মানচিত্রে তাকালে মনে হয় সব দেশ যেন প্রায় কাছাকাছি আকারের, কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় ৫৫ শতাংশ দখল করে আছে মাত্র ১০টি দেশ। আর সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়া একাই পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় ১৩ শতাংশ জুড়ে আছে। মজার ব্যাপার হলো, আয়তনে বড় হওয়া মানেই জনবহুল হওয়া নয়। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া কিংবা কাজাখস্তানের বিশাল ভূখণ্ডের বড় অংশই প্রায় জনমানবহীন মরুভূমি, বরফ কিংবা তুন্দ্রা। আজকের এই লেখায় আমরা জানব পৃথিবীর ২০টি বৃহত্তম দেশের নাম, তাদের আয়তন এবং প্রতিটি দেশ সম্পর্কে কিছু চমকপ্রদ তথ্য। চলুন, বিশ্বের এই ভূমি-দৈত্যদের সঙ্গে পরিচিত হই।
এক নজরে বিশ্বের ২০টি বৃহত্তম দেশ
দেশের আয়তনের পরিসংখ্যান উৎস ও হিসাবের পদ্ধতি অনুযায়ী সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। এখানে মোট আয়তনের আনুমানিক হিসাব ব্যবহার করা হয়েছে। Greenland-কে তালিকায় রাখা হয়নি, কারণ এটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ নয়।
১. রাশিয়া - পৃথিবীর একচ্ছত্র সম্রাট
আয়তনে রাশিয়া এতটাই বিশাল যে এটি একাই ১১টি টাইম জোন জুড়ে বিস্তৃত—পৃথিবীর আর কোনো দেশে এত বেশি সময়ক্ষেত্র নেই। ইউরোপ ও এশিয়া, দুই মহাদেশ জুড়ে থাকা এই দেশটির আয়তন দ্বিতীয় স্থানে থাকা কানাডার প্রায় দ্বিগুণ, এবং তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানের যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে একত্র করলেও তা রাশিয়ার সমান হয় না। পশ্চিমে মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ইউরোপীয় শহর থেকে শুরু করে পূর্বে ভ্লাদিভস্তক পর্যন্ত বিমানে পাড়ি দিতে প্রায় নয় ঘণ্টা সময় লাগে। দেশটির বিশাল অংশ জুড়ে আছে সাইবেরিয়া বরফাচ্ছাদিত তুন্দ্রা, ঘন কনিফার বনভূমি (তাইগা) এবং হাজার হাজার নদী-হ্রদে ভরা এক রহস্যময় অঞ্চল, যেখানে জনবসতি অত্যন্ত বিরল। এখানেই আছে বৈকাল হ্রদ, যা পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ও পুরনো স্বাদুপানির হ্রদ এবং যাতে বিশ্বের মোট স্বাদুপানির প্রায় পঞ্চমাংশ জমা আছে। শীতকালে সাইবেরিয়ার কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নিচে নেমে যায়, যা এটিকে পৃথিবীর অন্যতম বসবাসযোগ্য প্রতিকূল স্থানে পরিণত করেছে।
২. কানাডা - দুই মিলিয়ন হ্রদের দেশ
কানাডাকে অনেকেই ভুলবশত যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ছোট মনে করেন, অথচ বাস্তবে আয়তনে কানাডাই বড়, এবং এটি উত্তর আমেরিকার প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গা জুড়ে আছে। এই দেশে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি হ্রদ আনুমানিক ২০ লক্ষেরও বেশি। যা বিশ্বের মোট স্বাদুপানির হ্রদের প্রায় ৬০ শতাংশ! উত্তরের সুবিশাল আর্কটিক দ্বীপপুঞ্জ ও বরফাবৃত তুন্দ্রা থেকে শুরু করে দক্ষিণের সমৃদ্ধ শহর টরন্টো, ভ্যাঙ্কুভার, মন্ট্রিয়ল পর্যন্ত বিস্তৃত এর ভূগোল। দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের ১৬০ কিলোমিটারের মধ্যে বাস করে, কারণ উত্তরের বিশাল অংশ চরম ঠান্ডা ও দুর্গম হওয়ায় প্রায় জনমানবহীন। রকি পর্বতমালা, নায়াগ্রা জলপ্রপাত এবং পৃথিবীর দীর্ঘতম উপকূলরেখা (প্রায় ২ লক্ষ ২৫ হাজার কিলোমিটার) সবকিছু মিলিয়ে কানাডা প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে অনন্য।
৩. যুক্তরাষ্ট্র - বৈচিত্র্যের মহাদেশ
পঞ্চাশটি রাজ্য নিয়ে গঠিত যুক্তরাষ্ট্রের ভূগোলে আছে প্রায় সব ধরনের প্রাকৃতিক পরিবেশ দক্ষিণ-পশ্চিমের শুষ্ক মরুভূমি (অ্যারিজোনা, নেভাদা), মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ শস্যভূমি (গ্রেট প্লেইনস), রকি পর্বতমালার তুষারাবৃত চূড়া, হাওয়াইয়ের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দ্বীপ এবং আলাস্কার বিশাল হিমবাহ ও তুন্দ্রা। আলাস্কা একাই যুক্তরাষ্ট্রের মোট আয়তনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ দখল করে আছে, অথচ এখানে জনসংখ্যা অত্যন্ত কম। দেশটির মূল ভূখণ্ড আটলান্টিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত, ফলে একই সময়ে দেশের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে তিন ঘণ্টার সময়ের ব্যবধান থাকে। মিসিসিপি নদী অববাহিকা, গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন এবং ইয়েলোস্টোন জাতীয় উদ্যানের মতো ভৌগোলিক বিস্ময়ও এই দেশের বিশালতার প্রমাণ বহন করে।
৪. চীন - জনসংখ্যা ও আয়তনে দুই দিক থেকেই দৈত্য
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশগুলোর একটি হয়েও চীন আয়তনেও চতুর্থ স্থানে, এবং এটি এশিয়া মহাদেশের একটি বিশাল অংশ জুড়ে আছে। পশ্চিমে হিমালয় ও তিব্বত মালভূমির বরফাবৃত চূড়া, উত্তরে গোবি মরুভূমি ও মঙ্গোলিয়া সীমান্তের স্তেপভূমি, আর পূর্ব উপকূলে সাংহাই-বেইজিংয়ের মতো ঘনবসতিপূর্ণ মহানগর এই বৈপরীত্যই আজকের চীনের ভূগোলকে অনন্য করে তুলেছে। দেশটির সীমান্ত ১৪টি ভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্ত, যা পৃথিবীর যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ (রাশিয়ার সমান)। ইয়াংসি ও ইয়েলো নদী দুটি বিশাল নদী অববাহিকা চীনের সভ্যতার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, এবং তিব্বত মালভূমিকে বলা হয় "পৃথিবীর ছাদ", কারণ এখান থেকেই এশিয়ার বেশ কয়েকটি বড় নদীর উৎপত্তি।
৫. ব্রাজিল - আমাজনের দেশ
দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ ব্রাজিলের প্রায় ৬০ শতাংশ জুড়ে আছে আমাজন রেইনফরেস্ট, যাকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস, কারণ এটি বিশ্বের অক্সিজেনের একটি বড় অংশ উৎপাদন করে এবং কার্বন শোষণ করে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই দেশ প্রায় পুরো দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের অর্ধেক জায়গা দখল করে আছে এবং চিলি ও ইকুয়েডর ছাড়া মহাদেশের প্রতিটি দেশের সঙ্গে এর সীমান্ত রয়েছে। আমাজন নদী, যা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জলপ্রবাহের নদী, ব্রাজিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে মিশেছে। জীববৈচিত্র্যের দিক থেকেও ব্রাজিল অতুলনীয় পৃথিবীর মোট প্রজাতির প্রায় ১৫-২০ শতাংশ এখানে পাওয়া যায়, যার মধ্যে অনেক প্রজাতি এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে অজানা।
৬. অস্ট্রেলিয়া - একমাত্র মহাদেশ-দেশ
অস্ট্রেলিয়াই পৃথিবীর একমাত্র দেশ যা পুরো একটি মহাদেশ জুড়ে অবস্থিত, এবং এটি বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম দেশ হলেও এখানে জনসংখ্যা মাত্র আড়াই কোটির কাছাকাছি যার সিংহভাগই উপকূলীয় শহরগুলোতে (সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন) কেন্দ্রীভূত। দেশটির অভ্যন্তরভাগের বিশাল অংশকে বলা হয় "আউটব্যাক" লাল মাটির মরুভূমি, শুষ্ক ঝোপঝাড় ও বিরল জনবসতির বিস্তীর্ণ অঞ্চল, যেখানে বিখ্যাত উলুরু পাথরের অবস্থান। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রবাল প্রাচীর ব্যবস্থা, অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূল ঘেঁষে বিস্তৃত এবং এটি মহাকাশ থেকেও দৃশ্যমান একমাত্র জীবন্ত কাঠামো হিসেবে পরিচিত। ক্যাঙ্গারু, কোয়ালা ও প্লাটিপাসের মতো অদ্ভুত ও অনন্য প্রাণীর আবাসস্থলও এই মহাদেশ-দেশটি।
৭. ভারত - ঘনবসতিপূর্ণ বিশাল ভূখণ্ড
আয়তনে সপ্তম হলেও জনসংখ্যায় ভারত বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষে, এবং এখানে বিশ্বের মোট স্থলভাগের মাত্র ২.৪ শতাংশ জায়গায় বিশ্বের প্রায় ১৮ শতাংশ মানুষের বসবাস। উত্তরে হিমালয়ের বরফাবৃত পর্বতশৃঙ্গ থেকে দক্ষিণে থর মরুভূমি, পশ্চিমে কেরালা-গোয়ার সবুজ উপকূল থেকে পূর্বে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি রাজ্যগুলো—ভৌগোলিক বৈচিত্র্যে ভারতের তুলনা মেলা ভার। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার মতো বড় নদী অববাহিকা দেশটির উর্বর সমভূমি গঠন করেছে, যা কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গগুলোর একটি বড় অংশও ভারতীয় হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত, আর দক্ষিণে পশ্চিমঘাট পর্বতমালাকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এর অসাধারণ জীববৈচিত্র্যের জন্য।
৮. আর্জেন্টিনা - প্যাটাগোনিয়ার দেশ
দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ আর্জেন্টিনা উত্তরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে দক্ষিণের বরফাবৃত প্যাটাগোনিয়া পর্যন্ত প্রায় ৩,৭০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য জুড়ে বিস্তৃত, যা একে পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ উত্তর-দক্ষিণ বিস্তৃতির দেশগুলোর একটি করে তুলেছে। মধ্যাঞ্চলের পাম্পাস তৃণভূমি দেশটির কৃষি অর্থনীতির মেরুদণ্ড, যেখানে বিশ্বখ্যাত গরুর মাংস ও শস্য উৎপাদিত হয়। পশ্চিমে আন্দিজ পর্বতমালার আকোনকাগুয়া শৃঙ্গ, যা প্রায় ৬,৯৬১ মিটার উঁচু, এশিয়ার বাইরে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতচূড়া হিসেবে পরিচিত। দক্ষিণের প্যাটাগোনিয়া অঞ্চলে বিশাল হিমবাহ, শীতল হ্রদ ও রুক্ষ প্রান্তর দেখা যায়, যেখানকার আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর।
৯. কাজাখস্তান - মধ্য এশিয়ার দৈত্য
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থলবেষ্টিত (ল্যান্ডলকড) দেশ কাজাখস্তান, যার আয়তন প্রায় পুরো পশ্চিম ইউরোপের সমান, অথচ জনসংখ্যা মাত্র প্রায় দুই কোটির কাছাকাছি ফলে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কম জনঘনত্বের দেশগুলোর একটি। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ হিসেবে এই দেশে একসময় বিশ্বের অন্যতম বড় মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বাইকোনুর কসমোড্রোম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা এখনো রাশিয়ার মহাকাশ কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হয়। দেশটির ভূগোলে আছে বিস্তীর্ণ স্তেপভূমি, আধা-শুষ্ক মরুভূমি এবং তিয়েন শান পর্বতমালার একাংশ। ক্যাস্পিয়ান সাগর, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হ্রদ, কাজাখস্তানের পশ্চিম সীমান্ত স্পর্শ করেছে, আর দেশটি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদে সমৃদ্ধ।
১০. আলজেরিয়া - আফ্রিকার বৃহত্তম
২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে আলাদা হওয়ার পর আলজেরিয়া আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে বড় দেশে পরিণত হয়। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ জুড়ে আছে সাহারা মরুভূমির বিশাল বালিয়াড়ি, পাথুরে মালভূমি ও প্রায় জনমানবহীন অঞ্চল, অথচ উত্তরে আছে প্রায় ৯৯৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলরেখা, যেখানে দেশটির অধিকাংশ জনসংখ্যা কেন্দ্রীভূত। রাজধানী আলজিয়ার্স এই উপকূলীয় অঞ্চলেই অবস্থিত। সাহারার গভীরে আহাগার পর্বতমালার মতো বিচ্ছিন্ন উঁচু ভূমিও রয়েছে, যেখানে প্রাচীন গুহাচিত্র পাওয়া গেছে যা হাজার হাজার বছর আগের মানব বসতির প্রমাণ বহন করে। তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আলজেরিয়ার অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি।
১১–২০: বাকি দশটি দেশ সংক্ষেপে
- কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র:মধ্য আফ্রিকার ঘন রেইনফরেস্ট অঞ্চল, কঙ্গো নদীর অববাহিকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সৌদি আরব: আরব উপদ্বীপের প্রায় পুরোটাই দখল করে থাকা এই দেশের বড় অংশ মরুভূমি।
- মেক্সিকো: উত্তর আমেরিকার তৃতীয় বৃহত্তম, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ভূপ্রকৃতির দেশ।
- ইন্দোনেশিয়া: প্রায় ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপরাষ্ট্র।
- সুদান: উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার দেশ, নীল নদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।
- লিবিয়া: উত্তর আফ্রিকার এই দেশের বিশাল অংশ সাহারা মরুভূমির অন্তর্গত।
- ইরান: পার্বত্য ও মালভূমি অঞ্চল নিয়ে গঠিত মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় দেশগুলোর একটি।
- মঙ্গোলিয়া: পৃথিবীর সবচেয়ে কম জনঘনত্বের দেশগুলোর একটি, বিশাল স্তেপ ভূমি ও গোবি মরুভূমির দেশ।
- পেরু: আন্দিজ পর্বতমালা ও আমাজন রেইনফরেস্টের সংমিশ্রণে গঠিত দক্ষিণ আমেরিকার দেশ।
- চাদ: মধ্য আফ্রিকার স্থলবেষ্টিত দেশ, যার উত্তরাংশ সাহারা মরুভূমির অন্তর্ভুক্ত।
কিছু মজার তথ্য
- শীর্ষ ১০ দেশ মিলিয়ে পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় ৫৫ শতাংশ দখল করে আছে।
- রাশিয়া একাই কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত আয়তনের প্রায় কাছাকাছি।
- আয়তনে বড় হলেও কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও কাজাখস্তানের জনঘনত্ব পৃথিবীর সবচেয়ে কম দেশগুলোর মধ্যে পড়ে।
- এই তালিকার দেশগুলোর প্রায় সবই একাধিক ভৌগোলিক অঞ্চল (মরুভূমি, বনভূমি, পর্বত, উপকূল) নিজের মধ্যে ধারণ করে।
আয়তনের এই তালিকা শুধু সংখ্যার খেলা নয় প্রতিটি দেশের বিশাল ভূখণ্ডের পেছনে লুকিয়ে আছে ভিন্ন ভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি আর প্রকৃতির বৈচিত্র্য। রাশিয়ার সাইবেরিয়া থেকে ব্রাজিলের আমাজন, অস্ট্রেলিয়ার আউটব্যাক থেকে কাজাখস্তানের স্তেপ প্রতিটি ভূমিই নিজের মতো করে অনন্য। পৃথিবীর এই ভূমি-দৈত্যদের সম্পর্কে জানা মানে আসলে আমাদের গ্রহের বৈচিত্র্যকেই একটু কাছ থেকে চেনা।
প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন ১: বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ কোনটি?
উত্তর: আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ হলো রাশিয়া। এর আয়তন প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ বর্গকিলোমিটার।
প্রশ্ন ২: বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ কোনটি?
উত্তর: কানাডা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ।
প্রশ্ন ৩: বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ কোনটি?
উত্তর: এই তালিকা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় বৃহত্তম দেশ।
প্রশ্ন ৪: এশিয়ার সবচেয়ে বড় দেশ কোনটি?
উত্তর: রাশিয়া এশিয়া ও ইউরোপ—দুই মহাদেশে বিস্তৃত এবং এশিয়ার বৃহত্তম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।
প্রশ্ন ৫: আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দেশ কোনটি?
উত্তর: আলজেরিয়া আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে বড় দেশ।
প্রশ্ন ৬: বাংলাদেশের আয়তন কত?
উত্তর: বাংলাদেশের আয়তন প্রায় ১,৪৮,৪৬০ বর্গকিলোমিটার। তাই এটি বিশ্বের ২০টি বৃহত্তম দেশের তালিকায় নেই।
প্রশ্ন ৭: বড় আয়তনের দেশ মানেই কি বেশি জনসংখ্যা?
উত্তর: না। দেশের আয়তন ও জনসংখ্যা এক বিষয় নয়। যেমন কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার আয়তন বিশাল হলেও জনসংখ্যার ঘনত্ব তুলনামূলক কম।
আরও পড়ুন:
- বিশ্বের সবচেয়ে ভাষাবহুল ১০টি দেশ: ভাষা প্রচলিত?
- হোমারের ওডিসি: বাস্তব ছয়টি রূপকথার স্থান
- সোকোত্রা দ্বীপ: পৃথিবীর বুকে ভিনগ্রহের স্থান
- রোমের কলোসিয়াম সংস্কার:২০০০ বছরের ইতিহাস
- মঙ্গলে কি প্রাণ ছিল? Perseverance আবিষ্কার
- প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্য: হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস
- নর্ডিক ক্রস পতাকা: ইতিহাস, প্রতীক, দেশ

