ফুটবলকে বলা হয় সুন্দর খেলা (The Beautiful Game)। আর এই সুন্দর খেলার ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত কিছু দল এবং কিছু চরিত্র আছে যারা ট্রফি বা মেডেলের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে। সাধারণত ইতিহাস মনে রাখে শুধু বিজয়ীদের। রানার্স-আপদের নাম ধুলোবালি জমে একসময় হারিয়ে যায় মহাকালের গর্ভে।
কিন্তু ফুটবল ইতিহাসে এমন একটি ব্যতিক্রমী দল আছে যারা ফাইনালে হেরে গিয়েও বিজয়ী দলের চেয়ে বেশি অমরত্ব লাভ করেছে। তারা আর কেউ নয় কমলা জার্সিধারী নেদারল্যান্ডস জাতীয় ফুটবল দল, সংক্ষেপে যাদের আমরা 'অরেঞ্জ' বা 'ডাচ' বাহিনী বলে চিনি। ফুটবল দুনিয়ায় এই ডাচ দলটিকে শ্রদ্ধাভরে ডাকা হয় "আনক্রাউনড কিং" (Uncrowned King) বা "মুকুটহীন সম্রাট"।
তিন-তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে না পারার যে চিরন্তন আক্ষেপ তা ডাচ ফুটবলের সমার্থক হয়ে গেছে। কিন্তু কেন তারা ট্রফি না জিতেও ফুটবলের রাজা? কী এমন গল্প লুকিয়ে আছে অরেঞ্জদের এই রাজকীয় আক্ষেপের পেছনে? চলুন আজ ফিরে যাওয়া যাক ইতিহাসের সেই রোমাঞ্চকর অধ্যায়ে। সাথে থাকছে কুইজ।
ডাচ ফুটবলের উত্থান ও এক জাদুকরের আগমন
১৯৭০-এর দশকের আগে নেদারল্যান্ডসের ফুটবল বিশ্বমঞ্চে খুব একটা সমীহ জাগানিয়া নাম ছিল না। তারা ছিল ইউরোপের আর দশটা সাধারণ দলের মতোই। কিন্তু ডাচ ক্লাব আয়াক্স (Ajax) এবং রেনাস মিশেলস (Rinus Michels) নামের এক দূরদর্শী কোচের হাত ধরে নেদারল্যান্ডসে ফুটবল বিপ্লবের বীজ বপন করা হয়।
আর সেই বীজের সবচেয়ে সুন্দর ফুলটি ছিলেন হেন্ড্রিক জোহানেস ক্রুইফ যাকে ইয়োহান ক্রুইফ (Johan Cruyff) নামে চিনি। ক্রুইফ শুধু একজন ফুটবলার ছিলেন না, তিনি ছিলেন মাঠের ভেতর একজন স্থপতি, একজন দাবাড়ু এবং একজন অর্কেস্ট্রা পরিচালক।
রোগা-পাতলা গড়ন, কিন্তু চিতার মতো গতি আর কম্পিউটারের চেয়েও ধারালো মস্তিস্ক নিয়ে তিনি যখন মাঠে নামতেন, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের জন্য তা হতো এক দুঃস্বপ্ন। ১৯৭১, ১৯৭৩ এবং ১৯৭৪ সালে তিনবার ব্যালন ডি'অর জিতে তিনি ততদিনে প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে তিনিই বিশ্বসেরা।
টোটাল ফুটবল: মাঠের ক্যানভাসে এক নতুন শিল্প
১৯৭৪ সালের পশ্চিম জার্মানি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস যখন খেলতে আসে, তখন তারা শুধু একটি দল হিসেবে আসেনি, তারা এসেছিল ফুটবলের এক নতুন দর্শন নিয়ে। সেই দর্শনের নাম "টোটাল ফুটবল" (Total Football)।
এর আগে ফুটবলে পজিশন ছিল নির্দিষ্ট। একজন ডিফেন্ডার শুধু রক্ষণ সামলাবেন, স্ট্রাইকার শুধু গোল করবেন। কিন্তু রেনাস মিশেলসের মস্তিস্কপ্রসূত এবং ক্রুইফের মাঠে বাস্তবায়িত টোটাল ফুটবল এই চেনা ছককে ভেঙে চুরমার করে দেয়। এই সিস্টেমে মাঠের পজিশন ছিল তরল (Fluid)।
- রাইট ব্যাক যখন আক্রমণে উঠে যেতেন, তখন উইঙ্গার নেমে আসতেন রাইট ব্যাকের পজিশনে।
- মিডফিল্ডার চলে যেতেন স্ট্রাইকারের জায়গায়।
- গোলরক্ষক খেলতেন একজন 'সুইপার-কিপার' হিসেবে, যিনি ডি-বক্সের বাইরে এসেও বল ক্লিয়ার করতেন।
মাঠের এই ছন্দবদ্ধ ঘূর্ণন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের মাথা ঘুরিয়ে দিত। কাকে মার্ক করবেন, আর কাকে ছেড়ে দেবেন সেটা বুঝতেই প্রতিপক্ষের ৯০ মিনিট পার হয়ে যেত। আর এই টোটাল ফুটবলের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন ইয়োহান ক্রুইফ।
তিনি কাগজে-কলমে ফরোয়ার্ড হলেও, তাকে দেখা যেত কখনো একদম নিচে এসে ডিফেন্স থেকে বল কেড়ে নিচ্ছেন, আবার চোখের পলকে বল নিয়ে উইং দিয়ে বক্সে ঢুকে যাচ্ছেন। তিনি মাঠে সতীর্থদের হাত ইশারায় দেখিয়ে দিতেন কাকে কোথায় পজিশন নিতে হবে।
১৯৭৪ বিশ্বকাপের সেই রূপকথা ও বিখ্যাত 'ক্রুইফ টার্ন'
১৯৭৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস যেন এক অপ্রতিরোধ্য ঝড়। প্রথম পর্বে উরুগুয়েকে ২-০ গোলে হারানো, সুইডেনের সাথে ড্র এবং বুলগেরিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা জানান দেয়—তারা এখানে শুধু অংশ নিতে আসেনি, বিশ্ব জয় করতে এসেছে।
দ্বিতীয় পর্বে ডাচদের ফুটবলশৈলী রূপ নেয় শিল্পে। তারা কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল সমতুল্য গ্রুপ পর্বে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী দুই দল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে স্রেফ ধ্বংস করে দেয়। আর্জেন্টিনাকে ৪-০ গোলে এবং তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পীবন ব্রাজিলকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ডাচরা।
এই বিশ্বকাপেরই একটি ম্যাচ চিরস্মরণীয় হয়ে আছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্য। সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে ডিফেন্ডার জান ওলসন যখন ক্রুইফকে শক্ত পাহাড়ে আটকে রেখেছিলেন, তখন ক্রুইফ বলটি নিজের পেছনের পা দিয়ে টেনে শরীরটাকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে সেকেন্ডের ভগ্নাংশে ওলসনকে বোকা বানিয়ে বেরিয়ে যান। football বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে দেখেছিল সেই জাদু। আজ বিশ্বজুড়ে এই ড্রিবলিং ড্র্যাগটি "Cruyff Turn" (ক্রুইফ টার্ন) নামে পরিচিত।
মিউনিখের সেই ফাইনাল: যখন ট্রফি হারাল রোমান্টিকতা
৭ জুলাই, ১৯৭৪। মিউনিখের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ফাইনাল মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নেদারল্যান্ডস এবং স্বাগতিক পশ্চিম জার্মানি। জার্মানি দলে তখন ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ার এবং জার্ড মুলারের মতো কিংবদন্তিরা।
খেলা শুরু হওয়ার পর জার্মানির কোনো খেলোয়াড় বল স্পর্শ করার আগেই ডাচরা নিজেদের মধ্যে ১৭টি পাস খেলে। বল পান ক্রুইফ, তিনি বিদ্যুতগতিতে জার্মানির বক্সে ঢুকে পড়লে তাকে ফাউল করা হয়। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই পেনাল্টি পায় নেদারল্যান্ডস। জোহান নেসকেন্স গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।
সবাই ভেবেছিল জার্মানি খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে। কিন্তু জার্মানদের কখনো অবহেলা করতে নেই। তারা ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে। ম্যাচের ২৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে পল ব্রেইটনার গোল করে সমতা আনেন। আর ৪৩ মিনিটে "ডাই বোম্বার" খ্যাত জার্ড মুলার এক টার্নিং শটে জার্মানিকে ২-১ গোলে এগিয়ে নেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ডাচরা একের পর এক আক্রমণ করেও জার্মান গোলরক্ষক সেপ মেয়ারের দেয়াল ভাঙতে পারেনি। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় পশ্চিম জার্মানি। আর মাঠের মাঝে দাঁড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন ক্রুইফ। ট্রফিটা হাতছোঁয়া দূরত্বে এসেও হারিয়ে যায়, জন্ম হয় এক চিরকালীন আক্ষেপের।
আক্ষেপের পুনরাবৃত্তি: ১৯৭৮ এবং ২০১০
নেদারল্যান্ডসের এই আক্ষেপ শুধু ১৯৭৪ সালেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। চার বছর পর, ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে ক্রুইফ ছাড়াই ডাচরা আবার ফাইনালে ওঠে। এবার স্বাগতিক আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয় তারা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হেরে আবারও রানার্স-আপ হয়ে মাঠ ছাড়ে অরেঞ্জরা। এরপর দীর্ঘ ৩২ বছরের অপেক্ষা শেষে ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে আবার ফাইনালে ওঠে নেদারল্যান্ডস।
আরিয়েন রবেন, ওয়েসলি স্নেইডারদের সেই দলটির সামনে ছিল প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের ১১৬ মিনিটে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই মহাকাব্যিক গোল ডাচদের হৃদয় আরও একবার ভেঙে চুরমার করে দেয়। তিনবার ফাইনালে উঠেও শূন্য হাতে ফেরা ফুটবল ইতিহাসে এমন ট্র্যাজিক গল্প আর দ্বিতীয়টি নেই।
রেনেসাঁ এবং রুড গুলিতের সেই ‘সোনালী প্রজন্ম’ (১৯৮৮)
৭৪ আর ৭৮-এর টানা দুটি ফাইনাল হারার পর ডাচ ফুটবলে যখন কিছুটা স্থবিরতা চলে আসে, তখনই আশির দশকের শেষে আবির্ভাব ঘটে নেদারল্যান্ডসের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ বা সোনালী প্রজন্মের। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন ফুটবল মাঠের এক ডাইনামিক এবং স্টাইলিশ মহাতারকারুড গুলিত (Ruud Gullit)।
মাথায় তাঁর আইকনিক ‘ড্রেডলকস’ চুলের স্টাইল আর মাঠে চিতার মতো ক্ষিপ্রতা নিয়ে গুলিত একাই প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দিতেন। তাঁর সাথে এই সোনালী প্রজন্মে যোগ দিয়েছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার মার্কো ভ্যান বাস্তেন (Marco van Basten) এবং মিডফিল্ড জেনারেল ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড। ১৯৮৮ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে এই ত্রয়ী ডাচ ফুটবলকে এনে দেন তাদের ইতিহাসের প্রথম এবং একমাত্র আন্তর্জাতিক ট্রফি।
ফাইনালে সোভিয়েত ইউনিয়নকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় নেদারল্যান্ডস, যার প্রথম গোলটি করেছিলেন অধিনায়ক গুলিত নিজেই আর দ্বিতীয় গোলটি ছিল ভ্যান বাস্তেনের ফুটবল ইতিহাসের সেই অবিশ্বাস্য ‘অসম্ভব কোণের’ ভলি। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হলো, ইউরোর এই রাজকীয় দলটিও পরবর্তী বিশ্বকাপগুলোতে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি।
রবেন-ভ্যান পার্সির ‘আধুনিক গোল্ডেন জেনারেশন’ ও ২০১০-২০১৪ এর গল্প
একবিংশ শতাব্দীতে এসে ডাচ ফুটবল আরও একটি অবিশ্বাস্য সোনালী প্রজন্মের জন্ম দেয়। এই প্রজন্মের কাণ্ডারি ছিলেন গতিদানব আরিয়েন রবেন (Arjen Robben), ‘ফ্লাইং ডাচম্যান’ খ্যাত রবিন ভ্যান পার্সি (Robin van Persie) এবং মিডফিল্ডের মস্তিস্ক ওয়েসলি স্নেইডার।
২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে এই দলটির সামনে ছিল প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের ১১৬ মিনিটে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই মহাকাব্যিক গোল ডাচদের হৃদয় আরও একবার ভেঙে চুরমার করে দেয়। ম্যাচের মাঝপথে আরিয়েন রবেনের সেই ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশন থেকে গোল মিসের আক্ষেপ ডাচ সমর্থকরা হয়তো কোনোদিন ভুলতে পারবে না।
এরপর ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে এই জেনারেশনই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেনকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছিল, যেখানে ভ্যান পার্সির সেই বিখ্যাত ডাইভিং হেডের গোলটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দৃশ্য হয়ে আছে। কিন্তু সেবারও সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের। তিন-তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও শূন্য হাতে ফেরা ফুটবল ইতিহাসে অরেঞ্জদের চেয়ে বড় ট্র্যাজিক হিরো আর কেউ নেই।
কেন তারা মুকুটহীন সম্রাট
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের শোকেসে হয়তো সেই বিশ্বকাপের ট্রফিটা নেদারল্যান্ডসের নামে লেখা নেই, কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ের শোকেসে সেই ট্রফি ক্রুইফদেরই। কেন তাদের মুকুটহীন সম্রাট বলা হয়? কারণ, তারা ফুটবলকে আধুনিক যুগে প্রবেশ করিয়েছিল।
১৯৭৪ সালের ডাচ দলটি প্রমাণ করেছিল যে, ফুটবল শুধু জেতার খেলা নয়, ফুটবল হলো বিনোদন ও শিল্পের সর্বোচ্চ প্রকাশ। ফাইনালজয়ী পশ্চিম জার্মানির অধিনায়ক ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ার নিজেই পরবর্তীতে স্বীকার করেছিলেন "জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু নেদারল্যান্ডস খেলেছিল সেই সময়ের চেয়ে সেরা ফুটবল।"
ক্রুইফ নিজে একবার বলেছিলেন, "ফুটবল খেলাটা খুব সহজ, কিন্তু সহজ ফুটবল খেলাটাই পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ।" তিনি সেই কঠিন কাজটিই সহজ করে দেখিয়েছিলেন। ট্রফি না জিতেও একটি দল কীভাবে পুরো ফুটবল বিশ্বের চিন্তাধারা বদলে দিতে পারে, তার একমাত্র উদাহরণ নেদারল্যান্ডস। আর এই কারণেই তারা ফুটবলের চিরন্তন "Uncrowned King"।
কুইজ টাইম: আপনি নেদারল্যান্ডসের ফুটবল সম্পর্কে কতটা জানেন
💡 কুইজটি খেলার আগে জেনে নিন:
- এখানে নেদারল্যান্ডস ফুটবল নিয়ে মোট ১০টি বহুনির্বাচনী (MCQ) প্রশ্ন রয়েছে।
- প্রতিটি প্রশ্নের ৪টি করে অপশন থাকবে।
- সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করার সাথে সাথেই আপনি আপনার স্কোর দেখতে পাবেন।
- সবার জন্য শুভকামনা।
নেদারল্যান্ডস ফুটবল কুইজ | টোটাল ফুটবল
🏆 আপনার স্কোর
০ / ১০
ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে ডাচদের এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে, ডেল স্টেজ বা ট্রফি কেস সবসময় শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। ইয়োহান ক্রুইফের সেই বৈপ্লবিক মস্তিস্ক, রেনাস মিশেলসের 'টোটাল ফুটবল', রুড গুলিতের সোনালী প্রজন্ম কিংবা রবেন-ভ্যান পার্সির আধুনিক রূপকথা নেদারল্যান্ডস প্রতি যুগে ফুটবলকে কেবল ট্রফি জেতার যান্ত্রিক খেলা হিসেবে দেখেনি।
একে রূপ দিয়েছে এক নান্দনিক শিল্পে। তিনবার ফাইনালে উঠেও ট্রফি ছুঁতে না পারার আক্ষেপ হয়তো ডাচ ফুটবলকে আজীবন তাড়া করে বেড়াবে, কিন্তু বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল রোমান্টিকদের হৃদয়ে তারা চিরকাল রাজত্ব করবে একটি অনন্য পরিচয়ে ফুটবলের একমাত্র এবং অদ্বিতীয় ‘Uncrowned King’ বা ‘মুকুটহীন সম্রাট’।
