যত বড় কেইস চলে ফেইস টু ফেইসলাভ কিছু নেই সব গোপনে শেষসরল মানুষ যারা গা বাঁচিয়ে চলেতাদের পক্ষে এ বি এল আর বিচিৎকার করে বলে ধর! ধর!! ধর!!!
এলআরবি (লাভ রানস ব্লাইন্ড)-এর সংগীতযাত্রার দ্বিতীয় অধ্যায় নিয়ে আমাদের এই বিশেষ আয়োজন। প্রথম পর্বে ব্যান্ডটির শুরুর পথচলা ও প্রথম দিকের অ্যালবামগুলো নিয়ে আলোচনা করার পর, আজকের দ্বিতীয় পর্বে তুলে ধরা হয়েছে এলআরবি-র পরিণত সময়ের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্টুডিও অ্যালবাম আমাদের ও বিস্ময় (১৯৯৮), মন চাইলে মন পাবে (২০০১), অচেনা জীবন (২০০৩), মনে আছে নাকি নাই (২০০৫), স্পর্শ (২০০৭) এবং যুদ্ধ (২০১২)।
প্রতিটি অ্যালবামের প্রকাশকাল, ব্যান্ড লাইনআপ, গীতিকার, পূর্ণ ট্র্যাকলিস্ট এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একত্রে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে এলআরবি-র এই সময়ের সংগীত-ভ্রমণকে একটি পূর্ণাঙ্গ রেফারেন্স হিসেবে পাওয়া যায়। পাশাপাশি অ্যালবামগুলোর মাধ্যমে ব্যান্ডটির সুর, সংগীতায়োজন ও বিষয়বস্তুর বিবর্তনও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে। হার্ড রক, ব্লুজ, সফট রক, রোমান্টিক ব্যালাড এবং মেলোডিপ্রধান গানের অনন্য সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা এই ডিস্কোগ্রাফি প্রমাণ করে, এলআরবি কখনোই একটি নির্দিষ্ট ঘরানার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
প্রতিটি অ্যালবামে নতুন সাউন্ড, নতুন ভাবনা এবং সময়োপযোগী সংগীত উপহার দিয়ে তারা শ্রোতাদের ভালোবাসা ধরে রেখেছে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়। এই পর্বটি তাই শুধু কয়েকটি অ্যালবামের তথ্যসংকলন নয়; বরং আইয়ুব বাচ্চুর নেতৃত্বে এলআরবি-র সৃজনশীল পরিণতি, সংগীতের বিবর্তন এবং বাংলা ব্যান্ডসংগীতে তাদের স্থায়ী উত্তরাধিকারের একটি তথ্যসমৃদ্ধ দলিল।
অ্যালবাম: আমাদের/ এলআরবি- ১৯৯৮
বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে এলআরবি (লাভ রানস ব্লাইন্ড) সবসময়ই নতুনত্ব ও সাহসী সৃজনশীলতার প্রতীক। প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্ন কিছু করার প্রবণতাই ব্যান্ডটিকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। সেই ধারাবাহিকতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ১৯৯৮ সালের জানুয়ারিতে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রকাশিত তাদের যুগান্তকারী ডাবল অ্যালবাম ‘আমাদের ও বিস্ময়’।
এর আগে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বাংলাদেশে ডাবল অ্যালবামের ধারণার পথিকৃৎ হয়েছিল এলআরবি। প্রায় সাত বছর পর আইয়ুব বাচ্চুর নেতৃত্বে ব্যান্ডটি আবারও সেই সাহসী উদ্যোগ নিয়ে ফিরে আসে। দুটি পৃথক স্বাদের অ্যালবাম ‘আমাদের’ এবং ‘বিস্ময়’ একসঙ্গে প্রকাশ করে তারা প্রমাণ করে যে সৃজনশীলতা ও সংগীত-পরীক্ষায় এলআরবি সবসময়ই সময়ের চেয়ে এগিয়ে।
- ⭕️অ্যালবামের লাইন-আপ:
আইয়ুব বাচ্চু (ভোকাল/গিটার) •• রিয়াদ সারওয়ার (ড্রামস) •• শহিদুল ইসলাম টুটুল (কি-বোর্ড/ ভোকাল) •• সাইদুল হাসান স্বপন (বেস)।
🎯 ট্র্যাক লিস্ট:আমাদের-এলআরবি
- সাড়ে তিন হাত মাটি (কথা: বাপ্পী খান, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- ভাল লাগে না (কথা: বাপ্পী খান, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- মাঝরাতে (কথা: আইয়ুব বাচ্চু, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- রোদ্দুর জানে না (কথা: নিয়াজ আহমেদ আংশু, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- প্রজাপতি প্রজাপতি (কথা: বাপ্পী খান, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- বিস্ময় (কথা: বাপ্পী খান, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- ভবের দেশে (কথা: বাপ্পী খান, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- খুব সহজেই (কথা: নিয়াজ আহমেদ আংশু, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- আয়না এবং আমি (কথা: বাপ্পী খান, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- যখন থেমে যায় (কথা: এনজেল শফিক, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- একটি সাঁকো (কথা: নিয়াজ আহমেদ আংশু, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- চাই জল জল (কথা: লতিফুল ইসলাম শিবলী, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
অ্যালবাম: বিস্ময়/ এলআরবি- ১৯৯৮
এই ডাবল অ্যালবামটি দেশের সব ব্যান্ড এবং ব্যান্ডসংগীতপ্রেমী শ্রোতাদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছিল। সংগীতের দিক থেকেও এটি ছিল বৈচিত্র্যে ভরপুর। এলআরবি-র পরিচিত মেলোডিপ্রধান ধারা বজায় রাখার পাশাপাশি এখানে হার্ড রক, আধুনিক রক এবং বিভিন্ন সাউন্ড এক্সপেরিমেন্টের সমন্বয় ঘটানো হয়, যা অ্যালবামটিকে সমসাময়িক অন্যান্য প্রকাশনা থেকে আলাদা মর্যাদা এনে দেয়। ডাবল অ্যালবামের প্রথম অংশ ‘আমাদের’, আর দ্বিতীয় অংশ ‘বিস্ময়’ দুটি মিলেই গড়ে ওঠে এলআরবি-র ক্যারিয়ারের অন্যতম উচ্চাভিলাষী এবং স্মরণীয় সংগীত-প্রকল্প।
🎯 ট্র্যাক লিস্ট: বিস্ময়-এলআরবি
- একটি বার (কথা: মারুফ আহমেদ, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- ষোল আনা (কথা: নিয়াজ আহমেদ আংশু, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- জল জোছনা (কথা: নিয়াজ আহমেদ আংশু, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- সুইসাইড নোট (কথা: নিয়াজ আহমেদ আংশু, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- শুকতারা (কথা: আইয়ুব বাচ্চু, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- মনটা আমার (কথা: লতিফুল ইসলাম শিবলী, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- স্বপ্ন বদল (কথা: বাপ্পী খান, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- আকাশ জোড়া ভালবাসা (কথা: এনজেল শফিক, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- মন পুড়ে ছাই হয় (কথা: বাপ্পী খান, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- যাবে যদি চলে যাও (কথা: লতিফুল ইসলাম শিবলী, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- স্মৃতি (কথা: বাপ্পী খান, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- মেলামেশা (কথা: বাপ্পী খান, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
অ্যালবাম: মন চাইলে মন পাবে/ এলআরবি- ২০০১
২০০১ সালে প্রকাশিত এলআরবি (লাভ রানস ব্লাইন্ড)-এর অন্যতম জনপ্রিয় স্টুডিও অ্যালবাম ‘মন চাইলে মন পাবে’ বাংলা ব্যান্ডসংগীতের রোমান্টিক ধারায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। অ্যালবামটির শিরোনাম গান ‘মন চাইলে মন পাবে’ প্রকাশের পরপরই শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নেয় এবং সে সময়ের তরুণ প্রজন্মের অন্যতম প্রিয় গানে পরিণত হয়। গানটির কথা, সুর ও সংগীতায়োজন করেছিলেন কিংবদন্তি গিটারিস্ট, গায়ক ও সুরকার আইয়ুব বাচ্চু।
এলআরবি মূলত শক্তিশালী হার্ড রক, ব্লুজ রক ও মেলোডিক রকের জন্য সুপরিচিত হলেও, এই অ্যালবামে ব্যান্ডটি আবেগঘন প্রেম, সম্পর্ক এবং জীবনের কোমল অনুভূতিগুলোকে আরও বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে হার্ড রকের শক্তিমত্তার পাশাপাশি মেলোডিপ্রধান ও রোমান্টিক গানগুলোও সমানভাবে শ্রোতাদের মন জয় করে নেয়।
এ কারণেই ‘মন চাইলে মন পাবে’ শুধু একটি সফল অ্যালবাম নয়, বরং এলআরবি-র বহুমাত্রিক সংগীতচর্চারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। অ্যালবামটি প্রকাশের সময় এর পৃষ্ঠপোষক (স্পন্সর) ছিল পেপসি, যা সে সময় বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের বাণিজ্যিক পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
- ⭕️অ্যালবামের লাইন-আপ:
আইয়ুব বাচ্চু (ভোকাল/গিটার) •• রিয়াদ সারওয়ার (ড্রামস) •• শহিদুল ইসলাম টুটুল (কি-বোর্ড/ ভোকাল) •• সাইদুল হাসান স্বপন (বেস)।
🎯 ট্র্যাক লিস্ট:মন চাইলে মন পাবে-এলআরবি
- মন চাইলে মন পাবে (কথা: আইয়ুব বাচ্চু, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- সুখে থাকো তুমি ভাল থাকো (কথা: আইয়ুব বাচ্চু, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- আপন কেহ নাই (কথা: আইয়ুব বাচ্চু, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- স্বার্থের কাছে বন্দি মন (কথা: কবির বকুল, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- ধর! ধর! ধর! চোর (কথা: আইয়ুব বাচ্চু, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- আমার প্রথম আমার শেষ বাংলাদেশ (কথা: কবির বকুল, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- জন্ম মৃত্যু (কথা: কবির বকুল, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- মন ভালো নাইরে (কথা: আইয়ুব বাচ্চু, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- দু:খকে কর জয় (কথা: আইয়ুব বাচ্চু, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- গগণের তারা (কথা: মোশাদেক সরকার রাজন, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- পালিয়ে যাবো (কথা: আইয়ুব বাচ্চু, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- পালতোলা নায় (কথা: মোশাদেক সরকার রাজন, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
অ্যালবাম: অচেনা জীবন/এলআরবি- ২০০৩
২০০৩ সালে প্রকাশিত ‘অচেনা জীবন’ এলআরবি (লাভ রানস ব্লাইন্ড)-এর অন্যতম জনপ্রিয় ও নান্দনিক স্টুডিও অ্যালবাম। রোমান্টিক অনুভূতি, সফট রক এবং মেলোডিপ্রধান সুরের অনবদ্য সমন্বয়ে নির্মিত এই অ্যালবামটি ব্যান্ডটির সংগীতযাত্রায় একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
অ্যালবামটির প্রতিটি গানে আইয়ুব বাচ্চুর আবেগঘন কণ্ঠ, হৃদয়স্পর্শী সুর এবং তাঁর স্বাক্ষরধর্মী জাদুকরী গিটার সোলো এক অনন্য আবহ তৈরি করেছে। আগের অ্যালবামগুলোর তুলনায় এখানে এলআরবি আরও পরিণত ও আধুনিক সাউন্ড নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, যেখানে সফট রক, মেলোডিক রক এবং সমসাময়িক সংগীতায়োজনের সুন্দর মিশ্রণ লক্ষ করা যায়।
সুর, সংগীতায়োজন এবং গীতিকবিতার ভারসাম্যের কারণে ‘অচেনা জীবন’ আজও এলআরবি-র অন্যতম সেরা ও শ্রোতাপ্রিয় অ্যালবাম হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি শুধু বাণিজ্যিকভাবেই সফল ছিল না, বরং বাংলা ব্যান্ডসংগীতে মেলোডিপ্রধান রকের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবেও বিশেষভাবে স্মরণীয়।
- ⭕️অ্যালবামের লাইন-আপ:
আইয়ুব বাচ্চু (ভোকাল/গিটার) •• রিয়াদ সারওয়ার (ড্রামস) •• শহিদুল ইসলাম টুটুল (কি-বোর্ড/ ভোকাল) •• সাইদুল হাসান স্বপন (বেস)।
🎯 ট্র্যাক লিস্ট: অচেনা জীবন- এলআরবি
- শুনতে কি পাও (কথা: আইয়ুব বাচ্চু , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- কে জানে (কথা: আইয়ুব বাচ্চু , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- অচেনা জীবন (কথা: আইয়ুব বাচ্চু , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- স্বেচ্ছাচারী (কথা: নিয়াজ আহমেদ আংশু , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- যদি ফিরিয়ে দাও (কথা: আইয়ুব বাচ্চু, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- একবার (কথা: নিয়াজ আহমেদ আংশু , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- এক বিকেলের মেয়ে (কথা: নিয়াজ আহমেদ আংশু , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- মিথ্যের বাদশাহ (কথা: নিয়াজ আহমেদ আংশু , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- কত দিন দেখিনি তোমায় (কথা: বাপ্পী খান , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- যেদিন আমি রবও না (কথা: আইয়ুব বাচ্চু , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
অ্যালবাম: মনে আছে নাকি নাই/ এলআরবি- ২০০৫
২০০৫ সালে সংগীতা ব্যানার থেকে প্রকাশিত এলআরবি (লাভ রানস ব্লাইন্ড)-এর ‘মনে আছে নাকি নাই’ অ্যালবামটি প্রকাশের পরপরই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। অ্যালবামের শিরোনাম গান ‘মনে আছে নাকি নাই’ এতটাই শ্রোতাপ্রিয় হয়েছিল যে, এর নামটি সে সময় তরুণদের মুখে মুখে একটি বহুল ব্যবহৃত সংলাপ বা জনপ্রিয় অভিব্যক্তিতে পরিণত হয়।
অ্যালবামটিতে এলআরবি তাদের পরিচিত মেলোডিপ্রধান রক, রোমান্টিক আবহ এবং আধুনিক সংগীতায়োজনের ধারাকে আরও পরিণতভাবে উপস্থাপন করে। আইয়ুব বাচ্চুর আবেগঘন কণ্ঠ, সুরসৃষ্টি এবং স্বাক্ষরধর্মী গিটার পরিবেশনা অ্যালবামটির প্রতিটি গানকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে, যা প্রকাশের দুই দশক পরও শ্রোতাদের কাছে সমানভাবে সমাদৃত।
সে সময়ের জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ড djuice (ডিজুস) অ্যালবামটির পৃষ্ঠপোষক (স্পন্সর) ছিল, যা বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতে করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ঐতিহাসিক দিক থেকেও ‘মনে আছে নাকি নাই’ অ্যালবামটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এটি ছিল এলআরবি-র দীর্ঘদিনের সদস্য ও কিবোর্ডবাদক শহিদুল ইসলাম টুটুল-এর ব্যান্ডের সঙ্গে প্রকাশিত শেষ স্টুডিও অ্যালবাম। তাঁর বিদায়ের মাধ্যমে এলআরবি-র একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটে।
- ⭕️অ্যালবামের লাইন-আপ:
🎯 ট্র্যাক লিস্ট:মনে আছে নাকি নাই- এলআরবি
- তোমাকে ভালবাসি (কথা: নিয়াজ আহমেদ আংশু , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- কষ্টটা একটু কম দিলে হত না (কথা: চন্দ্রমুখী , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- কখনো বা (কথা: বিপ্লব সিকদার , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- মনে আছে নাকি নাই (কথা: মারজুল রাসেল , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- কোন কারনে (কথা: খাতেমুন নেছা, কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- কেউতো কথা রাখে না (কথা: আইয়ুব বাচ্চু , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- ঝামেলা টামেলা (কথা: আইয়ুব বাচ্চু , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- বান্দা (কথা: মোশাদেক সরকার রাজন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- আসবো ফিরে (কথা: বিপ্লব সিকদার , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- হৃদয়হীনা (কথা: আইয়ুব বাচ্চু , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
অ্যালবাম: স্পর্শ / এলআরবি- ২০০৭
২০০৭ সালে প্রকাশিত ‘স্পর্শ’ এলআরবি (লাভ রানস ব্লাইন্ড)-এর সংগীতজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই অ্যালবাম প্রকাশের আগে ব্যান্ডটির লাইনআপে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। দীর্ঘদিনের দুই সদস্য—ড্রামার রিয়াদ সারওয়ার এবং কিবোর্ডিস্ট শহিদুল ইসলাম টুটুল—ব্যান্ড ছেড়ে যাওয়ার পর তাদের স্থলাভিষিক্ত হন ড্রামসে গোলামুর রহমান রোমেল এবং লিড গিটারে আবদুল্লাহ আল মাসুদ। নতুন সদস্যদের সংযোজনে এলআরবি নতুন উদ্যম ও ভিন্ন সাউন্ড নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হয়।
সংগীতের দিক থেকে ‘স্পর্শ’ অ্যালবামে আইয়ুব বাচ্চুর স্বাক্ষরধর্মী গিটার সোলো, ব্লুজ রকের প্রভাব এবং মেলোডিপ্রধান সুরের চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়। তাঁর গিটার বাজানোর আবেগ, পরিণত কণ্ঠ এবং ব্যান্ডের আধুনিক সংগীতায়োজন অ্যালবামটিকে সমসাময়িক সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রকাশনায় পরিণত করে।
এই অ্যালবামের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এলআরবি-র ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুরো অ্যালবামের সব গানের কথা একজনই গীতিকবি লিখেছিলেন। এই ধারাবাহিক গীতিকাঠামো অ্যালবামটির বিষয়বস্তু ও আবেগকে আরও সুসংহত করে এবং ‘স্পর্শ’-কে ব্যান্ডটির ডিস্কোগ্রাফিতে একটি ব্যতিক্রমী ও স্মরণীয় সংযোজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
- ⭕️অ্যালবামের লাইন-আপ:
🎯 ট্র্যাক লিস্ট:স্পর্শ- এলআরবি
- স্পর্শ (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- ঝড় (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- সাবিত্রী রয় (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- তুমি নেই (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- কেউ দূরে গিয়ে (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- যেতে পথে (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- বেদনা (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- আষাড় শ্রাবণ (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- হেলেনা (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- পিছু ডাকে (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
অ্যালবাম: যুদ্ধ/এলআরবি- ২০১২
২০১২ সালে প্রকাশিত ‘যুদ্ধ’ এলআরবি (লাভ রানস ব্লাইন্ড)-এর সর্বশেষ স্টুডিও অ্যালবাম এবং আইয়ুব বাচ্চুর নেতৃত্বে ব্যান্ডটির ডিস্কোগ্রাফির শেষ পূর্ণাঙ্গ অধ্যায়। বিষয়বস্তু, প্রকাশের কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি—সব দিক থেকেই এটি বাংলা ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী সংযোজন।
অ্যালবামটির মূল বার্তা ছিল “আমরা যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই।” সমাজ, মানবতা এবং শান্তির পক্ষে এই অবস্থান অ্যালবামের গানগুলোতে বিভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। আইয়ুব বাচ্চু কেবল একজন সংগীতশিল্পী নন, একজন সচেতন শিল্পী হিসেবেও তাঁর ভাবনা এই অ্যালবামে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রকাশনার ক্ষেত্রেও এলআরবি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। প্রচলিত নিয়মে প্রথমে সিডি আকারে বাজারে না এনে ‘যুদ্ধ’ অ্যালবামটি সর্বপ্রথম মোবাইলভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলালিংক মিউজিক স্টেশন’-এ প্রকাশ করা হয়। সেই সময় এটি ছিল একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ, যার ফলে আনুমানিক আড়াই কোটিরও বেশি মোবাইল গ্রাহকের কাছে অ্যালবামের গান পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ডিজিটাল মাধ্যমে সংগীত বিতরণের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের সংগীতশিল্পে একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিল।
অ্যালবামটির পরিবেশনা ও প্রচারে বাংলালিংক মিউজিক স্টেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এর অন্যতম পৃষ্ঠপোষক (স্পন্সর) ছিল প্রাণ কোলা। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, শান্তির বার্তা এবং আইয়ুব বাচ্চুর স্বকীয় সুর ও সংগীতায়োজনের কারণে ‘যুদ্ধ’ আজও এলআরবি-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক অ্যালবাম হিসেবে স্মরণীয়।
- ⭕️অ্যালবামের লাইন-আপ:
🎯 ট্র্যাক লিস্ট:যুদ্ধ- এলআরবি
- যুদ্ধ (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- একটি ছেলো (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- অন্ধকার (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- সাপ লুডু (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- আগুন নিয়ে (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- যে চলে যায় (কথা: নিয়াজ আহমেদ আংশু , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- আবার যুদ্ধে যাবো (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- অন্ধ (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- পুরোটাই ফাঁকি (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
- ভয় (কথা: সাজ্জাদ হোসেন , কণ্ঠ: আইয়ুব বাচ্চু)
উপসংহার: সময়কে অতিক্রম করা এক সংগীতযাত্রা
বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে এলআরবি (LRB) এমন একটি নাম, যারা প্রতিটি অ্যালবামের মাধ্যমে নতুনত্ব, সৃজনশীলতা এবং সময়োপযোগী ভাবনার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ‘আমাদের ও বিস্ময়’-এর মতো সাহসী ডাবল অ্যালবাম প্রকাশ থেকে শুরু করে ‘যুদ্ধ’-এর মাধ্যমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অ্যালবাম উন্মোচন—প্রতিটি পদক্ষেপই প্রমাণ করে, আইয়ুব বাচ্চুর নেতৃত্বে এলআরবি সবসময়ই সময়ের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে ছিল।
‘মন চাইলে মন পাবে’, ‘অচেনা জীবন’, ‘মনে আছে নাকি নাই’, ‘স্পর্শ’ কিংবা ‘যুদ্ধ’—প্রতিটি অ্যালবামেই আইয়ুব বাচ্চুর জাদুকরী গিটার, হৃদয়স্পর্শী কণ্ঠ, অসাধারণ সুরসৃষ্টি এবং ব্যান্ডটির পরিণত সংগীতায়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা রকের এক অনন্য পরিচয় তুলে ধরেছে। হার্ড রক, ব্লুজ, সফট রক, রোমান্টিক ব্যালাড এবং জীবনঘনিষ্ঠ কথার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই ডিস্কোগ্রাফি কেবল কয়েকটি অ্যালবামের সংকলন নয়; এটি বাংলা ব্যান্ডসংগীতের বিবর্তনের এক মূল্যবান দলিল।
আজও এলআরবি-র গান নতুন শ্রোতাদের মুগ্ধ করে, আর পুরোনো ভক্তদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় স্মৃতিময় এক সময়ে। তাই আইয়ুব বাচ্চু ও এলআরবি-র এই অ্যালবামগুলো শুধু সংগীতের ইতিহাসের অংশ নয়, বরং বাংলা ব্যান্ডসংগীতের এক চিরসবুজ উত্তরাধিকার, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

