উইনিংয়ের চন্দন জামান আলী: সংগীতজীবন ও একক অ্যালবাম ডিস্কোগ্রাফি

বাউল পানকৌড়ি
বাংলা ব্যান্ডসংগীতের শ্রোতাদের কাছে চন্দন একটি পরিচিত নাম। উইনিং ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠশিল্পী ও গিটারিস্ট হিসেবে তিনি বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেন। তাঁর কণ্ঠে ‘দূর পাহাড়ে’, ‘হৃদয় জুড়ে’ ও ‘সোনার মেয়ে’র মতো গান শ্রোতাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। তবে ব্যান্ডের গানগুলোর বাইরেও চন্দনের রয়েছে নিজস্ব সংগীতযাত্রা এবং একক অ্যালবামের ইতিহাস। চন্দনের পুরো নাম জামান আলী চন্দন। তিনি কণ্ঠশিল্পী হওয়ার পাশাপাশি গিটারবাদক, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর সংগীতের পরিচয়ে যেমন ব্যান্ডসংগীতের আবহ রয়েছে, তেমনি একক কাজেও রয়েছে নিজস্ব সুর ও গায়কির প্রকাশ।

এই লেখায় থাকছে উইনিং ব্যান্ডের চন্দনের একক অ্যালবাম ‘অনামিকা’ ও ‘হৃদয় ভরে ভালোবাসা’ নিয়ে আলোচনা এবং অ্যালবাম দুটির ডিস্কোগ্রাফি। উইনিং ব্যান্ডের অ্যালবাম ও পূর্ণ ডিস্কোগ্রাফি নিয়ে আলাদা লেখা থাকায় এখানে সেগুলো পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

উইনিং ব্যান্ডের চন্দন জামান আলী এবং তাঁর একক অ্যালবাম অনামিকা ও হৃদয় ভরে ভালোবাসা

চন্দন জামান আলী: পরিচয় ও সংগীতজীবন

চন্দন জামান আলী গায়ক, গীতিকার, গিটারিস্ট, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। তাঁর জন্মদিন ৭ জুন। উইনিং ব্যান্ড ১৯৮৩ সালে ঢাকায় গঠিত হয়, আর ১৯৮৭ সালে চন্দন সেখানে গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট হিসেবে যোগ দেন। এরপর ব্যান্ডের মূল কণ্ঠ ও গিটারিস্ট হয়ে ওঠেন। রোমান্টিক, স্যাড রোমান্টিক, সফট রক ও হার্ড রক, সব ধরনের গানেই তাঁর কণ্ঠ ছিল আবেগময়। গান শুনেই শ্রোতারা বুঝে যেতেন এটি চন্দনের গলা। বর্তমানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় বসবাস করছেন এবং প্রবাসেও সংগীতচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। একজন ব্যান্ডশিল্পীর পরিচয় সাধারণত তাঁর কণ্ঠ কিংবা বাদ্যযন্ত্র বাজানোর দক্ষতার মাধ্যমে গড়ে ওঠে। চন্দনের ক্ষেত্রে এই দুই বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় তাঁকে শ্রোতাদের কাছে আলাদা করে তুলেছিল। তাঁর কণ্ঠের আবেগপূর্ণ প্রকাশ এবং গিটারের সুর উইনিংয়ের গানগুলোকে স্বতন্ত্র আবহ দিয়েছিল।

নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীত দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছিল। অডিও ক্যাসেটের মাধ্যমে গান ছড়িয়ে পড়ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। তরুণদের মধ্যে ব্যান্ডের অ্যালবাম সংগ্রহ, গান শোনা এবং গিটার শেখার আগ্রহও বাড়ছিল। এই পরিবেশে উইনিংয়ের গান শ্রোতাদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে। ব্যান্ডটির সঙ্গে চন্দনের নামও ক্রমে গভীরভাবে জড়িয়ে যায়। চন্দনের সংগীতজীবনের বিশেষ দিক হলো, তিনি শুধু অন্যের লেখা গান পরিবেশন করেননি; নিজের লেখা ও সুর করা গানেও শ্রোতাদের সামনে হাজির হয়েছেন। ফলে তাঁর সংগীতপরিচয় কেবল একজন কণ্ঠশিল্পীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

উইনিং ব্যান্ডের সঙ্গে চন্দনের পথচলা

উইনিং ঢাকায় গঠিত হয় ১৯৮৩ সালের ১ জানুয়ারি। শুরুর দলে ছিলেন হায়দার হোসেন, মিতুল, রঞ্জন, শেলী, রানা ও ফাহিম। ১৯৮৪-৮৫ সালের মধ্যে কয়েকজন সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেলে নতুন সদস্যরা যোগ দেন। ১৯৮৬-৮৭ সালের দিকে ব্যান্ড তাদের মূল ভোকালিস্ট খুঁজছিল। এ সময় জেমস (নগর বাউল) কিছুদিন ব্যান্ডের সঙ্গে অনুশীলন করেন। এরপর ১৯৮৭ সালে চন্দন গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট হিসেবে ব্যান্ডে যোগ দেন। এই যোগদানই উইনিংয়ের সংগীতজীবনের গতিপথ ঠিক করে দেয়।

উইনিংয়ের গানে চন্দনের কণ্ঠের স্বাতন্ত্র্য ছিল অন্যতম আকর্ষণ। রোমান্টিক গান, বিষণ্ন আবহের গান কিংবা রকধর্মী পরিবেশনা- বিভিন্ন ধরনের গানে তিনি নিজের গায়কির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছিলেন। নব্বইয়ের দশকে উইনিংয়ের গান জনপ্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চন্দনও শ্রোতাদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। ব্যান্ডের গানগুলোতে তাঁর কণ্ঠ ও গিটারের উপস্থিতি এমন একটি সংগীতপরিচয় তৈরি করে, যা দীর্ঘ সময় পরও শ্রোতাদের স্মৃতিতে রয়ে গেছে। বাংলা ব্যান্ডসংগীতের সেই সময়ের শ্রোতাদের কাছে উইনিংয়ের নাম উচ্চারিত হলে চন্দনের কথা মনে পড়া তাই অস্বাভাবিক নয়। ব্যান্ডটির সংগীতযাত্রার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও অবদান নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

উইনিংয়ের পথচলায় চন্দনের ভূমিকা

  • মূল কণ্ঠ ও গিটারিস্ট: যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠ ও গিটারের মুখ হয়ে ওঠেন।
  • সেরা সময়ের সঙ্গী: ১৯৯১ সালে প্রথম অ্যালবাম ‘উইনিং’ প্রকাশিত হয়। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৪ ছিল ব্যান্ডের সবচেয়ে সফল সময়, যখন তারা বিভিন্ন কনসার্টে অংশ নেয়।
  • গীতিকার ও সুরকার: ‘হৃদয়জুড়ে’র মতো গান তাঁর নিজের লেখা ও সুর করা।
  • পরিবর্তনের মধ্যেও স্থায়ী মুখ: ১৯৯৪ সালে ব্যান্ড ভেঙে যায়, ১৯৯৫ সালে দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘অচেনা শহর’ প্রকাশিত হয়। ১৯৯৮ সালে চন্দন উচ্চশিক্ষার জন্য এক বছরের জন্য ইংল্যান্ডে যান, তখন কার্যক্রম থমকে যায়। ২০০০ সালে শেরাটনে নেসক্যাফে আনপ্লাগডের কনসার্ট বড় সাফল্য পায়।

দূর পাহাড়ে ও ‘হৃদয়জুড়ে: গিটারের স্মৃতিতে ফিরে আসা সুর

চন্দন ও উইনিংয়ের কথা উঠলে ‘দূর পাহাড়ে’ গানের প্রসঙ্গ আসেই। নব্বইয়ের দশকে যাঁরা গিটার শেখা শুরু করেছিলেন, তাঁদের অনেকের কাছে এটি এমন একটি গান, যা শেখার আগ্রহ বাড়িয়েছিল। প্রিয় গানের সুর নিজে বাজাতে পারার তৃপ্তি আর শিল্পীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত হওয়ার অনুভূতি ছিল আলাদা। চন্দনের গায়কি ও গিটারের সুরের মিলনই গানটিকে আকর্ষণীয় করেছিল, তাই বহু বছর পরও এর কথা উঠলে পুরোনো শ্রোতাদের মনে সেই সময়ের স্মৃতি ফিরে আসে।

‘হৃদয়জুড়ে’ চন্দনের নিজের লেখা ও সুর করা গান। দীর্ঘ সময় পর গানবাংলা টেলিভিশনের ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ অনুষ্ঠানের জন্য তিনি গানটিতে নতুন করে কণ্ঠ দেন। এতে মূল গানের আবেগ অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছেও গানটি পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়। এত বছর পরও শ্রোতারা তাঁর গান মনে রেখেছেন, এটি চন্দনকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে। তাই এই নতুন পরিবেশনা শুধু একটি পুরোনো গানের পুনরায় রেকর্ড নয়, বরং শিল্পী ও শ্রোতার দীর্ঘদিনের সম্পর্কেরও প্রকাশ।

কানাডায় প্রবাসজীবন ও সংগীতচর্চা

দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় বসবাস করছেন চন্দন জামান আলী। প্রবাসজীবনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংগীতচর্চা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। ২০১৮ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে চন্দন জানিয়েছিলেন, কানাডায় টিডি ইনস্যুরেন্সে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সময় বের করে গান তৈরি ও রেকর্ডিং করতেন। পেশাগত ব্যস্ততার সঙ্গে সংগীতের সমন্বয় করা সহজ ছিল না। তবু সংগীতের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি নতুন গান তৈরির কাজ চালিয়ে যেতেন।

প্রবাসে বসবাসকারী অনেক শিল্পীর জন্যই সংগীতচর্চা অব্যাহত রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জীবিকার প্রয়োজনে নিয়মিত কাজ করার পাশাপাশি স্টুডিওতে সময় দেওয়া, গান তৈরি করা এবং সংগীত পরিবেশনার আয়োজন করা সহজ নয়। চন্দনের ক্ষেত্রেও এই বাস্তবতা ছিল। তারপরও সংগীতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের শিল্পীসত্তাকে ধরে রেখেছেন। বাংলাদেশ থেকে দূরে থাকলেও দেশের শ্রোতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি। দেশে এলে উইনিংয়ের সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও লাইভ পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।

প্রবাসী বাঙালিদের কাছে চন্দন ও উইনিং

প্রবাসে বসবাস করলেও চন্দন সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশি শ্রোতাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। ২০১৮ সালের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন শহরে প্রবাসী বাঙালিদের জন্য সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিতেন তিনি। এসব অনুষ্ঠানে উইনিংয়ের গান পরিবেশনের সুযোগ পেতেন এবং প্রবাসী শ্রোতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হতো। 

প্রবাসে থাকা মানুষের কাছে দেশের গান অনেক সময় শৈশব, কৈশোর, বন্ধুত্ব ও তারুণ্যের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। পরিচিত কোনো ব্যান্ডের গান শুনলে মনে পড়ে যায় দেশে কাটানো দিনগুলোর কথা। উইনিংয়ের গান পরিবেশনের সময় চন্দনের জন্যও এমন আবেগের মুহূর্ত তৈরি হতো। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রবাসী বাঙালিদের সামনে গান গাইতে গিয়ে কখনো কখনো মনে হতো যেন তিনি বাংলাদেশেই রয়েছেন। একজন শিল্পীর জন্য নিজের গানের মাধ্যমে প্রবাসে থাকা মানুষের মনে দেশের অনুভূতি জাগিয়ে তোলা বিশেষ প্রাপ্তি। চন্দনের সংগীতজীবনের এই দিকটি তাঁর সঙ্গে শ্রোতাদের সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে সাহায্য করে।

ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সঙ্গে নতুন গান নিয়ে পরিকল্পনা

চন্দন জামান আলীর সংগীতজীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হলো সংগীত পরিচালক ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ। ‘হৃদয়জুড়ে’ গানটি নতুন করে রেকর্ড করার সময় তাঁদের মধ্যে পুরোনো গান নতুন সংগীতায়োজনে উপস্থাপনের পরিকল্পনা তৈরি হয়। এর অংশ হিসেবে উইনিংয়ের ‘ইচ্ছে করে’ গানটি নতুনভাবে করার কাজ শুরু হয়। ফুয়াদের সংগীতায়োজনে গানটিকে নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল। চন্দনের ভাবনায়, পুরোনো গানগুলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করলে সেগুলো নতুন শ্রোতাদের কাছেও পরিচিত হয়ে উঠতে পারে।

২০১৮ সালের প্রতিবেদনে ‘তোমার জন্য’, ‘বাংলাদেশ’ ও ‘কিছু হয় আনমনে’ শিরোনামের কয়েকটি গান নিয়ে তাঁর কাজ করার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু গানের সুর ও সংগীতায়োজন করেছিলেন চন্দন নিজেই, আরেকটি গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ফুয়াদ আল মুক্তাদির। এসব তথ্য চন্দনের সৃজনশীলতার একটি দিক তুলে ধরে। তবে ওই সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখিত গানগুলোর বর্তমান প্রকাশ-অবস্থা সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য ছাড়া নিশ্চিত দাবি করা যায় না।

চন্দন: একক অ্যালবাম ডিস্কোগ্রাফি

উইনিং ব্যান্ডের কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেলেও চন্দন জামান আলীর সংগীতচর্চা ব্যান্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। একক শিল্পী হিসেবেও তিনি অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। একক সংগীতজীবনের অ্যালবাম দুটি ‘অনামিকা’ এবং ‘হৃদয় ভরে ভালোবাসা’  বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নিজের লেখা ও সুর করা গান পরিবেশনের অভিজ্ঞতা চন্দনের সৃজনশীল পরিচয়কে আরও সমৃদ্ধ করেছে। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তাঁর পরিচিতির পাশাপাশি গীতিকার ও সুরকার হিসেবে তাঁর কাজও সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ক্রম অ্যালবাম প্রকাশ লেবেল গানের সংখ্যা
১ অনামিকা ১৯৯৭ সাউন্ডটেক ১২টি
২ হৃদয় ভরে ভালোবাসা ২০১১ জি-সিরিজ ১০টি

📱 সম্পূর্ণ টেবিলটি দেখতে ডানে-বামে স্ক্রল করুন।

টেবিল নোট:চন্দন জামান আলীর একক অ্যালবামের তালিকা- এক নজরে

অনামিকা-চন্দন

চন্দনের প্রথম একক অ্যালবামগ ‘অনামিকা’। ‘অনামিকা’ তাঁর একক শিল্পীসত্তাকে জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। উইনিংয়ের পরিচিত গানের বাইরে তাঁর নিজস্ব সংগীতচর্চা ও একক অ্যালবাম প্রকাশের ইতিহাস বুঝতে এই অ্যালবামের গুরুত্ব রয়েছে।
  • অ্যালবাম: অনামিকা
  • শিল্পী: চন্দন জামান আলী
  • সংগীতায়োজন: ফুয়াদ ইবনে রাব্বি
  • গিটার: চন্দন, ফুয়াদ,কমল
  • ড্রামস ও পারকাশন: টিপু
  • কি-বোর্ড ও বেজ: ফুয়াদ
  • রের্কডিং ও মিক্সিং: সেলিম, ইমন
  • কনসেপ্ট ও ডিজাইন: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপণ
  • ফটোগ্রাফি: গোলাম মোস্তফা
  • উৎসর্গ: বাবা ও মা’কে

অনামিকা অ্যালবাম-ট্রাক লিস্ট

  1. নিশ্চুপ – কথা:জাহাঙ্গীর হায়দার
  2. কাছে এসেছো – কথা:জাহাঙ্গীর হায়দার
  3. অনামিকা – কথা:জাহাঙ্গীর হায়দার
  4. নীল জোছনায় – কথা:জাহাঙ্গীর হায়দার
  5. অপরাজিতা – কথা:জাহাঙ্গীর হায়দার
  6. যন্ত্রণা – কথা:জাহাঙ্গীর হায়দার
  7. এই রাত – কথা:ফরিদা হোসেন
  8. স্বপ্নচারিনী – কথা:জাহাঙ্গীর হায়দার
  9. সন্ধ্যা – কথা:জাহাঙ্গীর হায়দার
  10. স্মৃতি – কথা:বাবনা করিম
  11. মোহনা – কথা:জাহাঙ্গীর হায়দার
  12. জলপাই খামে – কথা:জাহাঙ্গীর হায়দার
উইনিং ব্যান্ডে চন্দন জামান আলীর সোলো অ্যালবাম অনামিকা কাভার

হৃদয় ভরে ভালোবাস-চন্দন

চন্দনের দ্বিতীয় আলোচিত একক অ্যালবাম ‘হৃদয় ভরা ভালোবাসা’।প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান অগ্নিবীণার লেভেলে অ্যালবামটি প্রকাশ পেয়েছিল ২০১১ সালে। অ্যালবামটি তৈরির পেছনে চন্দনের সংগীতের প্রতি টান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। দেশের বাইরে বসবাস করলেও সংগীতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়নি। অবসর সময়ে গান তৈরি এবং নতুন অ্যালবামের পরিকল্পনা করার মধ্য দিয়ে তিনি সেই সম্পর্ক ধরে রেখেছিলেন। অ্যালবামটিকে গীতিকার শেখ রানার ‘হৃদয়পুরে একা’ গানটি প্রয়াত সঞ্জীব চৌধুরীকে স্মরণ করে লেখা গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছিলেন চন্দন। গানটি একটি উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরে- ব্যক্তিগত আবেগ, স্মৃতি ও প্রিয় শিল্পীকে স্মরণ করার অনুভূতি কীভাবে গানের মধ্যে জায়গা করে নিতে পারে, তার একটি উদাহরণ এই গান।
  • অ্যালবাম: হৃদয় ভরে ভালোবাস
  • শিল্পী: চন্দন জামান আলী
  • সংগীতায়োজন: চন্দন জামান আলী

হৃদয় ভরে ভালোবাসা অ্যালবাম-ট্রাক লিস্ট

  1. কখনও আমাকে – কথা:জাহাঙ্গীর হায়দার
  2. কুয়াশা পর এক সন্ধ্যায় – কথা:মরিরুল মনি
  3. যখন তুমি আসো – কথা:হাসান সোহাগ
  4. একাকী সময় – কথা:
  5. নিরবতা – কথা:লতিফুল ইসলাম শিবলী
  6. হৃদয় ভরে ভালবাসা – কথা:
  7. হৃদয়পুরে একা – কথা:রানা
  8. তুমি জেনো মাগো – কথা:ফরিদা হোসেন
  9. সেদিন রাতে – কথা:
  10. সেই মেয়েটি নেই – কথা:চন্দন জামান আলী
উইনিং চন্দন অ্যালবাম হৃদয় ভরে ভালোবাসা অ্যালবাম কাভার

বাংলা ব্যান্ডসংগীতে চন্দন জামান আলীর অবদান

বাংলা ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে চন্দন জামান আলীর গুরুত্ব শুধু তাঁর জনপ্রিয় কয়েকটি গানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর সংগীতজীবন একজন ব্যান্ডশিল্পীর বহুমুখী ভূমিকারও উদাহরণ। 
  • প্রথমত, তাঁর স্বতন্ত্র কণ্ঠ উইনিংয়ের সংগীতকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল। একটি ব্যান্ডের নিজস্ব পরিচয় গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রধান কণ্ঠশিল্পীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। চন্দনের কণ্ঠ সেই পরিচয় তৈরিতে অবদান রেখেছে।
  • দ্বিতীয়ত, গিটারিস্ট হিসেবে তাঁর দক্ষতা শ্রোতা ও শিক্ষানবিশ গিটারপ্রেমীদের আকৃষ্ট করেছিল। ‘দূর পাহাড়ে’র মতো গানের সঙ্গে অনেক শ্রোতার ব্যক্তিগত স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে।
  • তৃতীয়ত, গীতিকার ও সুরকার হিসেবে তাঁর কাজ প্রমাণ করে যে তিনি শুধু অন্যের সৃষ্টি পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। নিজের ভাবনা ও সৃজনশীলতা থেকেও গান তৈরি করেছেন।
  • চতুর্থত, প্রবাসে থেকেও সংগীতচর্চা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা তাঁর সংগীতের প্রতি দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসার পরিচয় বহন করে।
একজন শিল্পীর জনপ্রিয়তা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু তাঁর গান যদি বহু বছর পরও শ্রোতাদের স্মৃতিতে বেঁচে থাকে, তাহলে সেটি তাঁর শিল্পীজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। চন্দন জামান আলী ও উইনিংয়ের গান পুরোনো শ্রোতাদের কাছে সেই স্মৃতিরই অংশ।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. চন্দন জামান আলী কে?
উইনিং ব্যান্ডের ভোকাল ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি গায়ক, গীতিকার, গিটারিস্ট, সুরকার ও সংগীত পরিচালক।
২. চন্দন কবে উইনিংয়ে যোগ দেন?
১৯৮৭ সালে, গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট হিসেবে।
৩.চন্দনের জনপ্রিয় গান কোনগুলো?
‘দূর পাহাড়ে’, ‘হৃদয়জুড়ে’ ও ‘ইচ্ছে করে’।
৪.চন্দন জামান আলীর একক অ্যালবাম কয়টি?
এই লেখা অনুযায়ী দুটি: অনামিকা ও হৃদয় ভরা ভালবাসা।
৫.চন্দন এখন কোথায় থাকেন?
কানাডায়।

উপসংহার

উইনিংয়ের কণ্ঠ হিসেবে যেমন, গীতিকার-সুরকার ও একক শিল্পী হিসেবেও চন্দন জামান আলী শ্রোতাদের ভালোবাসা পেয়েছেন। সদস্য বদল, বিরতি ও প্রবাসের দূরত্ব পেরিয়েও তাঁর নাম উইনিংয়ের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য রয়ে গেছে। প্রবাসে থেকেও গানের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রেখে তিনি দেখিয়েছেন, সংগীত তাঁর কাছে শুধু পেশা নয়, ভালোবাসারও অংশ।

3/related/default