কিছু গান আছে যেগুলো কানে আসামাত্র সময়ের দেয়াল ভেঙে যায়। মুহূর্তে আমরা ফিরে যাই সেই দিনগুলোতে, যখন হেডফোনের একটা তার দুই বন্ধুর কানে ভাগ হয়ে যেত আর গিটারের একটা রিফ বুকের ভেতর অদ্ভুত আনন্দ জাগিয়ে দিত। বন জভির (Bon Jovi) "ইটস মাই লাইফ" ঠিক তেমনই একটা গান।২০০০ সালের মে মাসে প্রকাশিত এই গান ছিল ব্যান্ডটির সপ্তম স্টুডিও অ্যালবাম Crush-এর প্রথম সিঙ্গল। লিখেছেন জন বন জভি, রিচি সাম্বোরা ও সুইডিশ গীতিকার-প্রযোজক ম্যাক্স মার্টিন। যুক্তরাষ্ট্রের Billboard Hot 100-এ গানটি উঠেছিল ৩৩ নম্বরে, তবে বিশ্বের অনেক দেশে অবস্থান ছিল আরও ওপরে। নতুন শতাব্দীর শুরুতে এই গান একদিকে বন জভিকে নতুন শ্রোতাদের সামনে জোরালোভাবে হাজির করেছিল, অন্যদিকে এর কথাগুলো হয়ে উঠেছিল নিজের পথ নিজে বেছে নেওয়ার এক দৃপ্ত ঘোষণা। কিন্তু চার্টের সংখ্যা দিয়ে এই গানের গুরুত্ব পুরোপুরি বোঝা যায় না। এর আসল শক্তি তার বার্তায়: জীবন সীমিত, তাই নিজের কণ্ঠ হারিয়ে না ফেলে বাঁচতে হবে। তাহলে এত বছর পরেও গানটা আমাদের এতটা টানে কেন? উত্তর কি শুধু সুরে, নাকি কথার ভেতরের সেই অকপট বিদ্রোহে? চলুন, সেই গল্পটাই খুঁজে দেখি।
It’s My Life গানটি কবে প্রকাশিত হয়?
২০০০ সালের মে মাসে “It’s My Life” প্রকাশিত হয় এবং এটি Crush অ্যালবামের প্রধান একক হিসেবে সামনে আসে। Crush ছিল Bon Jovi-এর সপ্তম স্টুডিও অ্যালবাম। অ্যালবামটির ট্র্যাকলিস্টের প্রথম গানই ছিল “It’s My Life”। এটি ছিল Bon Jovi-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। ১৯৮০-এর দশকে “You Give Love a Bad Name”, “Wanted Dead or Alive” ও “Livin’ on a Prayer”-এর মতো গান দিয়ে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর ১৯৯০-এর দশকের সংগীতজগৎ অনেকটাই বদলে গিয়েছিল। নতুন শতাব্দীর শুরুতে ফিরে এসে তাই শুধু পুরোনো সাফল্যের ওপর নির্ভর না করে নতুন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। “It’s My Life” সেই জায়গাতেই বিশেষ ভূমিকা নেয়।
গানের লেখার নেপথ্যে Jon Bon Jovi, Richie Sambora ও Max Martin
“It’s My Life” লিখেছেন Jon Bon Jovi, Richie Sambora এবং Max Martin। যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট রেকর্ডেও এই তিনজনের লেখক হিসেবে নাম রয়েছে। Max Martin তখন পপ সংগীতের অন্যতম আলোচিত গীতিকার ও প্রযোজক হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করে ফেলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে Britney Spears, Backstreet Boys, *NSYNC-সহ বহু শিল্পীর সঙ্গে কাজ করে তিনি আধুনিক পপ সংগীতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতা হয়ে ওঠেন। GRAMMY-এর তথ্যেও “It’s My Life”-কে Bon Jovi-এর ২১ শতকের অন্যতম বড় হিট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গানটির বিশেষত্ব হলো এখানে Bon Jovi-এর পরিচিত রক শক্তির সঙ্গে আধুনিক পপ সংগীতের সরাসরি, সহজে মনে থাকার মতো গীতিময়তা যুক্ত হয়েছিল। ফলে গানটি শুধু পুরোনো Bon Jovi ভক্তদের কাছেই নয়, নতুন প্রজন্মের কাছেও সহজে পৌঁছে যায়।
“It’s My Life” আসলে কী বলতে চায়?
গানটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখার আকাঙ্ক্ষা। গানের শুরুতেই এমন একজন মানুষের কথা উঠে আসে, যে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যেতে চায় না। সে নিজের কণ্ঠকে শোনাতে চায় এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে চায়। গানের বহুল পরিচিত মূল বক্তব্য হলো জীবন চিরস্থায়ী নয়, তাই বেঁচে থাকার সময়টুকু অর্থপূর্ণভাবে বাঁচতে হবে। এখানে “It's my life” শুধু অহংকারের ঘোষণা নয়। বরং এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, আত্মপরিচয় এবং নিজের জীবনের প্রতি নিজের দায়িত্বের কথা বলে। এই কারণেই গানটি বয়স বা প্রজন্মের নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে যায়নি। কেউ এটিকে তরুণ বয়সের স্বাধীনতার গান হিসেবে শুনেছেন, কেউ জীবনের কঠিন সময়ে সাহস পাওয়ার গান হিসেবে নিয়েছেন, আবার কেউ এটিকে নিজের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখেছেন।
Frank Sinatra ও “My Way”-এর সঙ্গে সম্পর্ক
“It’s My Life”-এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো Frank Sinatra-র প্রতি সরাসরি শ্রদ্ধা। গানটির একটি বিখ্যাত অংশে Sinatra-র “My Way”-এর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গটি কেবল একটি তারকার নাম উল্লেখ করা নয়; বরং দুই গানের দর্শনের মধ্যেও একটি সম্পর্ক তৈরি করে। Frank Sinatra-র “My Way” মূলত নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকানো এবং নিজের সিদ্ধান্তের কথা বলার একটি গান। অন্যদিকে Bon Jovi-এর “It’s My Life” যেন সেই একই আত্মনির্ভরতার ভাবনাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায় অর্থাৎ জীবন এখনো চলছে, তাই নিজের পথ নিজেকেই তৈরি করতে হবে। American Songwriter-এর একটি বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, Jon Bon Jovi Sinatra-কে এই গানে উল্লেখ করতে চেয়েছিলেন, যদিও Richie Sambora প্রথমে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি করেছিলেন। Jon শেষ পর্যন্ত Sinatra-র প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই সেই উল্লেখটি গানটিতে রাখেন। এখানেই “It’s My Life”-এর একটি সুন্দর সাংস্কৃতিক সংযোগ তৈরি হয় এক প্রজন্মের “My Way” যেন আরেক প্রজন্মের “It’s My Life”-এ নতুন ভাষা পায়।
Tommy ও Gina আবার ফিরে আসে
Bon Jovi ভক্তদের জন্য গানটির আরেকটি চমৎকার বিষয় হলো Tommy ও Gina। এই দুই চরিত্রের সঙ্গে শ্রোতাদের প্রথম পরিচয় হয়েছিল ১৯৮৬ সালের বিখ্যাত “Livin’ on a Prayer” গানে। সেখানে Tommy ও Gina ছিল সংগ্রামী এক তরুণ দম্পতি, যারা কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও আশা ধরে রাখে। ১৪ বছর পর “It’s My Life”-এ তাদের নাম আবার ফিরে আসে। এটি শুধু পুরোনো গানের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার কৌশল ছিল না। এর মাধ্যমে Bon Jovi যেন নিজেদের সংগীতজগতের একটি পুরোনো গল্পকে নতুন সময়ের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। ১৯৮৬ সালের Tommy ও Gina আর ২০০০ সালের Tommy ও Gina সময়ের ব্যবধান বদলেছে, কিন্তু সংগ্রাম, আশা এবং নিজের জীবনের জন্য লড়াই করার আকাঙ্ক্ষা একই রয়ে গেছে। এই সংযোগটি Bon Jovi-এর গানের জগতকে আরও ধারাবাহিক করে তোলে।
গানটির সুর কেন এত সহজে মনে থাকে?
“It’s My Life”-এর সুরে রয়েছে Bon Jovi-এর পরিচিত arena-rock শক্তি। কিন্তু একই সঙ্গে এর গঠনে এমন একটি পপ-সংগীতের সরলতা রয়েছে, যা গানটিকে প্রথমবার শোনা শ্রোতার কাছেও সহজে গ্রহণযোগ্য করে। গানের শুরুতে অপেক্ষাকৃত সংযত ভঙ্গি থেকে ধীরে ধীরে শক্তিশালী কোরাসে পৌঁছানো এই বিন্যাস শ্রোতাকে সঙ্গে নিয়ে যায়। Richie Sambora-র গিটার এবং talk-box-এর ব্যবহারও গানটির আলাদা পরিচয় তৈরি করে। সঙ্গে Jon Bon Jovi-এর কণ্ঠের দৃঢ়তা এবং কোরাসের সমবেত-গাওয়ার মতো আবহ গানটিকে স্টেডিয়াম-উপযোগী রক অ্যান্থেমে পরিণত করে। গানটির রেকর্ডিং ক্রেডিটে Richie Sambora-র গিটার, Tico Torres-এর ড্রাম, David Bryan-এর কিবোর্ড এবং Hugh McDonald-এর বেসের মতো Bon Jovi ব্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের অবদানও রয়েছে।
“It’s My Life” মিউজিক ভিডিও
গানটির মিউজিক ভিডিওও এর জনপ্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। Bon Jovi-এর অফিসিয়াল Backstage আর্কাইভে “It’s My Life” মিউজিক ভিডিওর শুটিংকে ২০০০ সালের লস অ্যাঞ্জেলেসের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ভিডিওটির শুটিংয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হয়েছিল Los Angeles-এর 2nd Avenue Tunnel-এ। ভিডিওতে তরুণ প্রজন্মের শক্তি, শহুরে পরিবেশ এবং দ্রুতগতির দৃশ্যের সঙ্গে ব্যান্ডের পারফরম্যান্সকে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে গানটির স্বাধীনচেতা বার্তা শুধু শব্দে নয়, দৃশ্যের মাধ্যমেও সামনে আসে। বিশেষ করে ২০০০ সালের MTV-নির্ভর সংগীত সংস্কৃতিতে একটি শক্তিশালী মিউজিক ভিডিও গানকে নতুন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। “It’s My Life” সেই সুযোগটিকে ভালোভাবেই কাজে লাগায়।
চার্টে কতটা সফল হয়েছিল গানটি?
যুক্তরাষ্ট্রে “It’s My Life” Billboard Hot 100-এ ৩৩ নম্বরে পৌঁছেছিল এবং মোট ২০ সপ্তাহ চার্টে ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের Hot 100 অবস্থান দিয়ে গানটির আন্তর্জাতিক সাফল্য পুরোপুরি বোঝা যায় না। গানটি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে পৌঁছেছিল এবং যুক্তরাজ্যেও শীর্ষ তিনে উঠেছিল। GRAMMY-এর রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০১ সালের 43rd Annual GRAMMY Awards-এ “It’s My Life” Best Rock Performance by a Duo or Group with Vocal বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল। একই বছর Crush অ্যালবামও Best Rock Album বিভাগে মনোনীত হয়েছিল। অর্থাৎ গানটি শুধু শ্রোতাদের জনপ্রিয়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; সংগীতশিল্পের পুরস্কার ও স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও জায়গা করে নিয়েছিল।
কেন “It’s My Life” এত জনপ্রিয় হয়ে রইল?
একটি গান দীর্ঘদিন জনপ্রিয় থাকার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। “It’s My Life”-এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো এর সার্বজনীন বার্তা। জীবনের কোনো এক পর্যায়ে প্রায় প্রত্যেক মানুষকেই নিজের সিদ্ধান্ত, নিজের পরিচয় এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হয়। আমি কী চাই? আমি কি অন্যের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাঁচব? “নাকি নিজের পথ নিজেই বেছে নেব? “It’s My Life” এই প্রশ্নগুলোর সরাসরি কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক উত্তর দেয় না। বরং নিজের জীবনের প্রতি ব্যক্তিগত দায়িত্ব এবং সক্রিয়তার কথা বলে। এ কারণেই গানটি শুধু রক ভক্তদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কেউ নতুন চাকরি শুরু করার সময় গানটি শুনেছেন, কেউ কঠিন সময় পার হওয়ার সময়, কেউ আবার পুরোনো স্মৃতি মনে করে। গানটি প্রত্যেকের কাছে আলাদা অর্থ তৈরি করার সুযোগ দিয়েছে।
Bon Jovi-এর ক্যারিয়ারে It’s My Life-এর গুরুত্ব
Bon Jovi-এর ১৯৮০-এর দশকের সাফল্য ছিল বিশাল। কিন্তু “It’s My Life” প্রমাণ করে যে ব্যান্ডটি শুধু অতীতের জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভরশীল নয়। ২০০০ সালে Crush অ্যালবামের মাধ্যমে ব্যান্ডটি নতুন শতাব্দীর শ্রোতাদের সঙ্গে নতুনভাবে যোগাযোগ তৈরি করে। Bon Jovi-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটও “It’s My Life”-কে Crush অ্যালবামের গান হিসেবে উল্লেখ করে এবং পরবর্তী সময়ে এটিকে ব্যান্ডের একটি anthem হিসেবে বর্ণনা করেছে। আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। গানটি প্রকাশের দুই দশকেরও বেশি সময় পরও নতুন সংস্করণে ফিরে এসেছে। ২০২৪ সালে Bon Jovi ও Pitbull “Now or Never” নামে “It’s My Life”-এর একটি নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেন। Bon Jovi-এর অফিসিয়াল সাইট জানিয়েছে, এটি ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত হয় এবং Latin Grammy Awards-এর সময় দুজন শিল্পী একসঙ্গে গানটি পরিবেশনও করেন। এটি দেখায় যে গানটির মূল সুর ও ভাবনা পরবর্তী সময়ের শিল্পীদের কাছেও ব্যবহারযোগ্য থেকেছে।
আজকের শ্রোতার কাছে It’s My Life-এর অর্থ কী?
২০০০ সালে গানটি যখন প্রকাশিত হয়েছিল, তখন পৃথিবী নতুন শতাব্দীতে প্রবেশ করছিল। আজকের পৃথিবী প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং দ্রুত পরিবর্তনের কারণে আরও ভিন্ন। তবুও “It’s My Life”-এর মূল প্রশ্নটি বদলায়নি। নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত কে নেবে? অন্যের প্রত্যাশা কি একজন মানুষকে নিজের স্বপ্ন থেকে দূরে সরিয়ে দেবে? নাকি মানুষ নিজের পথ বেছে নেওয়ার সাহস করবে? এই কারণেই গানটি এখনো নতুন শ্রোতাদের কাছেও প্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে। গানটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবন সীমিত, সময় ফিরে আসে না। তাই নিজের জীবনকে অর্থপূর্ণ করার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত নিজেরই।
শেষ কথা
Bon Jovi-এর “It’s My Life” শুধু একটি রক গান নয়; এটি একটি সময়ের সঙ্গে আরেক সময়ের সংযোগ তৈরি করা গান। এখানে আছে Bon Jovi-এর পুরোনো রক ঐতিহ্য, Max Martin-এর আধুনিক পপ-সংগীতের ছোঁয়া, Frank Sinatra-র প্রতি শ্রদ্ধা, “Livin’ on a Prayer”-এর Tommy ও Gina-র স্মৃতি এবং সবচেয়ে বড় কথা—নিজের জীবন নিজের মতো করে বাঁচার আকাঙ্ক্ষা। ২০০০ সালে প্রকাশের পর গানটি বিশ্বজুড়ে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছেছে। Billboard Hot 100-এ ৩৩ নম্বরে ওঠা থেকে শুরু করে GRAMMY মনোনয়ন এবং পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের নতুন সংস্করণ সব মিলিয়ে “It’s My Life” Bon Jovi-এর দীর্ঘ সংগীতযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। আর হয়তো এ কারণেই গানটির সবচেয়ে বড় শক্তি কোনো নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে বাঁধা নয়। যতদিন মানুষ নিজের স্বপ্ন, স্বাধীনতা ও জীবনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাববে, ততদিন “It’s My Life”-এর মতো একটি গান নতুন করে অর্থ খুঁজে নেবে।
It’s My Life গান নিয়ে FAQ
১. Bon Jovi-এর It’s My Life গানটি কবে প্রকাশিত হয়?
“It’s My Life” ২০০০ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি Bon Jovi-এর Crush অ্যালবামের প্রধান একক ছিল।
২. It’s My Life গানটির লেখক কারা?
গানটি লিখেছেন Jon Bon Jovi, Richie Sambora এবং Max Martin।
৩. It’s My Life কোন অ্যালবামের গান?
গানটি Bon Jovi-এর সপ্তম স্টুডিও অ্যালবাম Crush-এর গান।
৪. It’s My Life গানের মূল বক্তব্য কী?
গানটির মূল বক্তব্য হলো নিজের জীবন, সিদ্ধান্ত ও পরিচয়ের ব্যাপারে আত্মনির্ভর থাকা এবং জীবনের সময়কে নিজের মতো করে কাজে লাগানোর আকাঙ্ক্ষা।
৫. It’s My Life গানে Frank Sinatra-র প্রসঙ্গ কেন এসেছে?
গানে Frank Sinatra এবং তাঁর বিখ্যাত “My Way” গানের প্রতি সরাসরি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এটি নিজের পথে চলার ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করে।
৬. It’s My Life গানে Tommy ও Gina কারা?
Tommy ও Gina হলো Bon Jovi-এর “Livin’ on a Prayer” গানের পরিচিত দুই চরিত্র। “It’s My Life”-এ তাদের আবার উল্লেখ করা হয়েছে।
৭. It’s My Life Billboard Hot 100-এ কত নম্বরে উঠেছিল?
গানটি Billboard Hot 100-এ ৩৩ নম্বরে উঠেছিল এবং ২০ সপ্তাহ চার্টে ছিল।
৮. It’s My Life কি GRAMMY মনোনয়ন পেয়েছিল?
হ্যাঁ। ২০০১ সালের GRAMMY Awards-এ গানটি Best Rock Performance by a Duo or Group with Vocal বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল।
৯. It’s My Life মিউজিক ভিডিও কোথায় শুট করা হয়েছিল?
Bon Jovi-এর অফিসিয়াল আর্কাইভ অনুযায়ী, মিউজিক ভিডিওটির শুটিং ২০০০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে হয়েছিল এবং Los Angeles-এর 2nd Avenue Tunnel-এও দৃশ্য ধারণ করা হয়।
১০. It’s My Life এখনো কেন জনপ্রিয়?
নিজের জীবন নিজের মতো করে বাঁচা, নিজের কণ্ঠকে প্রকাশ করা এবং সময়কে অর্থপূর্ণভাবে ব্যবহার করার মতো সার্বজনীন বিষয় গানটির সঙ্গে যুক্ত। তাই প্রজন্ম বদলালেও গানটির আবেদন নতুন শ্রোতাদের কাছে ফিরে আসে।
আরও পড়ুন:
- Scorpions-এর Wind of Change: এক পৃথিবীর গল্প
- পিংক ফ্লয়েড- ‘Another Brick in the Wall’:গল্প
- Summer of '69 গান: যে গ্রীষ্ম আজও ফুরায় না
- Knockin’ on Heaven’s Door:এক কালজয়ী গান
- Wish You Were Here: হারানো বন্ধুর গল্প
- No Woman, No Cry: বব মার্লের কালজয়ী গান
- Take Me Home, Country Roads:ঘরে ফেরার গান
- Hotel California: Eagles-এর কালজয়ী গান

