পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট শুধু একটি পাহাড় নয় এটি মানুষের সাহস, অধ্যবসায়, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাসের সর্বোচ্চ প্রতীক। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার (২৯,০৩১.৭ ফুট) উচ্চতার এই শৃঙ্গে পৌঁছানো মানে প্রকৃতির সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। অক্সিজেনের স্বল্পতা, হিমশীতল তাপমাত্রা, তুষারঝড়, বরফধস এবং মৃত্যুঝুঁকি সবকিছুকে জয় করেই একজন পর্বতারোহী এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান।
বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে পাহাড়ি দেশ না হলেও, দেশের কিছু সাহসী অভিযাত্রী নিজেদের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছেন। ২০১০ সালে মুসা ইব্রাহীম প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এভারেস্ট জয় করার মাধ্যমে যে ইতিহাসের সূচনা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে এম এ মুহিত, নিশাত মজুমদার, ওয়াসফিয়া নাজরীন, সজল খালেদ, বাবর আলী, ইকরামুল হাসান শাকিল এবং সর্বশেষ নুরুন্নাহার নিম্নি সেই ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন।
বিশেষ করে ২০২৬ সালে নুরুন্নাহার নিম্নির এভারেস্ট জয় বাংলাদেশের নারী পর্বতারোহণে নতুন অনুপ্রেরণা যোগ করেছে। দীর্ঘ ১৪ বছর পর তিনি তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে আরোহণ করে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। এই নিবন্ধে বাংলাদেশের সব এভারেস্ট বিজয়ীর পরিচয়, তাঁদের অভিযানের গল্প, গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড এবং বাংলাদেশের পর্বতারোহণের অগ্রযাত্রা তুলে ধরা হয়েছে।
মাউন্ট এভারেস্ট: মানুষের সীমা অতিক্রমের মহাকাব্যিক প্রতীক
হিমালয় পর্বতমালার মহালঙ্গুর অংশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা মাউন্ট এভারেস্ট কেবল পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গই নয়, এটি মানব সাহসিকতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির সবচেয়ে বড় নিদর্শন। নেপাল ও চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সীমান্তে অবস্থিত এই চূড়ার আধুনিক পরিমাপকৃত উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার (বা ২৯,০৩১ ফুট)। এভারেস্টে প্রথম সফল আরোহণ করেন নিউজিল্যান্ডের স্যার এডমন্ড হিলারি এবং নেপালের কিংবদন্তি শেরপা তেনজিং নোরগে।
১৯৫৩ সালের ২৯ মে তাঁদের এই সাফল্য বিশ্ব ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এরপর থেকে হাজার হাজার পর্বতারোহী এভারেস্ট জয়ের চেষ্টা করেছেন। কেউ সফল হয়েছেন, আবার অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। তাই এভারেস্টকে শুধু একটি পর্বত নয়, বরং মানুষের সীমা অতিক্রমের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।বরফাবৃত এই পাহাড়ের চূড়ায় পা রাখার রোমাঞ্চকর ইতিহাস এবং এর নান্দনিক রূপ এক নজরে দেখে নেওয়া যাক:
- প্রথম ঐতিহাসিক সাফল্য: ১৯৫৩ সালের ২৯ মে নিউজিল্যান্ডের প্রখ্যাত অভিযাত্রী স্যার এডমন্ড হিলারি এবং নেপালের কিংবদন্তি শেরপা তেনজিং নোরগে প্রথমবারের মতো সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন। তাঁদের এই যুগান্তকারী সাফল্য বিশ্ব ইতিহাসে মানব শক্তির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
- বিপদসংকুল পথ ও রোমাঞ্চ: প্রথম সফল অভিযানের পর থেকে বিগত দশকগুলোতে হাজার হাজার পর্বতারোহী এই দুর্গম শৃঙ্গ জয়ের চেষ্টা করেছেন। কেউ লাল-সবুজ বা নিজ দেশের পতাকা উড়িয়ে ইতিহাস গড়েছেন, আবার অনেকেই চরম প্রতিকূলতা ও মৃত্যুর হিমশীতল আলিঙ্গনে প্রাণ হারিয়েছেন।
- সীমা লঙ্ঘনের প্রতীক: প্রতিকূল আবহাওয়া, অক্সিজেনের তীব্র স্বল্পতা এবং বরফঝড়ের বিভীষিকা পেরিয়ে এভারেস্ট জয় করা তাই কেবল কোনো সাধারণ পাহাড়ি অভিযান নয়। এটি মানুষের শারীরিক ও মানসিক সীমাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এক চিরন্তন প্রতীক।
কেন এভারেস্ট জয় এত কঠিন? পর্বতারোহণের ভয়ংকর সব চ্যালেঞ্জ
এভারেস্ট জয় কেবল একটি পাহাড়ে চড়ার সাধারণ কোনো খেলা নয়। এটি জীবন ও মৃত্যুর মধ্যকার এক চরম পরীক্ষা। পৃথিবীর সর্বোচ্চ এই শৃঙ্গে পা রাখার স্বপ্ন অনেকেই দেখলেও এর পথ এতটাই প্রতিকূল যে সামান্য ভুলেই ঘটে যেতে পারে বিপত্তি। এভারেস্ট অভিযানের সবচেয়ে ভয়ংকর অংশ হলো "ডেথ জোন", যা প্রায় ৮,০০০ মিটার উচ্চতার পর শুরু হয়। এই উচ্চতায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ফলে দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করলে শরীর ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়তে পারে। এভারেস্ট অভিযানের প্রধান এবং সবচেয়ে ভয়ংকর চ্যালেঞ্জগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- মৃত্যুর উপত্যকা বা ‘ডেথ জোন’ (Death Zone): এভারেস্ট অভিযানের সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশ শুরু হয় প্রায় ৮,০০০ মিটার (২৬,২৩৪ ফুট) উচ্চতার পর থেকে, যাকে বলা হয় 'ডেথ জোন'। এই উচ্চতায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ সমুদ্রপৃষ্ঠের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। ফলে কৃত্রিম অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়া দীর্ঘ সময় সেখানে টিকে থাকা অসম্ভব এবং শরীর ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়তে পারে।
- হিমশীতল তাপমাত্রা: এভারেস্টের উচ্চতম অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস ৩০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। এই হাড়কাঁপানো শীতে শরীরের যেকোনো খোলা অংশ নিমেষেই ফ্রাস্টবাইট বা ঠান্ডাজনিতক্ষতের শিকার হতে পারে।
- ভয়ংকর তুষারঝড়: পর্বতের আবহাওয়া খুবই খামখেয়ালী। যেকোনো মুহূর্তে ধেয়ে আসা তীব্র তুষারঝড় পুরো দৃশ্যমানতা শূন্যে নামিয়ে আনে এবং অভিযাত্রীদের পথ হারিয়ে ফেলতে বাধ্য করে।
- খুম্বু আইসফলের বরফধস: এভারেস্ট বেজক্যাম্পের ঠিক ওপরে অবস্থিত খুম্বু আইসফল পর্বতারোহীদের জন্য অন্যতম একটি আতঙ্কের স্থান। এখানে নড়াচড়া করতে থাকা বিশাল বরফের ব্লক বা সেরাক যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে।
- লুকানো ক্রেভাস বা গভীর বরফ ফাটল: বরফের স্তরের নিচে ঢাকা থাকে গভীর ও অদৃশ্য ফাটল বা ক্রেভাস। সামান্য অসতর্কতায় এসব ফাটলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা প্রায়শই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
- উচ্চতাজনিত অসুস্থতা (Altitude Sickness): উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে শরীরের সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের চাপ ও অক্সিজেনের সামঞ্জস্য না হলে ফুসফুস বা মস্তিষ্কে পানি জমার মতো মারাত্মক শারীরিক জটিলতা (HAPE বা HACE) দেখা দিতে পারে।
- দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক চাপ: মাসের পর মাস ক্যাম্প থেকে ক্যাম্পে ওঠানামা, ভারী ব্যাকপ্যাক বহন এবং অতিরিক্ত শারীরিক ক্লান্তি অভিযাত্রীদের মানসিকভাবে ভেঙে ফেলতে পারে।
প্রকৃতির এই সমস্ত নির্মম প্রতিকূলতা আর মৃত্যুর ঝুঁকিকে মাথায় রেখেই অভিযাত্রীদের পা বাড়াতে হয় হিমালয়ের চূড়ার দিকে। আর এই অসম্ভবকে জয় করার মাধ্যমেই এভারেস্ট হয়ে ওঠে মানব সাহসিকতার অনন্য প্রতীক।
বাংলাদেশের এভারেস্ট অভিযানের ইতিহাস: শুরুর কথা ও প্রস্তুতি
বাংলাদেশের পর্বতারোহণের ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে দেশের তরুণদের মধ্যে পাহাড়ে অভিযানের আগ্রহ তৈরি হতে থাকে। শুরুতে মূলত চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ে ট্রেকিং এবং ছোটখাটো অভিযানের মাধ্যমেই স্থানীয় অভিযাত্রীরা তাদের প্রাথমিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতেন।
- আন্তর্জাতিক মান অর্জনের ধাপ
পাহাড় জয়ের পরিধি এরপর দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাইরে ছড়াতে শুরু করে। পরবর্তীতে নেপাল, ভারত এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন কঠিন পর্বতশৃঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও সফল আরোহণের মাধ্যমে বাংলাদেশি অভিযাত্রীরা নিজেদের আন্তর্জাতিক মানের পর্বতারোহণে প্রস্তুত করতে থাকেন। ছোট ও মাঝারি উচ্চতার পাহাড়ে অর্জিত এই অভিজ্ঞতা তাঁদের মনে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছোঁয়ার সাহস জোগায়।
- অর্থের অভাব ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জ
তবে এই যাত্রার পথ এত সহজ ছিল না; এর পেছনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল পর্যাপ্ত অর্থের অভাব। একটি সফল এভারেস্ট অভিযানে একজন অভিযাত্রীর প্রায় ৪০ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। কর্পোরেট স্পন্সরশিপ জোগাড় করা, উন্নত আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নেওয়া, প্রয়োজনীয় শীতসহায়ক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং দীর্ঘ প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল একটি প্রক্রিয়া।
- স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অদম্য প্রয়াস
এসব বহুমুখী সীমাবদ্ধতা, আর্থিক সংকট আর প্রতিকূলতার মধ্যেও পিছু হটেননি দেশের কদমী তরুণেরা। বাংলাদেশের কিছু সাহসী ও দূরদর্শী মানুষ নিজেদের অদম্য ইচ্ছেশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে এই সমস্ত বাধা পেরিয়ে গেছেন। তাঁদের হাত ধরেই হিমালয়ের চূড়ায় প্রথম ওড়ে লাল-সবুজ পতাকা, যা আজ আমাদের জাতীয় অহংকারের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।
বাংলাদেশের এভারেস্ট বিজয়ীদের তালিকা (২০১০–২০২৬)
বাংলাদেশের এভারেস্ট জয়ের ইতিহাস শুরু হয় ২০১০ সালে মুসা ইব্রাহীমের হাত ধরে। এরপর একে একে আরও কয়েকজন সাহসী পর্বতারোহী বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়েছেন। তাঁদের কেউ গড়েছেন নতুন রেকর্ড, কেউ হয়েছেন পথিকৃৎ, আবার কেউ রেখে গেছেন আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত। ২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের এভারেস্ট বিজয়ীদের তালিকা।
- মুসা ইব্রাহীম- এভারেস্ট জয় ২৩ মে, ২০১০। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এভারেস্টের চূড়ায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
- এম এ মুহিত - এভারেস্ট জয় ২০১১ ও ২০১২। দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন এবং বাংলাদেশের পর্বতারোহণে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেন। দ্বিতীয়বার সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করে এখন পর্যন্ত একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে দুইবার এভারেস্ট জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন।
- নিশাত মজুমদার - এভারেস্ট জয় ১৯ মে ২০১২। প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করে দেশের নারী পর্বতারোহণে নতুন ইতিহাসের সূচনা করেন।
- ওয়াসফিয়া নাজরীন- এভারেস্ট জয় ২৬ মে ২০১২। দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পর্বতারোহণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেন।
- সজল খালেদ- এভারেস্ট জয় ২০ মে ২০১৩। সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছালেও ফেরার পথে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর আত্মত্যাগ বাংলাদেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসের এক বেদনাময় অধ্যায়।
- বাবর আলী- এভারেস্ট জয় ১৯ মে ২০২৪। দীর্ঘ ১১ বছর পর আবারও এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেশের পর্বতারোহণে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেন।
- ইকরামুল হাসান শাকিল - এভারেস্ট জয় ১৯ মে ২০২৫। কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকত থেকে হেঁটে নেপালের এভারেস্ট পর্যন্ত পৌঁছে সফলভাবে সামিট করেন। তাঁর ‘সি টু সামিট’ অভিযান দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
- নুরুন্নাহার নিম্নি- এভারেস্ট জয় ২৭ মে ২০২৬। তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করে বাংলাদেশের নারী পর্বতারোহণে নতুন গৌরবের অধ্যায় যোগ করেন।
দ্রষ্টব্য: এম এ মুহিত ২০১১ ও ২০১২ সালে দুইবার সফলভাবে এভারেস্টে আরোহণ করেছেন। তাই মোট সফল এভারেস্ট সামিটের সংখ্যা ৯টি হলেও স্বতন্ত্র বাংলাদেশি এভারেস্ট বিজয়ীর সংখ্যা ৮ জন।
প্রথম বাংলাদেশি এভারেস্টজয়ী: মুসা ইব্রাহীমের গৌরবগাথা
বাংলাদেশের এভারেস্ট জয়ের ইতিহাস শুরু হয় মুসা ইব্রাহীমের হাত ধরে। ২০১০ সালের ২৩ মে তিনি পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে নতুন ইতিহাস রচনা করেন। লালমনিরহাটে জন্ম নেওয়া মুসা ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতিপ্রেমী ছিলেন। পাহাড়, নদী ও বনভূমির প্রতি তাঁর আকর্ষণ থেকেই পর্বতারোহণের স্বপ্ন জন্ম নেয়।
দার্জিলিংয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ, ছোট ছোট শৃঙ্গে আরোহণ এবং দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির পর তিনি এভারেস্ট অভিযানে অংশ নেন। অর্থসংকট ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় বাধা। বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং পরিবারের সহযোগিতায় তিনি শেষ পর্যন্ত অভিযানে যেতে সক্ষম হন। ২৩ মে ২০১০ সালে তাঁর সফল সামিট বাংলাদেশের ক্রীড়া ও অভিযাত্রার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। আজও তিনি দেশের পর্বতারোহীদের অন্যতম অনুপ্রেরণা।
- প্রস্তুতি ও প্রতিকূলতা: লালমনিরহাটের মোগলহাটে জন্ম নেওয়া মুসা ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রেমে পড়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ২০০৭ সালে গঠন করেন 'বাংলাদেশ নর্থ আলপাইন ক্লাব'। তীব্র অর্থসংকট এবং দুই কোটি ৭০ লাখ টাকার বিশাল বাজেটের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫০ লাখ টাকার বেশি তহবিল জোগাড় করতে তাকে চরম সংগ্রাম করতে হয়। এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে নেপাল যাওয়ার কথা থাকলেও টাকার অভাবে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত বোন নূর আয়েশা বেগম ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় এভারেস্টের দিকে রওনা হন তিনি।
- পেশাগত জীবন ও নেপথ্য গল্প: পেশায় সাংবাদিক মুসা ইব্রাহিম সাংসারিক জীবনে এক সন্তানের জনক এবং তাঁর সহধর্মীনি উম্মে সরাবন তহুরা ময়মনসিংহ জেলা আদালতের সহকারী জজ। তাঁর এই সাহসী সাফল্যই পরবর্তী প্রজন্মের তরুণদের মনে হিমালয় জয়ের পথ প্রশস্ত করেছিল।
এম এ মুহিতের দ্বৈত সাফল্য: ইতিহাস গড়ার ধারাবাহিকতা
মুসা ইব্রাহীমের পর ২০১১ সালে এম এ মুহিত দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন হলো ২০১২ সালে আবারও সফলভাবে সামিট করা। এখন পর্যন্ত তিনিই একমাত্র বাংলাদেশি যিনি দুইবার এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেছেন। তাঁর এই সাফল্য বাংলাদেশের পর্বতারোহণকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পরিচিত করে তোলে।
- প্রস্তুতি ও প্রতিকূলতা: পর্বত জয়ের এই কঠিন মিশনে বারবার নিজেকে প্রমাণ করার মানসিক দৃঢ়তা দেখান তিনি। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং চরম শারীরিক চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করে দুবার এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখা অত্যন্ত কঠিন এক কীর্তি।
- পেশাগত জীবন ও নেপথ্য অর্জন: তাঁর এই দ্বৈত সাফল্য বাংলাদেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট জয়
২০১২ সাল বাংলাদেশের নারী পর্বতারোহণের জন্য স্মরণীয় বছর। ১৯ মে নিশাত মজুমদার প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন। মাত্র এক সপ্তাহ পরে, ২৬ মে ওয়াসফিয়া নাজরীন দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে শিখরে পৌঁছান। নিশাতের সাফল্য বাংলাদেশের নারীদের জন্য নতুন স্বপ্নের দ্বার খুলে দেয়।
অন্যদিকে ওয়াসফিয়া শুধু এভারেস্ট জয়েই থেমে থাকেননি; পরবর্তীতে বিশ্বের সাত মহাদেশের সর্বোচ্চ সাতটি শৃঙ্গ জয়ের অভিযানে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেন। তাঁদের দুজনের সাফল্য প্রমাণ করে, কঠোর পরিশ্রম ও সাহস থাকলে বাংলাদেশের নারীরাও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।
- প্রস্তুতি ও প্রতিকূলতা: চরম সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা এবং প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে হিমালয়ের দুর্গম উচ্চতা জয় করেন তিনি। বরফাবৃত চূড়ায় লাল-সবুজ পতাকা ওড়ানোর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে নারীরা অসাধ্য সাধন করতে পারেন।
- পেশাগত জীবন ও নেপথ্য গল্প: তাঁর এই ঐতিহাসিক আরোহণ দেশের নারী সমাজকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য নারীদের পাহাড় জয়ে উদ্বুদ্ধ করে।
দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে ওয়াসফিয়া নাজরিনের শিখর জয়
নিশাত মজুমদারের ঠিক এক সপ্তাহ পর, ২০১২ সালের ২৬ মে এভারেস্টের শিখর জয় করেন আরেক অদম্য নারী ওয়াসফিয়া নাজরীন।
- প্রস্তুতি ও প্রতিকূলতা: একই বছরে দুই বাংলাদেশি নারীর এভারেস্ট জয় দেশের জন্য এক বিরল গৌরব বয়ে আনে। বৈরী আবহাওয়া ও শারীরিক ক্লান্তি উপেক্ষা করে তিনি সফলভাবে চূড়ায় আরোহণ করেন।
- পেশাগত জীবন ও নেপথ্য গল্প: ওয়াসফিয়া নাজরিনের এই অভিযান দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছিল।
পঞ্চম বাংলাদেশি সজল খালেদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগ
২০১৩ সালের ২০ মে সজল খালেদ সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান। কিন্তু ফেরার পথে অতিরিক্ত ক্লান্তি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনাগুলোর একটি। তবুও সজল খালেদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের অভিযাত্রীদের কাছে সাহস ও অদম্য মানসিকতার প্রতীক হয়ে রয়েছে।
- প্রস্তুতি ও প্রতিকূলতা: অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তিনি এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেছিলেন। তবে চূড়া থেকে সফলভাবে নিচে নেমে আসার পথে মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হন তিনি।
- পেশাগত জীবন ও নেপথ্য গল্প: সজল খালেদের এই অকাল প্রয়াণ দেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসে এক গভীর শোকের ছায়া ফেলেছিল, যা আজও স্মরণ করেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।
বাবর আলীর হাত ধরে ১১ বছরের খরা কাটা
সজল খালেদের অভিযানের পর প্রায় ১১ বছর কোনো বাংলাদেশি এভারেস্ট জয় করতে পারেননি। অবশেষে ২০২৪ সালের ১৯ মে চিকিৎসক ও অভিযাত্রী বাবর আলী সেই অপেক্ষার অবসান ঘটান। চট্টগ্রামের এই তরুণ পর্বতারোহী সফলভাবে এভারেস্ট জয় করে বাংলাদেশের পর্বতারোহণে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনেন। বাবর আলী শুধু একজন চিকিৎসক নন, তিনি একজন অভিজ্ঞ অভিযাত্রীও। তাঁর এই সাফল্য দেশের তরুণদের নতুন করে বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করেছে।
- প্রস্তুতি ও প্রতিকূলতা: ১ এপ্রিল ঢাকা থেকে রওনা হয়ে লুকলা ও বেজক্যাম্প হয়ে দীর্ঘ প্রস্তুতি নেন বাবর। ২৬ হাজার ফুট উচ্চতার ওপরের ‘ডেথ জোন’ অতিক্রম করে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেন। এভারেস্টের পাশাপাশি লাগোয়া চতুর্থ শীর্ষ পর্বত লোৎসে জয়ের লক্ষ্যও ছিল তাঁর।
- পেশাগত জীবন ও নেপথ্য গল্প: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করা ৩৩ বছর বয়সী বাবর আলী চিকিৎসা পেশা ছেড়ে দেশ-বিদেশ ঘোরার নেশায় মেতে ওঠেন। এর আগে তিনি কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে কন্যাকুমারী সাইকেলযাত্রা এবং ২০১৯ সালে ৬৪ জেলা হেঁটে পার করার মতো রেকর্ড গড়েন। তাঁর ক্লাব 'ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স' এই অভিযানের সমন্বয় করে।
ইকরামুল হাসান শাকিলের ‘সি টু সামিট’ বিশ্বরেকর্ড
২০২৫ সালে ইকরামুল হাসান শাকিল এক ব্যতিক্রমী অভিযানের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। তিনি কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকত থেকে হেঁটে নেপালের এভারেস্ট বেজক্যাম্পে পৌঁছান। প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এরপর সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন।
'সি টু সামিট' নামে পরিচিত এই অভিযান শুধু বাংলাদেশের নয়, আন্তর্জাতিক পর্বতারোহণ অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচিত হয়। শারীরিক সহনশীলতা, পরিকল্পনা এবং মানসিক দৃঢ়তার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে তাঁর এই যাত্রা।
- প্রস্তুতি ও প্রতিকূলতা: ‘সি টু সামিট’ নামের এই অভিযানে তিনি কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকত থেকে হেঁটে যাত্রা শুরু করেন। টানা ১,৪০০ কিলোমিটার হাঁটার পর ২৯ এপ্রিল তিনি এভারেস্ট বেজক্যাম্পে পৌঁছান এবং ১৬ মে থেকে চূড়ান্ত অভিযান শুরু করে ১৯ মে চূড়ায় ওঠেন। পায়ে হেঁটে সবচেয়ে বেশি পথ পাড়ি দিয়ে দ্রুততম সময়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এভারেস্ট জয় করার বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি।
- পেশাগত জীবন ও নেপথ্য গল্প: এর আগে তিনি ‘কেয়াজো-রি’, ‘দ্রৌপদী কা ডান্ডা-২’, ‘হিমলুং’ এবং ‘ডোলমা খাং’ পর্বতশৃঙ্গ জয় করেছিলেন এবং ২০২৩ সালে ১৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘গ্রেট হিমালয় ট্রেইল’ হেঁটে পাড়ি দিয়েছিলেন।
নুরুন্নাহার নিম্নির ইতিহাস সৃষ্টি: তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয়
দীর্ঘ চৌদ্দ বছর পর বাংলাদেশি নারী হিসেবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে পর্বতারোহণের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছেন নুরুন্নাহার নিম্নি। এর মাধ্যমে নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরিনের পর বাংলাদেশের তৃতীয় নারী হিসেবে এই গৌরব অর্জন করলেন তিনি।
- প্রস্তুতি ও প্রতিকূলতা: গত ১১ এপ্রিল ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে বেজক্যাম্প হয়ে ১৭ মে চূড়ান্ত আরোহণে নামেন নিম্নি। ২৩ মে ক্যাম্প–৪ থেকে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে একবার নিচে নেমে আসতে বাধ্য হলেও হাল ছাড়েননি তিনি। আবহাওয়া অনুকূলে আসার পর ২৫ মে পুনরায় যাত্রা শুরু করে ২৭ মে নেপাল সময় ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে এভারেস্টের শিখর স্পর্শ করেন।
- পেশাগত জীবন ও নেপথ্য গল্প: পেশায় পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগের প্রিন্সিপাল অফিসার নুরুন্নাহার নিম্নি রংপুরে বেড়ে ওঠেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। ২০০৬ সালে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ফিল্ডওয়ার্কে গিয়ে পাহাড়ের প্রতি গভীর আকর্ষণ তৈরি হয় তাঁর। পরবর্তীতে ২০২২ সালে দার্জিলিংয়ের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর এই ঐতিহাসিক অভিযানে প্রধান স্পন্সর হিসেবে পাশে ছিল তাঁর কর্মস্থল পূবালী ব্যাংক।
বাংলাদেশের জন্য এই অর্জনের গুরুত্ব
এভারেস্ট জয় কোনো ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি একটি দেশের সক্ষমতা, সাহস এবং স্বপ্ন দেখার শক্তির প্রতীক। বাংলাদেশের অভিযাত্রীরা প্রমাণ করেছেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে আরও অনেক বাংলাদেশি বিশ্বের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গে দেশের পতাকা উড়াতে পারবেন।
২০১০ সালে মুসা ইব্রাহীমের হাত ধরে শুরু হওয়া বাংলাদেশের এভারেস্ট জয়ের ইতিহাস আজ অনেক সমৃদ্ধ। এম এ মুহিতের ধারাবাহিক সাফল্য, নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরীনের অনুপ্রেরণাদায়ক অর্জন, সজল খালেদের আত্মত্যাগ, বাবর আলীর প্রত্যাবর্তন, ইকরামুল হাসান শাকিলের ব্যতিক্রমী 'সি টু সামিট' অভিযান এবং নুরুন্নাহার নিম্নির ঐতিহাসিক সামিট সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পর্বতারোহণ আজ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
এই অভিযাত্রীরা শুধু এভারেস্ট জয় করেননি; তাঁরা কোটি বাংলাদেশির মনে সাহস, স্বপ্ন ও আত্মবিশ্বাসের বীজ বপন করেছেন। ভবিষ্যতে আরও অনেক বাংলাদেশি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে লাল-সবুজের পতাকা উড়াবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন ১. বাংলাদেশে প্রথম এভারেস্ট জয় করেন কে?
উত্তর: বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী হলেন মুসা ইব্রাহীম। তিনি ২৩ মে ২০১০ সালে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে আরোহণ করে ইতিহাস গড়েন।
প্রশ্ন ২. বাংলাদেশ থেকে কতজন এভারেস্ট জয় করেছেন?
উত্তর: বর্তমান পর্যন্ত ৮ জন বাংলাদেশি পর্বতারোহী এভারেস্ট জয় করেছেন। তবে এম এ মুহিত দুইবার এভারেস্ট জয় করায় মোট সফল সামিটের সংখ্যা ৯টি।
প্রশ্ন ৩. বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্ট বিজয়ী কে?
উত্তর: নিশাত মজুমদার বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে ১৯ মে ২০১২ সালে এভারেস্ট জয় করেন।
প্রশ্ন ৪. বাংলাদেশের কোন নারী দ্বিতীয়বার এভারেস্ট জয় করেন?
উত্তর: ওয়াসফিয়া নাজরীন ২৬ মে ২০১২ সালে দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান।
প্রশ্ন ৫. বাংলাদেশি হিসেবে সবচেয়ে বেশি কতবার এভারেস্ট জয় করেছেন কে?
উত্তর: এম এ মুহিত এখন পর্যন্ত একমাত্র বাংলাদেশি যিনি দুইবার (২০১১ ও ২০১২) এভারেস্ট জয় করেছেন।
প্রশ্ন ৬. এভারেস্ট জয় করা এত কঠিন কেন?
উত্তর: এভারেস্ট জয়ে অক্সিজেনের স্বল্পতা, হিমশীতল তাপমাত্রা, তুষারঝড়, বরফধস ও ‘ডেথ জোন’-এর মতো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়।
প্রশ্ন ৭. সর্বশেষ কোন বাংলাদেশি এভারেস্ট জয় করেছেন?
উত্তর: নুরুন্নাহার নিম্নি ২৭ মে ২০২৬ সালে এভারেস্ট জয় করে তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
প্রশ্ন ৮. ইকরামুল হাসান শাকিলের এভারেস্ট অভিযান কেন বিশেষ?
উত্তর: ইকরামুল হাসান শাকিল কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকত থেকে হেঁটে ‘সি টু সামিট’ অভিযানের মাধ্যমে এভারেস্ট জয় করে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করেন।
প্রশ্ন ৯. এভারেস্টের উচ্চতা কত?
উত্তর: মাউন্ট এভারেস্টের আধুনিক পরিমাপকৃত উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার বা প্রায় ২৯,০৩১.৭ ফুট।
প্রশ্ন ১০. এভারেস্টে প্রথম সফল আরোহণ করেন কারা?
উত্তর: ১৯৫৩ সালের ২৯ মে স্যার এডমন্ড হিলারি ও শেরপা তেনজিং নোরগে প্রথম সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন।
