মেঘ বালিকা ও মেঘ বালিকাকত স্বপ্ন কথা ছিল তোমার সাথেঅথচ ক্লান্তিহীন পথচলা থামেনাবেড়ে চলে জীবনের নীরবতা
কিছু কণ্ঠস্বর শুধু গায় না প্রতিবাদ করে। কিছু গান শুধু শোনার জন্য তৈরি হয় না। বেঁচে থাকার শক্তি জোগানোর জন্য তৈরি হয়। মাহমুদুজ্জামান বাবুর গান সেই গোত্রের। ছাত্ররাজনীতি আর সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ভেতর দিয়েই তাঁর গানের সঙ্গে সখ্য শুরু আর তারপর থেকে গানই হয়ে উঠেছে তাঁর সকাল-সন্ধ্যার সঙ্গী, তাঁর অস্ত্র, তাঁর প্রেমিকা। তিনি নিজেই একবার বলেছিলেন ঘুরে দাঁড়ানো আর সত্য বলার সাহস না থাকলে, প্রতিবাদের ভাষা না চিনলে মানুষের হৃদয় হয়ে ওঠে হিংস্র জন্তুর খাদ্য। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি গান লেখেন, সুর করেন, গেয়ে বেড়ান।
মাহমুদুজ্জামান বাবুর পরিচয় শুধু একজন কণ্ঠশিল্পীর নয়। তিনি একজন সংস্কৃতিকর্মী, একজন গণসংগীত শিল্পী, যাঁর কাছে গান একধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতা। তাঁর নিজের ব্যান্ড মৃত্তিকা নামটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে মাটির প্রতি তাঁর নিবিড় টান, শেকড়ের প্রতি বিশ্বাস। যেখানে অনেক সমসাময়িক ব্যান্ড নাগরিক জীবনের প্রেম আর হতাশা নিয়ে গান বাঁধে, সেখানে বাবু ও মৃত্তিকা বেছে নিয়েছে অন্য পথ সময়ের যন্ত্রণা, রাষ্ট্রের নিষ্ঠুরতা, মানুষের নীরব কান্না। আর তারই মধ্যে টিকে থাকা এক গোপন আশাবাদকে সুরে বাঁধার পথ। এই লেখায় আমরা ফিরে দেখব তাঁর শিল্পীজীবনের কয়েকটি বাঁক তাঁর অ্যালবাম, তাঁর গানের বিষয়, প্রবাসজীবন আর দেশে ফেরার গল্প আর বোঝার চেষ্টা করব কেন তাঁর গান আজও এই সময়ের জন্য এত জরুরি।
দাহকালের গান: সমকালীন যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি
মাহমুদুজ্জামান বাবু বাংলাদেশের একজন প্রতিষ্ঠিত গণসংগীত শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী, যাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল ছাত্ররাজনীতি আর সাংস্কৃতিক আন্দোলনের হাত ধরে। কণ্ঠ ও গীতিকার হিসেবে তিনি নিজের লেখা ও সুরে গান করেন, আবার অন্যের লেখা গানকেও নতুন ব্যাখ্যায় হাজির করেন নিজের কণ্ঠে। তিনি নিজের ব্যান্ড মৃত্তিকার মুখ্য কণ্ঠশিল্পী, যে ব্যান্ডের নামের মধ্যেই মিশে আছে মাটি ও শেকড়ের প্রতি তাঁর গভীর টান। তাঁর প্রকাশিত অ্যালবামের মধ্যে আছে ‘চোখ ভেসে যায় জলে’, ‘অচেনা সময়’ ও ২০০৪ সালের ‘অন্ধ তীরন্দাজ’।
পরবর্তীতে সমসাময়িক ঘটনা ও সময়ের যন্ত্রণা নিয়ে তিনি রচনা করেন ‘দাহকালের গান’ শিরোনামের একগুচ্ছ গান, যার মধ্যে আছে ‘নুসরাত’, ‘ভয় নেই’ ও ‘ভোর হয়নি’-র মতো গান। দেশের সীমানা পেরিয়ে তিনি চে গেভারাকে নিয়ে লেখা বিখ্যাত ‘আসতা সিয়েম্প্রে’ গানের বাংলা রূপান্তরও করেছেন। ২০১৭ সালের শেষদিকে স্ত্রীর পিএইচডি গবেষণার সঙ্গী হতে তিনি কানাডার মন্ট্রিয়েলে পাড়ি জমান, পরে দেশে ফিরে আবার নতুন গান নিয়ে হাজির হন। গণসংগীতের দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দাঁড়িয়ে থেকে তাঁর গান আজও সমাজ, রাষ্ট্র ও মানুষের প্রতি এক নিবিড় দায়বদ্ধতার কথাই বলে যায়।
তাঁর প্রকাশিত অ্যালবামগুলোর নাম দেখলেই বোঝা যায় তিনি কেমন শিল্পী। ‘চোখ ভেসে যায় জলে’, ‘অচেনা সময়’, আর ২০০৪ সালের ‘অন্ধ তীরন্দাজ’ প্রতিটি নামই যেন একেকটি সময়ের দলিল। ‘অন্ধ তীরন্দাজ’ শিরোনামের গানটি এক অন্ধকার সময়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক মানুষের ছবি আঁকে, যে চোখ হারিয়েও লক্ষ্যভেদের স্বপ্ন দেখে। এই রূপকল্পই যেন বাবুর গোটা শিল্পীজীবনের প্রতীক রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, ভয়, নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও দৃষ্টি না হারানোর এক নিরন্তর চেষ্টা।
সীমানা ছাড়িয়ে বাংলার সুর:প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের গানে বাবুর কণ্ঠ
মাহমুদুজ্জামান বাবুর গানে দেশ আর দেশের বাইরের সীমানা মিলেমিশে যায়। তিনি চে গেভারার স্মরণে বিখ্যাত ‘আসতা সিয়েম্প্রে’ গানের বাংলা রূপান্তর করেছেন নিজের ভাষায়, শুনিয়েছেন নিজের কণ্ঠে। আবার প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানটি নতুন করে গেয়ে প্রমাণ করেছেন, দেশের সীমানা পেরিয়ে থাকলেও বাংলা ভাষা আর বাংলার মাটিই তাঁর ভাবনার কেন্দ্র, তাঁর হৃদয়, তাঁর শরীর, তাঁর মস্তিষ্ক। মাহমুদুজ্জামান বাবুর নাম উচ্চারিত হলেই একটি গানের কথা না বললেই নয় প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের লেখা ও সুর করা ‘আমি বাংলায় গান গাই’।
বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসার এই কালজয়ী গানটি মূলত গেয়েছিলেন প্রতুল মুখোপাধ্যায় নিজেই, আর ২০০৬ সালের বিবিসি বাংলার এক শ্রোতা জরিপে সর্বকালের সেরা বিশটি বাংলা গানের একটি হিসেবে মনোনীত হয়েছিল এটি। তবে বাংলাদেশে গানটি নতুন করে পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা পায় ২০০০ সালে, যখন একুশে টেলিভিশনের একটি আয়োজনে গানটি গেয়েছিলেন মাহমুদুজ্জামান বাবু। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া এই সংস্করণ তখন বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচিত হয়, আর সেই থেকেই বাংলাদেশের শ্রোতাদের কাছে প্রতুল মুখোপাধ্যায়ও নতুন করে পরিচিত হতে শুরু করেন।
গানটি পরে জায়গা পায় বাবুর ‘চোখ ভেসে যায় জলে’ অ্যালবামে। এভাবেই একটি গানের সুতোয় দুই বাংলার দুই প্রজন্মের দুই শিল্পী একসূত্রে বাঁধা পড়ে যান মূল স্রষ্টা প্রতুল মুখোপাধ্যায় আর তাঁর গানকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া মাহমুদুজ্জামান বাবু। প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পরও তাঁকে নিয়ে লেখা স্মৃতিচারণে বারবার উঠে এসেছে বাবুর গাওয়া এই সংস্করণের কথা, যা প্রমাণ করে গানটি দুই বাংলার সীমানা পেরিয়ে কতটা গভীরভাবে মানুষের মনে গেঁথে গিয়েছিল।
মৃত্তিকা দুঃখ করোনা, বাঁচো:সুরে বাঁধা সময়ের দলিল
মৃত্তিকা ব্যান্ডের প্রথম ও একমাত্র অ্যালবাম দুঃখ করোনা, বাঁচো। ২০১২ সালে সংগীতা মিউজকের ব্যানারে প্রকাশিত হয়। মৃত্তিকার গান গুলো নিছক বিনোদনের উপকরণ নয়। এ এক প্রতিরোধের ভাষা, এক মানবিক দলিল। যে সময়ে চারপাশে নীরবতা জমাট বাঁধে, প্রশ্ন করার সাহস কমে আসে, সেই সময়েই তাঁর গান মনে করিয়ে দেয় ভাবনাহীনতাকে ভাবিয়ে তোলা যায়, কান্নাহীনতার মধ্যেও কাঁদা যায়, প্রশ্নহীনতার কালেও প্রশ্ন তোলা যায়। শেষ পর্যন্ত এটাই বোধহয় মাহমুদুজ্জামান বাবু আর মৃত্তিকার সবচেয়ে বড় অর্জন তাঁরা প্রমাণ করেছেন, সংগীত শুধু সুরের খেলা নয়, এটি সমাজের প্রতি একধরনের দায়বদ্ধতাও হতে পারে। কেন এইসব গান!
আমাদের চারপাশের সময়টা দুঃসহ যন্ত্রনার। স্বদেশে এবং পৃথিবীতে। সব কিছুরই উর্ধ্বমূল্য এবং মানুষের ক্রয়ক্ষতার বাইরে। কেবলমাত্র মানুষের দাম প্রতিদিন কমছে। মানুষ এখন সস্তার সামগ্রী। রাজনীতিতে ক্ষমতালিন্সা। সংস্কৃতিতে আপোস ও শাসকদের গুণকীর্তন। সুশীল সমাজ মৌনব্রত পালনকারী। আর যৌবন তারুন্যের শক্তি জীবনমুখি, আত্মকেন্দ্রিক িএবং মাদকাসক্ত। এই স্বদেশ মনুষ্যত্বের নয়। এই পৃথিবীও। আমরা মানুষের সকাল দুপুর রাত চাই। তাই গান গাওয়া। স্বপ্ন দেখা। মানুষ খোঁজা। মানুষ হতে চাওয়া। আমরা দুঃশাসন মানি না। অস্বীকার করি। কারন শাসক কখনও বন্ধু হয় না। স্বপ্নসহযাত্রী হয় না। শাসক সে যে দলেরই হোক তার মগজ কুটিল ও হিংস্র। এবং আমরা দুঃখ করছি না। বাঁচতে চাইছি। বাঁচার অন্য নাম লড়াই। আসুন লড়াই করি। আপোসহীন। মৃক্তিকা-২০১২।
ব্যান্ড লাইন আপ: মৃত্তিকা- দুঃখ করো না, বাঁচো
- কথা সুর ও কন্ঠ: মাহমুদুজ্জামান বাবু
- বেজ: কিবরিয়া
- লীড গিটার: শোয়েব
- গিটার: ফয়সাল
- ড্রামস: আমজাদ
- পারকাশন: তুলসী সাহা
ট্রাক লিস্ট: মৃক্তিকা-দুঃখ করো না, বাঁচো
১. বাংলাদেশ | ২. ঘুমন্ত শহর | ৩. এই সবুজ | ৪. চে গেভারা | ৫. কখনো জানতে চেয়ো না | ৬. সংবিধান | ৭. ঘুম | ৮. খুলে দাও | ৯. দুঃখ করো না, বাঁচো | ১০. হরেক রকম
মাহমুদুজ্জামান বাবু ও তাঁর একক অ্যালবাম
মাহমুদুজ্জামান বাবুর সংগীতজীবনের প্রথম ধাপ শুরু হয় ১৯৯৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর, মুক্তিযুদ্ধের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে। সেদিনই প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম অডিও অ্যালবাম ‘শঙ্খ বাজুক’ যুদ্ধ ও জীবনের গান নিয়ে গড়া একটি সংকলন। এরপর একে একে আসে ‘চোখ ভেসে যায় জলে’ (২০০১), ‘অচেনা সময়’ (২০০৩) আর ‘অন্ধ তীরন্দাজ’ (২০০৪)। ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর চতুর্থ একক অ্যালবাম ‘স্বপ্ন দেখার চোখ’, যার কথা, সুর ও কণ্ঠ তাঁর নিজের, সংগীতায়োজনে ছিলেন বাপ্পা মজুমদার, আর প্রযোজনায় ছিল সঙ্গীতা।
পরবর্তীতে ২০১১ সালে প্রকাশ পায় ‘আমি বাংলায় গান গাই’ তাঁর বাছাইকৃত সেরা গানের একটি সংকলন। দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ছড়িয়ে থাকা এই অ্যালবামগুলোর নামের দিকে তাকালেই বোঝা যায় বাবু কেমন শিল্পী। ‘অন্ধ তীরন্দাজ’ শিরোনামের গানটি এক অন্ধকার সময়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক মানুষের ছবি আঁকে, যে চোখ হারিয়েও লক্ষ্যভেদের স্বপ্ন দেখে। এই রূপকল্পই যেন বাবুর গোটা শিল্পীজীবনের প্রতীক—রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, ভয়, নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও দৃষ্টি না হারানোর এক নিরন্তর চেষ্টা।
- ট্রাক লিস্ট: শঙ্খ বাজুক (১৯৯৫)
১. এই সবুজ মাটির বুকে | ২. ঘুমিয়ে ছিলাম | ৩. শ্যামল বরণ মা | ৪. দুঃখের ভাঙা নাও | ৫. রুমিরা কখনও পথ ছাড়ে না | ৬. সবুজ এই পাহাড় তলে | ৭. মধুমিতা বোন আমার | ৮. একটা জীবন আজ | ৯. ছুটতে ছুটতে খোকা | ১০. হরেক রকম দিন কাটিলো | ১১. এক নয়নে হাসোরে মন | ১২. আমাদের দিন কাটে
- ট্রাক লিস্ট: চোখ ভেসে যায় জলে (২০০১)
১. বাংলার গান গাই-১ (প্রতুল মুখোপাধ্যায়) | ২. রাজা যায় রাজা আসে | ৩. ভোর হয়নি | ৪. স্বপ্নের জল | ৫. ক্ষ্যাপা তুই | ৬. চোখ ভেসে যায় জলে | ৭. ঘুম ঘুম রাত | ৮. প্রিয় মৃত্তিকা| ৯. গাও গাও জীবনের গান | ১০. আস্থাহীনতার দিন | ১১. বাংলার গান গাই-২ (প্রতুল মুখোপাধ্যায়) | ১২. মেঘ বালিকা (কথা: রাজীব আহমেদ)
- ট্রাক লিস্ট: অচেনা সময় (২০০৩)
১. তুমি পাহাড়ের কাছে | ২. অচেনা সময়| ৩. আমার নয়ন ভরা জল | ৪. মুখোশ নিবেন | ৮. মরচে পড়া | ৯. নাচতে নেমে | ১০. বন্ধু তোমার বুকের কান্না | ১১. দুই নয়নে | ১২. সময়ের দীর্ঘ পথে
- ট্রাক লিস্ট: অন্ধ তীরন্দাজ (২০০৪)
১.বাংলাদেশ (মূল গানের কথা ও সুর জোয়ান বায়েজ, রূপান্তর- সাজ্জাদ শরিফ | ২. চোখ গেল | ৩. খুলে দে মা | ৪. সোনার অঙ্গ | ৫. রাত প্রহরী | ৬. যাবে | ৭. আস্থা থাকুক | ৮. মনের খবর | ৯. ঋনখেলাপী| ১০. স্বপ্ন দেখার চোখ | ১১. রাত্রি
- ট্রাক লিস্ট: আমি বাংলা গান গাই (বাছাইকৃত সেরা গান-২০১১)
১.বাংলার গান গাই-১ (প্রতুল মুখোপাধ্যায়) | ২. ভোর হয়নি | ৩. মেঘ বালিকা | ৪. রাজা যায় | ৫. সময়ের দীর্ঘ পথে | ৬. বন্ধু তোমার বুকের কান্না | ৭. রাত প্রহরী মন | ৮. খুলে দে মা | ৯. চোখ গেল | ১০. নাচতে নেমে | ১১. ঘুম ঘুম রাত যায় | ১২. বাংলাদেশ (মূল গানের কথা ও সুর জোয়ান বায়েজ, রূপান্তর- সাজ্জাদ শরিফ
প্রতিরোধের ভাষা-শেষ কথা
মাহমুদুজ্জামান বাবু ও মৃত্তিকার গান তাই কোনো নিছক বিনোদনের উপকরণ নয়। এ এক প্রতিরোধের ভাষা, এক মানবিক দলিল। যে সময়ে চারপাশে নীরবতা জমাট বাঁধে, প্রশ্ন করার সাহস কমে আসে, সেই সময়েই তাঁর গান মনে করিয়ে দেয় ভাবনাহীনতাকে ভাবিয়ে তোলা যায়, কান্নাহীনতার মধ্যেও কাঁদা যায়, প্রশ্নহীনতার কালেও প্রশ্ন তোলা যায়। ক্ষুদিরাম-প্রীতিলতার স্বপ্ন থেকে ভাষা আন্দোলনের সালাম-রফিক-বরকত, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে নূর হোসেনের রক্তরাঙা রাজপথ এই দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাতেই বাবু তাঁর গানের গলা মেলান।
শেষ পর্যন্ত এটাই বোধহয় মাহমুদুজ্জামান বাবু আর মৃত্তিকার সবচেয়ে বড় অর্জন তাঁরা প্রমাণ করেছেন, সংগীত শুধু সুরের খেলা নয়, এটি সমাজের প্রতি একধরনের দায়বদ্ধতাও হতে পারে। মুখোশে ঢাকা অচেনা এক সময়ে দাঁড়িয়ে তাঁর গান আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় আস্থা রাখতে হয় মানুষের প্রতি, আস্থা রাখতে হয় ভোরের আলোয়, আস্থা রাখতে হয় দুঃসময় পেরিয়েও এক নতুন সূর্যোদয়ে।
