ভোরের পাখি যখন গেয়ে যায় গানআধার আঁলো হয়ে ফিরে পায় প্রানদুর থেকে ভেসে আসা গাঙচিল সুরেআমি আছি যেন তুমি সব গান জুড়ে
বাংলা ব্যান্ডসংগীত ও রক মিউজিকের ইতিহাসে আইয়ুব বাচ্চু এক অবিসংবাদিত কিংবদন্তি। এলআরবি (LRB) ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও মূল কাণ্ডারি হিসেবে তিনি যেমন ব্যান্ডসংগীতকে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিলেন, তেমনি একক শিল্পী হিসেবেও উপহার দিয়েছেন একের পর এক কালজয়ী অ্যালবাম।
১৯৮৬ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’ দিয়ে যে জাদুকরী একক যাত্রার শুরু হয়েছিল তা পরবর্তী সময়ে বাংলা অডিও ইন্ডাস্ট্রির মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বিশেষ করে ১৯৯৫ সালের ‘কষ্ট’ অ্যালবামটি শ্রোতাদের মাঝে এক অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি করে একক শিল্পী হিসেবেও তাঁকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করে।
আইয়ুব বাচ্চুর একক- পার্ট-১
গুণী এই মানুষের সৃষ্টির আকাশ এতটাই বিশাল যে এক পর্বে তা শেষ করা অসম্ভব। আজকের আয়োজনে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। নিচে তুলে ধরা হলো বাংলা মিউজিকের সেই অমর জাদুকর কিংবদন্তি আইয়ূব বাচ্চুর একক অ্যালবামের ডিস্কোগ্রাফি (পর্ব: ১)।
- রক্ত গোলাপ (১৯৮৬)
- ময়না (১৯৮৮)
- কষ্ট (১৯৯৫)
- সময় (১৯৯৮)
- একা (১৯৯৯)
- প্রেম তুমি কি! (২০০২)
- দুটি মন (২০০২)
রক্ত গোলাপ কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর ক্যারিয়ারের প্রথম একক স্টুডিও অ্যালবাম। ১৯৮৬ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর 'জাহেদ ইলেকট্রনিক্স' এর ব্যানারে অ্যালবামটি বাজারে আসে। অ্যালবামটি প্রযোজনা করেছিলেন হাসান উজ জামান এবং জাহেদ ইলেকট্রনিক্স-এর স্বত্বাধিকারী জাহেদ হাসান।
অ্যালবামটিতে মূলত আধুনিক বাংলা গান ও পপের মিশ্রণ ছিল। তবে এর মধ্যে "অনামিকা" গানটি পিওর রক স্ট্যান্ডার্ডে তৈরি হয়েছিল। উল্লেখ্য এই অ্যালবামের কোনো গানই আইয়ুব বাচ্চুর নিজের লেখা ছিল না।
- অ্যালবাম: রক্ত গোলাপ
- ভোকাল/ব্যান্ড: আইয়ুব বাচ্চু
- সুর ও সঙ্গীত : রবিন
- রিলিজ: ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৬
- ধরণ: Studio Album
- লেবেল: জাহেদ ইলেকট্রনিক্স, চট্টগ্রাম
- প্রযোজনা: হাসান উজ জামান
- মোট গান: ১২ টি
🎸 লাইনআপ-রক্ত গোলাপ
এই অ্যালবামের মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্টে আইয়ুব বাচ্চুর সাথে যুক্ত ছিলেন সেই সময়ের দুর্দান্ত সব মিউজিশিয়ানরা:
- আইয়ুব বাচ্চু: লিড ভোকাল, লিড গিটার এবং বেস গিটার
- আহসান এলাহী ফান্টি (Funty): ড্রামস
- মানাম আহমেদ (Manam Ahmed): কিবোর্ডস
- খায়েম (Khayem ): বেস গিটার
- পিয়ারু (Pearu): পারকাশন
🎧 Tracklist (রক্ত গোলাপ)
- রাত কত – (গীতিকার- হেনা ইসলাম)
- অনামিকা – (গীতিকার- মাসুম ফেরদৌস)
- চলে যাব একদিন – (গীতিকার- শহীদ মাহমুদ জঙ্গী)
- অলস দুপুর – (গীতিকার- শহীদ মাহমুদ জঙ্গী)
- রক্ত গোলাপ – (গীতিকার- হেনা ইসলাম)
- মরণ নেশা – (গীতিকার- কাজী সালাউদ্দিন)
- একদিন দেখা হবে – (গীতিকার- শাহীন আহম্মদ)
- দুঃখী (আমি বহুদিন) – (গীতিকার- কে এস সজল)
- সারা ঘর জুড়ে– (গীতিকার- হেনা ইসলাম)
- বুকের আগুন– (গীতিকার- হেনা ইসলাম)
- আমার ইচ্ছে – (গীতিকার- মাসুম ফেরদৌস)
- কবিতার বই – (গীতিকার- ডা. আরিফ)
📌 অ্যালবাম প্রোফাইল: ময়না
ময়না আইয়ুব বাচ্চুর দ্বিতীয় একক স্টুডিও অ্যালবাম ১৯৮৮ সালের ১লা ডিসেম্বর বিখ্যাত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান 'সরগম রেকর্ডস' থেকে প্রকাশিত হয়। তার প্রথম একক অ্যালবাম "রক্ত গোলাপ" আশানুরূপ বাণিজ্যিক সফলতা না পেলেও, "ময়না" অ্যালবামটি ব্যাপক সাড়া জাগায় এবং বাণিজ্যিকভাবে দারুণ সফল হয়। এই অ্যালবামের অবিশ্বাস্য সাফল্যের মাধ্যমেই মূলত একক শিল্পী হিসেবে আইয়ুব বাচ্চুর দেশজোড়া খ্যাতি ও পরিচিতি তৈরি হয়।
অ্যালবামের টাইটেল ট্র্যাক "ময়না" এবং "শুভ্র ভোরে" গানগুলো সে সময় শ্রোতাদের মুখে মুখে ফিরত। জাহেদ ইলেকট্রনিক্সের সাথে চুক্তি শেষ হওয়ার পর, ১৯৮৭ সালের শেষের দিকে তিনি সরগম রেকর্ডসের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। ১৯৮৮ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু করে নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে চলে এই অ্যালবামের রেকর্ডিং সেশন। আইয়ুব বাচ্চুর নিজের লেখা প্রথম গান "ও বন্ধু তোমায়" এই অ্যালবামেই স্থান পেয়েছিল।
প্রথম অ্যালবামের মতো এতে আধুনিক বাংলা সঙ্গীতের ফিউশন ছিল না, বরং এতে ছিল পপ স্ট্যান্ডার্ডের গান (যেমন: টাইটেল ট্র্যাক ময়না), বাংলাদেশী ক্লাসিক্যাল বা শাস্ত্রীয় ঘরানার গান (যেমন: ওরে কে বলেরে?) এবং পিওর হার্ড রক স্ট্যান্ডার্ডের গান (যেমন: অনেক রাত্রি)। অ্যালবামটি সে সময়ে বাংলাদেশে ৬০,০০০-এরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছিল।
- অ্যালবাম: ময়না
- ভোকাল/ব্যান্ড: আইয়ুব বাচ্চু
- সুর ও সঙ্গীত : রবিন
- রিলিজ: ১ ডিসেম্বর, ১৯৮৮
- ধরণ: Studio Album
- লেবেল: সারগাম-১৪৬
- প্রযোজনা: সারগাম
- মোট গান: ১১ টি
🎸 লাইনআপ: ময়না
- আয়ুব বাচ্চু – গিটার এবং বেস গিটার
- খায়েম আহমেদ – বেস গিটার , পারকাশন
- মানাম আহমেদ – কিবোর্ড
- শওকত আলী ইমন – কিবোর্ড
- মকসুদ জামিল মিন্টু – কীবোর্ড
- আহসান এলাহি ফ্যান্টি – ড্রামস
🎧 Tracklist (ময়না)
- ময়না – (গীতিকার- মিলন খান)
- কে বলে – (গীতিকার- সালাউদ্দিন সজল)
- ও বন্ধু তোমায় – (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- কাল সারারাত – (গীতিকার- কবির বকুল)
- অনেক রাত্রি – (গীতিকার- কায়সার আহমেদ চৌধুরী)
- মানবতা– (গীতিকার- শাকিল)
- হাসরের ময়দানে – (গীতিকার- ঝনু পাগলা)
- ট্রেন – (গীতিকার- শাকিল)
- ওরে বে বলে রে– (গীতিকার- শাকিল)
- শুভ্র ভোরে– (গীতিকার- আসিফ ইকবাল)
- বৃষ্টির রিমঝিম – (গীতিকার- শহীদ মাহমুদ জঙ্গী)
📌 অ্যালবাম প্রোফাইল: কষ্ট
১৯৯৫ সালে প্রকাশিত কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর তৃতীয় একক অ্যালবাম 'কষ্ট' বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের ইতিহাসে একটি অবিনশ্বর মাইলফলক। সহজ-সরল কথা, হৃদয় ছোঁয়া সুর এবং বাচ্চুর অনবদ্য গিটার জাদুর মিশেলে অ্যালবামটি নব্বইয়ের দশকের তরুণ প্রজন্মের আবেগের প্রতিধ্বনি হয়ে উঠেছিল, যা আজও শ্রোতাদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয়। তিন দশক পরেও এই অ্যালবামের আবেদন বিন্দুমাত্র কমেনি।
এই অ্যালবামের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল আইয়ুব বাচ্চুর সাবলীল ও মেলোডিয়াস সুরের ম্যাজিক। সাধারণত এলআরবি (LRB)-এর সাথে হার্ড রক ঘরানার গান করলেও, একক অ্যালবামে এসে তিনি যে কতটা মিষ্টি, পরিপক্ব ও আবেগঘন ব্লুজ-মেলোডি সুর করতে পারেন, তা 'কষ্ট' অ্যালবামের মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন। অ্যাকোস্টিক ও ইলেকট্রিক গিটারের নিখুঁত ব্যালেন্স, দুর্দান্ত গিটার সোলো এবং বাচ্চুর নিজস্ব জাদুকরী গায়কী গানগুলোকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
অ্যালবামের গানগুলোর কথা ছিল অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এবং সাধারণ মানুষের জীবনের সাথে মিলে যায় এমন। লতিফুল ইসলাম শিবলী, আসিফ ইকবাল ও বাপ্পী খানের মতো গুণী গীতিকারদের কলমে বিরহ, হতাশা এবং না পাওয়ার কষ্টগুলোকে অত্যন্ত কাব্যিক অথচ সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছিল, যা খুব সহজেই তৎকালীন তরুণ সমাজকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছিল।
- অ্যালবাম: কষ্ট
- ভোকাল/ব্যান্ড: আইয়ুব বাচ্চু
- সুর ও সঙ্গীত : রবিন
- রিলিজ: ১৯৯৫
- ধরণ: Studio Album
- লেবেল: সাউন্ডটেক
- প্রযোজনা: সাউন্ডটেক
- মোট গান: ১২ টি
🎸 লাইনআপ-কষ্ট
- আয়ুব বাচ্চু – গিটার এবং বেস গিটার
- এসআই টুটুল – কিবোর্ড
- আহসান এলাহি ফ্যান্টি – ড্রামস
🎧 Tracklist (কষ্ট)
- কষ্ট পেতে ভালোবাসি – (গীতিকার- লতিফুল ইসলাম শিবলী)
- অবাক হৃদয় – (গীতিকার- আসিফ ইকবাল)
- জেগে আছি একা – (গীতিকার- রুদ্র পলাশ)
- কষ্ট আমার এই বুকে – (গীতিকার- লতিফুল ইসলাম শিবলী)
- কষ্ট কাকে বলে – (গীতিকার- লতিফুল ইসলাম শিবলী)
- ১০০টা স্বপ্ন– (গীতিকার- আসিফ ইকবাল)
- হয়তো কোথাও – (গীতিকার- মারুফ আহমেদ)
- আমিও মানুষ – (গীতিকার- সাঈদ আওলাদ)
- বহুদূরে যেতে হবে– (গীতিকার- আসিফ ইকবাল)
- আমার জীবন– (গীতিকার- এনজেল শফিক)
- হৃদয় পুনর্বাসন– (গীতিকার- বাপ্পী খান)
- ভীষণ ব্যথা – (গীতিকার- শেখ ইসতিয়াক)
📌 অ্যালবাম প্রোফাইল: সময়
১৯৯৫ সালে 'কষ্ট' অ্যালবামের আকাশচুম্বী সাফল্যের পর, ১৯৯৮ সালে আইয়ুব বাচ্চু শ্রোতাদের উপহার দেন তাঁর চতুর্থ একক স্টুডিও অ্যালবাম 'সময়'। তবে এই অ্যালবামটি আগেরগুলোর চেয়ে সাউন্ড, লিরিক এবং থিমের দিক থেকে অনেকটাই আলাদা ছিল।
চেনা মেলোডি বা চড়া হার্ড রকের বাইরে গিয়ে এই অ্যালবামে মূলত ব্লুজ (Blues) এবং অল্টারনেটিভ রক ঘরানার এক দারুণ এক্সপেরিমেন্ট করেছিলেন। জীবনের জটিলতা, মানুষের চারিত্রিক দ্বিমুখী আচরণ, সমাজ ও সময়কে দেখার এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছিল এই অ্যালবামের গানগুলোতে।
এই অ্যালবামের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল এর লিরিকের গভীরতা। অ্যালবামের ১২টি গানের মধ্যে ৭টি গানই লিখেছিলেন গুণী গীতিকার নিয়াজ আহমেদ অংশু। এ ছাড়া লতিফুল ইসলাম শিবলী ও বাপ্পী খানের লেখনী তো ছিলই।
সঙ্গীতায়োজনের দিক থেকে আইয়ুব বাচ্চু এখানে তাঁর প্রিয় ঘরানা 'ব্লুজ' (Blues)-কে খুব চমৎকারভাবে ডিল করেছেন। ইলেকট্রিক গিটারের ক্রাইং টোন, ভারী বেস-লাইন এবং ড্রামসের ধীর অথচ শক্তিশালী রিদম গানগুলোকে এক ধরণের গম্ভীর ও ক্লাসি রূপ দিয়েছিল।
- অ্যালবাম: সময়
- ভোকাল/ব্যান্ড: আইয়ুব বাচ্চু
- সুর ও সঙ্গীত : রবিন
- রিলিজ: ১৯৯৮
- ধরণ: Studio Album / EP / Live / Compilation
- লেবেল: সাউন্ডটেক
- প্রযোজনা: সাউন্ডটেক
- মোট গান: ১২ টি
- সময়কাল: ৪২:১৫ (ঐচ্ছিক)
🎧 Tracklist (সময়)
- একটি সত্য – (গীতিকার- লতিফুল ইসলাম শিবলী)
- আকাশ কাঁদে বাতাস কাঁদে – (গীতিকার- নিয়াজ আহমেদ অংশু)
- চৌদ্দ পুরুষের ভূমিদাস– (গীতিকার- নিয়াজ আহমেদ অংশু)
- বড়বাবু মাস্টার – (গীতিকার- লতিফুল ইসলাম শিবলী)
- একঝাঁক পায়রা – (গীতিকার- বাপ্পী খান)
- সময়– (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- বিবর্ণ ভালবাসা – (গীতিকার- বাপ্পী খান)
- দুঃখ কর অলংকার – (গীতিকার- সুহান খান)
- সব আলো নিভিয়ে দিয়ে– (গীতিকার- নিয়াজ আহমেদ অংশু)
- বৃষ্টি একটানা বৃষ্টি– (গীতিকার- নিয়াজ আহমেদ অংশু)
- শেষ – (গীতিকার- নিয়াজ আহমেদ অংশু)
- ভাড়া খাটা গীটারের ভাড়াটে প্রেমিক– (গীতিকার- নিয়াজ আহমেদ অংশু)
📌 অ্যালবাম প্রোফাইল: একা
বিংশ শতাব্দীর শেষ প্রান্তে, অর্থাৎ ১৯৯৯ সালে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান 'সংগীতা'-র ব্যানার থেকে প্রকাশিত হয় আইয়ুব বাচ্চুর এই অ্যালবামটি। 'কষ্ট' অ্যালবামের পর যারা আবারও আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠে নিখাদ বিরহ ও আকুলতার গান শুনতে চেয়েছিলেন, 'একা' অ্যালবামটি ছিল তাঁদের জন্য এক দারুণ উপহার।
'একা' অ্যালবামের মিউজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট ছিল বেশ আধুনিক এবং মেলোডি-প্রধান। চড়া ড্রামস বিট বা কড়া ডিস্টরশন গিটারের চেয়ে এখানে সফট রক, অ্যাকোস্টিক গিটার এবং কিবোর্ডের পরিমিত ব্যবহার বেশি দেখা যায়। তবে আইয়ুব বাচ্চুর সিগনেচার গিটার সোলো গানগুলোর মাঝে মাঝেই শ্রোতাকে চমকে দেয়। বিশেষ করে বিরহের গানগুলোতে গিটারের কর্ড ও মেলোডি লাইনের সিলেকশন ছিল অত্যন্ত নিখুঁত, যা শ্রোতার অবচেতনেই মনের ভেতর এক ধরণের শূন্যতা তৈরি করে।
- অ্যালবাম: একা
- ভোকাল/ব্যান্ড: আইয়ুব বাচ্চু
- সুর ও সঙ্গীত : রবিন
- রিলিজ: ১৯৯৯
- ধরণ: Studio Album / EP / Live / Compilation
- লেবেল: সংগীতা
- প্রযোজনা: সেলিম খান
- মোট গান: ১২ টি
- সময়কাল: ৪২:১৫ (ঐচ্ছিক)
🎧 Tracklist (একা)
- আর কেঁদোনা – (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- রক্তের ছবি – (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- তুমি নও– (গীতিকার- লতিফুল ইসলাম শিবলী)
- নষ্ট হব কেন – (গীতিকার- লতিফুল ইসলাম শিবলী)
- প্রিয়তমা – (গীতিকার- লতিফুল ইসলাম শিবলী)
- এক নিম্নবিত্ত পিতার প্রার্থনা – (গীতিকার- নিয়াজ আহমেদ অংশু)
- একা – (গীতিকার- জাহিদ আকবর)
- রংধনু হয়ে যায় – (গীতিকার- লতিফুল ইসলাম শিবলী)
- আসবো ফিরে গানে গানে – (গীতিকার- তারা)
- দূরে বসে আছো – (গীতিকার- বাপ্পী খান)
- খুব সাধারণ– (গীতিকার- লতিফুল ইসলাম শিবলী)
- চলে গেলে বুঝতে পারি – (গীতিকার- লতিফুল ইসলাম শিবলী)
📌 অ্যালবাম প্রোফাইল: প্রেম তুমি কি?
২০০২ সালে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান 'সাউন্ডটেক'-এর ব্যানার থেকে প্রকাশিত হয় আইয়ুব বাচ্চুর এই একক অ্যালবামটি। ওনার আগের কয়েকটি অ্যালবামে সমাজ ও দর্শনের ভারী থিম থাকলেও, 'প্রেম তুমি কি!' অ্যালবামে তিনি আবারও ফিরে এসেছিলেন প্রেমের বহুমাত্রিক রূপ এবং মানুষের পারিবারিক ও মানসিক সম্পর্কের গভীরতায়।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই অ্যালবামের ১২টি গানের সবগুলোরই সুর, সঙ্গীতায়োজন এবং কথা (লিরিক) আইয়ুব বাচ্চু নিজেই করেছিলেন। একজন শিল্পী হিসেবে ওনার অল-রাউন্ডার মেধার এক অনন্য প্রকাশ ছিল এই অ্যালবামটি।
- অ্যালবাম: প্রেম তুমি কি
- ভোকাল/ব্যান্ড: আইয়ুব বাচ্চু
- সুর ও সঙ্গীত : রবিন
- রিলিজ: ২০০২
- ধরণ: Studio Album / EP / Live / Compilation
- লেবেল: সাউন্ডটেক
- প্রযোজনা: সেলিম খান
- মোট গান: ১২ টি
- সময়কাল: ৪২:১৫ (ঐচ্ছিক)
🎧 Tracklist (প্রেম তুমি কি?)
- ঘর – (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- ছবি আঁক ইচ্ছে মত – (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- উড়াল দেব আকাশে– (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- শুধু কি আমার ভুল – (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- প্রেম তুমি কি – (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- সুস্মিতা – (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- প্রতিশোধ – (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- এই শহর এখন ঘুমিয়ে – (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- প্রতিটি ভোর প্রতিটি ক্ষণ– (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- মৌমিতা – (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- কিছু নেই আমার– (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- বাবা তোমার কথা মনে পড়ে – (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
📌 অ্যালবাম প্রোফাইল: দুটি মন
২০০২ সালের শেষের দিকে অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান 'সাউন্ডটেক'-এর ব্যানার থেকে ক্যাসেট ও সিডি আকারে বাজারে আসে আইয়ুব বাচ্চুর এই একক অ্যালবামটি। ওনার চেনা ব্লুজ বা হার্ড রকের গাম্ভীর্য থেকে কিছুটা বের হয়ে এই অ্যালবামে তিনি তৎকালীন সময়ের আধুনিক পপ-রক এবং মেলোডি ঘরানার গানের এক দারুণ ফিউশন তৈরি করেছিলেন।
অ্যালবামের ১০টি গানের মধ্যে ৫টি গান এককভাবে লিখেছিলেন শফিক তুহিন এবং ৩টি গান আইয়ুব বাচ্চু ও শফিক তুহিন যৌথভাবে লিখেছিলেন। বাকি দুটি গানের কথা ছিল আইয়ুব বাচ্চুর নিজের। 'দুটি মন' অ্যালবামে আইয়ুব বাচ্চু সাউন্ড ডিজাইনের ক্ষেত্রে বেশ আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া রেখেছিলেন। ড্রামস লুপ ও সিন্থেসাইজারের পরিমিত ব্যবহারের পাশাপাশি ওনার সিগনেচার ইলেকট্রিক গিটার ও অ্যাকোস্টিক গিটারের মেলবন্ধন তো ছিলই।
- অ্যালবাম: দুটি মন
- ভোকাল/ব্যান্ড: আইয়ুব বাচ্চু
- সুর ও সঙ্গীত : রবিন
- রিলিজ: ২০০২
- ধরণ: Studio Album
- লেবেল: সাউন্ডটেক
- প্রযোজনা: সেলিম খান
- মোট গান: ১০ টি
🎧 Tracklist (দুটি মন)
- দুটি মন – (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- নেশা – (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- দুনিয়া– (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু ও শফিক তুহিন)
- এক হয়ে যাই – (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- আমার এ জীবন – (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু)
- ভালোবাস – (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু ও শফিক তুহিন)
- ধারে ধীরে – (গীতিকার- শফিক তুহিন)
- এই রোদ এই মেঘ – (গীতিকার- শফিক তুহিন)
- বুমসাকালাকা– (গীতিকার- আইয়ুব বাচ্চু ও শফিক তুহিন)
- কত দূরে বন্ধু – (গীতিকার- শফিক তুহিন)
কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর একক মিউজিক্যাল সফরের প্রথম দিকের এই ৭টি অ্যালবাম আজো আমাদের বাংলা সংস্কৃতির এক একটি অমূল্য রতন। প্রেম, বিরহ, সমাজ আর নিঃসঙ্গতার যে সুর তিনি এই অ্যালবামগুলোর মাধ্যমে বুনে গেছেন, তার আবেদন চিরন্তন।
তবে আইয়ুব বাচ্চুর সৃষ্টির আকাশ এখানেই শেষ নয়। তাঁর ক্যারিয়ারের পরবর্তী সময়ের আরও কিছু দুর্দান্ত ও এক্সপেরিমেন্টাল একক অ্যালবাম নিয়ে খুব শীঘ্রই ফিরছি পরবর্তী পর্বে। "কিংবদন্তি আইয়ূব বাচ্চুর একক অ্যালবামের ডিস্কোগ্রাফি (পর্ব: ২)"-এ থাকবে তাঁর বাকি সব কালজয়ী অ্যালবামের বিস্তারিত আদ্যোপান্ত।
