ইংল্যান্ডের সালিসবারি প্লেইনে দাঁড়িয়ে থাকা স্টোনহেঞ্জ পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় প্রাগৈতিহাসিক স্থাপনাগুলোর একটি। প্রায় পাঁচ হাজার বছর ধরে এই বিশাল পাথরের বৃত্ত মানুষের কল্পনা ও কৌতূহলকে সমানভাবে উসকে দিয়ে আসছে। ইতিহাসবিদ, প্রত্নতাত্ত্বিক থেকে শুরু করে সাধারণ পর্যটক প্রায় সবার মনেই একই প্রশ্ন ঘুরপাক খায় যে এত বিশাল, এত ভারী পাথর কীভাবে বহু মাইল দূর থেকে এই নির্জন প্রান্তরে বয়ে আনা হয়েছিল? কারা এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেতৃত্ব দিয়েছিল, আর কেনই বা এমন একটি স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তোলার প্রয়োজন পড়েছিল, যার জন্য প্রয়োজন হয়েছিল শত শত মানুষের সম্মিলিত শ্রম ও বছরের পর বছর পরিকল্পনা?
আধুনিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি বা লিখিত ভাষা ছাড়াই নিওলিথিক যুগের মানুষ কীভাবে এমন একটি নিখুঁত ও দীর্ঘস্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করেছিল, তা যুগ যুগ ধরে গবেষকদের বিস্মিত করে আসছে। বহু তত্ত্ব এসেছে ধর্মীয় বিশ্বাস, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, মৃতদের স্মরণ কিংবা সামাজিক সমাবেশের কেন্দ্র হিসেবে এর ব্যবহার নিয়ে। তবে এবার একেবারে ভিন্ন এক কোণ থেকে বিষয়টি দেখার চেষ্টা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের নতুন ধারণা অনুযায়ী, এই বিশাল পাথর পরিবহনের পেছনে হয়তো লুকিয়ে ছিল মানুষের চিরন্তন এক প্রবৃত্তি প্রতিযোগিতা করার আকাঙ্ক্ষা। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই নতুন তত্ত্ব এবং স্টোনহেঞ্জ ঘিরে থাকা অন্যান্য রহস্যের কথা।
Stonehenge-পাথরগুলো কোথা থেকে এসেছিল?
স্টোনহেঞ্জের সবচেয়ে বড় পাথরগুলোর নাম স্যারসেন স্টোন। এগুলোর অনেকগুলো প্রায় ৭ মিটার (২৩ ফুট) পর্যন্ত উঁচু এবং প্রায় ৩০ টন পর্যন্ত ওজনের। গবেষণায় জানা গেছে, স্টোনহেঞ্জের স্যারসেন পাথরের প্রধান উৎস ছিল ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট উডস, যা মার্লবরো ডাউনস এলাকার প্রান্তে এবং স্টোনহেঞ্জ থেকে আনুমানিক ১৫-২০ মাইল (২৪-৩২ কিমি) দূরে। অর্থাৎ হাজার হাজার বছর আগে, যখন আধুনিক গাড়ি, রাস্তা বা ভারী যন্ত্রপাতি কিছুই ছিল না, তখন মানুষকে এই বিশাল পাথরগুলো বনাঞ্চল থেকে তুলে বহু মাইল দূরে বহন করে নিয়ে যেতে হয়েছিল। এটাই স্টোনহেঞ্জের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি।
পাথর টানার কাজে কি ছিল প্রতিযোগিতা?
স্টোনহেঞ্জের কিউরেটর উইন স্কাট মনে করেন, বিশাল পাথর পরিবহনের কাজে মানুষের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতামূলক প্রবণতা ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। তার ধারণা, হয়তো একাধিক দল পাথর টেনে নেওয়ার কাজে অংশ নিত কে দ্রুত বা দক্ষতার সঙ্গে পাথর সরাতে পারে, তা নিয়ে একধরনের চ্যালেঞ্জ বা খেলাধুলার মতো প্রতিযোগিতাও হয়ে থাকতে পারে। তিনি মনে করেন, মানুষের সমাজে প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনমূলক কর্মকাণ্ডের প্রবণতা নতুন কিছু নয়, এবং বিশ্বের অন্যান্য প্রাচীন সমাজের উদাহরণ থেকেও দেখা যায় যে এমন বড় কাজে প্রতিযোগিতামূলক উপাদান থাকা অস্বাভাবিক নয়। প্রাগৈতিহাসিক সমাজেও এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
পরীক্ষামূলক প্রত্নতাত্ত্বিক লুক উইন্টার, যিনি নিওলিথিক হল প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করছেন, তিনিও এই ধারণাকে যুক্তিসঙ্গত মনে করেন। ভাবুন, প্রায় ৪,৫০০ বছর আগে কাউকে যদি বলা হতো কয়েক ডজন বিশাল পাথর, যার কিছুর ওজন কয়েক দশক টন, বহু দূর থেকে বহন করে আনতে হবে তাহলে কাজটি নিছক সদিচ্ছার ওপর ভিত্তি করে সংঘটিত হয়েছে বলে মনে করা কঠিন। তার মতে, দলগুলোর মধ্যে সামান্য প্রতিযোগিতা, সম্মান অর্জনের আকাঙ্ক্ষা বা নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ থাকলে এত বড় প্রকল্পে মানুষকে সংগঠিত করা সহজ হতে পারত। তবে এখন পর্যন্ত সত্যিই এমন কোনো পাথর টানার প্রতিযোগিতা হয়েছিল, তার সরাসরি প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এটি স্টোনহেঞ্জ রহস্যের একটি নতুন সম্ভাব্য ব্যাখ্যা, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
কীভাবে এত ভারী পাথর সরানো হয়েছিল?
প্রাচীন মানুষ কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাথরগুলো সরিয়েছিল, তা নিয়েও নানা পরীক্ষা চালানো হয়েছে। একটি সম্ভাব্য পদ্ধতি ছিল পাথরের নিচে কাঠের গুঁড়ি বা লগ বসিয়ে সেটিকে রোলারের মতো ব্যবহার করা, এরপর দড়ি দিয়ে বহু মানুষ একসঙ্গে টেনে নেওয়া। আরেকটি পদ্ধতিতে কাঠের স্লেজ ব্যবহার করে পাথর তার ওপর বসিয়ে দলবদ্ধভাবে টানা হয়ে থাকতে পারে।
এ ধরনের পরীক্ষামূলক গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়াও বিপুলসংখ্যক মানুষের সমন্বিত শ্রমের মাধ্যমে অত্যন্ত ভারী বস্তু সরানো সম্ভব। হিসাব অনুযায়ী, একটি বড় স্যারসেন পাথর টানতে প্রায় ৫০০ জন মানুষ লাগত, সঙ্গে আরও ১০০ জন প্রয়োজন হতো স্লেজের সামনে রোলার বসানোর জন্য। অর্থাৎ স্টোনহেঞ্জ নির্মাণে হয়তো কোনো অলৌকিক শক্তির প্রয়োজন হয়নি প্রয়োজন হয়েছিল পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং বিপুল মানবশ্রমের।
স্টোনহেঞ্জ কি শুধু একটি স্মৃতিস্তম্ভ ছিল?
স্টোনহেঞ্জ কেন নির্মাণ করা হয়েছিল, এ প্রশ্নেরও এখনো একক কোনো উত্তর নেই। এটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান, মৃতদের স্মরণ, সামাজিক সমাবেশ কিংবা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে বিভিন্ন তত্ত্ব প্রচলিত আছে। প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ থেকে বোঝা যায়, স্টোনহেঞ্জ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা বড় ধরনের সামাজিক আয়োজনও করত। এর আশপাশের বসতি এলাকায় বিপুল পরিমাণ প্রাণীর হাড় ও মৃৎপাত্র পাওয়া গেছে। এগুলো থেকে গবেষকরা মনে করেন, এখানে বড় ধরনের ভোজ ও সামাজিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকতে পারে অর্থাৎ স্টোনহেঞ্জ শুধু একটি নির্জন স্মৃতিস্তম্ভ নয়, বরং প্রাচীন সমাজের মিলনস্থলও ছিল বলে ধারণা করা হয়।
স্টোনহেঞ্জের কাছে তৈরি হয়েছিল নিওলিথিক হল
স্টোনহেঞ্জ নিয়ে নতুন আগ্রহের আরেকটি কারণ এর কাছাকাছি একটি প্রাগৈতিহাসিক ভবনের পুনর্নির্মাণ। ইংলিশ হেরিটেজের উদ্যোগে স্টোনহেঞ্জ থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে, প্রায় ৪,৫০০ বছর আগের একটি বিশাল নিওলিথিক হলের প্রতিরূপ তৈরি করা হয়েছে এটি এ পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে বড় প্রাক-ঐতিহাসিক স্থাপনার পুনর্নির্মাণ। প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ থেকে ধারণা করা হয়, এই স্থানটি ভ্রমণকারী ও সম্ভবত প্রতিযোগীদের খাওয়া-দাওয়া, উৎসব ও নাচগানের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। খননকাজে পাওয়া গেছে হাজার হাজার প্রাণীর হাড় ও প্রচুর মৃৎপাত্র, যা শীতকালীন ভোজ-উৎসবের প্রবল প্রমাণ বহন করে।
প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক গত নয় মাস ধরে ঐতিহাসিক পদ্ধতি ও স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করে ৭ মিটার উঁচু এই হলঘরটি পুনর্নির্মাণ করেছেন। কুসুমা ট্রাস্টের অর্থায়নে তৈরি এই হলঘর এই গ্রীষ্মে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হবে এবং শরৎকালে শিশুদের শেখার একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ইংলিশ হেরিটেজের কিউরেটোরিয়াল পরিচালক ম্যাট থম্পসনের মতে, ঐতিহাসিক নির্মাণকৌশল ব্যবহারের ফলে নিওলিথিক যুগের মানুষদের দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে অনেক গভীর ধারণা পাওয়া গেছে। গবেষকদের ধারণা, এ ধরনের ভবন হয়তো মানুষের মিলনস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যেখানে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, সামাজিক অনুষ্ঠান, বিশ্রাম কিংবা বিভিন্ন কাজ চলত। ফলে স্টোনহেঞ্জ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত মানুষের মধ্যে শুধু শ্রম নয়, সামাজিক যোগাযোগ ও দলগত কর্মকাণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্টোনহেঞ্জ তৈরি হয়েছিল একবারে নয় - চারটি ধাপে
গত বছর গবেষকরা স্টোনহেঞ্জের ব্লুস্টোনগুলো ওয়েলস থেকে কীভাবে আনা হয়েছিল, তা নিয়েও নতুন তথ্য পেয়েছিলেন। অ্যাবেরিস্টউইথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিচার্ড বেভিন্সের নেতৃত্বে একটি দল "নিওয়াল বোল্ডার" নামের একটি পাথরকে ওয়েলসের একটি পাথুরে এলাকার নমুনার সঙ্গে তুলনা করে দেখেন। ভূ-রাসায়নিক ও অণুবীক্ষণিক বিশ্লেষণে প্রমাণিত হয় যে পাথরটি হিমবাহের মাধ্যমে নয়, বরং মানুষের দ্বারাই প্রায় ১২৫ মাইল (২০০ কিমি) দূর থেকে বহন করে আনা হয়েছিল। আজ আমরা যে স্টোনহেঞ্জ দেখি, তা একবারে তৈরি হয়নি। এর নির্মাণ ও পরিবর্তন বহু শতাব্দী ধরে চলেছে, চারটি প্রধান পর্যায়ে:
- প্রথম ধাপ (আনুমানিক ৩১০০ খ্রিস্টপূর্ব): তৈরি হয় একটি মাটির প্রাচীর, পরিখা ও অব্রে হোল নামে পরিচিত ছোট ছোট গর্ত। যেগুলোর ব্যাস ও গভীরতা প্রায় এক মিটার এবং যা মিলে প্রায় ৮৬.৬ মিটার ব্যাসের একটি বৃত্ত তৈরি করে। এসব গর্তে পোড়া মানুষের হাড় পাওয়া গেলেও এগুলো সম্ভবত সরাসরি সমাধি নয়, বরং কোনো ধর্মীয় আচারের অংশ ছিল। এরপর প্রায় হাজার বছর স্থানটি পরিত্যক্ত ছিল।
- দ্বিতীয় ধাপ (আনুমানিক ২১৫০ খ্রিস্টপূর্ব): ওয়েলসের প্রেসেলি পাহাড় থেকে প্রায় ৮২টি ব্লুস্টোন আনা হয়। চার টন পর্যন্ত ওজনের এই পাথরগুলো প্রথমে রোলার ও স্লেজের সাহায্যে টেনে নৌপথে তোলা হয়, এরপর নদী ও সমুদ্রপথ পেরিয়ে, আবার স্থলপথে টেনে প্রায় ২৪০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে স্টোনহেঞ্জে পৌঁছায় এবং একটি অসম্পূর্ণ দ্বৈত বৃত্তাকারে স্থাপিত হয়। এই সময়ই মূল প্রবেশপথ চওড়া করা হয় এবং একজোড়া হিল স্টোন বসানো হয়।
- তৃতীয় ধাপ (আনুমানিক ২০০০ খ্রিস্টপূর্ব): আসে বিশাল স্যারসেন পাথর, যা ব্লুস্টোনের চেয়ে অনেক বড়। সবচেয়ে বড় পাথরের ওজন ছিল ৫০ টন পর্যন্ত, যা নৌপথে বহন করা সম্ভব ছিল না বলে ধারণা করা হয় এগুলো স্লেজ ও দড়ির মাধ্যমে টেনে আনা হয়েছিল। এই পাথরগুলো দিয়ে তৈরি হয় বাইরের বৃত্ত, যার ওপর অনুভূমিক লিন্টেল বসানো, এবং ভেতরে পাঁচটি ট্রাইলিথন (দুটি খাড়া পাথর ও তার ওপর একটি আনুভূমিক পাথর) দিয়ে তৈরি ঘোড়ার খুরের আকৃতির কাঠামো যা আজও দেখা যায়।
- চতুর্থ ও শেষ ধাপ (আনুমানিক ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বের পর): ছোট ব্লুস্টোনগুলো পুনর্বিন্যস্ত করে আজকের পরিচিত বৃত্ত ও ঘোড়ার খুরের কাঠামো তৈরি করা হয়। ব্লুস্টোন বৃত্তে মূলত প্রায় ৬০টি পাথর ছিল বলে ধারণা করা হয়, যার অনেকগুলো এখন সরিয়ে ফেলা হয়েছে বা ভেঙে গেছে কিছু এখনও মাটির নিচে স্তূপ আকারে রয়ে গেছে।
স্টোনহেঞ্জের পাঁচটি রহস্য এখনো অমীমাংসিত
নতুন নতুন গবেষণা সত্ত্বেও স্টোনহেঞ্জ নিয়ে কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি:
- এত ভারী পাথর কীভাবে সরানো হয়েছিল? কাঠের রোলার, স্লেজ, দড়ি ও বিপুল মানবশ্রম ব্যবহারের সম্ভাবনা থাকলেও সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি পুরোপুরি জানা যায়নি।
- কেন এই জায়গাটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল? সালিসবারি প্লেইনের এই নির্দিষ্ট স্থানের সামাজিক, ধর্মীয় ও ভৌগোলিক গুরুত্ব কী ছিল, তা এখনো গবেষণার বিষয়।
- স্টোনহেঞ্জের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সমাধি, সামাজিক সমাবেশ, নাকি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ একাধিক সম্ভাবনা রয়ে গেছে।
- এর আকৃতি বারবার পরিবর্তন করা হয়েছিল কেন? বিভিন্ন সময়ে পাথর সরানো ও পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, যার পেছনে হয়তো পরিবর্তিত ধর্মীয় বা সামাজিক বিশ্বাস কাজ করেছে।
- সব পাথর এখন কোথায়? অতীতে এখানে আরও বেশি পাথর ছিল বলে ধারণা করা হয়। কিছু ভেঙে গেছে, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, আবার কিছু মাটির নিচে রয়ে গেছে।
তাহলে কি রহস্য সত্যিই সমাধান হয়েছে?
এক কথায় না। স্টোনহেঞ্জের পাথর পরিবহনে প্রতিযোগিতা বা দলগত চ্যালেঞ্জের ভূমিকা থাকতে পারে এটি নিঃসন্দেহে একটি আকর্ষণীয় ধারণা। কিন্তু এখনো এমন কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা নিশ্চিতভাবে দেখায় যে প্রাগৈতিহাসিক মানুষ সত্যিই পাথর টানার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। বরং এই তত্ত্ব আমাদের স্টোনহেঞ্জকে নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করে হাজার হাজার বছর আগে মানুষ হয়তো শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে নয়, সামাজিক মর্যাদা, দলগত পরিচয়, সহযোগিতা কিংবা নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শনের তাগিদেও এমন বিশাল প্রকল্পে অংশ নিয়েছিল।
আর এ কারণেই স্টোনহেঞ্জ আজও শুধু পাথরের একটি বৃত্ত নয় এটি প্রাচীন মানুষের বুদ্ধি, সংগঠন, বিশ্বাস, প্রযুক্তি ও সামাজিক জীবনের এক অসাধারণ নিদর্শন। প্রায় ৫ হাজার বছর পরও যখন আমরা প্রশ্ন করি, "কীভাবে তারা এত বিশাল পাথর এখানে আনল?", তখন স্টোনহেঞ্জ যেন মনে করিয়ে দেয় প্রাচীন মানুষকে আমরা যতটা সরল ভাবি, তারা হয়তো তার চেয়েও অনেক বেশি সংগঠিত, দক্ষ ও উচ্চাভিলাষী ছিল।
স্টোনহেঞ্জ নিয়ে সংক্ষিপ্ত FAQ
প্রশ্ন ১. স্টোনহেঞ্জ কত বছরের পুরোনো?
উত্তর: স্টোনহেঞ্জের প্রাথমিক নির্মাণ প্রায় ৫ হাজার বছর আগে, আনুমানিক ৩১০০ খ্রিস্টপূর্বে শুরু হয়েছিল।
প্রশ্ন ২. স্টোনহেঞ্জের বড় পাথরগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছিল?
উত্তর: বড় sarsen পাথরগুলো মূলত ইংল্যান্ডের Marlborough Downs এলাকার West Woods থেকে আনা হয়েছিল।
প্রশ্ন ৩. স্টোনহেঞ্জের পাথর কীভাবে পরিবহন করা হয়েছিল?
উত্তর: ধারণা করা হয়, কাঠের রোলার, স্লেজ ও দড়ি ব্যবহার করে বহু মানুষ পাথরগুলো টেনে নিয়ে গিয়েছিল।
প্রশ্ন ৪. পাথর পরিবহনে কি কোনো প্রতিযোগিতা হয়েছিল?
উত্তর: একজন বিশেষজ্ঞের মতে, পাথর পরিবহনে দলগত প্রতিযোগিতা বা চ্যালেঞ্জের উপাদান থাকতে পারে। তবে এর সরাসরি প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন ৫. স্টোনহেঞ্জ কেন তৈরি করা হয়েছিল?
উত্তর: এর সঠিক উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক সমাবেশ ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ব্যবহারের মতো বিভিন্ন তত্ত্ব রয়েছে।
প্রশ্ন ৬. স্টোনহেঞ্জ কি একবারেই তৈরি হয়েছিল?
উত্তর: না। কয়েক শতাব্দী ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে পাথর আনা, স্থাপন ও পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এর বর্তমান কাঠামো তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
- পৃথিবীতে ভিনগ্রহীর প্রাচীন চিহ্ন ও অন্যান্য রহস্য
- স্টিফেন হকিংয়ের ভবিষ্যদ্বাণী: সত্যি হওয়ার পথে?
- ইউনিয়ন জ্যাক পতাকা: ইতিহাস, নকশা
- যুক্তরাজ্য, গ্রেট ব্রিটেন ও ইংল্যান্ডের পার্থক্য কী?
- বাংলাদেশের ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য: ইতিহাস
- বাংলাদেশের এভারেস্ট বিজয়ীদের তালিকা
- ক্রিস্টোফার কলম্বাস কি আসলে স্প্যানিশ ছিল

