ক্রিকেট বাংলাদেশের কোটি মানুষের আবেগের নাম, আবেগের খেলা। ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পথচলা শুরু করেছিল লাল-সবুজের দল। এরপর একে একে পার হয়েছে অনেকগুলো মাইলফলক। ১৯৮৬ সালে প্রথম ওয়ানডে, ১৯৯৭ সালে ওয়ানডে মর্যাদা লাভ, ২০০০ সালে টেস্ট খেলার স্বীকৃতি এবং ২০০৬ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে অসংখ্য ক্রিকেটার নিজেদের নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। তবে কিছু অর্জন থেকে যায় চিরস্মরণীয় যেমন কোনো একটি সংস্করণে দলের হয়ে সর্বপ্রথম সেঞ্চুরি করার গৌরব। একজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরি হয়তো অনেকগুলোর একটি পরিসংখ্যান মাত্র। কিন্তু কোনো দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম সেঞ্চুরি করার গুরুত্ব একেবারেই আলাদা তা হয়ে থাকে চিরস্থায়ী এক মাইলফলক। যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও মূল্যবান হয়ে ওঠে।
ঠিক তেমনি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, মেহরাব হোসেন অপি, তামিম ইকবাল, ফারজানা হক ও নিগার সুলতানা জ্যোতি। তারা প্রত্যেকেই নিজেদের জায়গা থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি করে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। আজকের লেখায় থাকছে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পুরুষ ও নারী দলের এই প্রথম সেঞ্চুরিয়ানদের গল্প, সেই সঙ্গে প্রতিটি সংস্করণে প্রথম ফিফটি করা ব্যাটারদের কথাও। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটে আরও অসংখ্য সেঞ্চুরি আসবে, নতুন নতুন তারকা গড়ে উঠবেন কিন্তু দেশের হয়ে প্রথম শতরানের মাইলফলক ছোঁয়া এই ক্রিকেটারদের নাম বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবসময়ই বিশেষ মর্যাদায় স্মরণ করা হবে।
টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান: আমিনুল ইসলাম বুলবুল
দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক পথচলার পর ২০০০ সালের জুন মাসে আইসিসির পূর্ণ সদস্যপদ ও টেস্ট মর্যাদা লাভ করে বাংলাদেশ। যা ছিল দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পরিণত হয় বিশ্বের দশম টেস্ট খেলুড়ে দেশে। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই একই বছরের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে ঢাকায় নিজেদের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে টাইগাররা। ক্রিকেটের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া এই সংস্করণে অভিষেকেই বাংলাদেশ পেয়ে যায় তাদের প্রথম সেঞ্চুরিয়ানের দেখা।
২০০০ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই এক অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েন তৎকালীন অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। প্রায় ৯ ঘণ্টা ব্যাট করে ৩৮০ বল মোকাবিলায় তিনি খেলেন ১৪৫ রানের ইনিংস। দেশের হয়ে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করার এই কীর্তি আজও অনন্য এক অধ্যায় হয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে। এত বছর পরও আমিনুল বুলবুলের এই ইনিংস নিয়ে আলোচনা হয় কারণ একদম নতুন এক টেস্ট দলের জন্য বিশ্বমানের ভারতীয় বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে এমন ধৈর্যশীল ও পরিণত ব্যাটিং প্রদর্শন করা মোটেও সহজ কাজ ছিল না।
ঐতিহাসিক তথ্য:
- ম্যাচ: বাংলাদেশ বনাম ভারত (টেস্ট অভিষেক), ঢাকা
- ভেন্যু: বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকা
- তারিখ: ১০-১৩ নভেম্বর, ২০০০
- রান: ১৪৫
- বল মোকাবিলা: ৩৮০
- চার: ১৭টি
- ছক্কা: ০টি
- ক্রিজে কাটানো সময়: ৫৩৫ মিনিট (৮ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট)
- আউট : ১৪৭তম ওভারে অজিত আগারকারের বলে জাভাগাল শ্রীনাথের হাতে ক্যাচ।
তবে মজার বিষয় হলো সেই একই ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে প্রথম অর্ধশতক করেন হাবিবুল বাশার। অর্থাৎ একই ঐতিহাসিক ম্যাচে বাংলাদেশ পেয়েছিল তাদের প্রথম টেস্ট ফিফটি ও প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিদুটোই। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এখনো টেস্ট ক্রিকেটে পূর্ণ সদস্য হিসেবে কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলেনি। তাই নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ানের কোনো রেকর্ড এখনো তৈরি হয়নি।
ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান: মেহরাব হোসেন অপি
টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার আগেই বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছিল। ১৯৯৯ সালের মার্চে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে কেনিয়া ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আয়োজিত এক ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১১৬ বলে ১০১ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন মেহরাব হোসেন অপি। এটি শুধু ওয়ানডে ক্রিকেটেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যেকোনো সংস্করণে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি হিসেবেও ইতিহাসে জায়গা করে নেয়। বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পথে থাকা একটি তরুণ দলের জন্য এই ইনিংস ছিল আত্মবিশ্বাসের এক বিশাল উৎস।
ঐতিহাসিক তথ্য:
- ম্যাচ: বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে (ত্রিদেশীয় সিরিজ),
- ভেন্যু: বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকা
- তারিখ: ২৫ মার্চ, ১৯৯৯
- রান: ১০১
- বল মোকাবিলা: ১১৬
- চার: ৯টি
- ছক্কা: ২টি
উল্লেখযোগ্য তথ্য: এটি ছিল যেকোনো সংস্করণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি, এমনকি টেস্ট মর্যাদা পাওয়ারও প্রায় দেড় বছর আগে। তবে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ফিফটির কৃতিত্ব যায় আজহার হোসাইন সেণ্টু ঝুলিতে। ১৯৯০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। যা মেহরাব হোসেন অপির সেঞ্চুরির প্রায় ৯ বছর আগের ঘটনা।
ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান (নারী): ফারজানা হক পিংকি
নারী ক্রিকেটে ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি এসেছে অনেক পরে, তবে তা এসেছে দারুণ নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে। ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ওপেনার ফারজানা হক ইনিংসের প্রায় শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে খেলেন ১০৭ রানের অনবদ্য এক ইনিংস। শেষ বলে রান আউট হয়ে তিনি আউট হন ঠিকই, কিন্তু ততক্ষণে নারী ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়ে ফেলেছেন। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান উত্থানের পথে এটি ছিল এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা প্রমাণ করে দেশের নারী ক্রিকেটাররাও এখন বড় মঞ্চে বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য রাখেন।
ঐতিহাসিক তথ্য:
- ম্যাচ: বাংলাদেশ বনাম ভারত (৩য় ওয়ানডে),
- ভেন্যু: শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মিরপুর, ঢাকা
- তারিখ: ২২ জুলাই, ২০২৩
- রান: ১০৭
- বল মোকাবিলা: ১৬০
- চার: ৭টি
- ছক্কা: ০টি
- আউট হন: ইনিংসের শেষ বলে রান আউট
টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান:তামিম ইকবাল
ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি আসে ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ওমানের বিপক্ষে সেই ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল মাত্র ৬৩ বলে অপরাজিত ১০৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দেন। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এই কীর্তি গড়ায় তামিমের এই ইনিংসটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে। আজও পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে বাংলাদেশের পুরুষ দলের হয়ে দুজন সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যান রয়েছে অন্যজন পারভেজ হোসেন ইমন।
ঐতিহাসিক তথ্য:
- ম্যাচ: বাংলাদেশ বনাম ওমান (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ),
- ভেন্যু: হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়াম, ধর্মশালা
- তারিখ: ১৩ মার্চ, ২০১৬
- রান: ১০৩* (অপরাজিত)
- বল মোকাবিলা: ৬৩
- চার: ১০টি
- ছক্কা: ৫টি
উল্লেখযোগ্য তথ্য: টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটার তামিম ইকবাল। টি-টোয়েন্টিতে প্রথম অর্ধশতকের মালিক অবশ্য অন্য একজন। ২০০৭ সালে কেনিয়ার নাইরোবিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮১ রানের ইনিংস খেলে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন নাজিমুদ্দিন যা তামিমের সেঞ্চুরির প্রায় ৯ বছর আগের ঘটনা।
টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান (নারী) :নিগার সুলতানা জ্যোতি
নারী টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিটি এসেছে ঘরের কাছেই দক্ষিণ এশিয়ার মঞ্চে। ২০১৯ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান গেমসে মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচে বর্তমান অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি মাত্র ৬৫ বলে ১৪টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১১৩ রানের বিস্ফোরক এক ইনিংস খেলেন। এই ইনিংসটি শুধু নারী টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিই নয়, বরং দেশের নারী ক্রিকেটের আক্রমণাত্মক সম্ভাবনারও একটি বড় প্রমাণ।
ঐতিহাসিক তথ্য:
- ম্যাচ: বাংলাদেশ বনাম মালদ্বীপ (সাউথ এশিয়ান গেমস ২০১৯)
- ভেন্যু: পোখারায়, নেপাল
- তারিখ: ডিসেম্বর, ২০১৯
- রান: ১১৩* (অপরাজিত)
- বল মোকাবিলা: ৬৫
- চার: ১৪টি
- ছক্কা: ৩টি
উল্লেখযোগ্য তথ্য: প্রথম বাংলাদেশি নারী ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০ ম্যাচ খেলার কীর্তি। মেয়েদের প্রথম শ্রেণির দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটেও মধ্যাঞ্চলের হয়ে উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে ১৫৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান ছিল নিগার সুলতানা িজ্যোতি।
এক নজরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের মাইলফলক
- ১৯৭৯: ইংল্যান্ডে আইসিসি ট্রফির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু।
- ১৯৮৬: এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ; গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর নেতৃত্বাধীন দল সেই ম্যাচে ৭ উইকেটে হেরে যায়।
- ১৯৯০: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শারজায় আজহার হোসাইনের হাত ধরে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম অর্ধশতক।
- ১৯৯৭: আইসিসি ট্রফি জয় করে ওয়ানডে মর্যাদা অর্জন করে বাংলাদেশ, এর আগে খেলা ফেলে ১২টি স্বীকৃত ওয়ানডে ম্যাচ।
- ১৯৯৯: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মেহরাব হোসেন অপির ব্যাটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি (ওয়ানডে)।
- ২০০০: টেস্ট মর্যাদা লাভ; ভারতের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টেই আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সেঞ্চুরি এবং হাবিবুল বাশারের ফিফটি।
- ২০০৬: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
- ২০০৭: পাকিস্তানের বিপক্ষে নাজিমুদ্দিনের ব্যাটে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম ফিফটি।
- ২০১৬: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি—সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বাংলাদেশের প্রথম।
- ২০১৯: সাউথ এশিয়ান গেমসে মালদ্বীপের বিপক্ষে নিগার সুলতানা জ্যোতির সেঞ্চুরি—নারী টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম।
- সাসাম্প্রতিক সময়: ভারতের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ফারজানা হকের সেঞ্চুরি—নারী ওয়ানডেতে বাংলাদেশের প্রথম শতক।
প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন ১. বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি কে করেন?
উত্তর: মেহরাব হোসেন অপি। ১৯৯৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ১০১ রানের ইনিংস খেলে তিনি এই কীর্তি গড়েন, যা ছিল যেকোনো সংস্করণে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি।
প্রশ্ন ২. বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরি কার?
উত্তর: আমিনুল ইসলাম বুলবুল ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের অভিষেক টেস্টেই ১৪৫ রানের ইনিংস খেলে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন।
প্রশ্ন ৩. টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান কে?
উত্তর: তামিম ইকবাল। ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে ৬৩ বলে অপরাজিত ১০৩ রান করে তিনি এই রেকর্ড গড়েন এবং তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটার।
প্রশ্ন ৪. নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিয়ান কে?
উত্তর: ফারজানা হক। ২০২৩ সালে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে তিনি ১০৭ রানের ইনিংস খেলে এই কীর্তি গড়েন।
প্রশ্ন ৫. নারী টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি কার?
উত্তর: নিগার সুলতানা জ্যোতির। ২০১৯ সালে সাউথ এশিয়ান গেমসে মালদ্বীপের বিপক্ষে ৬৫ বলে অপরাজিত ১১৩ রান করে তিনি এই মাইলফলক অর্জন করেন।
প্রশ্ন ৬. বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল কি টেস্ট মর্যাদাপ্রাপ্ত?
উত্তর: না, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এখনো পর্যন্ত টেস্ট মর্যাদা অর্জন করেনি, তাই নারী টেস্টে এখনো কোনো সেঞ্চুরিয়ান নেই।
শেষ কথা
একটি জাতীয় দলের ক্রিকেট ইতিহাস আসলে অসংখ্য ছোট ছোট মুহূর্তের সমষ্টি, আর প্রথমবারের মতো অর্জিত প্রতিটি মাইলফলক সেই ইতিহাসের ভিত গড়ে দেয়। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের অভিষেক টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে শুরু করে মেহরাব হোসেন অপির ওয়ানডে শতক, তামিম ইকবালের বিশ্বকাপ মঞ্চের ঝলক, কিংবা ফারজানা হক ও নিগার সুলতানা জ্যোতির হাত ধরে নারী ক্রিকেটের নতুন দিগন্ত উন্মোচন প্রতিটি অর্জনই বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিবর্তনের এক-একটি অধ্যায়। পুরুষ ও নারী উভয় দলই যতই এগিয়ে যাক না কেন, ভবিষ্যতে যতই নতুন রেকর্ড গড়া হোক না কেন, "প্রথম" শব্দটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই কীর্তিগুলো চিরকালই থেকে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে অম্লান হয়ে।
আরও পড়ুন:
- ক্রিকেটে বাংলাদেশি বোলারদের হ্যাটট্রিক
- বাংলাদেশের বিপক্ষে যত হ্যাটট্রিক রেকর্ড
- ফুটবল জাদুকর সৈয়দ আব্দুস সামাদ
- ওস্তাদ ফজলু: “এসো সবাই হকি খেলি
- বাংলাদেশের দাবার গ্র্যান্ডমাস্টারদের তালিকা
- গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ: দাবার কিংবদন্তির
- জুম্মন লুসাই: বাংলাদেশের হকি কিংবদন্তি
- মোনেম মুন্না: বাংলাদেশের ফুটবলের কিংব্যাক

