মাঝরাতে ঘুম ভাঙেচেয়ে দেখি আকাশে জোসনা ধারাউদাসী পাখি কাঁদে চেয়ে শূন্যতায়এমন সময় হঠাত্ প্রশ্ন জাগেআর কতকাল খুঁজবো তোমায়
বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে কিছু গান শুধু গান নয়, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মের আবেগ, স্মৃতি আর ভালোবাসার অংশ হয়ে থাকে। মাইলসের ‘কত কাল খুঁজবো তোমায়’, ‘স্বপ্নিল এই রাতে’, ওয়ারফেজের ‘রূপালী স্রোতে’, ‘জাতিস্মর’, কিংবা উইনিং ব্যান্ডের ‘অচেনা শহর’ ও ‘মনে পড়ে’ এই গানগুলো নব্বইয়ের দশক থেকে আজ পর্যন্ত অসংখ্য শ্রোতার হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। কখনো ভালোবাসার অনুভূতি, কখনো একাকিত্বের সঙ্গী, আবার কখনো পুরোনো দিনের স্মৃতির দরজা খুলে দেওয়া এই গানগুলোর আবেদন আজও অমলিন।
কিন্তু জনপ্রিয় এসব গানের পেছনে থাকা সৃষ্টিশীল মানুষদের গল্প অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। তেমনই একজন প্রতিভাবান স্রষ্টা হলেন জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীত ও আধুনিক গানের জগতের একজন প্রখ্যাত গীতিকার ও সুরকার। তাঁর কলমের শব্দ আর সুরের মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয়েছে এমন অনেক গান, যেগুলো শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। নব্বইয়ের সোনালি সময় থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বাংলা সংগীতের ভুবনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থেকেও অসংখ্য জনপ্রিয় গানের নেপথ্য কারিগর হিসেবে তিনি বাংলা গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর লেখা গানে রয়েছে ভালোবাসার কোমলতা, জীবনের দর্শন, স্বপ্ন, বিরহ এবং অনুভূতির গভীর প্রকাশ। আজকের এই আয়োজনে আমরা জানব জাহাঙ্গীর হায়দার দীপনের সংগীতজীবনের গল্প, তাঁর সৃষ্ট কালজয়ী গানগুলোর ইতিহাস এবং কীভাবে একজন নেপথ্যের শিল্পী হয়ে তিনি বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অংশ হয়ে উঠেছেন।
কিংবদন্তি ব্যান্ডগুলোর নেপথ্যের সারথি: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের স্বর্ণালি অধ্যায়ের পেছনে যেসব সৃষ্টিশীল মানুষ নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন তাঁদের অন্যতম। তিনি এমন একজন গীতিকার ও সুরকার, যার লেখা গান নব্বইয়ের দশকের প্রজন্ম থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের শ্রোতাদের কাছেও সমান জনপ্রিয়। মঞ্চের আলোয় না থেকেও তাঁর সৃষ্ট শব্দ ও সুর অসংখ্য শ্রোতার হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। মাইলস, ওয়ারফেজ, উইনিংসহ বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ডগুলোর অনেক কালজয়ী গানের পেছনে রয়েছে দীপনের অসাধারণ সৃজনশীলতা। মাইলসের ‘কত কাল খুঁজবো তোমায়’, ‘পিয়াসী মন’, ‘স্বপ্নিল এই রাতে’ কিংবা ওয়ারফেজের ‘রূপালী স্রোতে’, ‘জাতিস্মর’, ‘জীবনধারা’ প্রতিটি গানেই ফুটে উঠেছে তাঁর ভাবনার গভীরতা ও কাব্যিক সৌন্দর্য।
অন্যদিকে উইনিং ব্যান্ডের ‘অচেনা শহর’, ‘মনে পড়ে’, ‘প্রিয় ঠিকানা’ প্রমাণ করে, তিনি শুধু রক ঘরানাতেই নয়, মেলোডি ও আবেগনির্ভর গানেও ছিলেন সমান দক্ষ। দীপনের গানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো সাধারণ অনুভূতিকে অসাধারণ ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা। কখনো প্রেম, কখনো একাকিত্ব, কখনো সামাজিক বাস্তবতা আবার কখনো জীবনের গভীর দর্শন তাঁর লেখায় উঠে এসেছে মানুষের নানা অনুভূতির প্রতিচ্ছবি। তাঁর গানের কথায় ছিল সহজ ভাষার সঙ্গে কাব্যিক সৌন্দর্যের এক অনন্য মেলবন্ধন। তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন। শিল্পীরা কণ্ঠ দিয়েছেন, ব্যান্ডগুলো সুরের আবহ তৈরি করেছে, কিন্তু সেই সৃষ্টির প্রাণ হয়ে থেকেছে দীপনের লেখা ও ভাবনা। তাই বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে তিনি নিঃসন্দেহে একজন নেপথ্যের সারথি, যাঁর অবদান শ্রোতাদের ভালোবাসায় চিরকাল বেঁচে থাকবে।
কত কাল খুঁজবো তোমায়
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: প্রত্যাশা
- ব্যান্ড: মাইলস
- কন্ঠ: শাফিন আহমেদ
শেষ বিকেলের আলোয়
বিষাদ সন্ধ্যায়
চলতে চলতে এ পথে
হঠাৎ প্রশ্ন জাগে
আর কতকাল খুঁজবো তোমায়?
আর কতকাল খুঁজবো তোমায়?
পিয়াসী মন
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: প্রবাহ
- ব্যান্ড: মাইলস
- কন্ঠ: শাফিন আহমেদ
পলাতক হৃদয়ে ভাসে কার ছবি
ভাসে কার ছবি
সহসা এলোমেলো কেন হয় সবই
কেন হয় সবই
ভুলে জীবনের চেনা বাঁধন
মনে জাগে আজ কেন আলোড়ন
কি যে চায় এই মন
কি খোঁজে সারাক্ষণ
আমার পিয়াসী মন
স্বপ্নিল এই রাতে
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: প্রবাহ
- ব্যান্ড: মাইলস
- কন্ঠ: হামিন আহমেদ
মগ্ন এ রাত আবেশে
মাদক সুবাস বাতাসে
অস্থির কামনা ঝড় তোলে
নির্ঘুম প্রহরে হৃদয়ে (হৃদয়ে)
চাই আজ হারাতে তোমার আকাশে
স্বপ্নীল এই রাতে
দাও না সুখের ছোঁয়া নিবিড় পরশে
স্বপ্নীল এই রাতে
জীবনধারা
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: জীবনধারা
- ব্যান্ড: ওয়ারফেজ
- কন্ঠ: সঞ্জয়
আমারই দেশে এমনি জীবনধারা,
বদলে যায় রাজারা থেকে যায় তার ছায়া।
অসহায় এক জীবনধারা চারপাশে আজ আমার
রাজনীতির শিকলে জীবন সবার
কতকিছু ঘটে যায় তবু থাকতে হয় নির্বিকার
কেটে যাবে এমনিভাবে কারো নেই যে কিছু করার।
তুমি
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: জীবনধারা
- ব্যান্ড: ওয়ারফেজ
- কন্ঠ: সঞ্জয়
যখন আর তখন যেখান সেখানে
দেখি তোমাকে
দেখি তোমায় সামনে আর পিছে
দেখি তোমায় দূরে আর কাছে
ঘরের বাহিরে
হঠাৎ দেখি কোনখানে নেই
তুমি নেই
তুমি আছো তুমি নেই
তুমি নেই যে
তুমি আছো তুমি নেই
হেঁয়ালী
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: জীবনধারা
- ব্যান্ড: ওয়ারফেজ
- কন্ঠ: সঞ্জয়
মিথ্যারই বাহনে সোওয়ারী এই জীবন
পারবে কি কুয়াশা্র পথটাকে পেরোতে
যদি না জানা যায় মিথ্যের পরিচয় কোন সময়
কখনো কি যাবে সত্যকে চেনা এই জীবনে
আধাঁরে রাতজাগা পূজারী এই জীবন
তাকে কি নিষিদ্ধ পথ ডাকে এই রাতে
যদি না কেউ জানে আলোর কি মানে এই ভুবনে
কখনো কি পাবে আলোর ঠিকানা এই জীবনে
দিন বদল
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: জীবনধারা
- ব্যান্ড: ওয়ারফেজ
- কন্ঠ: সঞ্জয়
আজ শুধু শূন্যতা চারিদিকে
অন্ধকার মেঘে মেঘে
যাচ্ছে ঢেকে এ জীবন
তাই নতুন মুল্যবোধ গড়ে নিতে
শূন্যতার খাঁচা খুলে
যেতে চাই বহুদূরে
চেষ্টা শুধু একটাই
এই পৃথিবীটা বদলে দিতে চাই
আজ দিন বদলের পালা
অন্ধকারে আর নয়
শুধু আলোয় আলোয় চারিদিক ভরে যাক
আজ দিন বদলের পালা
রূপালী স্রোতে
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: অসামাজিক
- ব্যান্ড: ওয়ারফেজ
- কন্ঠ: জুয়েল
স্মৃতির মাঝে হারাবো না আমি আর
নতুন আশায় বেধেছি আমি মন আবার
চোখেরই কোনে লুকানো শিশির
নতুন এক আলোয় ভরে যাক
অজানা সুখে রুপালি স্রোতে
ফেরারি সৃতি ভেসে যাক
জাতিস্মর
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: অসামাজিক
- ব্যান্ড: ওয়ারফেজ
- কন্ঠ: জুয়েল
নির্মেঘ আকাশে দেখ
আমিও তাদেরই মত
দেখি মহাকালের শত ছবি।
সময়ের নানা বাঁকে
জন্মেছি আমি বারে বার
আমারই দুটি চোখে
অতীতের শত দৃশ্যপট
তাই বলে যাই তোমাদের…
কেউ নেই আঁধারে
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: অসামাজিক
- ব্যান্ড: ওয়ারফেজ
- কন্ঠ: জুয়েল
কেউ নেই, আজ কোথাও কেউ নেই
শুন্য ঘরে, আমি একা
গোধূলীর জানালায় বিষণ্ণ আভায়
বসে আছি, নিঃস্ব আমি আজ একা
এলাম যুদ্ধ শেষে নতুন স্বপ্ন নিয়ে
তবে কেন ঘর আমার ডুবে থাকে আঁধারে
কেউ নেই আঁধারে, কেউ নেই আমার
কেউ নেই আঁধারে, কেউ নেই আজ আর…
সময়
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: আলো
- ব্যান্ড: ওয়ারফেজ
- কন্ঠ: বালাম
একাকি হৃদয়ে থাকবে আর কতোকাল
ছন্নছাড়া অভিমান
নিরালায় একাকি শুনবো আর কতোকাল
অন্ধকারের কলোতান
নেমেছি তাই আমি জীবনের পথে
বাতাসের কাকলি বলে যে যায় আমাকে
সময়ের ছলনায় ভুলে যাবো অভিমান
সময়ের ছলনায় মুছে যাবে পিছুটান
নেই তুমি
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: আলো
- ব্যান্ড: ওয়ারফেজ
- কন্ঠ: বালাম
জোছনার আলোর মত এসেছিলে তুমি
রংধনুর রং হয়ে এঁকেছিলে ছবি
হঠাৎ এক ঝড় এসে ভেঙ্গে দিল সবি
মেঘে ঢেকে গেল আমার এই পৃথিবী
নিঃসঙ্গ আজ এই যে আমি
খুজে ফিরি আজো কোথায় তুমি
নদী যেমন মেশে মোহনায়
তেমনি আছো তুমি মনের আয়নায়
জীবন নামে
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: উইনিং
- ব্যান্ড: উইনিং
- কন্ঠ: রঞ্জন
আমায় প্রশ্ন করে
এমন সঙ্গী আছে
জীবন নামে শুধাই সেই
ভালোবাসি বলে
কল্পনায় সে ছবি আঁকে
রঙিন স্বপ্ন দিয়ে
ফুলে ফুলে তাই গাঁথে
পরাবে আমায় বলে
সুন্দর ধরনী
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: উইনিং
- ব্যান্ড: উইনিং
- কন্ঠ: রঞ্জন
এই সুন্দর ধরনী জুড়ে
আসে কত কি নতুন সুরে
আসে অবাক মনের দুয়ারে
কত মধুময় সুন্দর ছন্দ
জীবনতো পাহাড়টা ঘিরে
সাজানো আছে ভরে ভরে
কত হৃদয় ছোয়ানো মেলা
আর পাগল করা সেই খেলা
প্রিয় ঠিকানা
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: অচেনা শহর
- ব্যান্ড: উইনিং
- কন্ঠ: চন্দন
সকালের আকাশে মেঘের আসর
বিষণ্ণ চারদিক ধুসর আভা
মৌন আমি কান পেতে শুনি
বৃষ্টির গান রিমঝিম ধারা
শহর জড়ানো বৃষ্টির চাদর
দেখি ব্যস্ত মানুষ কত দিকে যায়
শহর জড়ানো বৃষ্টির চাদর
তবু ব্যস্ত মানুষ কত দিকে যায়
মনে পড়ে
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: অচেনা শহর
- ব্যান্ড: উইনিং
- কন্ঠ: চন্দন
কেনো জানি মেঘের আলাপন
আজ সহসা
কেনো জানি ভোরে এই দুনয়নে
এলো বরষা
কেনো জানি শুধু মনে পড়ে
আজ তোমায়
আলো আঁধারি ঢাকা পথে
তুমি কোথায় ?
অচেনা শহর
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: অচেনা শহর
- ব্যান্ড: উইনিং
- কন্ঠ: চন্দন
এক স্বচ্ছ অনাবিল আকাশে
মেঘ ভাসে
প্রশান্ত সময়ের পটভূমিতে
রঙিন ঘুড়ি এক ওড়ে আনমনে
এক ছোট্ট মায়াবী শহরে
একটি ছেলে
একাকী ভাবে সেই ঘুড়ির সাথে
যাবে কোন অচেনা শহরে
ধূমকেতু
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: অচেনা শহর
- ব্যান্ড: উইনিং
- কন্ঠ: চন্দন
নিঝুম শহরে বৃষ্টি ধোঁয়া রাত্রি
মৌন ক্লান্ত আমি সময়ের যাত্রি
পিছু ফেলে যেতে চাই সকল মায়া
মনের কোনে তবু কিসের ছায়া
চলমান হয়ে ওঠে টুকরো ছবি সব
হৃদয়ে তোমার শাশ্বত অবয়ব
ধুমকেতু হয়ে গেলে মোরে ছুঁয়ে
রয়ে গেলে হৃদয়ে জ্যোতিষ্ক হয়ে
প্রদর্শনী
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: অচেনা শহর
- ব্যান্ড: উইনিং
- কন্ঠ: চন্দন
কাগজের শিরোনামে
চোখ পরে কি পরে কিনা
উল্টে যাই পরের পাতা
কিছু অশুভ খবর
কিছু একপেশে লেখা
সবাই অলক নিজের কথাই
এরা শতাব্দীর সন্তান
সভ্যতার দান
সব কিছু বোঝে এরা
নিজের মতো করে
এদেরেই প্রদর্শনী
এই শহরে
শীতের সকাল
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: অচেনা শহর
- ব্যান্ড: উইনিং
- কন্ঠ: চন্দন
হিমেল ভোরে ভাসে
কুয়াশারই মেঘ
জড়িয়ে রাখে তার আঁচলে
ধীরে ধীরে হেসে
ছড়িয়ে পড়ে
দিনের আলো শীতের সকালে
আনন্দ
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: অচেনা শহর
- ব্যান্ড: উইনিং
- কন্ঠ: চন্দন
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে দেখি
সারা আকাশ ভরে আছে
সাদা মেঘের তারার বাসরে
কত রঙিন আলো মেখে
মায়া ভরা এই প্রহরে
কত স্মৃতিরই আগমন
নেশা ধরা এই আবেগে
কত সুখেরই আলাপন
কারবালা
- কথা: জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন
- অ্যালবাম: কারবালা
- ব্যান্ড: স্বাধীনতা
- কন্ঠ: হাসান
তিন দিন আর তিন রাত্রি কারবালা মরু পথে
ছয় হাজার অন্ধ যাত্রী সঙ্গে বীর হুসেন
ফোরাত নদীর বুকে জেগেছিল কত ঢেউ
তবু একফোঁটা পিপাসার জল মুখে তুলে দেয়নি কেউ
হায় হুসেন! হায় হুসেন! কেঁদেছিলে পিপাসায়
হায় হুসেন! হায় হুসেন! হায় হুসেন
হায় হুসেন! হায় হুসেন! কেন এসেছিলে এই কারবালায়
হায় হুসেন! হায় হুসেন!
গানের আড়ালে থাকা এক সৃষ্টিশীল কিংবদন্তি
বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাস শুধু গায়ক, গিটারিস্ট কিংবা মঞ্চের আলোয় থাকা শিল্পীদের গল্প নয়; এর পেছনে রয়েছেন অসংখ্য নীরব কারিগর, যাঁদের সৃষ্টি একটি প্রজন্মের আবেগকে ধারণ করে। জাহাঙ্গীর হায়দার দীপন সেই নেপথ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। তাঁর লেখা গানগুলো শুধু নির্দিষ্ট কোনো সময়ের জনপ্রিয় সৃষ্টি নয়, বরং বাংলা সংগীতের এক অমূল্য সম্পদ। নব্বইয়ের দশকের ক্যাসেট যুগ থেকে শুরু করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বর্তমান সময় পর্যন্ত তাঁর গান শ্রোতাদের মনে একইভাবে আবেদন তৈরি করে চলেছে। ‘কত কাল খুঁজবো তোমায়’, ‘রূপালী স্রোতে’, ‘জাতিস্মর’, ‘অচেনা শহর’ কিংবা ‘মনে পড়ে’—এসব গান প্রমাণ করে একজন গীতিকারের শক্তি কতটা গভীর হতে পারে। তাঁর শব্দে যেমন ছিল ভালোবাসার কোমলতা, তেমনি ছিল জীবনের বাস্তবতা, দর্শন এবং অনুভূতির নিখুঁত প্রকাশ।
জাহাঙ্গীর হায়দার দীপনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো তিনি শ্রোতাদের মনের কথা গানের ভাষায় তুলে ধরতে পেরেছেন। তাঁর সৃষ্টি শুনলে অনেকেই নিজের জীবনের গল্প, নিজের অনুভূতি কিংবা হারিয়ে যাওয়া কোনো স্মৃতির সঙ্গে মিল খুঁজে পান। তিন দশকের দীর্ঘ সংগীতযাত্রায় তিনি প্রমাণ করেছেন, জনপ্রিয়তার পেছনে শুধু কণ্ঠ নয়, শক্তিশালী লেখা ও সৃষ্টিশীল চিন্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে তাঁর অবদান তাই শুধু কয়েকটি গানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি পুরো প্রজন্মের স্মৃতি ও আবেগের অংশ। গানের নেপথ্যে থাকা এই মহান স্রষ্টার প্রতি শ্রোতাদের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা কখনো ফুরাবে না। তাঁর লেখা গান যতদিন মানুষ শুনবে, ততদিন বাংলা সংগীতে জাহাঙ্গীর হায়দার দীপনের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।
