পূর্ববঙ্গের ঢাকার গর্ভে গর্বিত গ্রাম আমতা
সেই গাঁয়ে জনম মোর, পিতা গজেন্দ্র, গয়ামাতা
বাঁচন মরণ এই দুই কূল, সমাজ অমর ধাম
সেই সমাজের অধিকারী মুই, ভবা পাগলা মোর নাম
ভবা পাগলা যার আসল নাম ভবেন্দ্র মোহন সাহা। জন্ম মানিকগঞ্জ জেলার ধামরাই থানার আমতা গ্রামে ১৭ অক্টোবর ১৯০২ সালে। পিতা গজেন্দ্র কুমার সাহা। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে ভবা ছিলেন অনন্য তাঁর গানের মতোই আলাদা জীবনযাপন ছিল। ছোটবেলায় অষ্টম শ্রেণীর বেশি পড়াশোনা না করলেও জীবনবোধে তিনি ছিলেন গভীর। ভক্তি ভাব ও মানবতাই ছিল তাঁর সাধনার মূল। মুখে মুখে গান বাঁধা ছিল স্বভাব আর সেই গানেই তিনি খুঁজে নিতেন অন্তরের ঈশ্বরকে।
ভবা পাগলার গানে পাওয়া যায় শ্যামা সঙ্গীত, ভাবগীতি, গুরুতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব ও সৃষ্টিতত্ত্বের মিলন। তিনি নিজেই লিখতেন ও সুর দিতেন। তাঁর গানে জাতপাত, ভেদাভেদ বা ধর্মীয় সংকীর্ণতার কোনো স্থান ছিল না। দূর করে দে মনের ময়লা বলে তিনি অন্তরের পবিত্রতাকেই শ্রেষ্ঠ ধর্ম বলে ঘোষণা করেছেন। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৭ সালে ভবা পাগলা ভারতে চলে যান এবং বর্ধমানের কালনায় বসবাস শুরু করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ সালে দেহত্যাগ করেন এই মহান সাধক। আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
অদ্ভুত অসাধারন সব গানের কথা তার অদ্ভুত জীবন চরিত। উইকিপিডিয়ায় ছোট সুন্দর একটা লাইন আছে ভবা পাগলা Was a devotee of goddess kali and spiritual master of many dedicated souls. তার ভক্ত কূল সবাই বলে জয় ভবা। তার নামে একটি মন্দির আছে। আমার ভাল লাগে তার লেখা গান বানী যাই বলি। অল্প কিছুটাই জানি এই অমৃতের। কিছু গানে ঈশ্বরকে খোচা, করিছ এ পুতুল খেলা হাসে তাই ভবা পাগলা।
ঈশ্বর আবার চালাক সেজন্যই হয়তো বলেছেন চুড়ান্ত চালাক তুমি আছো যে মিশিয়া এসেছি হেথায় তোমারি আজ্ঞায় আদেশ করিবা মাত্র যাবো চলিয়া। ভবা গান জয় ভবার ১ম পর্বে ২০ টি গানের লিরিক্স বা কথা থাকছে। গবেষকেরা বলেন আর কি নেট গেটে জানলাম, তাঁর গানের সংখ্যা প্রায় দশ হাজারেরও বেশি। আবার লোকমুখে সংখ্যা শোনা যায় ছিয়াশি হাজার। যাই হোক প্রচারবিমুখ এই সাধক আমাদের কাছে বিস্মৃতপ্রায় হলেও তাঁর গান আজও বাংলার সহজিয়া দর্শন ও লোকসংগীতের অমূল্য সম্পদ হিসেবে জীবিত। জয় ভবা।
পর্ব-১, ভবার গান জয় ভবা
- মুজিবরে হও অধিষ্ঠান আজি ধরিতে বাংলার হাল
- চঞ্চল মন আমার শোনে না কথা
- আনন্দে পরমানন্দে মহানন্দে ভাস,একটু খানি হাস
- আমি মনের মানুষ পেলাম কই মন খুলে দুটো কথা কই
- আমি মায়ের দুঃখী ছেলে দুঃখিনী হয় আমার মা
- যার বাড়িতে বসত করি সে বড় সুন্দর বাড়িওয়ালা
- আমি সাজিয়েছি মা গো পূজার থালা মালা গাঁথি নাই
- এখনো সেই বৃন্দাবনে, বাঁশি বাজে রে
- গানই সর্বশ্রেষ্ঠ সাধনা, লাগে না ফুলচন্দন মন্ত্রতন্ত্র
- চলো রে মন তুমি নিজ-নিজ সন্ধানে
- জীবন নদীর কূলে কূলে মন দোলে আর প্রাণ দোলে
- নদী ভরা ঢেউ বোঝো না তো কেউ
- নাচো গো নাচো কালী নাচো গো
- পরমে পরম জানিয়া এসেছি হেথায় তোমারি আজ্ঞায়
- আমার জীবন নদীর কুলে কুলে মন দোলে আর প্রাণ
- তুমি ভেবেছ কি মনে এই এিভুবনে তুমি যাহা করেছ
- ভাব সাগরে ভাবের মানুষ কেমন বসে আছে ভাব ধরে
- বলে কয়ে মানুষকে কি সাধু করা যায়
- যার মা আনন্দময়ী সে কি নিরানন্দে থাকে
- প্রভাতে উঠিয়া কহ কালী কালী চিত্ত শুদ্ধ করো
মুজিবরে হও অধিষ্ঠান আজি ধরিতে বাংলার হাল
আজি পদ্মার জল লাল
যমুনার জল কালো
ব্রহ্মপুত্র অতীব ভীষণ
মেঘনা নদী অতি বিশাল।
শীতলক্ষ্যা শান্তময়ী বুড়িগঙ্গা ধলেশ্বরী
হুরাসাগর বৈরবনদ শতধারারূপা ঢাকেশ্বরী
কুমারটুলী বিরাজিছে মাতা
হাতে নিয়ে ঢাল-তরোয়াল।
মহাদেবী প্রতিষ্ঠিত ছিলেন ঢাকা শহরে
মহিষাসুর মর্দিনী মা গো ধ্বংস করো অসুরে
দেবতার স্থানে একি গোপনে
এলো কারা ওরা নিষ্ঠুর মাতাল।
এবে হবে সকলই ঠান্ডা
সন্তান রয়েছে শত শত সেথা
হাতে লয়ে ন্যায় ডান্ডা
খণ্ড খণ্ড রূপে বাংলার জননী
ফাতেমা ঘিরিছে জাল।
তিস্তা ছিন্নমস্তা
ত্রিধারা বহিছে রক্তধারা
কে রে করে শিশুহত্যা
মাভৈঃ রবে গর্জিছে আকাশ
বধিতে কৃষ্ণ-শিশুপাল।
ভবাপাগলার অভিমান
আর কেন দেরি, শোনো হে কান্ডারি
মুজিবরে হও অধিষ্ঠান
সুসন্তান তোমার নিয়েছে এ ভার
আজি ধরিতে বাংলার হাল।
চঞ্চল মন আমার শোনে না কথা
চঞ্চল মন আমার শোনে না কথা
ঘুরিয়া বেড়ায় ওই আকাশেরই গায়
বিদেশীর সনে দিন কাটায় বৃথা।
শোনো ওরে মন, তোমারে বলি
আনন্দে কহ রে কালী কালী
তোমার স্বপন ভাঙিবে তখন
বুঝিবে তখন তুমি চঞ্চলতা
চঞ্চল মন আমার শোনে না কথা।
বাঁধন-ছাদন দিয়ে রাখা নাহি যায়
মন তুমি হও স্থির ধরি তব পায়
তোমারই মন্দির ভিতরবাহির
চঞ্চল করিলে ভবা দাঁড়াবে কোথা
চঞ্চল মন আমার শোনে না কথা।।
আনন্দে পরমানন্দে মহানন্দে ভাস,একটু খানি হাস রে মন
আনন্দে পরমানন্দে মহানন্দে ভাস
একটুখানি হাস রে মন
একটুখানি হাস।
কত জ্বালায় জ্বলছো তুমি
জানেন তাহা অন্তর্যামী
কেবল ভাবো আমি-আমি
আমি তো মন নাশ।
কান্নাকাটি মায়ার খেলা
এই ক’রে মন গেল বেলা
আর কত মন অবহেলা
তারে ভালোবাস।
এমনিভাবে আর কত কাল
ভবা কইছে বাড়ে জঞ্জাল
কোথা তুমি দীনদয়াল
করো তুমি দাসের দাস।
আমি মনের মানুষ পেলাম কই মন খুলে দুটো কথা কই
আমি মনের মানুষ পেলাম কই
মন খুলে দুটো কথা কই
আশার গাছে তুলে দিয়ে
কেড়ে নেয় রে বাঁশের মই।
আমি যারে ভালোবাসি
সে আমায় বানায় দোষী
হয় মনে মনে কষাকষি
থাকে না সে দুদিন বই।
ভরসা করে ফরসা হলাম
ছিলাম রাজা, হলাম গোলাম
স্বর্গ হ’তে মর্ত্যে এলাম
মানুষ কোথা পেলাম সই।
দেবতারাও বাঞ্ছা করে
মানুষ জনম নেবার তরে
জপি হরে কৃষ্ণ হরে হরে
খেলাম চিনি পাতা চুনের দই।
ভবা পাগলা মানুষ খোঁজে
সদাই থাকে চোখটি বুজে
মনের মানুষ মনেই আছে
আমার মা সে ব্রহ্মময়ী।
আমি মায়ের দুঃখী ছেলে দুঃখিনী হয় আমার মা
আমি মায়ের দুঃখী ছেলে
দুঃখিনী হয় আমার মা
সারা বিশ্বে নাই মোর কেহ
আমি আছি আর আমার মা।
মাও কাঁদে আমিও কাঁদি
কারে কেহই ছাড়ি যদি
যখন মায়ের কোলে নয়ন মুদি
তাইতে বলে আমার মা।
সুখ নাই স্বর্গে, নাই পাতালে
যত শান্তি মায়ের কোলে
মায়ের দুটি নয়নজলে
পাগল করে আমার মা।
আমার মা নয় পাষাণী
জ্বলন্ত প্রতিমাখানি
মা জানেন আর আমি জানি
কতখানি আমার মা।
মায়ের ছেলে ভবা পাগলা
ও তার, দুঃখ থাকলেও নাই রে জ্বালা
যখন মায়ের সনে করি খেলা
এই মাটির পুতুল আমার মা।
আমি যার বাড়িতে বসত করি সে বড় সুন্দর বাড়িওয়ালা
আমি যার বাড়িতে বসত করি
সে বড় সুন্দর বাড়িওয়ালা
তার আছে প্রচুর দাসদাসী
ঝাড়ে-মোছে দুই বেলা।
আট কুঠুরী নয় দরজা
ঘরে-ঘরে অনেক প্রজা
কেউ বা ব্যাঁকা, কেউ বা ল্যাংড়া
মুশকিল হয় তাদের চলা।
মুশকিল-আসান দ্বারের দ্বারী
একটু শুধু দ্বন্দাচারী
দফা সারে ক’রে চুরি
যদি পায় মন কপাট খোলা।
বাড়িওয়ালার আশেপাশে
বুদ্ধি দিতে কতই আসে
বাড়িওয়ালার কাছে গিয়ে
বসে থাকে ভবা পাগলা।
আমি সাজিয়েছি মা গো পূজার থালা মালা গাঁথি নাই
আমি সাজিয়েছি মা গো, পূজার থালা
মালা গাঁথি নাই
ধূপ জ্বেলেছি মন্দিরে মা
দীপ জ্বালি নাই।
হৃদয় কুসুম চন্দন
বিন্দুমাত্র আয়োজন
ইন্দ্রিয়গণ জাগরণ
পঞ্চভূতের বাঁধল লড়াই।
বেলা অবসান প্রায়
দেখো এই মন্দির বন্ধ হয়ে যায়
বলো দেবতা রহিল কোথায়
ডেকে সাড়া না পাই।
কামনা-বাসনা আনি
তাই দিয়ে সাজালাম বেদী
বয়ে যায় ওই অসার নদী
কূলহারা সাগরে ধায়।
ভবা ভাসে নয়নজলে
কেউ দিলে না প্রদীপ জ্বেলে
সঙ্গের সাথী গেল ফেলে
দেবতা দিলেন না ঠাঁই।
এখনো সেই বৃন্দাবনে, বাঁশি বাজে রে
এখনো সেই বৃন্দাবনে
বাঁশি বাজে রে
কালার বাঁশি শুনে
বনে বনে ময়ূর নাচে রে।
আজও সেই গাভীগুলি,
গোচারণে ছড়ায় ধূলি
সখাসনে কোলাকুলি
রাখাল রাজা রে।
আজও সেই রাধারাণী
বাঁশির সুরে পাগলিনী
অষ্ট-সখী শিরমণি
নব সাজে রে।
আজও সেই নীল যমুনায়
জল আনিতে যায় ললনায়
কৃষ্ণ আসে সেই ছলনায়
কদমতলায় রে।
আশা ছিল মনে-মনে
যাব আমি বৃন্দাবনে,
ভবা পাগলা রয় বাঁধনে
মায়ার কাছে রে।
গানই সর্বশ্রেষ্ঠ সাধনা, লাগে না ফুলচন্দন মন্ত্রতন্ত্র লাগে না
গানই সর্বশ্রেষ্ঠ সাধনা
লাগে না ফুলচন্দন
মন্ত্রতন্ত্র লাগে না।
আকর্ষণ করে সবার
মন আর প্রাণ
গাহো রে মন আমার
গাহো প্রভু গান
ভুলে যাই মধুর গানে
সেই নিঠুর ভগবান
না এসে পারে না।
সঙ্গীত সাধনা করো
শক্তি পাবে মনে,
মহাশক্তি বসিবেন
হৃদয় আসনে
বিষধর সর্প
ঠাকুর দেব পঞ্চাননে
হরিনাম নামগানে মত্ত শিব
নেত্র মুদে না।
ভবার ভবানী বাঁধা
গানের ছন্দগুণে,
মহানন্দে উচ্চস্বরে
বলে থাকি কালী কালী
শিহরণ জাগরণ
দুলে সদা শ্রোতাগুলি
রেণু পবনের গীত
মধু মধু রচনা।।
চলো রে মন তুমি নিজ-নিজ সন্ধানে
চলো রে মন তুমি
নিজ-নিজ সন্ধানে
একা-একা স্বপনটি
দেখার মতো গোপনে।
জানবে না রে কেউ
তোমার প্রেমের ঢেউ
পরম শান্তি পাবে
স্নিগ্ধ প্রেম সন্তরণে।
সে যে ঈশান কোণে
পাগলা পবন
যেথা হতে এলে তুমি
সাথে লয়ে এমন জীবন।
সেখানেই পাবে তুমি
তব প্রিয় দরশন
ধন্য হবে তুমি
চরণ পরশনে।
সন্ধ্যের সমক্ষণে
ব্রাহ্ম মুহূর্ত মিলন
চিন্তা করো ধ্যানের মূর্তি
একমনে করো স্মরণ।
ভবার সন্ধান সেথা
সন্ধিস্থানে দরশন
সফলতা লাভ করো
এক মনে, এক ধ্যানে।
জীবন নদীর কূলে কূলে মন দোলে আর প্রাণ দোলে
জীবন নদীর কূলে কূলে
মন দোলে আর প্রাণ দোলে
স্রোতের মাঝে হাবুডুবু খাই
চিন্তামনী অনুকূলে।
কেউ তো রবে না চিরদিন
আমরা সবাই যাবো শেষ যাত্রাপথে
পথিক নবীন-প্রবীণ
সেই হাসিকান্নায় ঘেরা মায়ার সংসারে
ডুবে যাবো সেই অথই জলে।
আছি তো রঙ্গে নাচিয়া রঙ্গে
কত এল, আর কত যে গেল
নাহি কিছু তার সঙ্গে
তবু কিসের আশায় ভাসিয়া চলেছি
আপনার এ পথ ভুলে।
কতই যে হলো দেখাশোনা
আসা-যাওয়া পথে পরিচয় মাত্র
তাছাড়া তো আর কিছু না
কে কোথাকার, কোথা চলে যাবো
মন রে আমার
ভবা কহে মায়ার ভূমন্ডলে।।
নদী ভরা ঢেউ বোঝো না তো কেউ
নদী ভরা ঢেউ বোঝো না তো কেউ
কেন নিজে তরী বাও বাও বাও রে
ভরসা করি এ ভবকান্ডারী
হালটি ছাড়িয়া তারে দাও দাও দাও রে।
বাইতে জানো না কেন ধরো হাল
মন-মাঝিরে তুই বড়ই মাতাল
বুঝায়ে বলো তারে যেতে হবে পারে
অবেলার বেলা পানে চাও চাও চাও রে।
বাইতেছিল তরী পাগলা ভবা
ভাঙা তরী জলে ডোবা-ডোবা
চুবানি খেয়ে ধরেছে পায়ে
ওহে কান্ডারী আমায় বাঁচাও বাঁচাও।
নাচো গো নাচো কালী নাচো গো
নাচো গো নাচো কালী নাচো গো
আমারই বুকে না হয় শিবেরই বুকে
নাচো গো ও নাচো গো।
নূপুরের সুরধ্বনি বাজিবে ঐ রিনিঝিনি
আনন্দে ভরিবে ঐ দশদিকে নাচো গো।
এলো এলো এলোকেশ মেঘমালা
তুলিবে যে ঐ হাসিয়া নাচিয়া মাগো
কহিবে মাভৈ মাভৈ।
হাসিবে দেবতাগণ কাঁপিবে কাঁপিবে অসুরগণ
নাচো কালী তুমি এই ভূ-লোকে নাচো গো
মাগো ও নাচো গো
নাচো গো নাচো কালী নাচো গো।
রক্তচন্দন আর রক্তজবা
বিল্বপত্র সনে পাগলা ভবা
দেবো গো অঞ্জলি জয় কালী কালী
দেবো গো মা বলে ডেকে।।
পরমে পরম জানিয়া এসেছি হেথায় তোমারি আজ্ঞায়
পরমে পরম জানিয়া
এসেছি হেথায় তোমারি আজ্ঞায়
আদেশ করিবামাত্র যাব চলিয়া
পরমে পরম জানিয়া।
কাম ক্রোধ লোভ মোহে
ডরি নাই কভু
আমি যে দাসানুদাস
তুমি যে প্রভু।
কারণ অকারণ
তোমারি সৃজন
আশ্চর্য হই না কভু
ভীষণ দেখিয়া।
তুমি পাপ তুমি পুণ্য
সকলি তোমারি দান
আসন পাতিয়া আছ
হে মহামানব প্রাণ।
খেলিছ পুতুল খেলা
হাসে তাই ভবা পাগলা
চুড়ান্ত চালাক তুমি
আছ মিশিয়া।।
আমার জীবন নদীর কুলে কুলে মন দোলে আর প্রাণ দোলে
আমার জীবন নদীর কুলে কুলে
মন দোলে আর প্রাণ দোলে।
আমি স্রোতের মাঝে হাবুডুবু খাই
মহাচিন্তার অকূলে।
কেউ তো রবো নারে চিরদিন
আমরাও যাব সেই যাত্রাপথে
পথিক যত নবীন প্রবীণ
হাসি কান্না খেলার সম উল্লাসে
ডুবে যাব ঐ অনন্ত জলে।
আসি তরঙ্গে নাচিয়া রঙ্গে
কত যে এল কত যে গেল
নাই কিছু তার সঙ্গে
কি যে আশায় ভাসিয়া চলেছি
আপনারে সব ভুলে।
এই তো হলো দেখা শোনা
আসা যাওয়ার পথে পরিচয় মাত্র
তাছাড়া আর কিছু নয়
কে কোথাকার কোথা চলে যাব
ভবা কয় মায়া ভূমণ্ডলে।।
তুমি ভেবেছ কি মনে এই এিভুবনে তুমি যাহা করেছ কেউ জানে না
তুমি ভেবেছ কি মনে
এই এিভুবনে
তুমি যাহা করেছ
কেউ জানে না
বারে বারে আর আসা হবে না
এমন মানব জন্ম আর পাবে না
বারে বারে আর আশা হবে না।
তুমি যাহা করে গেলে আসিয়া হেথা
চিত্রগুপ্ত লিখিয়া ভরিলে খাতায়
তোমার বিচার করিবেন
সেই বিধাতায়
তাহার কাছে ফাঁকি জুঁকি
কিছু চলে না
তুমি যাহা বদনে কর নাই প্রকাশ
অপ্রকাশ তাহার কাছে
কি যে সর্বনাশ
সে জে জুড়িয়া রয়েছে হৃদয় আকাশ,
মানুষের কুলে কালি
আর দিও না।
সাবধানে চল মন হুঁশিয়ার
তোমার বেলা তো বহে যায়
আসে অন্ধকার
এই মানুষ দেবতা হয়
হয় অবতার
ভবা কহে চোখ মেলে চেয়ে দেখ না।।
ভাব সাগরে ভাবের মানুষ কেমন বসে আছে ভাব ধরে
ভাবসাগরে ভাবের মানুষ
কেমন ব’সে আছে ভাব ধ’রে
থাকো ভাবে ব’সে রসে মিশে
ওরে ক্ষ্যাপা, এই সাধুসঙ্গে রসে মিশে
ভজবে যদি শ্রীহরি।
ভাব ছাড়া সে কয় না কথা
পঞ্চ ভাব যার হৃদে গাঁথা
ও সে ভাবের মানুষ আলেকলতা
ও তার আওয়াজ বুঝে নাও চিনে।
ভাবে আসে ভাবে বসে
ভাবে দেখে ভাবে লেখে
ওরে আনকথা তার নাই রে মুখে
ওরে ক্ষ্যাপা, রয়েছে ভাব নেহার করে।
আর থাকতে স্বভাব হয় না সে ভাব
স্বভাব গেলে কিসের অভাব
আবার সেই ভাবতে হয় মহাভাব
ওরে ভাবতে ভাব নেহার করে।
জাতি বিদ্যা মহতানা
থাকতে দেহে ভাব হবে না
তাই ভবা রে তোর স্বভাব কানা
এখন পড়েছিস কলির ঘোরে।
বলে কয়ে মানুষকে কি সাধু করা যায়
বলে কয়ে মানুষকে
কি সাধু করা যায়
মানুষ বটে নাহি ফোটে
কেবল মন ছবি বাঁশি বাজায়।
সোনার মানুষ দেশে দেশে
ঘুরে বেরায় পাগল বেশে
চিনি তারে অবশেষে
দেশ ছেড়ে যেদিন পালায়।
জন্ম থেকে মুখে হাসি
লেগে রয় যার দিবানিশি
জীবন হতে জীবন বেশী
আপন প্রানটি বিলিয়ে দেয়।
শুধু লেংটি পরলে হয়না সাধু
অন্তরে নাই প্রেমের মধূ
মানুষ হয়ে বেঁহুশ শুধু
চিরকাল টা কেটে যায়।
ভবা পাগলার সাধন ভজন
জন্মের মতন দিয়ে বিসর্জন
আমি দেখাবো নারে এ ছার বদন
রইবো আপন গাছ তলায়।।
যার মা আনন্দময়ী সে কি নিরানন্দে থাকে
যার মা আনন্দময়ী
সে কি নিরানন্দে থাকে
যার মা আনন্দময়ী
এসব প্রাণের কথা।
প্রাণেই রাখি
এসব প্রাণের কথা
প্রাণেই রাখি।
এ কথা আর বলবো কাকে
যার মা যার মা আনন্দময়ী।
মনের সুখে ভেসে বেড়াই মা
আমার যা জুটে তাই খাই
মনের সুখে ভেসে বেড়াই
যা জুটে আমার তাই খাই
মা যে আমার অন্নপূর্ণা।
মা মা যে আমার অন্নপূর্ণা
কি অন্ন জুটিয়ে রাখে
যার মা আনন্দময়ী,
সে কি নিরানন্দে থাকে
যার মা আনন্দময়ী।
ভয়ের লেশ নাই শরীরে
ভয়ের লেশ নাই
শরীরে শরীরে এ এ এ
ভয়ের লেশ নাই শরীরে
মা যে ভবার সর্ব ঘরে
ভয়ের লেশ নাই শরীরে।
মা যে ভবার সর্ব ঘরে মা
দূর করে দেয় সকল বিপদ
দূর করে দেয় সকল বিপদ
মুখ ভরা এই মা ডাকে
মুখ ভরা মুখ ভরা
এই মা মা মা মা ডাকে।
প্রভাতে উঠিয়া কহ কালী কালী চিত্ত শুদ্ধ করো জবা তুলি
প্রভাতে উঠিয়া কহ কালী কালী
চিত্ত শুদ্ধ করো জবা তুলি।
আনন্দে আনো তুলি বিল্বপত্র
রক্তচন্দনে মন পরিমিশ্রিত
প্রেম-অনুরাগে ভরি দুটি নেত্র
মায়ের চরণ পূজি হেলি দুলি
ও মন দুলি দুলি।
অলস ত্যাজিয়া ওরে জপ কালীনাম
অন্তিমে মাতৃপদে লভিতে বিশ্রাম
ভবা পাগলা কহে শিব শিব রাম
অবিদ্যা দূরে যাবে দেরে করতালি।
সহজিয়া দর্শনের মহাজীবন ও ভবার গানের চিরন্তন প্রাসঙ্গিকতা
সাধক ভবেন্দ্র মোহন সাহা থেকে ‘ভবা পাগলা’ হয়ে ওঠার এই আধ্যাত্মিক যাত্রা কেবল কোনো ব্যক্তির জীবনচরিত নয়, বরং তা বাংলার আবহমান লোক-দর্শন ও সহজিয়া সংস্কৃতির এক জ্যান্ত ইশতেহার। আমতা গ্রামের মাটির সোঁদা গন্ধ আর কালনার সাধনপীঠের ভক্তিধারা এই দুই কূলের মিলন ঘটেছে তাঁর গানে। আট ক্লাসের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গণ্ডি না পেরিয়েও তিনি জীবনের যে গূঢ় সত্য ও পরমাত্মার সন্ধান পেয়েছিলেন, তা তথাকথিত পাণ্ডিত্যকেও হার মানায়। তাঁর কণ্ঠে ‘ঈশ্বরকে খোঁচা দেওয়া’ কিংবা পরম ব্রহ্মকে ‘চূড়ান্ত চালাক’ বলে সম্বোধন করার পেছনে কোনো ঔদ্ধত্য ছিল না বরং তা ছিল এক পরম ভক্তের অত্যন্ত আপন ও নিবিড় অধিকারের বহিঃপ্রকাশ।
ভবার গানের প্রথম পর্বের এই ২০টি লিরিক্সের দিকে তাকালে এক অদ্ভুত বৈচিত্র্য চোখে পড়ে। একদিকে তিনি যেমন শ্যামা মায়ের চরণে নিজেকে সঁপে দিয়ে ‘নাচো গো নাচো কালী’ বা ‘যার মা আনন্দময়ী’ গেয়ে পরম নিশ্চিন্তে ভাবসাগরে ডুবেছেন, অন্যদিকে তেমনি তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ‘মুজিবরে হও অধিষ্ঠান’ গেয়ে বাংলার কান্ডারিকে আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর গীতি-ঐতিহ্যে রাধাকৃষ্ণের বৃন্দাবনলীলা যেমন জীবন্ত, ঠিক তেমনি দেহতত্ত্বের নিগূঢ় সত্যে ‘আট কুঠুরী নয় দরজা’র বাড়িওয়ালার সন্ধানও সমানভাবে স্পষ্ট। জাতপাত আর ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি কেবলই খুঁজে বেরিয়েছেন সেই ‘মনের মানুষ’কে।
আজকের যান্ত্রিক ও দেখনদারির যুগে, যেখানে মানুষ আত্মিক শান্তি ও সরলতা হারিয়ে ফেলছে, সেখানে ভবা পাগলার গান আমাদের অন্তরের ময়লা দূর করার দাওয়াই হিসেবে কাজ করে। সংখ্যায় তা দশ হাজারই হোক কিংবা ছিয়াশি হাজার প্রচারবিমুখ এই মরমী সাধকের প্রতিটি বাণীই আসলে একেকটি অমৃতবচন। বাংলার লোকসংগীতের আকাশে ভবা পাগলা হয়তো এক আড়ালে থাকা নক্ষত্র, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি করা সুর ও দর্শনের এই অমূল্য সম্পদ চিরকাল আত্মসন্ধানী মানুষকে আলোর পথ দেখাবে। তাঁরই চরণে ভক্তকুলের সুরে সুর মিলিয়ে তাই বলাই বাহুল্য ‘জয় ভবা’।
ভবা পাগলা: সম্পূর্ণ FAQ (১১টি প্রশ্ন ও উত্তর)
প্রশ্ন ১: ভবা পাগলা কে?
উত্তর: ভবা পাগলা (১৯০২-১৯৮৪) ছিলেন বাংলার এক প্রখ্যাত মরমী সাধক, ভাবগীতি ও শ্যামাসঙ্গীত রচয়িতা। তাঁর আসল নাম ভবেন্দ্র মোহন সাহা। তিনি কালী উপাসক ও অসংখ্য ভক্তের আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন। অষ্টম শ্রেণির বেশি পড়াশোনা না করলেও জীবনবোধে তিনি ছিলেন অসাধারণ গভীর। মানুষের মুখে মুখে গান বাঁধা ছিল তাঁর স্বভাব, আর সেই গানের মাধ্যমেই তিনি খুঁজে নিতেন অন্তরের ঈশ্বরকে।
প্রশ্ন ২: তাঁর জন্ম, পারিবারিক পরিচয় ও শিক্ষাজীবন কী ছিল?
উত্তর: তাঁর জন্ম ১৯০২ সালের ১৭ অক্টোবর মানিকগঞ্জ জেলার ধামরাই থানার আমতা গ্রামে। পিতা গজেন্দ্র কুমার সাহা। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন অনন্য। ছোটবেলায় অষ্টম শ্রেণির বেশি পড়াশোনা করেননি। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব তাঁর জীবনবোধ ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানকে কোনোভাবেই সীমাবদ্ধ করেনি।
প্রশ্ন ৩: 'ভবা পাগলা' নামটি কীভাবে এলো?
উত্তর: ভবেন্দ্র মোহন সাহার আসল নাম থাকলেও তিনি 'ভবা পাগলা' নামেই বেশি পরিচিত। তাঁর স্বরচিত গানে তিনি নিজেকে 'ভবা পাগলা' নামে উল্লেখ করেছেন—
"বাঁচন মরণ এই দুই কূল, সমাজ অমর ধাম
সেই সমাজের অধিকারী মুই, ভবা পাগলা মোর নাম"
'পাগলা' শব্দটি এখানে পাগলামি নয়, বরং আধ্যাত্মিক উন্মাদনা ও ঈশ্বরপ্রেমে মত্ত হওয়ার পরিচায়ক।
প্রশ্ন ৪: তাঁর গানের বৈশিষ্ট্য ও বিষয়বস্তু কী?
উত্তর: তাঁর গানে পাওয়া যায়—
- শ্যামা সঙ্গীত (কালীর উদ্দেশে গান)
- ভাবগীতি
- গুরুতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব ও সৃষ্টিতত্ত্ব
- জাতপাত, ভেদাভেদ ও ধর্মীয় সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে সোচ্চারতা
- মানবতা ও অন্তরের পবিত্রতাকে শ্রেষ্ঠ ধর্ম বলেছেন
তিনি নিজেই গান লিখতেন ও সুর দিতেন। 'দূর করে দে মনের ময়লা' বলে তিনি অন্তরের পবিত্রতাকেই শ্রেষ্ঠ ধর্ম ঘোষণা করেছেন।
প্রশ্ন ৫: তাঁর কয়টি গান রয়েছে?
উত্তর: গবেষকদের মতে তাঁর গানের সংখ্যা প্রায় দশ হাজারেরও বেশি। আবার লোকমুখে সংখ্যা শোনা যায় ছিয়াশি হাজার। তবে তিনি প্রচারবিমুখ ছিলেন বলে তাঁর অনেক গান এখনও অপ্রকাশিত বা হারিয়ে গেছে। তাঁর 'ভবার গান জয় ভবা' পর্ব-১-এ ২০টি গানের লিরিক্স রয়েছে।
প্রশ্ন ৬: তাঁর বিখ্যাত গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কী কী?
উত্তর: উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে—
- "মুজিবরে হও অধিষ্ঠান আজি ধরিতে বাংলার হাল"
- "চঞ্চল মন আমার শোনে না কথা"
- "আনন্দে পরমানন্দে মহানন্দে ভাস"
- "আমি মনের মানুষ পেলাম কই"
- "গানই সর্বশ্রেষ্ঠ সাধনা, লাগে না ফুলচন্দন মন্ত্রতন্ত্র"
- "এখনো সেই বৃন্দাবনে বাঁশি বাজে রে"
- "নাচো গো নাচো কালী"
- "যার মা আনন্দময়ী সে কি নিরানন্দে থাকে"
- "ভাব সাগরে ভাবের মানুষ"
প্রশ্ন ৭: তাঁর দর্শনের মূল বক্তব্য কী?
উত্তর: তাঁর দর্শনের মূল বক্তব্য হলো—
- জাতপাত, ধর্মীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে মানবতা
- অন্তরের পবিত্রতাই আসল ধর্ম
- 'পরমে পরম জানিয়া এসেছি হেথায়'—ঈশ্বরের সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক
- ঈশ্বরকে 'চূড়ান্ত চালাক' বলে খোঁচা দেওয়ার মতো নিবিড় ভক্তি
- গানই সর্বশ্রেষ্ঠ সাধনা—যার জন্য লাগে না ফুল, চন্দন বা মন্ত্রতন্ত্র
প্রশ্ন ৮: দেশভাগের পর তাঁর জীবন কেমন ছিল?
উত্তর: ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ভবা পাগলা ভারতে চলে যান এবং পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কালনায় বসবাস শুরু করেন। সেখানেই তিনি তাঁর সাধনা ও গানচর্চা চালিয়ে যান।
প্রশ্ন ৯: তাঁর মৃত্যু কীভাবে হয়?
উত্তর: ১৯৮৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি দেহত্যাগ করেন। তাঁর নামে একটি মন্দির রয়েছে এবং তাঁর ভক্তরা 'জয় ভবা' বলে তাঁকে স্মরণ করেন।
প্রশ্ন ১০: বাংলা সঙ্গীত ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান কী?
উত্তর: বাংলার সহজিয়া দর্শন ও লোকসংগীতের অমূল্য সম্পদ হিসেবে তিনি বিবেচিত। তিনি তাঁর গানে—
- শাস্ত্রীয় ও লোকধর্মের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন
- সমাজের জাতিভেদ প্রথাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন
- আধ্যাত্মিকতা ও মানবতাবাদের বার্তা ছড়িয়েছেন
- প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব সত্ত্বেও তিনি জীবনদর্শনে ছিলেন অত্যন্ত গভীর।
প্রশ্ন ১১: বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা কী?
উত্তর: বর্তমান যান্ত্রিক ও বিভক্তির যুগে ভবা পাগলার গান আত্মসন্ধান ও মানবতার পথ দেখায়। তাঁর বার্তা—
- ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে সবাই মানুষ
- অন্তরের ময়লা দূর করাই আসল সাধনা
- প্রচারবিমুখ এই সাধক আমাদের শেখান আত্মপ্রচার নয়, আত্মউন্নয়নই বড় কথা
- বাংলার লোকসংগীতের আকাশে ভবা পাগলা হয়তো এক আড়ালে থাকা নক্ষত্র, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি করা সুর ও দর্শন চিরকাল আত্মসন্ধানী মানুষকে আলোর পথ দেখাবে।
শেষকথা: ভবা পাগলা শুধু একজন সাধক ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলার সহজিয়া দর্শনের এক জীবন্ত ইশতেহার। অল্প শিক্ষায় তিনি যে গভীর জীবনবোধ লাভ করেছিলেন, তা আজও লক্ষ লক্ষ মানুষকে পথ দেখায়। তাঁর গানে ঈশ্বরের প্রতি এক নিবিড় ভক্তি ও আপন অধিকারের প্রকাশ ঘটেছে, যা বিরল। আমাদের সকলের প্রতি তাঁর বাণী—"দূর করে দে মনের ময়লা"—আজও সমান প্রাসঙ্গিক।

.jpg)