পঞ্চভুজি প্রাচীর আর গোলাকার বুরুজের আড়ালে যে ইতিহাস লুকিয়ে আছে, তা শুধু ইটের গাঁথুনি নয়; এটি জলদস্যুদের বিরুদ্ধে বীরত্ব ও প্রতিরোধের এক প্রাচীন প্রহরীর গল্প
বাংলার বুকে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে হাজীগঞ্জ দুর্গ। মুঘল সাম্রাজ্যের জলপথ রক্ষার এক অপূর্ব স্থাপত্য নিদর্শন। সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে যখন মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের তাণ্ডবে ঢাকার রাজপথ কাঁপতো, তখন এই দুর্গটি নির্মিত হয়েছিল বাংলার রাজধানীকে রক্ষার এক বৃহৎ সমর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে।
নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ, সোনাকান্দা এবং মুন্সিগঞ্জের ইদ্রাকপুর কেল্লা এই তিনটি দুর্গ মিলে গড়ে তোলে 'ত্রিভুজ জল দুর্গ' বা 'ট্রায়াঙ্গল অব ওয়াটার ফোর্ট', যা ছিল নদীপথে শত্রুর যেকোনো আগ্রাসন ঠেকানোর এক অতুলনীয় প্রতিরক্ষা কৌশল। জলদস্যুদের বিরুদ্ধে বীরত্ব আর প্রতিরোধের এই প্রাচীন প্রহরীটি ইতিহাসের পাতায় আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে।
স্থাপত্যশৈলী ও দুর্গের গঠন কাঠামো
হাজীগঞ্জ দুর্গের স্থাপত্যশৈলী তার প্রতিরক্ষামূলক কৌশল ও মুঘল কারুকার্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। পুরো দুর্গটিই ইট দ্বারা নির্মিত এবং প্লাস্টার দ্বারা আবৃত। এর গঠনকাঠামোর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
- আকৃতি ও পরিমাপ: দুর্গটি চতুর্ভুজাকৃতির (আনুমানিক ২৫০ × ২০০ ফুট) এবং এর বেষ্টন-প্রাচীর পঞ্চভুজি। পূর্ব-পশ্চিমে এটি কিছুটা লম্বাটে।
- প্রাচীর ও ফোকর: প্রাচীরের গায়ে রয়েছে বন্দুক ঢুকিয়ে গুলি চালানোর উপযোগী বিশেষ ফোকর (গোলাবারুদ ছিদ্র)। ভেতরের দিকে প্রাচীরের গোড়া থেকে ১.২২ মিটার (প্রায় ৪ ফুট) উঁচুতে রয়েছে সৈন্য চলাচলের পথ, যার দেয়ালেও গুলি চালানোর ফোকর আছে।
- বুরুজ (প্রহরী কুঠুরি): চারকোণে রয়েছে গোলাকার বুরুজ। প্রতিটি বুরুজের ভেতরে প্রাচীরের শীর্ষ পর্যন্ত উঠানোর জন্য সিঁড়ি রয়েছে। বুরুজগুলোর বাইরের দিকের ফোকরগুলো তুলনামূলকভাবে প্রশস্ত, যাতে সহজে কামান বা বন্দুক চালানো যায়।
- কামান প্ল্যাটফর্ম: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজের সামনে রয়েছে একটি ৭ ধাপবিশিষ্ট পিরামিড আকৃতির উঁচু বেদী, যা কামান বসানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল—এটি দুর্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বৈশিষ্ট্য।
- পর্যবেক্ষণ স্তম্ভ (ওয়াচ টাওয়ার): দুর্গের চত্বরের এক কোণে ইটের তৈরি একটি সুউচ্চ চৌকা স্তম্ভ আছে, যা সম্ভবত শত্রুদের নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হতো। এই স্তম্ভের অবস্থান থেকেই দুর্গটিকে সমসাময়িক অন্যান্য জলদুর্গের (যেমন ইদ্রাকপুর, সোনাকান্দা) সমগোত্রীয় বলে চিহ্নিত করা যায়।
প্রতিরক্ষা কৌশল ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা
হাজীগঞ্জ দুর্গের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত, যা বাংলার নদীপথে জলদস্যুদের মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এর গঠন, প্রবেশপথ ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা থেকে বোঝা যায় এটি ছিল একটি মৌসুমি সামরিক ঘাঁটি। নিচে এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হলো-
- যোগাযোগ ব্যবস্থা: দুর্গের একমাত্র প্রবেশপথ ছিল নদীর দিকে মুখ করে। এটি প্রমাণ করে যে শুধুমাত্র নদীপথেই দুর্গের সাথে যোগাযোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ছিল। স্থলপথে কোনো প্রবেশদ্বার ছিল না।
- প্রবেশপথের নকশা: ফটকটি আয়তাকার কাঠামোর ওপর নির্মিত এবং এতে রয়েছে পঞ্চভুজি (পাঁচ কোণা) খিলানযুক্ত প্রবেশপথ। প্রবেশপথের দুই পাশে রয়েছে খোদাই করা আয়তাকার খিলান এবং শীর্ষভাগে পদ্মফুলের অলঙ্করণ, যা মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শন।
- অভ্যন্তরীণ স্থাপনা: দুর্গের অভ্যন্তরে কোনো স্থায়ী নির্মাণ কাঠামো (যেমন ব্যারাক বা ভবন) নেই। ধারণা করা হয়, শুধুমাত্র বর্ষা মৌসুমে যখন জলদস্যুদের আক্রমণের আশঙ্কা বেশি থাকত সেই সময় সৈন্যরা এখানে মোতায়েন থাকতেন এবং তাঁবুতে আশ্রয় নিতেন।
- নির্মাণ উপকরণ: পুরো দুর্গটি সম্পূর্ণ ইট দ্বারা নির্মিত এবং প্লাস্টার দ্বারা আবৃত, যা জলবায়ু সহনশীল ও মজবুত ছিল।
- বুরুজের সংখ্যা ও বিন্যাস: দুর্গটিতে মোট ৬টি বৃত্তাকার বুরুজ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৩টি বড় ও সমমাপের, এবং বাকি ৩টি তুলনামূলকভাবে ছোট ও সমান আকারের। কোণে কোণে বুরুজগুলো কামান বসানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
- আকৃতি ও পরিমাপ: দুর্গটি পাঁচ কোণাকারে (পঞ্চভুজি) নির্মিত হলেও এর বাহুগুলো সমান মাপের নয়। পূর্ব-পশ্চিমে লম্বাটে এই দুর্গের আয়তন আনুমানিক ২৫০ × ২০০ ফুট।
- কামান প্ল্যাটফর্ম: দক্ষিণ-পূর্ব কোণের বুরুজের সামনে একটি বিশেষ ৭ ধাপের পিরামিড আকৃতির উঁচু কামান প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যা থেকে শত্রু জাহাজে সরাসরি গোলা নিক্ষেপ করা যেত।
- প্রাচীরের উচ্চতা ও পুরুত্ব: দুর্গের দেয়ালগুলো অত্যন্ত মজবুত প্রায় ২০ ফুট উঁচু এবং যথেষ্ট পুরু, যা কামানের গোলা বা আক্রমণ সহ্য করতে সক্ষম ছিল।
হাজীগঞ্জ দুর্গের বর্তমান অবস্থা ও সংস্কার
হাজীগঞ্জ দুর্গ কালের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এর অনেক অংশ পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৫০ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এই কেল্লাটিকে সংরক্ষিত নিদর্শন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এবং পর্যায়ক্রমে সংস্কারের মাধ্যমে এটিকে বর্তমান রূপ দেয়। ফলে আজ আমরা এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেখতে পাই তার কিছু মূল বৈশিষ্ট্য নিয়ে, যদিও কিছু অংশ ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় রয়েছে।
দুর্গের প্রাচীর ও বুরুজগুলো এখনও মুঘল কারুকার্যের দৃষ্টান্ত বহন করে। সমগ্র প্রাচীর অসংখ্য বড় বদ্ধ পদ্মপাপড়ি নকশার মার্লন (প্রাচীরের দাঁতালো অংশ) দ্বারা সজ্জিত, যা দূর থেকেই নজর কাড়ে। উত্তর দেওয়ালের মাঝ বরাবর অবস্থিত দুর্গের একমাত্র প্রবেশপথ বা তোরণটির উপরিভাগেও পদ্মপাপড়ির নকশা খোদাই করা আছে। এই তোরণে উঠতে বাইরের দিকে রয়েছে প্রায় ১৮টি ধাপের সিঁড়ি, আর তোরণ থেকে ভেতরের চত্বরে নামতে রয়েছে আরও ৮টি ধাপ। প্রাচীর লাগোয়া একটি পায়ে হাঁটার উপযোগী পথও আছে, যা দিয়ে সৈন্যরা সহজেই প্রাচীর বরাবর চলাচল করতে পারত।
দুর্গের বুরুজগুলোর বিন্যাসও উল্লেখযোগ্য। পূর্ব-দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম কোণায় দুটি বুরুজ অবস্থিত, দক্ষিণ পাশে আরও একটি বুরুজ আছে, এবং উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম কোণায় দুটি ছোট বুরুজ রয়েছে। যেখানে একসঙ্গে কয়েকজন বন্দুকধারী গুলি চালাতে পারত। পূর্ব ও দক্ষিণ কোণে রয়েছে একটি চৌকো ওয়াচ টাওয়ার বা পর্যবেক্ষণ স্তম্ভ। এই স্তম্ভটির অবস্থান থেকেই দুর্গটিকে সমসাময়িক অন্যান্য জলদুর্গের (যেমন ইদ্রাকপুর কেল্লা, সোনাকান্দা দুর্গ) সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
বর্তমানে ওয়াচ টাওয়ারটি ধ্বংসপ্রায়। তবে জানা যায়, একসময় টাওয়ারে প্রবেশের জন্য একটি ছোট পূর্বমুখী দরজা ছিল, এবং ভেতরে মাঝখানে একটি মোটা গোল পিলারের চারপাশে ঘোরানো সিঁড়ি ছিল, যা দিয়ে উপরে উঠে শত্রুর গতিবিধি নজরদারি করা যেত। এই টাওয়ার ছাড়া দুর্গের ভেতরে আর কোনো স্থায়ী স্থাপনার অস্তিত্ব নেই। গবেষকরা ধারণা করেন, আদি অবস্থায়ও এখানে স্থায়ী কোনো ভবন ছিল না; বরং বর্ষাকালে জলদস্যুদের আক্রমণের সময় সৈন্যরা এসে তাবু ফেলে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করত।
সংস্কারের ফলে দুর্গটির মূল কাঠামো যেমন সংরক্ষিত হয়েছে, তেমনি এর ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোও তুলে ধরা হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে এই দুর্গ আজ পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।
ভ্রমণ নির্দেশিকা: কীভাবে যাবেন?
ঐতিহাসিক হাজীগঞ্জ জলদুর্গটি ঢাকার অত্যন্ত নিকটবর্তী হওয়ায় এটি একটি দিনভ্রমণের জন্য দারুণ গন্তব্য। খুব সহজেই সড়কপথ বা রেলপথে পৌঁছে একদিনেই ঘুরে আসা যায়। ঢাকা থেকে প্রথমে যেতে হবে নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরে। ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জগামী বাস ছাড়ে। সিটি বন্ধন বা উৎসব বাস সার্ভিসে জনপ্রতি ভাড়া ৫০ টাকা, আর এসি বাসে ভাড়া ৮০ টাকা। যদি ট্রেনে যেতে চান, তাহলে ভাড়া মাত্র ২০ টাকা যা অত্যন্ত সাশ্রয়ী।
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া নামতে হবে। সেখান থেকে রিকশা বা ইজিবাইক করে খুব সহজেই পৌঁছে যাবেন হাজীগঞ্জ দুর্গে। এর খুব কাছেই রয়েছে ঐতিহাসিক কেল্লার পুল এবং বিবি মরিয়মের সমাধি, যা দেখতে ভুলবেন না। নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলাও ঘুরে আসতে পারেন। নদী পার হলেই সেখানে পৌঁছে যাবেন। সেখানে আছে কদম রসূল দরগা মসজিদ ও মাজার, সোনাকান্দা দুর্গ এবং প্রাচীন বন্দর শাহী মসজিদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা।
আর যদি সময় থাকে, তাহলে শেষ বিকেলের আগে চলে যেতে পারেন ঐতিহাসিক নগরী পানাম থেকে, যা বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী একটি স্থান। সকালে বেরিয়ে পড়লে দুপুরের মধ্যেই হাজীগঞ্জ দুর্গ দেখা সম্ভব, আর বিকেল পর্যন্ত সময় নিয়ে আশেপাশের সব ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন। ভাড়া খরচও অত্যন্ত কম, তাই বাজেট ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এটি একটি আদর্শ গন্তব্য।
প্রশ্ন ১: হাজীগঞ্জ দুর্গ কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: হাজীগঞ্জ দুর্গ নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। এটি শীতলক্ষ্যা নদীর ঠিক পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক জলদুর্গ।
প্রশ্ন ২: কেন এই দুর্গটি নির্মাণ করা হয়েছিল?
উত্তর: মুঘল শাসনের শুরুর দিকে ঢাকাকে মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য এই দুর্গটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি ছিল একটি বৃহত্তর প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ।
প্রশ্ন ৩: 'ত্রিভুজ জল দুর্গ' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ দুর্গ, সোনাকান্দা দুর্গ এবং মুন্সিগঞ্জের ইদ্রাকপুর কেল্লা—এই তিনটি দুর্গ মিলে একটি ত্রিভুজাকৃতির জল দুর্গ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল, যা 'ট্রায়াঙ্গল অব ওয়াটার ফোর্ট' নামে পরিচিত।
প্রশ্ন ৪: হাজীগঞ্জ দুর্গের স্থাপত্যশৈলী কেমন?
উত্তর: দুর্গটি চতুর্ভুজাকৃতির এবং এর বেষ্টনী-প্রাচীর পঞ্চভুজি। প্রাচীরে রয়েছে গুলি চালানোর ফোকর, চার কোণে গোলাকার বুরুজ এবং ভেতরে চলাচলের পথ। এছাড়াও একটি উঁচু চৌকা পর্যবেক্ষণ স্তম্ভ (ওয়াচ টাওয়ার) রয়েছে, যা ইট দ্বারা নির্মিত।
প্রশ্ন ৫: দুর্গের প্রবেশপথ কেমন ছিল?
উত্তর: দুর্গের একমাত্র প্রবেশপথ ছিল নদীর দিকে, যা থেকে বোঝা যায় যে শুধুমাত্র নদীপথেই এখানে যোগাযোগ করা যেত। প্রবেশপথের নকশায় রয়েছে পঞ্চভুজি খিলান এবং পদ্মফুলের অলঙ্করণ।
প্রশ্ন ৬: দুর্গের ভেতরে কোনো স্থাপনা আছে কি?
উত্তর: দুর্গের অভ্যন্তরে তেমন কোনো স্থায়ী নির্মাণ কাঠামো নেই। ধারণা করা হয়, বর্ষা মৌসুমে জলদস্যুদের আক্রমণের সময় সৈন্যরা এখানে এসে তাঁবুতে আশ্রয় নিতেন। শুধু একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বা স্তম্ভ রয়েছে।
প্রশ্ন ৭: দুর্গটির বর্তমান অবস্থা কেমন?
উত্তর: দুর্গটি আগে ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় ছিল। পরবর্তীতে, ১৯৫০ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটি সংরক্ষণ করে এবং বিভিন্ন ধাপে সংস্কারের মাধ্যমে বর্তমান রূপ দেয়।
প্রশ্ন ৮: হাজীগঞ্জ দুর্গে কীভাবে যাবেন?
উত্তর: প্রথমে ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরে যেতে হবে। বাস (বায়তুল মোকাররম থেকে) অথবা ট্রেনে যাওয়া যায়। নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া হয়ে রিকশা বা ইজিবাইকে করে সরাসরি হাজীগঞ্জ দুর্গে যাওয়া যায়।
প্রশ্ন ৯: হাজীগঞ্জ দুর্গের আশেপাশে আর কী কী দেখার জায়গা আছে?
উত্তর: হাজীগঞ্জ দুর্গের খুব কাছেই রয়েছে ঐতিহাসিক কেল্লার পুল, বিবি মরিয়মের সমাধি। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা, কদম রসূল দরগা মসজিদ ও মাজার, সোনাকান্দা দুর্গ, প্রাচীন বন্দর শাহী মসজিদ এবং ঐতিহাসিক নগরী পানাম শহর দেখতে পারেন।
প্রশ্ন ১০: হাজীগঞ্জ দুর্গ দেখতে কেমন লাগে?
উত্তর: এই দুর্গটি সম্পূর্ণ ইটের তৈরি এবং প্লাস্টারের আস্তরণ রয়েছে। এর দেয়ালগুলো প্রায় ২০ ফুট উঁচু ও পুরু। প্রাচীর ও বুরুজগুলো পদ্মফুলের নকশা (মার্লন) দিয়ে সজ্জিত, যা মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শন বহন করে। এটি শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি নীরব, কিন্তু অত্যন্ত ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থাপনা।

