কিছু গান আছে যেগুলো মনের ভেতরেও কোথাও যেন থেকে যায়। কয়েকটি লাইন শুনলেই মনে পড়ে যায় কোনো পুরোনো সময়, কোনো হারানো জায়গা কিংবা জীবনের এমন এক অনুভূতি, যার সঙ্গে ভাষার চেয়েও বেশি সম্পর্ক আবেগের। “Rivers of Babylon” তেমনই একটি গান। সত্তরের দশকের শেষ দিকে Boney M.-এর কণ্ঠে গানটি যখন ইউরোপের রেডিও, টেলিভিশন আর সংগীতের চার্টে ঝড় তুলছিল, তখন হয়তো অনেক শ্রোতাই জানতেন না এই পরিচিত সুরের শিকড় আসলে বহু শতাব্দী পেছনে ছড়িয়ে আছে। গানটির গল্প শুরু হয়নি Boney M.-কে দিয়ে। তারও আগে ছিল Jamaica-র reggae সংগীত, তারও আগে ছিল বাইবেলের Psalm 137 ব্যাবিলনে নির্বাসিত মানুষের নিজের দেশ Zion-এর জন্য হাহাকার। অর্থাৎ একটি গানের পথটা ছিল এমন-
প্রাচীন ধর্মীয় কবিতা → Jamaica-র reggae → Rastafari সংস্কৃতি → Boney M.-এর disco-pop → বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা। এই দীর্ঘ যাত্রাই “Rivers of Babylon”-কে শুধু একটি জনপ্রিয় গান নয়, বরং সংগীত ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের এক অসাধারণ উদাহরণে পরিণত করেছে। তার শিকড় দুই হাজার পাঁচশো বছরেরও বেশি পুরোনো। এক পরাজিত জাতির কান্না থেকে শুরু, জ্যামাইকার রেগের পথ ধরে, শেষে ইউরোপের ডিস্কো ফ্লোরে পৌঁছানো। একটা গান এত লম্বা পথ পাড়ি দিতে পারে, ভাবলেই অবাক লাগে। চলুন সেই যাত্রার গল্পটা শুনি।
Rivers of Babylon গানটি আসলে কার?
আজ “Rivers of Babylon” নামটি শুনলেই অধিকাংশ মানুষের মনে Boney M.-এর ১৯৭৮ সালের বিখ্যাত সংস্করণ ভেসে ওঠে। কিন্তু গানটির মূল আধুনিক রূপটি Boney M.-এর তৈরি নয়। ১৯৭০ সালে Jamaican reggae group The Melodians গানটি রেকর্ড ও প্রকাশ করে। এর লেখক ছিলেন দলের সদস্য Brent Dowe ও Trevor McNaughton। গানটির কথা মূলত বাইবেলের Psalm 137-এর ভাবনা ও ভাষার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল; এতে Psalm 19-এরও কিছু উপাদান যুক্ত হয়েছিল। The Melodians-এর সংস্করণ ছিল reggae সংগীতের আবহে তৈরি। কিন্তু এর ভেতরে শুধু ধর্মীয় অনুভূতি ছিল না ছিল দেশ হারানোর কষ্ট, নিজের শিকড়ের প্রতি টান এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। সেখান থেকেই গানটি ধীরে ধীরে Jamaica-র সংগীতজগতের বাইরে পা বাড়াতে শুরু করে।
“Babylon” আর “Zion”-গানের ভেতরের দুই পৃথিবী
“Rivers of Babylon” বুঝতে হলে এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ বুঝতে হয় Babylon এবং Zion। বাইবেলের Psalm 137-এ ব্যাবিলনে নির্বাসিত মানুষের কথা বলা হয়েছে। Jerusalem থেকে বিচ্ছিন্ন সেই মানুষরা ব্যাবিলনের নদীর পাশে বসে নিজেদের দেশ Zion-এর কথা স্মরণ করছিল। এখানে Babylon শুধু একটি প্রাচীন শহর নয়। গানটির সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যায় এটি হয়ে উঠেছে নির্বাসন, পরাধীনতা ও নিজের ঘর থেকে বিচ্ছিন্নতার প্রতীক। অন্যদিকে Zion হয়ে উঠেছে স্বদেশ, শিকড়, পরিচয় ও কাঙ্ক্ষিত মুক্তির প্রতীক। এই কারণেই গানটির আবেগ এত সহজে সময়ের সীমা পেরিয়ে যায়। নিজের দেশ থেকে দূরে থাকা একজন মানুষ, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন কেউ কিংবা নিজের পরিচিত পৃথিবী হারানো একজন মানুষ সবাই কোনো না কোনোভাবে এর অনুভূতির সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নিতে পারেন।
Jamaica-য় Rivers of Babylon-এর শুরু
১৯৭০ সালে The Melodians গানটি প্রকাশ করার পর Jamaica-তে এটি পরিচিত হয়ে ওঠে। তবে গানটির পথ একেবারেই মসৃণ ছিল না। The Melodians-এর সংস্করণে বাইবেলের ভাষার পাশাপাশি Rastafari ভাবধারার কিছু শব্দ ও ধারণা ছিল। এ কারণে গানটি তৎকালীন Jamaica-র সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় বলা হয়, গানটির কিছু Rastafari-সম্পর্কিত উল্লেখের কারণে এটি Jamaican কর্তৃপক্ষের আপত্তির মুখে পড়েছিল। পরে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। গানটির ইতিহাসের এই অংশটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেখায় “Rivers of Babylon” তখন কেবল একটি ধর্মীয় গান ছিল না; এটি Jamaica-র পরিচয়, ধর্মীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গিয়েছিল। তাই গানটির ইতিহাসকে শুধু “একটি গান নিষিদ্ধ হয়েছিল” এমন একটি ছোট ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যায় না। এর পেছনে ছিল সে সময়ের Jamaica-র সাংস্কৃতিক বাস্তবতা এবং Rastafari আন্দোলনের প্রভাব।
The Melodians-এর গান কীভাবে আন্তর্জাতিক শ্রোতার কাছে গেল?
The Melodians-এর “Rivers of Babylon” ১৯৭২ সালের Jamaican চলচ্চিত্র The Harder They Come-এর soundtrack-এ জায়গা পায়। ছবিটির soundtrack-এ Jimmy Cliff, Toots & The Maytals, Desmond Dekker-এর মতো শিল্পীদের পাশাপাশি The Melodians-এর গানটিও ছিল। The Harder They Come শুধু একটি চলচ্চিত্র ছিল না; এর soundtrack Jamaican reggae সংগীতকে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। Apple Music-ও soundtrack-টির প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছে যে ছবিটির সংগীত reggae-কে আন্তর্জাতিক সংগীত মানচিত্রে পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল। ফলে “Rivers of Babylon” ধীরে ধীরে Jamaica-র গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর শ্রোতাদের কাছে পরিচিত হতে থাকে। তবে তখনও গানটি সেই বিশাল আন্তর্জাতিক পপ হিটে পরিণত হয়নি, যেটা আমরা আজ Boney M.-এর সঙ্গে যুক্ত করি। তার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছিল আরও কয়েক বছর।
Boney M. এসে বদলে দিল পুরো গল্প
সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপে একটি নতুন ধরনের সংগীত জনপ্রিয় হচ্ছিল যার নাম disco। আর এই সময়েই জার্মান প্রযোজক Frank Farian-এর তৈরি Euro-Caribbean group Boney M. আন্তর্জাতিক সংগীতের বড় নাম হয়ে উঠছিল। “Daddy Cool”, “Ma Baker” সহ একাধিক গানের মাধ্যমে Boney M. ইতোমধ্যেই ইউরোপীয় শ্রোতাদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছিল। Official Charts-এর তথ্য অনুযায়ী, দলটির মূল সদস্যদের মধ্যে ছিলেন Jamaica-র Liz Mitchell ও Marcia Barrett, Montserrat-এর Maizie Williams এবং Aruba-র Bobby Farrell।
১৯৭৮ সালে Boney M. যখন “Rivers of Babylon” রেকর্ড করে, তখন গানটি যেন দ্বিতীয়বার জন্ম নেয়। The Melodians-এর reggae-নির্ভর আবহের জায়গায় আসে Boney M.-এর disco-pop arrangement। কিন্তু গানটির কেন্দ্রীয় অনুভূতি নির্বাসন, Zion-এর স্মৃতি এবং ধর্মীয় আবহ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। বরং একটি পুরোনো Jamaican song ইউরোপের disco যুগের শ্রোতাদের জন্য নতুন পোশাক পেল।
Boney M.-এর Rivers of Babylon কেন এত আলাদা শোনায়?
The Melodians-এর গান আর Boney M.-এর গান পাশাপাশি শুনলে পার্থক্যটি সহজেই বোঝা যায়। একদিকে রয়েছে Jamaican reggae-এর স্বাভাবিক ছন্দ ও Rastafari সাংস্কৃতিক আবহ। অন্যদিকে Boney M.-এর সংস্করণে রয়েছে আরও মসৃণ, বিস্তৃত এবং শ্রোতাবান্ধব disco arrangement। Boney M. মূল গানটির কিছু Rastafari-নির্দিষ্ট শব্দ ও উল্লেখও পরিবর্তন করেছিল। এর ফলে গানটির ভাষা আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে তুলনামূলকভাবে আরও সাধারণ ধর্মীয় আবহ পায়। এখানে Boney M.-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল তারা গানটির পুরোনো পরিচয় পুরোপুরি মুছে না দিয়ে নতুন সংগীতের ভাষায় সেটিকে অনুবাদ করেছিল। এই কারণেই একজন reggae শ্রোতা যেমন গানটির শিকড় খুঁজে পান Jamaica-তে, তেমনি একজন pop বা disco শ্রোতা সেটিকে নিজের সময়ের গান হিসেবেও গ্রহণ করতে পারেন।
১৯৭৮: Rivers of Babylon-এর বিশ্বজয়
১৯৭৮ সালে “Rivers of Babylon” / “Brown Girl in the Ring” single হিসেবে প্রকাশের পর গানটির জনপ্রিয়তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাজ্যে এটি Official Singles Chart-এর ১ নম্বরে পাঁচ সপ্তাহ অবস্থান করে। Official Charts-এর তথ্য অনুযায়ী, Boney M.-এর ১৯৭৮ সালের দুইটি গানই UK-তে দুই মিলিয়ন-বিক্রির No. 1 single হিসেবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল। জার্মানিতে সাফল্য ছিল আরও অসাধারণ। Guinness World Records-এর তথ্য অনুযায়ী, “Rivers of Babylon” জার্মানির Top 100 Singles chart-এ মোট ১৭ সপ্তাহ ১ নম্বরে ছিল এর মধ্যে টানা ১৬ সপ্তাহও ছিল শীর্ষে। অর্থাৎ, Jamaica-র একটি reggae song কয়েক বছরের মধ্যে ইউরোপের disco যুগের অন্যতম বড় হিটে পরিণত হলো। এটাই “Rivers of Babylon”-এর সবচেয়ে চমকপ্রদ যাত্রা।
Boney M.-এর গানটি আসলে কী বলছে?
এখানে একটু থামা দরকার। কারণ Boney M.-এর “Rivers of Babylon” শুনলে প্রথমে মনে হতে পারে এটি একটি সুন্দর, ছন্দময় পুরোনো disco song। কিন্তু গানটির কথার ভেতরে রয়েছে গভীর বিষাদ। একজন মানুষ নিজের দেশ থেকে দূরে। চারপাশে অন্য মানুষের পৃথিবী। অথচ তার মনে পড়ে নিজের Zion-এর কথা। এই অনুভূতিটা শুধু প্রাচীন ইহুদি নির্বাসনের গল্পে আটকে নেই।
আজকের পৃথিবীতেও কত মানুষ কাজ, যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অভিবাসন কিংবা জীবনের নানা কারণে নিজের জন্মভূমি থেকে দূরে থাকেন। তাঁদের কাছে “Rivers of Babylon” তাই নতুন করে অর্থ পেতে পারে। গানটির সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গা এখানেই এটি অতীতের একটি গল্প বলতে বলতে বর্তমানের মানুষের অনুভূতিকেও ছুঁয়ে যায়।
একটি বিষণ্ণ গান, অথচ সুর এত আনন্দময় কেন?
“Rivers of Babylon”-এর সবচেয়ে সুন্দর বৈপরীত্যগুলোর একটি হলো এর কথা ও সুরের পার্থক্য। কথার মধ্যে রয়েছে নির্বাসন, কান্না ও হারানো স্বদেশের স্মৃতি। কিন্তু Boney M.-এর পরিবেশনা ছন্দময়, প্রাণবন্ত এবং সহজে গলা মেলানোর মতো। এই বৈপরীত্যই গানটিকে আরও স্মরণীয় করেছে। শ্রোতা চাইলে শুধু সুর উপভোগ করতে পারেন। আবার একটু মন দিয়ে শুনলে বুঝতে পারেন এই নাচের মতো ছন্দের ভেতরেও একজন দেশহারা মানুষের দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে আছে। সম্ভবত এই দুই স্তরের কারণেই গানটি শুধু একটি সময়ের disco hit হয়ে থেমে যায়নি।
Rivers of Babylon কি শুধু একটি ধর্মীয় গান?
না—এটিকে শুধু ধর্মীয় গান বললে এর ব্যাপ্তি ছোট হয়ে যায়। এর উৎস অবশ্যই বাইবেলীয়। কিন্তু The Melodians-এর সংস্করণের মাধ্যমে এটি Rastafari সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এরপর Boney M.-এর হাতে এসে এটি হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক pop/disco music-এর অংশ। ফলে একই গানকে তিনটি ভিন্ন স্তরে দেখা যায়- ধর্মীয় কবিতা → সাংস্কৃতিক প্রতীক → জনপ্রিয় সংগীত। এই পরিবর্তনটাই “Rivers of Babylon”-এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক।
গানটির ভেতরে Jamaica কোথায়?
Boney M.-এর সংস্করণ শুনলে Jamaica-র উপস্থিতি হয়তো সরাসরি বোঝা যায় না। কিন্তু গানটির শিকড় পুরোপুরি Jamaica-য়। The Melodians-এর reggae interpretation, Rastafari ভাবধারা এবং Jamaican সংগীত সংস্কৃতি গানটির প্রথম আধুনিক অধ্যায়ের ভিত্তি তৈরি করেছিল। এরপর The Harder They Come soundtrack গানটিকে আরও বড় শ্রোতৃসমাজের কাছে নিয়ে যায়। অর্থাৎ Boney M. গানটির যাত্রা শুরু করেনি; বরং একটি ইতিমধ্যে জন্ম নেওয়া Jamaican গানকে নতুন মহাদেশের নতুন সংগীতভাষায় বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিল। এই পার্থক্যটি মনে রাখা জরুরি।
Rivers of Babylon-এর আসল সৌন্দর্য কোথায়?
সম্ভবত এর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো একটি গান এত দীর্ঘ পথ পেরিয়েও তার মূল আবেগ হারায়নি। প্রাচীন Psalm 137-এ যে মানুষরা Babylon-এর নদীর পাশে বসে Zion-এর কথা মনে করছিল, কয়েক হাজার বছর পর সেই একই ভাবনা Jamaica-র reggae সংগীতে নতুন ভাষা পেল। তারপর ইউরোপের disco যুগে Boney M. সেটিকে আবার নতুন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিল। সংগীতের ইতিহাসে এমন উদাহরণ খুব বেশি নেই, যেখানে একটি প্রাচীন ধর্মীয় কবিতার ভাবনা এত ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকে।
🎵Boney M. -এর Rivers of Babylon
আজও কেন Rivers of Babylon এত জনপ্রিয়?
আজকের শ্রোতার কাছে Boney M. হয়তো “retro music”-এর অংশ। কিন্তু “Rivers of Babylon” শুধু পুরোনো দিনের স্মৃতি নয়। এর সুর সহজে মনে থাকে। কোরাস শ্রোতাকে গলা মেলাতে বাধ্য করে। আর এর ভেতরের গল্প এমন একটি অনুভূতি নিয়ে কথা বলে, যা মানুষের কাছে চিরপরিচিত নিজের ঘরকে মনে পড়া। এ কারণেই গানটি একদিকে সত্তরের দশকের disco যুগের স্মৃতি, অন্যদিকে Jamaica-র reggae ইতিহাসের অংশ, আবার একই সঙ্গে প্রাচীন ধর্মীয় সাহিত্যের আধুনিক প্রতিধ্বনি। একটি গান যখন এতগুলো পরিচয় একসঙ্গে বহন করতে পারে, তখন তাকে শুধু “পুরোনো হিট গান” বলে শেষ করে দেওয়া যায় না।
শেষ কথা: ব্যাবিলনের নদী থেকে বিশ্বসংগীতের মঞ্চে
“Rivers of Babylon”-এর গল্প আসলে একটি গানের গল্পের চেয়েও বড়। এটি শুরু হয় বাইবেলের প্রাচীন গীতিকবিতায়। সেখানে ছিল ব্যাবিলনে নির্বাসিত মানুষের কান্না এবং Zion-এর জন্য আকুলতা। তারপর Jamaica-র The Melodians সেই পুরোনো ভাবনাকে reggae সংগীতের ভাষায় নতুন করে গাইলেন। Rastafari সংস্কৃতির প্রভাব গানটিকে নতুন অর্থ দিল। ১৯৭২ সালের The Harder They Come soundtrack গানটিকে আরও বিস্তৃত শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিল। আর ১৯৭৮ সালে Boney M. এসে সেই গানকে disco-pop-এর বিশাল মঞ্চে তুলে দিল।
ফলে একটি প্রাচীন নির্বাসনের গান হয়ে উঠল বিশ্বজোড়া জনপ্রিয় একটি classic। আজও যখন “Rivers of Babylon” বাজে, তখন তার সঙ্গে শুধু Boney M.-এর কণ্ঠ বা সত্তরের দশকের disco beat ফিরে আসে না। ফিরে আসে Jamaica-র reggae, Rastafari সংস্কৃতি, বাইবেলের প্রাচীন কবিতা এবং নিজের ঘর হারানো মানুষের দীর্ঘশ্বাস। হয়তো এটাই একটি সত্যিকারের কালজয়ী গানের পরিচয় সময় বদলায়, সুরের ধরন বদলায়, শ্রোতা বদলায়; কিন্তু গানের ভেতরে থাকা মানুষের অনুভূতিটা থেকে যায়। আর “Rivers of Babylon” সেই অনুভূতিকে বহন করে আজও বয়ে চলেছে এক নদী থেকে আরেক নদীতে, এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে।
আরও পড়ুন:
- Hedy West-500 Miles: ঘরে ফিরতে না পারা গান
- Smoke on the Water: Deep Purple-এর গান
- Bon Jovi-এর It’s My Life: গানের নেপথ্যের গল্প
- Scorpions-এর Wind of Change: এক পৃথিবীর গল্প
- পিংক ফ্লয়েড- ‘Another Brick in the Wall’:গল্প
- Summer of '69 গান: যে গ্রীষ্ম আজও ফুরায় না
- No Woman, No Cry: বব মার্লের কালজয়ী গান
- Hotel California: Eagles-এর কালজয়ী গান

