নীলাঞ্জনা, ওই নীল নীল চোখে চেয়ে দেখো না,তোমার ওই দুটি চোখে আমি হারিয়ে গেছআমি বোঝাতে তো কিছু পারিনা
বাংলাদেশের আধুনিক সংগীতের ইতিহাসে কিছু শিল্পীর নাম সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে চিরকাল শ্রোতাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকে। তাঁদের গান শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয় বরং হয়ে ওঠে স্মৃতি, আবেগ ও নান্দনিকতার এক অনন্য অংশ। শেখ ইশতিয়াক ছিলেন তেমনই একজন প্রতিভাবান শিল্পী। যিনি অল্প সময়ের সংগীতজীবনে বাংলা গানের ভুবনে নিজের জন্য তৈরি করেছিলেন এক স্বতন্ত্র অবস্থান। তাঁর কণ্ঠের মাধুর্য, সুরের প্রতি গভীর অনুরাগ এবং গায়কির আবেগ তাঁকে আশির দশকের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীতে পরিণত করে।
আশির দশকে যখন বাংলাদেশের আধুনিক গান নতুন ধারা ও নতুন শ্রোতাদের খুঁজে পাচ্ছিল, তখন শেখ ইশতিয়াক তাঁর মেলোডিনির্ভর গান দিয়ে সংগীতাঙ্গনে এক আলাদা পরিচয় গড়ে তোলেন। ছোটবেলা থেকেই ধ্রুপদী সংগীতে তালিম নেওয়া এই শিল্পীর গায়কিতে ছিল শাস্ত্রীয় সংগীতের পরিশীলন ও আধুনিক গানের আবেগের অপূর্ব সমন্বয়। এ কারণেই শ্রোতারা তাঁকে ভালোবেসে অভিহিত করেছিলেন ‘মেলোডি কিং’ নামে। গিটারবাদক হিসেবে মঞ্চে পথচলা শুরু করে পরবর্তীতে প্লেব্যাক ও একক অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছান।
তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘নন্দিতা’ প্রকাশের পর ‘নীলাঞ্জনা’, ‘একদিন ঘুম ভেঙে দেখি’, ‘আমার মনের ফুলদানিতে’র মতো গানগুলো হয়ে ওঠে বাংলা সংগীতের কালজয়ী সম্পদ। প্রেম, বিরহ ও অনুভূতির সূক্ষ্ম প্রকাশ তাঁর গানগুলোকে দিয়েছে আলাদা আবেদন। মাত্র কয়েক বছরের সৃষ্টিশীল পথচলায় শেখ ইশতিয়াক প্রমাণ করেছিলেন একজন শিল্পীর অমরত্ব নির্ভর করে তাঁর সৃষ্টির গভীরতার ওপর, জীবনের দৈর্ঘ্যের ওপর নয়। আজও তাঁর গান শুনলে ফিরে আসে আশির দশকের সেই সোনালি সংগীতের আবহ, আর মনে পড়ে যায় বাংলাদেশের সংগীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের কথা।
জন্ম ও সংগীতের পথে যাত্রা
শেখ ইসতিয়াকের সংগীতজীবনের শুরু হয়েছিল খুব অল্প বয়সেই। ১৯৬০ সালে জন্ম নেওয়া এই প্রতিভাবান শিল্পী ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। পরিবারের পরিবেশ ও নিজের আগ্রহের কারণে শৈশবেই তিনি সংগীতের চর্চা শুরু করেন। বিশেষ করে ধ্রুপদী সংগীতে তালিম নেওয়ার মাধ্যমে তাঁর কণ্ঠ ও সংগীতবোধের ভিত তৈরি হয়। পাশাপাশি গিটারের প্রতি তাঁর ছিল প্রবল আকর্ষণ, যা পরবর্তীতে তাঁকে একজন দক্ষ বাদ্যযন্ত্রী হিসেবে পরিচিত করে তোলে।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে, ১৯৭৪ সালে শেখ ইসতিয়াক গড়ে তোলেন ব্যান্ডদল ‘সন্ন্যাসী’। সেই সময় বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের জগৎ ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছিল। তরুণ শেখ ইসতিয়াক তাঁর অসাধারণ গিটার বাজানোর দক্ষতা ও মঞ্চ পরিবেশনার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সংগীতপ্রেমীদের নজর কাড়েন। ব্যান্ডের সঙ্গে পথচলার মধ্য দিয়েই তিনি একজন প্রতিভাবান গিটারবাদক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে সংগীতের বিভিন্ন শাখায় নিজেকে যুক্ত করে তিনি গিটারিস্টের পাশাপাশি সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও নিজের প্রতিভার প্রকাশ ঘটান।
তাঁর সংগীতজীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছিলেন কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীতশিল্পী লাকী আখন্দ। তাঁর সান্নিধ্যে শেখ ইসতিয়াকের সংগীতচর্চা আরও সমৃদ্ধ হয়। লাকী আখন্দ শেখ ইসতিয়াকের গিটার প্রতিভার বিশেষ প্রশংসা করতেন। লাকী আখন্দের জনপ্রিয় গান ‘এই নীল মণিহার’-এর সৃষ্টির সঙ্গেও জড়িয়ে আছে শেখ ইসতিয়াকের নাম। গিটারের অনন্য ব্যবহার দিয়ে তিনি গানটির সংগীতায়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। এভাবেই সংগীতের শুরুতেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন শেখ ইসতিয়াক।
পেশাদার সংগীতজীবনের সূচনা ও ‘নন্দিতা’ অ্যালবামের অভূতপূর্ব সাফল্য
১৯৮৬ সাল শেখ ইসতিয়াকের সংগীতজীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে আসে। এ বছরই ‘ওগো বিদেশিনী’ চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের মাধ্যমে তিনি পেশাদার কণ্ঠশিল্পী হিসেবে সংগীতাঙ্গনে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন। একই বছরে প্রখ্যাত সুরকার মাকসুদ জামিল মিন্টুর সুরে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম ‘নন্দিতা’। অ্যালবামটি প্রকাশের পরপরই শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে এবং শেখ ইসতিয়াক রাতারাতি পরিচিত হয়ে ওঠেন নতুন প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হিসেবে।
‘নন্দিতা’ অ্যালবামের গানগুলোতে ছিল মেলোডির অপূর্ব সৌন্দর্য, হৃদয়ছোঁয়া কথা এবং শেখ ইসতিয়াকের মায়াবী কণ্ঠের অনন্য সমন্বয়। অ্যালবামের কয়েকটি গান বিশেষভাবে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। বিশেষ করে ‘নীলাঞ্জনা’ গানটি শেখ ইসতিয়াককে এনে দেয় অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা। গানটির সুর, আবেগ এবং তাঁর মিষ্টি কণ্ঠের পরিবেশনা শ্রোতাদের মাঝে এক নতুন অনুভূতির সৃষ্টি করে। অনেক শ্রোতাই তাঁর কণ্ঠে উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী কিশোর কুমারের গানের মতো এক ধরনের আবেগ ও মাধুর্যের ছোঁয়া খুঁজে পেতেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
- নীলাঞ্জনা
- একদিন ঘুম ভেঙে দেখি
- আমার মনের ফুলদানিতে
- নন্দিতা তোমার কথা
‘নন্দিতা’ শুধু একটি অ্যালবাম ছিল না, এটি ছিল বাংলা আধুনিক গানের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় সংযোজন। এই অ্যালবামের সাফল্যের মাধ্যমে শেখ ইসতিয়াক প্রমাণ করেন, তাঁর কণ্ঠে রয়েছে আলাদা এক আকর্ষণ, যা সহজেই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারে। পরবর্তীতে তাঁর সংগীতজীবনের অন্যতম পরিচয় হয়ে ওঠে এই অ্যালবামের গানগুলো, যা আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয় ও প্রিয়।
শেখ ইশতিয়াকের মেলোডির জগৎ ও লাকি আখন্দের স্মৃতি
শেখ ইশতিয়াকের সংগীতজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলা গানের বেশ কিছু স্মরণীয় সৃষ্টি। এর মধ্যে অন্যতম ‘এই নীল মণিহার’। সংগীত পরিচালক ও কিংবদন্তি সুরকার লাকি আখন্দের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার আজিমপুরে এই গানের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময় শেখ ইশতিয়াক গিটারে একটি সুর তুলছিলেন। লাকি আখন্দ কিবোর্ডে সেই সুরকে আরও সমৃদ্ধ করেন এবং গীতিকার এস এম হেদায়েত সেই সুরের ওপর গানটির কথা রচনা করেন। এভাবেই সৃষ্টি হয় বাংলা সংগীতের এক স্মরণীয় গান, যেখানে শেখ ইশতিয়াকের গিটারবাদনের দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
আশির দশকে বাংলা আধুনিক গানে মেলোডির যে নতুন ধারা জনপ্রিয়তা লাভ করে, শেখ ইশতিয়াক ছিলেন তার অন্যতম প্রধান কণ্ঠ। তাঁর গায়কিতে ছিল কোমলতা, আবেগ এবং সুরের প্রতি গভীর নিয়ন্ত্রণ। তিনি জটিলতা নয়, বরং গানের কথা ও সুরের সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিতেন। এ কারণেই তাঁর গান সহজেই শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেয় এবং তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘মেলোডি কিং’ নামে। তাঁর গাওয়া ‘নীলাঞ্জনা’ শুধু একটি জনপ্রিয় গান নয়, এটি হয়ে ওঠে বাংলা আধুনিক গানের এক আবেগময় অধ্যায়। প্রেম, স্মৃতি ও নস্টালজিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই গান আজও শ্রোতাদের কাছে সমান আবেদন রাখে।
সংগীতজীবনে শেখ ইশতিয়াক মোট সাতটি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেন। প্রতিটি অ্যালবামেই তিনি মেলোডিনির্ভর গানকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর গান সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয়নি; বরং নতুন প্রজন্মের শ্রোতারাও আগ্রহ নিয়ে শুনে চলেছে। শিল্পী হিসেবে যেমন তিনি ছিলেন প্রতিভাবান, মানুষ হিসেবেও ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও প্রাণবন্ত। লাকি আখন্দের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে শেখ ইশতিয়াকের হাসিখুশি ও আশাবাদী ব্যক্তিত্বের কথা। তিনি নিজের নতুন অ্যালবামের গান নিয়ে সবসময় আশাবাদী থাকতেন এবং বিশ্বাস করতেন, ভালো গান শ্রোতাদের হৃদয়ে পৌঁছাবেই।
লাকি আখন্দ স্মরণ করেছেন, একবার তাঁর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য শেখ ইশতিয়াক সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন। এমনকি অনুষ্ঠানের জন্য একটি উপহারও কিনেছিলেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে তিনি আর সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে তাঁর সহধর্মিণীর কাছ থেকে সেই উপহার গ্রহণের স্মৃতি লাকি আখন্দের কাছে হয়ে ওঠে গভীর বেদনার এক মুহূর্ত। শেখ ইশতিয়াকের শেষ দিকের অ্যালবামগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘তুমি অভিমানী’, যা প্রকাশ করেছিল সাউন্ডটেক। অল্প সময়ের জীবন ও সংগীতযাত্রায় তিনি যে সৃষ্টিগুলো রেখে গেছেন, তা তাঁকে বাংলাদেশের সংগীত ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
শেখ ইশতিয়াকের ডিস্কোগ্রাফি:মেলোডির এক অনন্য যাত্রা
শেখ ইশতিয়াকের সংগীতজীবনে মোট সাতটি একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিটি অ্যালবামেই তিনি মেলোডিনির্ভর গান, আবেগঘন সুর এবং শ্রুতিমধুর সংগীতকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর কণ্ঠের মাধুর্য ও গায়কির স্বতন্ত্রতা এসব অ্যালবামকে শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম ‘নন্দিতা’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। মকসুদ জামিল মিন্টুর সুরে তৈরি এই অ্যালবামটি শেখ ইশতিয়াককে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি। ‘নীলাঞ্জনা’, ‘একদিন ঘুম ভেঙে দেখি’, ‘আমার মনের ফুলদানিতে’সহ বেশ কিছু গান আজও শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়।
পরবর্তীতে তাঁর আরও কয়েকটি একক অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘তুমি অভিমানী’, যা তাঁর সংগীতজীবনের শেষ দিকের উল্লেখযোগ্য অ্যালবাম। নিজের সুর ও সংগীতে তৈরি এই অ্যালবামেও শেখ ইশতিয়াক তাঁর চিরচেনা মেলোডির ধারা ধরে রেখেছিলেন। শেখ ইশতিয়াকের অ্যালবামগুলো শুধু কিছু গান নয়, বরং আশির দশকের বাংলা আধুনিক সংগীতের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর সৃষ্ট গান সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয়ে যায়নি; বরং নতুন প্রজন্মের শ্রোতারাও আজও তাঁর কণ্ঠের মায়ায় মুগ্ধ হন।
অ্যালবাম: নন্দিতা-শেখ ইশতিয়াক
- জ্যোসনা রাতে- কথা: মকসুদ জামিল মিন্টু
- কোনবা দোষে- কথা: আব্দুল হাই আল হাদি
- নন্দিতা- কথা: কাজী আলী তৌফিক
- নীলঞ্জনা- কথা: কাজী আলী তৌফিক
- আমি তোমাকে- কথা: নজরুল ইসলাম বাবু
- যখনি দেখা হয়- কথা: আলি তোফিক
- মাঝ রাতে - কথা: মকসুদ জামিল মিন্টু
- আমার মনের ফুলদানিতে- কথা: আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল
- ভাগ্যের ডাক্তার- কথা: লিটন অধিকারী রিন্টু
- একদিন ঘুম ভেঙ্গে দেখি-কথা: মাকসুদ জামিল মিন্টু
- হরিণী চোখ- কথা: ডা. আরিফ
- কত যে ফ্লাগুন- কথা: মকসুদ জামিল মিন্টু
- আমি আবার- কথা: মকসুদ জামিল মিন্টু
অ্যালবাম: টিপ টিপ বৃষ্টি-শেখ ইশতিয়াক
- গাংচিল আমার মন- কথা: মিলন খান
- টিপ টিপ বৃষ্টি- কথা: কাজী আলী তৌফিক
- সূর্যের মত ভালবাসা- কথা: লিটন অধিকারী রিন্টু
- ভেবেছি ভুলে যাবো- কথা: ডা. সালাউদ্দিন সজল
- স্বপ্ন জোনাকীর ভীড়ে- কথা: আসিফ ইকবাল
- রাত ঘুমালো- কথা: এম এ বাতেন
- ভালবাসার উল্টো দিকে- কথা: নজরুল ইসলাম বাবু
- সজনী সজনী- কথা: লিটন অধিকারী রিন্টু
- কিছু নেই আমার- কথা: কাজী আলী তৌফিক
- নাম রেখেছি মৌরি- কথা: মিলন খান
- বাহারে বাহা- কথা: আব্দুল হাই আল হাদী
- খাঁচায় বন্দি পাখিরে- কথা: আব্দুল হাই আল হাদী
অ্যালবাম: প্রজাপতির ডানায়-শেখ ইশতিয়াক
- অনামিকা- কথা: মেহেদী তুষার
- দুষ্ট দুষ্ট- কথা: লিটন অধিকারী রিন্টু
- রিম ঝিম ঝিম বৃষ্টি- কথা: কাজী আলী তৌফিক
- মেঘে মেঘে বেলা- কথা: শেখ ইশতিয়াক
- দূর আরো দূর- কথা: কাজী আলী তৌফিক
- নীল টেলিফোন- কথা: ডা. আরিফ
- নিষ্ঠুর নিয়তি- কথা: লিটন অধিকারী রিন্টু
- প্রজাপতির ডানায়- কথা: কাজী আলী তৌফিক
- ঝিলমিল জোনাকী- কথা: শেখ ইশতিয়াক
- ফিরে চলে এসো (নন্দিতা-২)- কথা: লিটন অধিকারী রিন্টু
- এখন অনেক রাত- কথা: শেখ ইশতিয়াক
- একটাই সূর্য্য- ডা গোলাম মোস্তফা
অ্যালবাম: রূপালী চাঁদ-শেখ ইশতিয়াক
- রূপালী চাঁদ- কথা: মকসুদ জামিল মিন্টু
- দূরের আকাশ- কথা: কাজী আলী তৌফিক
- জানি ভুলে- কথা: শেখ ইশতিয়াক
- স্মৃতি- কথা: শেখ ইশতিয়াক
- হাতছানি দিয়ে- কথা: শেখ ইশতিয়াক
- পৃথিবী তোমারই- কথা: কাজী আলী তৌফিক
- এই ফুর- কথা: নজরুল ইসলাম বাবু
- ভুল করে যদি- কথা: লিটন অধিকারী রিন্টু
- জ্যোতিময়- কথা: লিটন অধিকারী রিন্টু
- তুমি কত দূরে- কথা: শেখ ইশতিয়াক
- এ জীবন ভরা রাত- কথা: শেখ ইশতিয়াক
- ভালবাসার গ্যারান্টি- কথা: লিটন অধিকারী রিন্টু
অকাল প্রস্থান ও সংগীতে অমর শেখ ইশতিয়াক
১৯৯৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন শেখ ইশতিয়াক। তাঁর বয়স তখন খুব বেশি ছিল না। প্রতিভাবান এই শিল্পীর অকাল মৃত্যু বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের জন্য ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি। যে শিল্পী আরও বহু বছর তাঁর মেধা, কণ্ঠ ও সৃষ্টিশীলতা দিয়ে বাংলা গানকে সমৃদ্ধ করতে পারতেন, তিনি চলে গেলেন অসময়ে। তবে একজন সত্যিকারের শিল্পী তাঁর জীবনের সময় দিয়ে নয়, তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে বেঁচে থাকেন। শেখ ইশতিয়াকও তার ব্যতিক্রম নন।
তাঁর গাওয়া গানগুলো আজও শ্রোতাদের মনে একই রকম আবেগ ও ভালোবাসার সৃষ্টি করে। সময় বদলেছে, সংগীতের ধরণ বদলেছে, প্রযুক্তির পরিবর্তন এসেছে—কিন্তু তাঁর গানের আবেদন একটুও কমেনি। শেখ ইশতিয়াকের গান শুধু সুরের সৌন্দর্যে নয়, বরং অনুভূতির গভীরতায় বিশেষ হয়ে আছে। তাঁর কণ্ঠে ভালোবাসা, বিরহ, স্মৃতি ও জীবনের নানা আবেগ এমনভাবে প্রকাশ পেয়েছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতাদের সঙ্গে এক বিশেষ সম্পর্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে ‘নীলাঞ্জনা’র মতো গান আজও বাংলা আধুনিক গানের অন্যতম স্মরণীয় সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয়। নতুন প্রজন্ম যখন বাংলাদেশের আধুনিক গানের ইতিহাস জানতে আগ্রহী হয়।
তখন শেখ ইশতিয়াকের নাম অনিবার্যভাবেই সামনে আসে। কারণ তিনি শুধু একজন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলা মেলোডি গানের এক উজ্জ্বল প্রতিনিধি। জীবনের দৈর্ঘ্য নয়, সৃষ্টির গভীরতাই একজন শিল্পীকে অমর করে শেখ ইশতিয়াক তারই উদাহরণ। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর গান, তাঁর সুর এবং তাঁর স্মৃতি বাংলা সংগীতের ইতিহাসে চিরকাল বেঁচে থাকবে। কোনো এক নীরব সন্ধ্যায় তাঁর গানের সুর ভেসে উঠলে মনে হয়, মেলোডি কিং কোথাও হারিয়ে যাননি; তিনি আছেন তাঁর অমলিন সৃষ্টির মধ্যেই।
নীলাঞ্জনা ঐ নীল নীল চোখে
কভার- আইয়ুব বাচ্চু | টিপু | পার্থ বড়ুয়া
