স্টিভ বাকনর ও ডেভিড শেফার্ড: ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি আম্পায়ার

বাউল পানকৌড়ি
ক্রিকেটের মাঠে ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে আসা একটি শট, বোলারের নিখুঁত ডেলিভারি কিংবা ফিল্ডারের অবিশ্বাস্য ক্যাচ দর্শকদের মুহূর্তেই আনন্দে ভাসিয়ে দিতে পারে। কিন্তু এসব ঘটনার মধ্যে কোনটি আউট, কোনটি বৈধ ডেলিভারি আর কোনটি নিয়মবহির্ভূত- সেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব থাকে আম্পায়ারের ওপর। ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন কিছু আম্পায়ার রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব ও দীর্ঘ কর্মজীবনের মাধ্যমে খেলাটির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুজন হলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্টিভ বাকনর এবং ইংল্যান্ডের ডেভিড শেফার্ড।

একজন ছিলেন ধীরস্থির সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পরিচিত, অন্যজন ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব ও ১১১ রানের বিশেষ অভ্যাসের কারণে দর্শকদের প্রিয় মুখ। স্টিভ বাকনর ও ডেভিড শেফার্ড শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করেননি, নিজেদের কাজের মধ্য দিয়ে আম্পায়ারিং পেশার মর্যাদাও বাড়িয়েছেন। বিশ্বকাপের ফাইনাল থেকে শুরু করে উত্তেজনাপূর্ণ টেস্ট ম্যাচ-ক্রিকেটের নানা স্মরণীয় মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁদের নাম। এই নিবন্ধে ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি আম্পায়ারের জন্ম, শৈশব, কর্মজীবন, উল্লেখযোগ্য অর্জন, ব্যক্তিত্ব এবং বিশ্ব ক্রিকেটে তাঁদের অবদান তুলে ধরা হলো।

ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি আম্পায়ার স্টিভ বাকনর ও ডেভিড শেফার্ডের প্রতিকৃতি

স্টিভ বাকনর ও ডেভিড শেফার্ড: এক নজরে

স্টিভ বাকনর ও ডেভিড শেফার্ড- দুজনই দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। তবে ম্যাচের সংখ্যা, বিশ্বকাপ ফাইনালে দায়িত্ব পালন এবং ব্যক্তিগত পরিচিতির দিক থেকে তাঁদের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। জন্ম থেকে অবসর পর্যন্ত দুজনের প্রধান তথ্য এক নজরে দেখে নিন টেবিল থেকে।
তুলনার বিষয় স্টিভ বাকনর ডেভিড শেফার্ড
পূর্ণ নাম স্টিফেন অ্যান্থনি বাকনর ডেভিড রবার্ট শেফার্ড
জন্মতারিখ ৩১ মে ১৯৪৬ ২৭ ডিসেম্বর ১৯৪০
জন্মস্থান মন্টেগো বে, জ্যামাইকা বিডিফোর্ড, ডেভন, ইংল্যান্ড
টেস্ট ম্যাচে আম্পায়ারিং ১২৮টি ৯২টি
ওয়ানডেতে আম্পায়ারিং ১৮১টি ১৭২টি
বিশ্বকাপ ফাইনালে দায়িত্ব ৫টি, ১৯৯২–২০০৭ ৩টি, ১৯৯৬–২০০৩
আন্ত: আম্পায়ারিংয়ের সমাপ্তি ২০০৯ ২০০৫
বিশেষ পরিচিতি টানা ৫ বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনা নেলসন স্কোরে এক পায়ে লাফানোর অভ্যাস

📱 সম্পূর্ণ টেবিলটি দেখতে ডানে-বামে স্ক্রল করুন।

তথ্যসংক্রান্ত নোট: আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরিসংখ্যান ও বিশ্বকাপ ফাইনালের তথ্য ICC-এর প্রকাশিত জীবনী ও অবসরসংক্রান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অবসরের আগে ও পরে ম্যাচের সংখ্যা উল্লেখ করার ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকতে পারে। এখানে তাঁদের চূড়ান্ত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের স্বীকৃত মোট সংখ্যা ব্যবহার করা হয়েছে।

স্টিভ বাকনর: ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি আম্পায়ার

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন

স্টিভ বাকনরের পুরো নাম স্টিফেন অ্যান্থনি বাকনর (Stephen Anthony Bucknor)। তিনি ১৯৪৬ সালের ৩১ মে জ্যামাইকার মন্টেগো বে-তে জন্মগ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিতি পাওয়ার আগে তিনি শিক্ষকতা করতেন। গণিতের শিক্ষক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ফুটবলের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি ফুটবল রেফারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ক্রিকেট ও ফুটবল- দুটি খেলাতেই নিয়ম, পর্যবেক্ষণ এবং চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয়। বাকনরের ক্রীড়াঙ্গনের অভিজ্ঞতা তাঁর আম্পায়ারিং জীবনে সহায়ক হয়েছিল বলে বিবেচনা করা যায়। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর দীর্ঘ সাফল্যের প্রধান ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা, মনোযোগ এবং মাঠের পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা।

আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিংয়ে যাত্রা

স্টিভ বাকনর ১৯৮৯ সালের ১৮ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের মধ্যকার একটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিংয়ে অভিষিক্ত হন। একই বছরের ২৮ এপ্রিল জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচে তাঁর টেস্ট আম্পায়ারিংয়ের অভিষেক ঘটে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবেশের পর দ্রুতই তিনি নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন। দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে তিনি বিশ্বের অন্যতম অভিজ্ঞ আম্পায়ারে পরিণত হন। তাঁর কর্মজীবনে ছিল অসংখ্য টেস্ট ম্যাচ, একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতা।

বাকনরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর একটি হলো টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর দীর্ঘ আম্পায়ারিং ক্যারিয়ার। তিনি ১২৮টি টেস্ট ম্যাচ পরিচালনা করেন। দীর্ঘদিন এই সংখ্যা টেস্ট আম্পায়ারদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ১৮১টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন।

টানা পাঁচটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দায়িত্ব

বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনা করা যেকোনো আম্পায়ারের জন্য বড় সম্মানের বিষয়। ম্যাচের গুরুত্ব, খেলোয়াড়দের ওপর চাপ এবং কোটি দর্শকের প্রত্যাশা-সবকিছু মিলিয়ে এই দায়িত্ব অত্যন্ত কঠিন। স্টিভ বাকনর এই পরীক্ষায় অসাধারণ ধারাবাহিকতার পরিচয় দেন। ১৯৯২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচটি পুরুষদের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে তিনি আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্বকাপের ফাইনালে এমন ধারাবাহিক উপস্থিতি তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বীকৃতির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

১৯৯২, ১৯৯৬, ১৯৯৯, ২০০৩ ও ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি ক্রিকেটের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেন। এসব ম্যাচে দায়িত্ব পাওয়ার অর্থ ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ওপর আস্থা রাখা হয়েছিল।

আম্পায়ারিংয়ের ধরন ও ব্যক্তিত্ব

স্টিভ বাকনরকে অনেকেই তাঁর ধীরস্থির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন দিয়ে মনে রাখেন। মাঠে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে তাঁর সংযত আচরণ এবং অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর অভ্যাস তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছিল। এ কারণে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তাঁর একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি হয়। একজন আম্পায়ারের কাজ শুধু আউট বা নট আউট ঘোষণা করা নয়। খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ন্ত্রণ, ম্যাচের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা, নিয়ম প্রয়োগ এবং চাপের মধ্যে নিরপেক্ষ থাকা- সবই এই দায়িত্বের অংশ। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বাকনর এসব দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাঁর কর্মজীবনে কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ২০০৮ সালের সিডনি টেস্টে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ম্যাচে কয়েকটি আম্পায়ারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল। ঘটনাটি ক্রিকেটে আম্পায়ারিংয়ের চাপ, সিদ্ধান্তের গুরুত্ব এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করে। তবে কোনো দীর্ঘ কর্মজীবনকে কেবল বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দিয়ে মূল্যায়ন করা যথাযথ নয়। বাকনরের ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, বিশ্বকাপের ফাইনালে ধারাবাহিক দায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবদানও সমানভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

স্টিভ বাকনরের অবসর

২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিং থেকে অবসর নেন স্টিভ বাকনর। দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার কেপটাউনের টেস্ট ম্যাচটি ছিল তাঁর শেষ টেস্ট দায়িত্ব। একই বছরের মার্চে আন্তর্জাতিক আম্পায়ার হিসেবে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের সমাপ্তি ঘটে। অবসরের সময় তিনি ক্রিকেটবিশ্বে একজন অভিজ্ঞ ও সুপরিচিত আম্পায়ার হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন। তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার প্রমাণ করে, একজন আম্পায়ারের সাফল্য শুধু ম্যাচের সংখ্যা দিয়ে নয়, দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সামর্থ্য দিয়েও বিচার করা হয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেট আম্পায়ার স্টিভ বাকনর

ডেভিড শেফার্ড: ক্রিকেটের মাঠে হাস্যোজ্জ্বল কিংবদন্তি

জন্ম ও ক্রিকেটার হিসেবে পথচলা

ডেভিড শেফার্ডের পুরো নাম ডেভিড রবার্ট শেফার্ড (David Robert Shepherd)। তিনি ১৯৪০ সালের ২৭ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের ডেভন অঞ্চলের বিডিফোর্ডে জন্মগ্রহণ করেন। ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শুরু হয়েছিল একজন খেলোয়াড় হিসেবে। তিনি ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারশায়ার কাউন্টি দলের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন।

১৯৬৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ক্যারিয়ার বিস্তৃত ছিল। এই সময়ে তিনি ২৮২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে অংশ নিয়ে ১০ হাজারের বেশি রান সংগ্রহ করেন। তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মোট রান ছিল ১০,৬৭২। একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জনের পর তিনি আম্পায়ারিংয়ের পথে এগিয়ে যান। খেলোয়াড় হিসেবে ক্রিকেটের নিয়ম, কৌশল এবং মাঠের চাপ সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ছিল। পরবর্তী সময়ে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় এই অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছিল বলে মনে করা যায়।

আন্তর্জাতিক আম্পায়ার হিসেবে উত্থান

ডেভিড শেফার্ড ১৯৮১ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আম্পায়ারিং শুরু করেন। এরপর ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পান। ১৯৮৫ সালে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টেস্ট ম্যাচে তাঁর টেস্ট আম্পায়ারিংয়ের অভিষেক ঘটে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের কারণে তিনি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে তিনি বিশ্বের অন্যতম পরিচিত আম্পায়ারে পরিণত হন।

তাঁর আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারে ছিল ৯২টি টেস্ট এবং ১৭২টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিং থেকে অবসর নেওয়ার সময় তিনি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ার হিসেবে সর্বাধিক ম্যাচ পরিচালনার রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন।

তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দায়িত্ব পালন

ডেভিড শেফার্ডের কর্মজীবনের অন্যতম বড় অর্জন হলো তিনটি পুরুষদের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন। ১৯৯৬, ১৯৯৯ ও ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে তিনি মাঠের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পাওয়া তাঁর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি। ক্রিকেটার, দর্শক এবং অন্য আম্পায়ারদের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তার পেছনে ছিল নিয়ম সম্পর্কে জ্ঞান, মাঠের পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা এবং হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব।

১১১ রানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিখ্যাত অভ্যাস

ক্রিকেটের ইতিহাসে ডেভিড শেফার্ডকে সবচেয়ে বেশি মনে করা হয় তাঁর একটি মজার অভ্যাসের জন্য। স্কোরবোর্ডে কোনো দলের রান ১১১, ২২২, ৩৩৩ কিংবা ১১১-এর অন্য কোনো গুণিতকে পৌঁছালে তিনি এক পায়ে লাফানোর মতো বিশেষ ভঙ্গি করতেন। ক্রিকেটে ১১১ রানকে ‘নেলসন’ বলা হয়। ইংরেজ ক্রিকেট সংস্কৃতিতে নেলসনকে দীর্ঘদিন ধরে একটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন বা অশুভ সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। শেফার্ড এই বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নিজের বিশেষ অভ্যাসের মাধ্যমে ক্রিকেটের মাঠে একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন।

ধরা যাক, কোনো দলের স্কোর ১১১। তখন অনেক দর্শকের চোখ শুধু ব্যাটসম্যান বা বোলারের দিকে থাকত না; তাঁরা অপেক্ষা করতেন শেফার্ডের সেই পরিচিত ভঙ্গি দেখার জন্য। স্কোর ২২২ বা ৩৩৩ হলেও একই রকম আগ্রহ তৈরি হতো। তাঁর এই অভ্যাস ক্রিকেটের উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশে বাড়তি আনন্দ যোগ করত। অবশ্য এই আচরণকে ক্রিকেটের কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়ম হিসেবে দেখা যাবে না। এটি ছিল তাঁর ব্যক্তিগত অভ্যাস ও ক্রিকেটীয় কুসংস্কারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি পরিচিত দৃশ্য। এই বিশেষত্বের কারণেই তিনি শুধু একজন আম্পায়ার নন, ক্রিকেটের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক চরিত্রেও পরিণত হয়েছিলেন।

কেন এত জনপ্রিয় ছিলেন ডেভিড শেফার্ড?

শেফার্ডের জনপ্রিয়তার পেছনে তাঁর আম্পায়ারিং দক্ষতার পাশাপাশি ব্যক্তিত্বের বড় ভূমিকা ছিল। মাঠে তিনি সাধারণত হাস্যোজ্জ্বল থাকতেন এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন। তাঁর আচরণে পেশাদারিত্বের পাশাপাশি আন্তরিকতার প্রকাশ দেখা যেত। একজন আম্পায়ারের জন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই সম্পর্কের কারণে সিদ্ধান্তে পক্ষপাতিত্ব করা চলে না। শেফার্ডের পরিচিতি গড়ে উঠেছিল তাঁর নিরপেক্ষতা, ম্যাচ পরিচালনার দক্ষতা এবং খেলোয়াড়দের কাছ থেকে অর্জিত সম্মানের ভিত্তিতে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত স্মরণবার্তায় তাঁকে ক্রিকেটের একজন অসাধারণ আম্পায়ার ও প্রকৃত ভদ্রলোক হিসেবে স্মরণ করে। তাঁর সহকর্মীদের কাছেও তিনি ছিলেন শ্রদ্ধার পাত্র।

ডেভিড শেফার্ডের অবসর ও মৃত্যু

২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিং থেকে অবসর নেন ডেভিড শেফার্ড। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ওভালে অনুষ্ঠিত একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচটি ছিল তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক দায়িত্ব। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সমাপ্তিতে ক্রিকেটার ও দর্শকদের কাছ থেকে তিনি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা পেয়েছিলেন। ২০০৯ সালের ২৭ অক্টোবর, ৬৮ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ক্রিকেটবিশ্বে শোকের ছায়া ফেলে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বহু খেলোয়াড়, কর্মকর্তা এবং সহকর্মী তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

ডেভিড শেফার্ডের মৃত্যু হলেও ক্রিকেটের মাঠে তাঁর স্মৃতি আজও বেঁচে আছে। বিশেষ করে স্কোরবোর্ডে ১১১, ২২২ কিংবা ৩৩৩ রান দেখা গেলে তাঁর বিখ্যাত এক পায়ে লাফানোর অভ্যাসের কথা ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে পড়ে যায়।

ক্রিকেটের মাঠে হাস্যোজ্জ্বল ইংলিশ আম্পায়ার ডেভিড শেফার্ড

আম্পায়ারিংয়ের চাপ ও সিদ্ধান্তের গুরুত্ব

ক্রিকেটের আম্পায়ারিং এমন একটি দায়িত্ব, যেখানে একটি সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। ব্যাটসম্যানের আউট হওয়া, বোলারের নো-বল, লেগ বিফোর উইকেট বা ক্যাচের সিদ্ধান্ত- প্রতিটি ক্ষেত্রেই আম্পায়ারকে দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এই দায়িত্ব পালন করতে হলে প্রয়োজন মনোযোগ, অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা। স্টিভ বাকনর ও ডেভিড শেফার্ডের ক্যারিয়ার এই দায়িত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। বাকনর ছিলেন দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও বিশ্বকাপ ফাইনালে ধারাবাহিক দায়িত্ব পালনের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে শেফার্ড দক্ষতার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিত্ব ও দর্শকদের সঙ্গে তৈরি হওয়া বিশেষ সংযোগের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন।

তাঁদের সময়ের ক্রিকেটে আজকের মতো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার সর্বত্র ছিল না। আধুনিক ক্রিকেটে টেলিভিশন রিপ্লে, বল ট্র্যাকিং এবং সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা পদ্ধতি আম্পায়ারদের সহায়তা করে। কিন্তু প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও মাঠে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং খেলাটির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষেত্রে আম্পায়ারের ভূমিকা অপরিহার্য। এই দুই কিংবদন্তির কর্মজীবন থেকে বোঝা যায়, আম্পায়ারিং শুধু নিয়ম প্রয়োগের কাজ নয়; এটি অভিজ্ঞতা, দায়িত্ববোধ এবং ক্রিকেটের প্রতি গভীর অনুরাগেরও পরিচয়।

ক্রিকেটবিশ্বে তাঁদের উত্তরাধিকার

স্টিভ বাকনর ও ডেভিড শেফার্ডের কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা। বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করতে হলে একজন আম্পায়ারের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ওপর আস্থা থাকা প্রয়োজন। তাঁদের দুজনের ক্যারিয়ারেই এই আস্থার প্রতিফলন দেখা যায়। বাকনর দেখিয়েছেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা একজন আম্পায়ারকে ক্রিকেটের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দিতে পারে। পাঁচটি টানা বিশ্বকাপ ফাইনালে দায়িত্ব পালন তাঁর কর্মজীবনের অনন্য অধ্যায়। 

অন্যদিকে শেফার্ড প্রমাণ করেছেন, দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক আচরণ ও ব্যক্তিত্বও একজন ক্রীড়া কর্মকর্তাকে মানুষের মনে স্থায়ী জায়গা করে দিতে পারে। তাঁদের উত্তরাধিকার শুধু ম্যাচের সংখ্যা বা রেকর্ডে সীমাবদ্ধ নয়। ক্রিকেটের মাঠে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব, খেলোয়াড়দের সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক এবং দর্শকদের সঙ্গে খেলার আবেগ ভাগ করে নেওয়ার বিষয়গুলোও তাঁদের স্মরণীয় করে রেখেছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় অধ্যায়, ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচেও আম্পায়ারের দায়িত্বে ছিলেন এই দুই কিংবদন্তি।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. স্টিভ বাকনর কে ছিলেন?
স্টিভ বাকনর ছিলেন জ্যামাইকার একজন কিংবদন্তি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আম্পায়ার। তিনি ১২৮টি টেস্ট ও ১৮১টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করেন এবং ১৯৯২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচটি পুরুষদের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে দায়িত্ব পালন করেন।
২. স্টিভ বাকনর কত সালে আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিং শুরু করেন?
তিনি ১৯৮৯ সালের ১৮ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের মধ্যকার একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিং শুরু করেন। একই বছরের এপ্রিলে তাঁর টেস্ট আম্পায়ারিংয়ের অভিষেক ঘটে।
৩. স্টিভ বাকনর কতটি টেস্ট ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন?
স্টিভ বাকনর তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মোট ১২৮টি টেস্ট ম্যাচে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
৪. ডেভিড শেফার্ড কে ছিলেন?
ডেভিড শেফার্ড ছিলেন ইংল্যান্ডের একজন বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আম্পায়ার। আম্পায়ার হওয়ার আগে তিনি গ্লুচেস্টারশায়ারের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছিলেন। দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন।
৫. ডেভিড শেফার্ড কেন এক পায়ে লাফাতেন?
ক্রিকেটের প্রচলিত কুসংস্কারে ১১১ রানকে ‘নেলসন’ বলা হয়। শেফার্ডের ব্যক্তিগত অভ্যাস ছিল কোনো দলের স্কোর ১১১ বা এর গুণিতকে পৌঁছালে এক পায়ে লাফানো। এই অভ্যাস তাঁকে ক্রিকেটের অন্যতম পরিচিত ও জনপ্রিয় আম্পায়ারে পরিণত করে।
৬. ডেভিড শেফার্ড কতটি টেস্ট ও ওয়ানডে ম্যাচ পরিচালনা করেছেন?
ডেভিড শেফার্ড মোট ৯২টি টেস্ট এবং ১৭২টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন। তাঁর আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিং ক্যারিয়ার ২০০৫ সালে শেষ হয়।
৭. স্টিভ বাকনর ও ডেভিড শেফার্ড কতটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দায়িত্ব পালন করেছেন?
স্টিভ বাকনর ১৯৯২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচটি পুরুষদের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে দায়িত্ব পালন করেন। ডেভিড শেফার্ড ১৯৯৬, ১৯৯৯ ও ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে আম্পায়ার ছিলেন।
৮. ডেভিড শেফার্ড কবে মারা যান?
ডেভিড শেফার্ড ২০০৯ সালের ২৭ অক্টোবর ৬৮ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে শোকের সৃষ্টি হয়েছিল।
৯. স্টিভ বাকনর কবে আম্পায়ারিং থেকে অবসর নেন?
স্টিভ বাকনর ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিং থেকে অবসর নেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার কেপটাউনের টেস্ট ম্যাচটি ছিল তাঁর শেষ টেস্ট দায়িত্ব।
১০. স্টিভ বাকনর ও ডেভিড শেফার্ডকে কেন কিংবদন্তি আম্পায়ার বলা হয়?
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা, বিশ্বকাপের ফাইনালে দায়িত্ব পালন এবং ক্রিকেটবিশ্বে অর্জিত সম্মানের জন্য তাঁদের কিংবদন্তি আম্পায়ার বলা হয়। বাকনর তাঁর ধারাবাহিকতার জন্য এবং শেফার্ড দক্ষতার পাশাপাশি স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয়।

উপসংহার:ক্রিকেটের ইতিহাসে অমর দুই আম্পায়ার

ক্রিকেটের ইতিহাসে স্টিভ বাকনর ও ডেভিড শেফার্ড দুই ভিন্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী হলেও তাঁদের মধ্যে একটি বড় মিল ছিল- আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা। বাকনর তাঁর ১২৮টি টেস্ট, ১৮১টি ওয়ানডে এবং টানা পাঁচটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দায়িত্ব পালনের জন্য স্মরণীয়। অন্যদিকে শেফার্ডের ৯২টি টেস্ট, ১৭২টি ওয়ানডে, তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং নেলসন স্কোরে তাঁর বিখ্যাত অভ্যাস তাঁকে ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় আম্পায়ারে পরিণত করেছে।

একজনের পরিচয়ের কেন্দ্রে ছিল দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা, অন্যজনের পরিচয়ে যুক্ত হয়েছিল দক্ষতার সঙ্গে উষ্ণ ব্যক্তিত্বের অনন্য সমন্বয়। সময়ের সঙ্গে ক্রিকেটের নিয়ম ও প্রযুক্তির পরিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু এই দুই আম্পায়ারের অবদান ক্রিকেটের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁরা আমাদের মনে করিয়ে দেন, ক্রিকেটের সৌন্দর্য শুধু খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে নয়; নেপথ্যে থাকা দক্ষ ও দায়িত্বশীল মানুষদের অবদানেও নিহিত।

তথ্যসূত্র

  • International Cricket Council (ICC) - স্টিভ বাকনর ও ডেভিড শেফার্ডের আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারসংক্রান্ত তথ্য।
  • ESPNcricinfo - আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ারদের পরিসংখ্যান ও জীবনী।
  • Wisden Cricket - ক্রিকেট ইতিহাস ও কিংবদন্তি আম্পায়ারদের জীবনবৃত্তান্ত।
  • Association of Cricket Statisticians and Historians - আম্পায়ারদের আন্তর্জাতিক ম্যাচসংক্রান্ত পরিসংখ্যান।
3/related/default