চীনের প্রাচীন ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর একটি হলো টেরাকোটা আর্মি (Terracotta Army)। মাটির তৈরি হাজার হাজার সৈন্য, ঘোড়া ও রথের বিশাল এই বাহিনী প্রায় দুই হাজার বছর ধরে মাটির নিচে লুকিয়ে ছিল। ১৯৭৪ সালে কৃষকদের একটি কূপ খননের সময় হঠাৎ এর সন্ধান পাওয়ার পর পুরো পৃথিবীর নজর পড়ে চীনের প্রাচীন ইতিহাসের দিকে। টেরাকোটা আর্মি শুধু অসংখ্য মাটির মূর্তির সমষ্টি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে চীনের প্রথম সম্রাট, বিশাল সাম্রাজ্য, প্রাচীন সামরিক ব্যবস্থা, শিল্পকলা, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং মৃত্যুর পরের জীবন সম্পর্কে মানুষের ধারণা। প্রতিটি মূর্তির মুখাবয়ব, পোশাক ও চুলের ধরনেও রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। ফলে আজও টেরাকোটা আর্মি প্রত্নতাত্ত্বিক ও ইতিহাসবিদদের কাছে এক অসাধারণ রহস্য।
‘Terracotta’ শব্দের অর্থ পোড়ানো মাটি বা পোড়ামাটির তৈরি বস্তু। টেরাকোটা আর্মি বলতে মূলত চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াং (Qin Shi Huang)-এর সমাধি কমপ্লেক্সের কাছে আবিষ্কৃত বিশাল মাটির তৈরি সেনাবাহিনীকে বোঝানো হয়। এই বাহিনীতে রয়েছে পদাতিক সৈন্য, ধনুর্ধর, অশ্বারোহী, রথ এবং উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের মূর্তি। অধিকাংশ যোদ্ধার মূর্তি প্রায় মানুষের স্বাভাবিক উচ্চতার কাছাকাছি, আর তাঁদের পোশাক, বর্ম, অস্ত্র ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
কে ছিলেন কিন শি হুয়াং?
টেরাকোটা আর্মির ইতিহাস বুঝতে হলে প্রথমে জানতে হবে সম্রাট কিন শি হুয়াং সম্পর্কে। প্রাচীন চীনে একসময় বিভিন্ন রাজ্য নিজেদের মধ্যে দীর্ঘদিন যুদ্ধ চলতো। এই সময়কে চীনের ইতিহাসে ‘Warring States’ বা যুদ্ধরত রাজ্যগুলোর যুগ বলা হয়। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে কিন রাজ্য ধীরে ধীরে অন্য রাজ্যগুলোকে পরাজিত করে। কিন রাজ্যের শাসক ইং ঝেং খ্রিস্টপূর্ব ২২১ সালে চীনের বিভিন্ন রাজ্যকে একত্রিত করেন। এরপর তিনি নিজেকে ‘কিন শি হুয়াং’ বা চীনের প্রথম সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি প্রশাসন ও আইন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনেন—ওজন ও পরিমাপের মান নির্ধারণ, মুদ্রা ও লেখার পদ্ধতিতে একীকরণ এবং সাম্রাজ্যের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন তাঁর শাসনামলের সঙ্গে যুক্ত। তবে তাঁর সবচেয়ে বিশাল প্রকল্পগুলোর একটি ছিল নিজের সমাধি নির্মাণ, যা চলেছিল প্রায় ৩৮ বছর ধরে এবং যেখানে কাজ করেছিলেন প্রায় সাত লাখ শ্রমিক।
কেন তৈরি করা হয়েছিল টেরাকোটা আর্মি?
প্রাচীন চীনা সমাজে মৃত্যুর পরের জীবন সম্পর্কে গভীর বিশ্বাস ছিল। অনেকের ধারণা ছিল মৃত্যুর পরও একজন শাসকের ক্ষমতা, মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের প্রয়োজন হতে পারে। সম্রাট কিন শি হুয়াং যেন মৃত্যুর পরও একটি বিশাল সাম্রাজ্যের শাসক হিসেবে থাকতে পারেন এমন ধারণা থেকেই তাঁর সমাধি কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে মনে করা হয়। টেরাকোটা সৈন্যদের তৈরি করা হয়েছিল সম্রাটের পরকালীন জগতে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। জীবিত অবস্থায় তাঁর যে বিশাল সেনাবাহিনী ছিল তারই প্রতীকী রূপ এই মাটির বাহিনী। অর্থাৎ টেরাকোটা আর্মি ছিল শুধু শিল্পকর্ম নয়। এটি ছিল সম্রাটের ক্ষমতা, সামরিক শক্তি এবং পরকাল সম্পর্কে তৎকালীন বিশ্বাসের একটি বিশাল প্রতিচ্ছবি।
কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল হাজার হাজার মূর্তি?
প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা থেকে ধারণা করা হয় মূর্তিগুলো তৈরিতে বিভিন্ন ধরনের মাটি ব্যবহার করা হয়েছিল। শরীরের কিছু অংশ ছাঁচ ব্যবহার করে তৈরি করা হলেও মুখ, চুল, পোশাক এবং অন্যান্য সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্যে হাতে কাজ করা হয়েছিল। এরপর মূর্তিগুলো আগুনে পুড়িয়ে শক্ত করা হতো। অনেক মূর্তির গায়ে একসময় উজ্জ্বল রঙও ছিল। আবিষ্কারের সময় এই মূর্তিগুলোর গায়ে রঙের প্রলেপ থাকলেও বাতাসের সংস্পর্শে আসার পরপরই তা মিনিটের মধ্যে ফিকে হয়ে যেতে শুরু করে। তাই এখন প্রত্নতাত্ত্বিকরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খনন করেন যাতে অবশিষ্ট রঙ সংরক্ষণ করা যায়। মূর্তিগুলোর শরীরের গঠনেও সামরিক পদমর্যাদা অনুযায়ী পার্থক্য দেখা যায়। কারও হাতে অস্ত্র, কারও অবস্থান যুদ্ধের প্রস্তুতির মতো। আবার কেউ কর্মকর্তা বা সেনাপতির পোশাকে রয়েছে।
প্রতিটি সৈন্য কি দেখতে আলাদা?
এটাই টেরাকোটা আর্মির অন্যতম আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য। অনেক মূর্তির মুখাবয়ব, চুলের ধরন, গোঁফ-দাড়ি, পোশাক ও অভিব্যক্তিতে পার্থক্য দেখা যায়। ফলে মনে হয় যেন হাজার হাজার আলাদা মানুষের প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে। তবে গবেষকদের মতে, এত বিপুলসংখ্যক মূর্তি সম্পূর্ণ আলাদা করে একেকজন মানুষের মডেল দেখে তৈরি করা হয়েছিল এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিভিন্ন ছাঁচ ও পুনরাবৃত্তিমূলক নির্মাণপ্রক্রিয়ার সঙ্গে শিল্পীদের হাতে করা পরিবর্তন মিলিয়ে মূর্তিগুলোকে বৈচিত্র্যময় করে তোলা হয়েছিল। এই কৌশলই প্রাচীন চীনের কারিগরি দক্ষতার অসাধারণ উদাহরণ।
টেরাকোটা আর্মিতে কতজন সৈন্য রয়েছে?
টেরাকোটা আর্মির সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় হিসাব কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকরা কয়েক হাজার সৈন্যের মূর্তি আবিষ্কার করেছেন। এর পাশাপাশি রয়েছে শত শত ঘোড়া এবং বহু রথ। পুরো সমাধি কমপ্লেক্সটি এত বিশাল যে এখনো এর সব অংশ সম্পূর্ণভাবে খনন করা হয়নি। আবিষ্কৃত মূর্তিগুলোকে কয়েকটি বড় গর্ত বা Pit-এর মধ্যে সাজানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এমনভাবে বিন্যস্ত করা যে পুরো কাঠামোটি দেখতে একটি বাস্তব সামরিক বাহিনীর মতো মনে হয়।টেরাকোটা আর্মি আবিষ্কারের পর প্রত্নতাত্ত্বিকরা কয়েকটি বড় গর্ত বা Pit শনাক্ত করেন। এর মধ্যে তিনটি প্রধান Pit বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটি Pit একসঙ্গে প্রাচীন চীনের একটি সংগঠিত সামরিক বাহিনীর প্রতীকী চিত্র তুলে ধরে।
- Pit 1: এটি সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে বিখ্যাত অংশ। এখানে সারিবদ্ধভাবে বিপুলসংখ্যক পদাতিক সৈন্য ও অন্যান্য সামরিক মূর্তি রয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় বিশাল একটি সেনাবাহিনী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই অংশটিই সাধারণত টেরাকোটা আর্মির সবচেয়ে পরিচিত ছবি হিসেবে দেখা যায়।
- Pit 2: এখানে বিভিন্ন ধরনের সামরিক ইউনিটের নিদর্শন পাওয়া গেছে। ধনুর্ধর, অশ্বারোহী এবং অন্যান্য সৈন্যদের উপস্থিতি প্রাচীন চীনের সামরিক সংগঠন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।
- Pit 3: তুলনামূলকভাবে ছোট এই অংশ সম্পর্কে গবেষকদের ধারণা, এটি হয়তো সামরিক কমান্ড বা নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিশেষ অংশ ছিল।
যেভাবে ১৯৭৪ সালে আবিষ্কৃত হয়
১৯৭৪ সালে চীনের শানসি প্রদেশের শিআন (Xi'an) শহরের কাছে কয়েকজন স্থানীয় কৃষক কূপ খনন করছিলেন। খননের সময় তারা মাটির নিচে কিছু ভাঙা মাটির মূর্তির অংশ দেখতে পান। প্রথমে তাঁরা বুঝতে পারেননি এই আবিষ্কার কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু পরে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। ক্রমে মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসে অসংখ্য সৈন্য, ঘোড়া এবং অন্যান্য নিদর্শন। তখন স্পষ্ট হয়ে যায়, এটি সাধারণ কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নয় বরং চীনের প্রাচীন ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ আবিষ্কার, যা প্রত্নতাত্ত্বিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
মাটির তৈরি সৈন্যদের অনেকের সঙ্গে প্রকৃত অস্ত্রও পাওয়া গেছে। ব্রোঞ্জের তলোয়ার, বর্শা, তীর ও অন্যান্য অস্ত্রের নিদর্শন। এসব অস্ত্রের কারিগরি মান দেখে বোঝা যায়, সে সময় চীনে ধাতব অস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি যথেষ্ট উন্নত ছিল। এগুলো শুধু যুদ্ধের ইতিহাস নয়, প্রাচীন চীনের ধাতুবিদ্যা ও উৎপাদনব্যবস্থা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়।
সম্রাটের মূল সমাধি এখনো রহস্য
টেরাকোটা আর্মি আবিষ্কৃত হলেও সম্রাট কিন শি হুয়াংয়ের মূল সমাধি এখনো সম্পূর্ণভাবে খনন করা হয়নি। প্রাচীন চীনা ইতিহাসবিদ সিমা কিয়েনের বর্ণনা অনুযায়ী, সমাধির ভেতরে পারদ দিয়ে তৈরি নদী-নালা ও সমুদ্রের প্রতিরূপ রয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের জন্য পাতা আছে ফাঁদ আর ছাদে খচিত আছে তারার মানচিত্র। আধুনিক মাটি পরীক্ষায় সমাধিস্থলের আশপাশে অস্বাভাবিক মাত্রায় পারদের উপস্থিতি পাওয়া গেছে যা এই বর্ণনাকে অনেকাংশে সমর্থন করে। তবে মূল সমাধি খনন করলে মূল্যবান নিদর্শন নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় সংরক্ষণ প্রযুক্তি আরও উন্নত না হওয়া পর্যন্ত চীন সরকার এই বড় ধরনের খননে সতর্কতা অবলম্বন করছে। এ কারণে সম্রাটের সমাধি আজও ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত রহস্য হয়ে আছে।
কেন টেরাকোটা আর্মি এত গুরুত্বপূর্ণ?
টেরাকোটা আর্মি আমাদের সামনে প্রাচীন চীনের এক বিশাল চিত্র তুলে ধরে। ১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো এই স্থানকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে, আর বর্তমানে প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক এই স্থান পরিদর্শন করতে আসেন।
- প্রথমত: এটি প্রাচীন চীনের সামরিক সংগঠন সম্পর্কে ধারণা দেয়। কোন ধরনের সৈন্য ছিল, কীভাবে বাহিনী সাজানো হতো, কোন পদে কী ধরনের পোশাক ব্যবহৃত হতো।
- দ্বিতীয়ত: এটি সেই সময়ের শিল্প ও কারিগরি দক্ষতা তুলে ধরে। এত বিপুলসংখ্যক মূর্তি তৈরি ও পোড়ানোর জন্য যে বিশাল কর্মযজ্ঞ প্রয়োজন হয়েছিল, তা প্রাচীন চীনের সংগঠন ও উৎপাদনক্ষমতার পরিচয় দেয়।
- তৃতীয়ত: এখান থেকে জানা যায় মৃত্যু ও পরকাল সম্পর্কে প্রাচীন মানুষের বিশ্বাস কতটা গভীর ছিল। আর সবশেষে, এটি সম্রাট কিন শি হুয়াংয়ের ক্ষমতা ও সাম্রাজ্যের বিশালতার একটি প্রতীক।
শিআন: টেরাকোটা আর্মির ঠিকানা
টেরাকোটা আর্মির প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান চীনের শিআন শহরের কাছে অবস্থিত। সমাধি কমপ্লেক্স ও খননস্থলকে কেন্দ্র করে এখানে জাদুঘর ও দর্শনার্থীদের জন্য সংরক্ষিত এলাকা তৈরি করা হয়েছে। যেখানে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এই অসাধারণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে আসেন। টেরাকোটা আর্মি এখন শুধু চীনের ইতিহাসের অংশ নয়; এটি বিশ্ব প্রত্নতত্ত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।ইতিহাস শুধু রাজা-বাদশাহ বা যুদ্ধের গল্প নয়। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনও অতীতকে বোঝার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। টেরাকোটা আর্মি আমাদের শেখায় যে হাজার হাজার বছর আগে মানুষের প্রযুক্তি ও সাংগঠনিক দক্ষতা আমাদের ধারণার চেয়েও উন্নত হতে পারে। একই সঙ্গে এটি মনে করিয়ে দেয়, একজন শাসকের ক্ষমতা প্রকাশের জন্য শুধু জীবদ্দশার স্থাপনা নয়, মৃত্যুর পরের জন্য নির্মিত বিশাল সমাধিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
উপসংহার
প্রায় দুই হাজার বছর মাটির নিচে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকার পর ১৯৭৪ সালে টেরাকোটা আর্মি আবার মানুষের সামনে ফিরে আসে। সেই আবিষ্কার শুধু কয়েক হাজার মাটির সৈন্যকে পৃথিবীর সামনে নিয়ে আসেনি; এটি প্রাচীন চীনের ইতিহাসের একটি বিশাল অধ্যায়কে নতুনভাবে বোঝার সুযোগ দিয়েছে। সম্রাট কিন শি হুয়াংয়ের পরকালীন সাম্রাজ্য রক্ষার জন্য তৈরি এই বিশাল বাহিনী আজও মানুষকে বিস্মিত করে। প্রতিটি সৈন্য যেন প্রাচীন চীনের একটি করে গল্প বহন করছে কখনো সামরিক শক্তির, কখনো শিল্পীর দক্ষতার, আবার কখনো মানুষের মৃত্যুর পরও জীবন ও ক্ষমতা ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষার। মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এই হাজার হাজার যোদ্ধা তাই শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়; তারা অতীতের এক জীবন্ত দলিল।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন: টেরাকোটা আর্মি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: চীনের শানসি প্রদেশের শি'আন শহরের কাছে সম্রাট কিন শি হুয়াংয়ের সমাধি কমপ্লেক্সে টেরাকোটা আর্মি অবস্থিত।
প্রশ্ন: টেরাকোটা আর্মি কবে আবিষ্কৃত হয়?
উত্তর: ১৯৭৪ সালে স্থানীয় কৃষকেরা কূপ খননের সময় প্রথম এর সন্ধান পান।
প্রশ্ন: টেরাকোটা আর্মি কেন তৈরি করা হয়েছিল?
উত্তর: সম্রাট কিন শি হুয়াংয়ের পরকালীন জগতে তাঁকে রক্ষা করার জন্য একটি প্রতীকী সেনাবাহিনী হিসেবে এটি তৈরি করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
প্রশ্ন: টেরাকোটা আর্মি কত পুরোনো?
উত্তর: এটি খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে, অর্থাৎ প্রায় দুই হাজার দুই শত বছরেরও বেশি আগে তৈরি করা হয়েছিল।
প্রশ্ন: সব টেরাকোটা সৈন্য কি একই রকম?
উত্তর: না। সৈন্যদের মুখাবয়ব, চুল, পোশাক, সামরিক পদ ও অবস্থানে বিভিন্ন পার্থক্য দেখা যায়।
প্রশ্ন: সম্রাট কিন শি হুয়াংয়ের মূল সমাধি কি খনন করা হয়েছে?
উত্তর: না। সম্রাটের মূল সমাধি এখনো পুরোপুরি খনন করা হয়নি এবং এটি নিয়ে অনেক রহস্য এখনো রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন:
- বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত জাদুঘর: নিরাপত্তার গল্প
- কানাডা কেন বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ও প্রিয় দেশ?
- বিশ্বের ২০টি বৃহত্তম দেশ: আয়তনে সবার শীর্ষে?
- বিশ্বের সবচেয়ে ভাষাবহুল ১০টি দেশ: ভাষা প্রচলিত?
- হোমারের ওডিসি: বাস্তব ছয়টি রূপকথার স্থান
- সোকোত্রা দ্বীপ: পৃথিবীর বুকে ভিনগ্রহের স্থান
- নর্ডিক ক্রস পতাকা: ইতিহাস, প্রতীক, দেশ

