যে মাটির মায়ায় কিষানীর ছায়ায়ে কি মাতম দোলাশিল্পীর তুলি খোলা অঞ্জলি কভু যায় ভোলাবাংলাদেশ বাংলাদেশবাংলাদেশ এই বাংলাদেশ
বাংলাদেশের রক সঙ্গীতের ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে যে কয়েকটি নাম প্রথমেই চলে আসে, তার মধ্যে আর্ক অন্যতম। মাত্র পাঁচটি স্টুডিও অ্যালবাম দিয়েই এই ব্যান্ড এমন এক জায়গা তৈরি করে নিয়েছে, যা আজও অসংখ্য শ্রোতার হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে। ১৯৯১ সালে দেশের প্রতিভাবান কিবোর্ডবাদক ও সুরকার আশিকুজ্জামান টুলুর হাত ধরে এই ব্যান্ডের জন্ম। শুরুর দিকে টুলুর সঙ্গে ছিলেন রিদওয়ান নবী পঞ্চম এবং শামীম এই তিনজনই ছিলেন আর্কের মূল ভিত্তি। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে যখন রক মিউজিক ধীরে ধীরে শ্রোতাপ্রিয় হয়ে উঠছিল, তখন ফিলিংস (পরবর্তীতে নগর বাউল) আর এলআরবি-র পাশাপাশি আর্কও সেই আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিল। এই তিন ব্যান্ডকে একসঙ্গে বলা হতো বাংলাদেশের "রকের বিগ থ্রি" যাদের হাত ধরে দেশের রক সংস্কৃতি একটা স্বতন্ত্র পরিচয় খুঁজে পায়।
তবে আর্কের আসল রূপান্তর ঘটে ১৯৯৩ সালে, যখন সৈয়দ হাসানুর রহমান, যাকে সবাই চেনে শুধু "হাসান" নামে, ব্যান্ডের মূল ভোকালিস্ট হিসেবে যুক্ত হন। হাসানের ভরাট ও আবেগময় কণ্ঠ, পঞ্চমের নিখুঁত গিটার-বাদন আর টুলুর মায়াবী সুর এই তিনের রসায়নে জন্ম নেয় একের পর এক কালজয়ী গান, যা আজও বাংলাদেশের রক সংগীতপ্রেমীদের মুখে মুখে ফেরে। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই ২০০০ সালে ব্যান্ডে কিছুটা ভাঙন দেখা দেয়, আর তাতে ভক্তদের মনে নেমে আসে এক দীর্ঘ শূন্যতা। তবে সেই বিরতি শেষ হয় ২০১০ সালে, যখন হাসান আবার ব্যান্ডে ফিরে আসেন। সেই পুনর্মিলনের পর থেকে আর্ক আবার নতুন উদ্যমে সংগীত-যাত্রা শুরু করে, এবং আজও দেশের কনসার্ট মঞ্চগুলোতে তারা সমান জনপ্রিয় ও প্রাসঙ্গিক এক নাম। চলুন, এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক আর্কের সুদীর্ঘ পথচলা আর তাদের ডিস্কোগ্রাফির খুঁটিনাটি।
আর্ক-মুক্তিযুদ্ধ (১৯৯৩)
- ব্যান্ড: আর্ক | প্রযোজনা: সারগাম
সারগাম রেকর্ডস থেকে প্রকাশিত ব্যান্ড আর্কের প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম মুক্তিযুদ্ধ। ড্রামার ছাড়া রেকর্ড করা এই অ্যালবামে ক্যাসাব্লাঙ্কা চলচ্চিত্রের থিম সুরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি সেদিনো আকাশে এবং হারিকেন লুন্ঠন-এর মতো গান ছিল। তবে বাণিজ্যিকভাবে এই অ্যালবামটি খুব একটা সফল হতে পারেনি।
🎸 লাইন-আপ-আর্ক-মুক্তিযুদ্ধ
- ভোকাল: ফরিদ/জাহাঙ্গীর/ মোঃ শামিম/আশিকউজ্জামান টুল/মুবিন
- লিড গিটার: পার্থ প্রতিম মজুমদার /রিদওয়ান চৌধুরী পঞ্চম
- বেজ: টুলু/পঞ্চম
- কি-বোর্ড রিদম মিউজিক কম্পোজিশন: আশিকউজ্জামান টুল
- অতিথি: বাপ্পি/ সাথি
- আবৃত্তি: শিমুল মোস্তফা
💿 ট্র্যাক লিস্ট: মুক্তিযুদ্ধ (আর্ক)
- 🎵 মুক্তি যুদ্ধ — (কথা: সৈয়দ হায়দার / কণ্ঠ: )
- 🎵 হারিকেন — (কথা: হাফিজুর রহমান / কণ্ঠ: )
- 🎵 সেদিনও আকাশে — (কথা: টুলু / কণ্ঠ: )
- 🎵 ঐ চলে যায় — (কথা: কাওসার আহমেদ চৌধুরী / কণ্ঠ:টুলু)
- 🎵 আজব — (কথা: হাফিজুর রহমান / কণ্ঠ: )
- 🎵 চাঁদ — (কথা: জাকির হোসেন / কণ্ঠ: )
- 🎵 বিজয় — (কথা: সেজান মাহমুদ / কণ্ঠ: )
- 🎵 রেশমী — (কথা: খুশনূর আহমেদ / কণ্ঠ: )
- 🎵 ড্রাগস — (কথা: টুলু / কণ্ঠ: )
- 🎵 এতকাল — (কথা: মুবিন / কণ্ঠ: মুবিন )
- 🎵 মেহমান — (কথা: সুকুমার বড়ুয়া / কণ্ঠ: )
- 🎵 ভালবাসা — (কথা: সৈয়দ হায়দার / কণ্ঠ: )
- 🎵 রেলগাড়ী — (কথা: জাকির হোসেন / কণ্ঠ: )
- 🎵 বিদায় — (কথা: টুলু / কণ্ঠ: টুলু )
আর্ক- তাজমহল (১৯৯৬)
- ব্যান্ড: আর্ক | প্রযোজনা: সাউন্ডটেক
সাউন্ডটেক থেকে প্রকাশিত আর্কের দ্বিতীয় অ্যালবাম তাজমহল। এই অ্যালবামে মূল ভোকাল হিসেবে হাসান যুক্ত হয় ব্যান্ড আর্কের সাথে। অ্যালবামটি শ্রোতাদের এক অভূতপূর্ব সাড়া ফেলে এবং ব্যান্ডটিকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। অ্যালবামের ‘সুইটি’ গানটি সেই বছরের সবচেয়ে বড় হিট এবং বর্তমান বাংলাদেশের রক ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য সিগনেচার গান। এছাড়া ‘একাকী’, ‘তাজমহল’, ‘গুরু’ ও ‘পাগল মন’ গানগুলোও ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা পায়।
🎸 লাইন-আপ-আর্ক-তাজমহল
- ভোকাল: সৈয়দ হাসানুর রহমান হাসান ও মোঃ শামীম
- লিড গিটার ও ভোকাল: রিদওয়ান চৌধুরী পঞ্চম
- বেজ: আহমেদ আমিন শাহরিয়ার শিশিরি
- কি-বোর্ড ও ভোকাল : আশিকউজ্জামান টুল
- ড্রামস: রেজওয়ান
💿 ট্র্যাক লিস্ট: তাজমহল (আর্ক)
- 🎵 একাকী — (কথা: হাসান / কণ্ঠ: হাসান )
- 🎵 সুইটি — (কথা: হাসান / কণ্ঠ: হাসান )
- 🎵 গুরু — (কথা: হাসান / কণ্ঠ: হাসান )
- 🎵 পাগল মন — (কথা: পঞ্চম / কণ্ঠ: টুলু)
- 🎵 বিদায় — (কথা: পঞ্চম ও রেজওয়ান / কণ্ঠ: পঞ্চম)
- 🎵 নয়নে নয় — (কথা: সোহেল আরমান / কণ্ঠ: শামীম )
- 🎵 আমার একটা তুমি — (কথা: টুলু / কণ্ঠ: টুলু)
- 🎵 এই রাতে — (কথা: হাসান / কণ্ঠ: হাসান )
- 🎵 এমন একটা সময় — (কথা: বাপ্পী খান / কণ্ঠ: পঞ্চম )
- 🎵 এতো সুখ — (কথা: হাসান / কণ্ঠ: হাসান )
- 🎵 অন্তহীন বেদনা — (কথা: হাসান / কণ্ঠ: শামীম )
- 🎵 তাজমহল — (কথা: হাসান / কণ্ঠ: হাসান )
আর্ক- জন্মভূমি (১৯৯৮)
- ব্যান্ড: আর্ক | প্রযোজনা: সাউন্ডটেক
‘তাজমহল’-এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সাউন্ডটেক থেকেই প্রকাশিত হয় তাদের তৃতীয় অ্যালবাম। এটিও দেশজুড়ে ব্যাপক ব্যবসায়িক সফলতা লাভ করে এবং আর্ক-কে শীর্ষ ব্যান্ডের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে।
এই অ্যালবামের ‘যারে যা’, ‘এই দূর প্রবাসে’ এবং ‘বাংলাদেশ’ গানগুলো শ্রোতাদের মাঝে দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
🎸 লাইন-আপ-আর্ক- জন্মভূমি
- ভোকাল: সৈয়দ হাসানুর রহমান হাসান
- লিড গিটার ও ভোকাল: রিদওয়ান চৌধুরী পঞ্চম
- বেজ: বুলবুল রহমান
- কি-বোর্ড ও ভোকাল : আশিকউজ্জামান টুল
- ড্রামস: এনাম টন্টি
💿 ট্র্যাক লিস্ট: জন্মভূমি (আর্ক)
- 🎵 প্রেম তুমি — (কথা: হাসান / কণ্ঠ: হাসান )
- 🎵 যারে যা — (কথা: হাসান / কণ্ঠ: হাসান )
- 🎵 একি অভিশাপ — (কথা: জুলকার নাইয়ান / কণ্ঠ: হাসান )
- 🎵 প্রতিশ্রুতি — (কথা: হাসান / কণ্ঠ: হাসান )
- 🎵 আকাশের নীলে — (কথা: জুলকার নাইয়ান / কণ্ঠ: পঞ্চম)
- 🎵 কিছু কিছু কথা — (কথা: প্রিন্স মাহমুদ / কণ্ঠ: টুটুল )
- 🎵 নিঝুম রাত — (কথা: আসিফ ইকবাল / কণ্ঠ: টুলু)
- 🎵 অভিমানে নয় — (কথা: হাসান / কণ্ঠ: হাসান )
- 🎵 ও মনা — (কথা: মাহমুদুন্নবী ও ফাহমিদা আলম / কণ্ঠ: পঞ্চম )
- 🎵 এই দূর পরবাসে — (কথা: আসিফ ইকবার / কণ্ঠ: টুলু )
- 🎵 এত চাই তবুও — (কথা: হাসান / কণ্ঠ: হাসান)
- 🎵 বাংলাদেশ— (কথা: হাসান / কণ্ঠ: হাসান )
আর্ক- স্বাধীনতা (২০০০)
- ব্যান্ড: আর্ক | প্রযোজনা: সাউন্ডটেক
স্বাধীনতা আর্কের চতুর্থ স্টুডিও অ্যালবাম। এই অ্যালবামের "প্রেমা", "আর কতো মিথ্যে?", এবং "বন্ধু" গানগুলো তরুণ প্রজন্মের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় ও সফল হয়।
এই অ্যালবামের সাফল্যের পর প্রধান কণ্ঠশিল্পী হাসান ব্যান্ড ছেড়ে নতুন দল গঠন করলে আর্কের স্বর্ণালী যুগের সাময়িক অবসান ঘটে।
🎸 লাইন-আপ-আর্ক-স্বাধীনতা
- ভোকাল: সৈয়দ হাসানুর রহমান হাসান
- লিড গিটার ও ভোকাল: রিদওয়ান চৌধুরী পঞ্চম
- কি-বোর্ড ও ভোকাল : আশিকউজ্জামান টুল
💿 ট্র্যাক লিস্ট: স্বাধীনতা (আর্ক)
- 🎵 সেতার — (কথা: হাসান / কণ্ঠ: হাসান )
- 🎵 আর কত মৃত্যু — (কথা: হাসান / কণ্ঠ: হাসান )
- 🎵 মনেরই আড়ালে — (কথা: মাস মাসুম / কণ্ঠ: পঞ্চম )
- 🎵 বন্ধু — (কথা: হাসান / কণ্ঠ: হাসান )
- 🎵 ভুলবোনা তোমাকে — (কথা: সাইফ / কণ্ঠ: টুলু)
- 🎵 প্রতিবন্ধী — (কথা: হাসান / কণ্ঠ: হাসান)
- 🎵 প্রেমা — (কথা: হাসান ও খালিদ মহিউদ্দিন / কণ্ঠ: হাসান)
- 🎵 কি ভুলে — (কথা: সোহেল আরমান / কণ্ঠ: পঞ্চম )
- 🎵 এ কেমন স্বদেশ আমার — (কথা: টুলু / কণ্ঠ: টুলু )
- 🎵 তুমি হৃদয়ের গভীরে — (কথা: মাস মাসুম / কণ্ঠ: পঞ্চম )
- 🎵 সাগর দুটি চোখ — (কথা: টুলু / কণ্ঠ: টুলু)
- 🎵 স্বাধীনতা— (কথা: হাসান / কণ্ঠ: হাসান )
আর্ক- হারান মাঝি (২০০২)
- ব্যান্ড: আর্ক | প্রযোজনা: সংগীতা
হাসান ও পঞ্চমের প্রস্থানের পর ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা আশিকুজ্জামান টুলু প্রতিভাবান তরুণ সংগীতশিল্পী অটামনাল মুন-কে সাথে নিয়ে ব্যান্ডটি পুনর্গঠন করেন।
এই পুনর্গঠিত লাইন-আপ থেকে ২০০২ সালে ‘হারান মাঝি’ অ্যালবামটি প্রকাশিত হয়। যেখানে টুলু নিজেই কিবোর্ডের পাশাপাশি বেস গিটার বাজিয়েছিলেন।
💿 ট্র্যাক লিস্ট: হারান মাঝি (আর্ক)
- 🎵 না না না নারী — (আশিকুজ্জামান টুলু/ অটামনাল মুন)
- 🎵 রিস্কি ক্লাশ নাইন — (আশিকুজ্জামান টুলু/ অটামনাল মুন )
- 🎵 ও রাত— (আশিকুজ্জামান টুলু/ অটামনাল মুন )
- 🎵 নিমাই নগরে— (আশিকুজ্জামান টুলু/ অটামনাল মুন )
- 🎵 আকাশ ঢেকে আছে — (আশিকুজ্জামান টুলু/ অটামনাল মুন)
- 🎵 হারান মাঝি — (আশিকুজ্জামান টুলু/ অটামনাল মুন)
- 🎵 তুমি অন্তর নিয়ে — (আশিকুজ্জামান টুলু/ অটামনাল মুন)
- 🎵 তুমি ঝড় কি হতে পারো না — (আশিকুজ্জামান টুলু/ অটামনাল মুন )
- 🎵 চাঁদের আজ মনটা ভাল নেই — (আশিকুজ্জামান টুলু/ অটামনাল মুন )
- 🎵 ছোট্ট পাখি — (আশিকুজ্জামান টুলু/ অটামনাল মুন )
- 🎵 ভুলে কি গেছো — (আশিকুজ্জামান টুলু/ অটামনাল মুন)
- 🎵 এ মন ক্লান্ত— (আশিকুজ্জামান টুলু/ অটামনাল মুন )
আর্ক বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিকের স্বর্ণালী যুগের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। নব্বইয়ের দশকের তরুণদের মন জয় করা ‘সুইটি’ কিংবা ‘যারে যা’-এর মতো কালজয়ী গানগুলো আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে সমানভাবে দোলা দেয়।
আশিকুজ্জামান টুলুর দূরদর্শী সুরের জাদু এবং হাসানুর রহমানের অনন্য কণ্ঠশৈলী আর্ক-কে বাংলা রকের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে। বহু চড়াই-উতরাই এবং লাইন-আপের পরিবর্তন পেরিয়েও আর্কের এই সাঙ্গীতিক যাত্রা প্রমাণ করে যে, ভালো গান কখনো হারিয়ে যায় না।
যারে যা উড়ে যা
আর্ক- জন্মভূমি
বাংলাদেশের রক কনসার্টের মঞ্চে আর্কের সুর আর হাসানের কণ্ঠ আজও এক উন্মাদনার নাম, যা যুগ যুগ ধরে বাংলা মিউজিকপ্রেমীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে।
FAQ: আর্ক (Ark) ব্যান্ডের ইতিহাস ও ডিস্কোগ্রাফি
প্রশ্ন: আর্ক (Ark) ব্যান্ড কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
উত্তর: আর্ক (Ark) ব্যান্ড ১৯৯১ সালে প্রখ্যাত কিবোর্ডবাদক ও সুরকার আশিকুজ্জামান টুলুর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন: আর্ক ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কারা ছিলেন?
উত্তর: আর্কের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে ছিলেন আশিকুজ্জামান টুলু, রিদওয়ান নবী পঞ্চম এবং শামীম।
প্রশ্ন: আর্ক ব্যান্ডের জনপ্রিয়তার মূল সময়কাল কোনটি?
উত্তর: নব্বইয়ের দশক ছিল আর্ক ব্যান্ডের স্বর্ণযুগ। এই সময়ে ‘সুইটি’, ‘যারে যা’, ‘বাংলাদেশ’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান শ্রোতাদের হৃদয় জয় করে।
প্রশ্ন: আর্ক ব্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যালবাম কোনটি?
উত্তর: আর্কের দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘তাজমহল’ (১৯৯৬) সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যালবামগুলোর একটি, যা ব্যান্ডটিকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।
প্রশ্ন: আর্ক ব্যান্ডের বিখ্যাত গানগুলো কী কী?
উত্তর: আর্কের উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘সুইটি’, ‘যারে যা’, ‘বাংলাদেশ’, ‘তাজমহল’, ‘প্রেমা’, ‘বন্ধু’ ও ‘এই দূর পরবাসে’।
প্রশ্ন: আর্ক ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠশিল্পী কে ছিলেন?
উত্তর: সৈয়দ হাসানুর রহমান (হাসান) ১৯৯৩ সালে আর্কে যোগ দেওয়ার পর ব্যান্ডটির প্রধান কণ্ঠশিল্পী হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
প্রশ্ন: আর্ক ব্যান্ডের মোট কয়টি স্টুডিও অ্যালবাম রয়েছে?
উত্তর: আর্ক ব্যান্ডের প্রকাশিত স্টুডিও অ্যালবামের সংখ্যা পাঁচটি— ‘মুক্তিযুদ্ধ’ (১৯৯৩), ‘তাজমহল’ (১৯৯৬), ‘জন্মভূমি’ (১৯৯৮), ‘স্বাধীনতা’ (২০০০) এবং ‘হারান মাঝি’ (২০০২)।
প্রশ্ন: আর্ককে বাংলাদেশের রকের বিগ থ্রি বলা হয় কেন?
উত্তর: নব্বইয়ের দশকে ফিলিংস (নগর বাউল) ও এলআরবি (LRB)-এর সঙ্গে আর্ক বাংলাদেশের রক সঙ্গীতের জনপ্রিয়তা ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তাদের ‘রকের বিগ থ্রি’ বলা হয়।
