ব্যাঙ বললেন, ব্যাঙাচ্চি,
দাঁড়া তোদের ঠ্যাঙাচ্ছি।
তা শুনে কয় ব্যাঙাচ্চি
আমরা কি, সার, ভ্যাঙাচ্ছি।।
4️⃣ কাতুকুতু 📚
বাঘকে করি না ভয়
সাপকে করি না ভয়
ভয় করি নাকো ভূতকে
আর কোনো ভয় নাইকো আমার
ভয় শুধু কাতুকুতুকে।।
5️⃣ বাদুড় ঝোলা 📚
আদুড় বাদুড় চালতা বাদুড়
বাদুড় দেখ’সে
ট্রামগাড়ীতে ঝুলছে বাদুড়
রাত্রি দিবসে।
বাস গাড়ীতে ঝুলছে বাদুড়
টিকিট না কেটে
রেল গাড়ীতে ঝুলছে বাদুড়
প্রাণটি পকেটে।।
6️⃣ পূরণ করো 📚
খেলেও বলে, খাইনি
পেলেও বলে, পাইনি
গেলেও বলে, যাইনি
এমন মেয়ে দেখি যদি
তাকেই বলি-
রেখেও বলে, রাখিনি
ঢেকেওে বলে, ঢাবিনি
থেকেও বলে, থাকিনি
এমন মেয়ে দেখি যদি
তাকেই বলি-
পটল নামে লোক ভালো
পটল চেরা চোখ ভালো।
পটল খেতে ভালো যে
কিন্তু পটল তুলবে কে?
7️⃣ লিমেরিক 📚
এক যে ছিল মানুষ
নিত্য ওড়ায় ফানুষ।
অবশেষে এক দিন
ব্যাপার হলো সঙ্গীন-
ফানুষ ওড়ায় মানুষ।।
একটি মেয়ে ছিল তার নাম মিনু
তার এক ভাই ছিল তার নাম চিনু।
আর তার পুতুল
তার নাম তুতুল।
গুনে দেখ- এক, দুই, তিনু।।
8️⃣ ঘ্যানঘ্যানানি 📚
ঘ্যানর ঘ্যানর ঘ্যানর
করছে কেটা বানর!
অমন-ধারা বায়না
ধরে কেবল হায়না।
অমন করে কাঁদা
জানে কেবল গাধা।
ঘ্যাঁগো ঘ্যাঁগো ঘ্যাঁগো
করছে যেটা ব্যাঙ ও।
গলা ছেড়ে চ্যাঁচা
লোকে বুঝুক প্যাঁচা।
নাকে বাজা বিগল
লোকে বলুক ঈগল।।
9️⃣ আর্তনাদ 📚
কেলো রে কেলো রে
এলো রে এলো রে
আয় আয় আয়।
কে এলা রে
কী এলো রে
কী হয়েছে ভাই?
কেলো রে কেলো রে
খেলো রে খেলো রে
হায় হায় হায়।
কে খেলো রে
কী খেলো রে
খুলে বল ছাই।
পিঁপড়েটা আমাকে
কামড়াতে চায়।।।
🔟 পুতুল 📚
পুলুত আমার পুতুল
পুতুলের নাম তুতুল
পুতুলকে যে মন্দ বলে
তার নাম ভূতুল।
পুতুল আমার রাজা
খেতে দেব খাজা
পুতুল আমার রানী
কেমন মুখখানি!
পুতুল যাবে শ্বশুরবাড়ী
পায়ে দিয়ে জুতুল।।
1️⃣1️⃣ সুকামাী 📚
ও আমার সুকুমা
ছিলি কতটুকু মা।
পা পা চলি
কবে রে তুই বড় হলি।
বড় হওয়া কী যে দায়
বর এল নিয়ে যায়।
সুকামারী দুধের সর
কেমনে করবি পরের ঘর
এই মেয়েটা হলে বেটা
একে নিয়ে যেত কেটা।।
1️⃣2️⃣ কুত্তার কেরামতি 📚
এদিকে আয় রে পাজি
এদিকে আয় রে পাজি ডগ বাবাজী
দেখি তোর কান দুটো রে।
সারা রাত ঘেউ ঘেউ
সারা রাত ঘেউ ঘেউ আর তো কেউ
ঘুমোয় না তোর গলার জোরে।
খালি তোর গলাবাজি
খালি তোর গলাবাজি ডগ বাবাজী
কী যে আর বলি তোরে।
তোরা সব ঘরে থাকিস
তোরা সব ঘরে থাকিস পাহরা দিস
ঘড়িটা নিল চোরে।।
1️⃣3️⃣ কেমন কল 📚
ও বড়মানুষের ঝি
ইদুরে খেয়েছে ঘি
তাইতো কেমন ইদুর ধরা
কল এনেছি।
দেখি ! দেখি!
এ কী !
এ কল যে লাফায়!
ওমা এ যে ঝাঁপায়!
আঁচড়ায় কামড়ায়
হাঁপায়!
ওমা এ যে ডাকে
মিআঁউ মিআঁউ মিউ!
অ ভালমানুষের পুত
বেড়াল খেয়েছে দুধ।
এবার একটা বেড়াল ধরা
কল এনে দিউ।।।
1️⃣4️⃣ বড়দি বড়দা 📚
বড়দি বড়দি
বড়দির কেন হয় না সরদি!
ডাক্তার কেন আসে না দেখতে
তেতো জল কেন খায় না বড়দি।
বড়দা বড়দা
বড়দা খায় না পান ও জরদা।
বড়দার খালি সিগারেট চাই
সুপরি মৌরী খায় না বড়দা।।
1️⃣5️⃣ হাভাতে 📚
শুদ্ধোদন দাশগুপ্ত
শুদ্ধোদন দাশগুপ্ত
ঘরের কোনে বসে আছো
কেন অমন চাপচুপ!
হায় রে আমার পোড় কপাল
হায় রে আমার পোড় কপাল
হোটেল থেকে দিয়ে গেল
গন্ডা কয়েক মাটন চপ।
বেড়াল এসে খেয়ে গেল
খপাখপ গপাগপ।
হায় রে আমার পোড়া কপাল
হায় রে আমার পোড়া কপাল।।
1️⃣6️⃣ নাগরদোলা 📚
ঘোড়ায় চড়া যায় না ভোলা
নাগরতোলা।
চা পা তুলে শুন্যে ঝোলা
নাগরদোলা।
সাজ! সাজ!
পক্ষিরাজ!
ওড়! ওড়!
আরো জোর!
আকাশপানে
ঊর্ধ্বে চল!
মাটির টানে
নিম্নে চল!
ঘুরে ঘুরে
ডাইনে চল!
ঘোড়া আমার নয়কো খোঁড়া
নাগরদোলা।
হোক না কাঠের ঘোড়া তো ঘোড়া
নাগরদোলা।।।
1️⃣7️⃣ বাতাসিয়া লুপ 📚
ছটা কুড়ি
ট্রেন ছেড়েছে শিলিগুড়ি।
ডিং ডং
ছাড়িয়ে গেলো কার্সিয়ং
ঝুম ঝুম
এবার বুঝি এলো ঘুম।
টিং টং
ঘুম থেকে যায় দার্জিলিং
ইয়া ইয়া
এই কি সেই বাতাসিয়া?
চুপ চুপ
সামনে বাতাসিয়া লুপ
নমো নমো
বিশ্বমাঝে উচ্চতম।
1️⃣8️⃣ পিঁপড়ে 📚
পিঁপড়েরা কেন এত ভালবাসে
আমাকে আমাকে আমাকে!
ভালবাসে নাকো মাসীকে মামীকে মামাকে!
মানুষটা আমি এতই কি মিষ্টি!
আমারি ওপরে কেন যে ওদের দৃষ্টি!
ঘুম ভেঙে যায় ছটফট করি
রাত্রে দুপুর রাত্রে।
কুটকুট করে আদর জানায় গাত্রে।
আমি কি রাবড়ি মালােই পায়েস
সন্দেশ, আমি সন্দেশ!
মালপো জিলিপি রসগোল্লা কি দরবেশ!
যে সব মিষ্টি খেয়েছি জীবনে
এই বুঝি তার প্রতিশোধ!
কামড় দিয়েছি, কামড়েই তার শোধবোধ!
নিশুত রাত্রে উঠতেই হলো
বসতেই হলো বিছানায়।
টিপবাতি জ্বেলে খুঁজতেই হলো সারা গায়।
বালিশ উলটে চাদর পালটে
দূর করে দিই দুশমনে
ফের শুয়ে পড়ি স্বপ্ন দেখি খুশ মনে।
আবার কখন কুট কুট করে
আদর জানায় গাত্রে
মিছরি পেয়েছে মজা করে খাবে রাত্রে।।।
1️⃣9️⃣ ব্যাঙ্গমাব্যাঙ্গমী 📚
ব্যাঙ্গমী সুধালো ব্যাঙ্গমাকে,
গাছতলে শুয়ে আছে মানুষটা কে?
মনে হয় কোন রাজপুত্র হবে
তেপান্তরের মাঠ পেরোবে কবে?
ব্যাঙ্গমা বলল ব্যাঙ্গমীকে,
সামনে বিপদ যাদি যায় ওদিকে।
দস্যুর দল আছে, আসবে তেড়ে
একটি নিমেষে নেবে প্রানটি কেড়ে।
ব্যাঙ্গমা, ব্যথা লাগে দশা ভেবে এর
কাটান কি নেই কিছু এই বিপদের?
একটি উপায় আছে, যদি সে ঘোড়ায়
পক্ষিরাজের মতো আকাশে ওড়ায়।
কিন্তু বিপদ, যেই দম ফুরাবে
ঘোড়াপ্লেন উলটিয়ে অক্কা পাবে।
ব্যাঙ্গমা , বলো, বলো, কী হবে উপায়
মনটা আমার কেন করে হায় হায়!
উপায় নেই তা নয়, কিন্তু কঠির
লাফ দিয়ে ডিগবাজি খাবে গোটা তিন।
কিন্তু পেরোবে যেই চার পোয়া মাঠ
অমনি দেখবে খাড়া লৌহ কপাট।
তাহলে কেমন করে যাবে ওধারে
কপাট কি খুলবে না কোনো প্রকারে?
কপাটের তলে আছে গুপ্ত সুড়ং
তিন বার বলবে অং বং চং।
তখন চিচিং ফাঁক। কিন্তু ফাঁড়া!
ওধারেতে রাক্ষস আছে পাহারা!
রাক্ষস! ব্যাঙ্গমা, তরাসে মরি!
উপায় কি আছে এর! প্রশ্ন করি।
নেই যে তা নয়, তবে চাই বাহুবল
এবার খাটবে নাকো কলাকৌশল।
মারতে হবে আর মারতে হবে
রাজকন্যা পাবে বাঁচলে তবে।
তবে আব কাজ নেই তেপান্তেরে
ঘরের ছেলেকে বলি ফিরতে ঘরে।
কুক কুক কুককুরু কুক কুর কর
ঘরে ফিরে যা রে, রাজপুত্তুর।।।
2️⃣0️⃣ নাক ডাকা 📚
গিন্নি বলেন কর্তাকে,
তোমার কেন নাক ডাকে।
কর্তা বলেন রাম! রাম!
নাক ডাকলে শুনতাম।
2️⃣1️⃣ খুকু ও খোকা 📚
তেলের শিশি ভাঙল বলে
খুকুর পরে রাগ করো।
তোমরা যে সব বুড়ো খোকা
ভারত ভেঙে ভাগ করো!
তার বেলা?
ভাঙছ প্রদেশ ভাঙছ জেলা
জমিজমা ঘরবাড়ী
পাটের আড়ৎ ধানের গোলা
কারখানা আর রেলগাড়ী!
তার বেলা?
চায়ের বাগান কয়লাখনি
কলেজ থানা আপিস-ঘর
চেয়ার টেবিল দেয়ালঘড়ি
পিয়ন পুলিশ প্রোফেসর!
তার বেলা?
যুদ্ধ-জাহাজ জঙ্গী মোটর
কামান বিমান অশ্ব উট
ভাগাভাগির ভাঙাভাঙির
চলছে যেন হরির -লুট!
তার বেলা?
তেলের শিশি ভাঙল বলে
খুকুর পরে রাগ করো
তোমরা যে সব ধেড়ে খোকা
বাঙলা ভেঙে ভাগ করো!
তার বেলা?
2️⃣2️⃣ হনুমান 📚
ওই দেখেছ হনুমান
আম নিয়ে যায়
লাফ দিয়ে গাছে ওঠে
ডালে বসে খায়।
আমওয়ালা বুড়ো হে
আম ভরা ঝাঁকা
পথের ধারে নামিয়ে
হবে কি সব ফাঁকা?
আর একটা হনুমান
আমওয়ালার কাছে
আম কেড়ে নেবে বলে
চেয়ে বসে আছে।।
2️⃣3️⃣ টেনিশ 📚
বয়স হলো ষাট
তাবলে কি ছাড়তে পারি
টেনিশ খেলার মাঠ!
বিকেল হলেই জুটি
কমবয়সী খেলার সাথী
দেয় না আমায় ছুটি।
আধ ঘন্টা ব্যাপী
বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে
আমার লাফালাফি।
হয় না বিশ্বাস
এমনি করে কেটে গেল
বছর পঞ্চাশ।।।
2️⃣4️⃣ যুদ্ধযাত্রা 📚
দাদু বলেছে যুদ্ধে যাবে
দাদু কি তা পারে?
দাদু যে মা লুডো খেলত
আমার কাছে হারে।
দাদু বলছে যুদ্ধে যাব
লড়াই করতে নয়
দেখব ওরা কী করছে
আমি যে সঞ্জয়।
দাদু বলছে যুদ্ধে যাব
অসি হাতে নয়
মসী দিয়ে লিখব আমি
জয় পরাজয়।।
2️⃣5️⃣ খিচুড়ি 📚
বর্ষার দিনে যদি খেতে পাই খিচুড়ি
তবে আর দরকার নেই কোন কিছুরি।
খিচুড়ি!
খিচুড়ি!
নিয়ে এসো দিয়ে যাও একথালা খিচুড়ি!
বলি বটে কে না জানে আজকের হালচাল!
কোথা পাই গাওয়া ঘি কোথা পাই ডালচাল
খিচুড়ি!
খিচুড়ি!
চাইলে কি খেতে পাই একথালা খিচুড়ি!!
2️⃣6️⃣ মাঞ্জা 📚
ক্ষুদে নবাব খাঞ্জা খান
সুতোয় মাখান মাঞ্জা
ঘুড়ির সঙ্গে ঘুড়ির লড়াই
করতে হবে পাঞ্জা।
গেল রাজ্য গেল মান
ভেবে আকুল খাঞ্জা
মাথা যে তার কাটা যাবে
বিফল হলে মাঞ্জা।।
2️⃣7️⃣ ছাতা 📚
কে বাঁচাবে আমার মাথা!
ছাতা আমার। আমার ছাতা
ও ছাতা, তোর হাতে ধরি
খরাতে তুই আমার ভ্রাতা
ও ছাতা তোর পায়ে পড়ি
বর্ষাতে তুই আমার ত্রাতা।
ছাতা থাকতে ভাবনাটা কী
ছাতা আমার বাঁচায় মাথা
কিন্তু হাওয়া দিলেই ছত্রভঙ্গ
সামলাবে কে আমার ছাতা।।।
2️⃣8️⃣ স্কাউট 📚
এক যে ছিলো স্কাউট
খেলতে গেলে ফুটবল সে
করত খালি শাউট!
খেলতে গেলে ক্রিকেট সে
প্রথম বলেই আউট!
খেলতে গেলে হকী তার
প্রাণে বাঁচাই ডাউট।।
2️⃣9️⃣ জন্মদিন 📚
এই যে আমার ছোট্ট মেয়ে
থাকবে নাকো ছোট্ট আর
জন্মদিনে এই কথাটি
পড়বে মনে বারংবার।
বড় হবে লক্ষ্মী হবে
দীর্ঘ জীবন হবে তার
দুষ্টমি যে কোথায় যাবে
পড়বে মনে বারংবার।।
3️⃣0️⃣ লাল টুক টুক 📚
লাল টুক টুক ছাতাটি
কোলে কুচ কুচ মাথাটি
কে যায়? কে যায়?
সোনা রায়।
বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপ
পথ চলতে মজা খুব
কে পায়? কে পায়?
সোনা রায়।
ওদিকেতে পা দুটি যে
জলের ছাঁটে গেল ভিজে
ফিরে আয়! ফিরে আয়!
সোনা রায়।।।
3️⃣1️⃣ ঝড়খালীর বাঘ 📚
বাঘা ঘুমোল পাড়া জুড়োল
শান্তি এলো দেশে
ঝড়খালীতে ঝড় থেমেছে
আটাশ দিন শেষে।।
3️⃣2️⃣ বাঘকে কাঁচাও 📚
বাঘের বংশ হচ্ছে ধ্বংশ
বাঘের জন্য ভাবি
বাঘকে হবে বাঁচাতে আজ
এই আমাদের দাবী।
বাঘের দেখা আর পাব কি?
বাঘের জন্য ভাবি।
বাঘের শিকার চলবে না
এই আমাদের দাবী।।
3️⃣3️⃣ সানী 📚
বল যদি ছুঁড়ে দাও পুকুরে
সাঁতরিয়ে নিয়ে আসে কুকুরে
তেমন কুকুর ছিল জানি
নাম তার সানী।
খেলোয়াড় খেলা ভালোবাসত
দৌড়িয়ে লুফে নিয়ে আসত
খুব দূরে ছুঁড়ে দিলে ঢেলা
এ বেলা ও বেলা।
অ্যালসেশিয়ানের বাচ্চা
যদিও সে নয় পুরো সাচ্চা
হাঁক ডাক শুনে লাগে কম্প
চোর দেয় ঝম্প।।
3️⃣4️⃣ ধাঁধা 📚
কে যেন বলেছিল ঠিক ঠিকই?
টিকটিকি! টিকটিকি! টিকটিকি!
কার যেন কে ছিল বাবর শা?
মাকড়সা! মাকড়সা!মাকড়সা!
কে যেন চুষে খায় কার খোকা?
ছারপোকা!ছারপোকা!ছারপোকা!
সাবাড় করে কে খেয়ে চাল চুলা?
আরসুলা!আরসুলা!আরসুলা!
ব্যাঙ কাকে বলেছিল ঘর নিকা?
চামচিকা!চামচিকা!চামচিকা!
বষায় কে করে ঘ্যাঙ ঘ্যাঙ?
কোলাব্যাঙ!কোলাব্যাঙ!কোলাব্যাঙ!
প্যাঁক প্যাঁক করে কে হাঁসফাঁস?
পাতিহাঁস!পাতিহাঁস!পাতিহাঁস!
ওত পেতে কে রয়েছে ওরে বাপ!
সাআআপ!সাআআপ!সাআআপ!
3️⃣5️⃣ কাকতালীয় 📚
গাছ ছিল ডাল ছিল
কাক ছিল তাল ছিল
কাক বলে কা কা
পড়ে যা। পড়ে যা
ঢিপ করে তাল গেল পড়ে।
কাকের কী কেরামতি
সবাই অবাক অতি
ডাক ছেড়ে কাকটাই
তালটাকে ধরাশায়ী
করল কী মন্ত্রের জোরে।
তাল ছিল লাল ছিল
ফোলা ফোলা গাল ছিল
তাল বলে হা হা
উড়ে যা। উড়ে যা।
ফস করে কাক গেল উড়ে।
তালের কী কুদরতি
সবাই অবাক অতি
তাক করে তালটাই
ডাল পানে তোলে হাই
তুক করে তাড়ায় শত্তুরে।।
3️⃣6️⃣ আহা কী রান্না 📚
ধন্য মেয়ের হাতে গুণ
রান্নাতে দেয় দুবার নুন
তাইতো বলি মা মণি
ডাকব নাকি লাবনী?
বৌমা আমার আদরিনী
যা রাধবেন তাতেই চিনি।
তাইতো বলি বৌমা
ডাকব নাকি মৌমা।।
3️⃣7️⃣ পায়েস 📚
ওঃ কী আয়েষ।
তালের পায়েস!
বেশ!বেশ!বেশ!
দুঃখ তো এই
মুখ লাগাতেই
হয়ে যায় শেষ।
একবাটি আরো?
হি হি হি
হা হা হা
দাও যত পারো।।
3️⃣8️⃣ হুড়ুম 📚
যার নাম মুড়িভাজা
তারই নাম হুড়ুম
হুড়ুম খেয়ে কি হবে
আক্কেল গুড়ুম।
যার নাম আক্কেল
তারই নাম দন্ত
দন্ত যে কটি আছে
হবে তার অন্ত।
তাই বলি দাদু!
গুঁড়ো করে গুড় দিয়ে
করো ওকে স্বাদু।।
3️⃣9️⃣ ঘোড়া পিটিয়ে গাধা 📚
দাদা,
ঘোড়াকে পিটিয়ে বানাতেও পারো গাধা
কিন্তু
গাধাকে পিটিয়ে ঘোড়া কি বানাতে পারো
সেইখানে তুমি হারো।
মেরে মেরে তুমি ভাঙবে ঘোড়ার পাঁজর
দাদা,
মার খেতে খেতে ঘোড়াও বনবে গাধা।
কিন্তু
গাধাকে সাদরে যতই খাওয়াও গাজর
ঘোড়া কি বানাতে পারো?
সেইখানে তুমি হারো।।।
4️⃣0️⃣ নেমন্তন্ন 📚
যাচ্ছ কোথা?
চাংড়িপোতা।
কিসের জন্য?
নেমন্তন্ন।
বিয়ের বুঝি?
না, বাবুজি।
কিসের তবে?
ভজন হবে।
শুধুই ভজন?
প্রসাদ ভোজন।
কেমন প্রসাদ?
যা খেতে সাধ।
কী খেতে চাও?
ছানার পোলাও।
ইচ্ছে কী আর?
সরপুরিয়ার।
আঃ কী আয়েস।
রাবড়ি পায়েস।
এই কেবলি?
ক্ষীর কদলী।
বাঃ কী ফলার!
সবরি কলার।
এবার থামো।
ফজলি আমও।
আমিও যাই?
না, মশাই।
4️⃣1️⃣ আরসুলা 📚
আরসুলা সে পক্ষী নয়
শুনেছি কদ্দিন
আরসুলাকে ধরতে গেলে
আরসুলা উড্ডীন।
আরসুলাকে ঝেঁটিয়ে মারি
দেখি সে নেই বেঁচে
রাত্রে আমি শুতে গেলে
দিব্যি বেড়ায় নেচে।
বাড়ী ছেড়ে পাড়ি দিই
নেইকো চালচুলা
শূন্য ঘরে রাজ্যি করে
সম্রাট আরসুলা।।
4️⃣2️⃣ হাতী বনাম ব্যাং 📝
হাতী দেখে ব্যাং বললে হাতী
তোমার সঙ্গে করব হাতাহাতি।
হাতী সেদিন ছিল কাজের তাড়া
কান দিল না, হলো না সে খাড়া
রাজার কাজে যাচ্ছিল যে গৌড়।
ব্যাং তা দেখে শোনায় সকল পাড়া
আমার ভয়ে হাতী দিলো দৌড়।।
4️⃣3️⃣ উকুন 📝
ওলো ও খুকুন!
তুই এতটুকুন!
তোর মাথায় কেন উকুন!
ওগো ও নানী!
তুমি তো নও কানী!
তোমার চোখে বুঝি ছানী।
4️⃣4️⃣ টাক 📝
টাক পড়ার
এই তো সুগুণ
টেকো মাথায়
হয় না উকুন।।
4️⃣5️⃣ আপেল 📝
আপেল ছিল গাছের ডালে
ঘটল তার পতন
পতন কেন? উত্থান নয়
কেন ধোঁয়ার মতন?
নিউটন দেন উত্তর এর
মাধ্য আকর্ষণ।
আপেল এবার উর্ধ্বে গেছে
কাটিয়ে মাটির টান
এখন থেকে করবে শুনি
শূন্যে অবস্থান।
কী জানি কোন তত্ত্ব হবে
কী জানি কোন তত্ত্ব হবে
এর থেকে প্রমান।
আপেল যদি শূন্যে ফলে
আমরা খাব কী?
আমরাও তার আকর্ষণে
শূণ্যে যাব কি?
আমাদের এই যুগের ধাঁধার
জবাব পাব কি?
4️⃣6️⃣ মহাজন 📝
মহাজন সুদ যদি পায়
আসল না চায়।
বুঝে দেখ আছে কোন জন
নয় মহাজান?
বই লিখি পড়বে সকলে।
কেউ যদি বলে
না পড়েই মহা সাহিত্যিক
আমি ভাবি ঠিক!
আর তুমি হে সমালোচক
তোমার কী শখ?
লেখকেরা যেন ঘিরে থাকে
দাদা বলে ডাকে।।
4️⃣7️⃣ চাঁদের বুড়ি ছোঁওয়া 📝
মহাশূন্যের পারে বহুদূর লক্ষ্য
ছেদ করে পৃথিবীর কক্ষ
লুনিক করেছে ভেদ চন্দ্রমা বক্ষ।
মানবের ইতিহাসে কোথা এর তুল্য!
কী এক নতুন দ্বার খুলল!
রুশেরা হয়তো এই ধরনীকে ভুলল!
আসমানী ভেলা ধরে ভাসতে ভাসতে
চলে যাবে হাসতে হাসতে।
এ যুগের চাঁদ হতো কাস্তে।
হোক রাত তাতে শোক নাই, এই শুধু কাঁদনি
রাঙা যেন নাই হয় চাঁদনি।
এ মাটিতে বসে যেন স্বর্গের স্বাদ নিই।
4️⃣8️⃣ শব্দী 📝
জব্দিবে কে শব্দীকে?
শব্দ যে যায় সব দিকে।
যতই আসুক দুঃসময়
শব্দ যে যায় বিশ্বময়।
যতই ঘটুক ভোগান্তি
শব্দ যে যায় যুগান্তে।
স্তদ্ধ করো শব্দীকে
শব্দ যাকব সব দিকে
আর
পার হবে শতাব্দীকে।।
4️⃣9️⃣ নদীয়া 📝
কুমারখালী
এক হাতে বাজে না তালি।
মেহেরপুর
মিটমাট অনেক দূর।
বীর নগর
মনে কেউ রেখো না ডর।
নবদ্বীপ
জ্বেলে রেখো প্রেমের দীপ।।
5️⃣0️⃣ মার্কো পোলোর প্রত্যাবর্তন 📝
নেই চায়না সেই চায়না
চড়ুইতে আর ধান খায় না।
চড়ুই হলো মারা
ধান কাটা সারা।
চড়ুই গেল মরে
ধান উঠল ঘরে।
ঘরে ঘরে লক্ষ্মী
প্যাঁচা নামে পক্ষী।
নেই চায়না সেই চায়না
চড়ুইতে আর গান গায় না।
চড়ুইয়ের বদলে
ঝিঁঝি ডাকে সদলে।
ঝিঁ ঝিঁ ঝিঁ ঝিঁ
শোনে বৌ শোনে ঝি
অবিরাম কলতান
দিনমান নিশিমান।।।
আর বার বলি আমি, কাঁদো, প্রিয় দেশ।
কাঁদো আর কায়মনে করো অনুতাপ
অনুতাপে ক্ষয় হোক আদি অভিশাপ
পিতৃবধে শুরু যার ভ্রাতৃবধে শেষ।
আমরাও শোকাতুর তোমার এ শোকে
বেদনাকে রূপ দেই শোক থেকে শ্লোকে।।
--- বাউল পানকৌড়ি
বঙ্গবন্ধু পদ্মা মেঘনা যমুনায় আর কবিতায়--Click to Readআহমদ ছফার প্রবন্ধগ্রন্থ: বাঙালি চিন্তাধারার পথপ্রদর্শক-Click to Read
Read on mobile
