বর্তমান ডিজিটাল যুগে কম্পিউটার ও প্রিন্টার একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজন সব ক্ষেত্রেই ডকুমেন্ট, ছবি, রিপোর্ট বা বিভিন্ন ফরম প্রিন্ট করার জন্য প্রিন্টার একটি অপরিহার্য ডিভাইস হয়ে উঠেছে। কিন্তু শুধুমাত্র প্রিন্টার থাকা যথেষ্ট নয়; এর সঠিক ব্যবহার জানাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রিন্টারের বিভিন্ন কমান্ড, সেটিংস, পেজ সেটআপ এবং কিবোর্ড শর্টকাট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে কাজ যেমন দ্রুত হয়, তেমনি ভুলের সম্ভাবনাও অনেক কমে যায়। আজকের ডিজিটাল যুগেও কাগজে ছাপানো নথির গুরুত্ব একটুও কমেনি। অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ কিংবা ব্যবসার কাজে প্রতিদিনই আমাদের কোনো না কোনো ডকুমেন্ট প্রিন্ট করতে হয়।
কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, প্রিন্ট করার পর লেখার কিছু অংশ কেটে গেছে, মার্জিন ঠিকমতো বসেনি বা প্রিন্ট কোয়ালিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। এসব ছোটখাটো সমস্যাই কাজের গতি কমিয়ে দেয় এবং বাড়তি ঝামেলার সৃষ্টি করে। মূলত এসব সমস্যার পেছনে থাকে সঠিক কমান্ড ও সেটিংস সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং নিখুঁত পেজ সেটআপের অভাব। তাই প্রিন্টিংকে সহজ, নির্ভুল ও ঝামেলামুক্ত করতে প্রয়োজন একটি সুস্পষ্ট ধারণা ও গাইডলাইন। আজকের এই লেখায় আমরা প্রিন্টারের এ টু জেড (A-Z) গাইড তুলে ধরবো, যেখানে প্রিন্টারের মৌলিক বিষয় থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস, পেজ সেটআপ এবং প্রয়োজনীয় শর্টকাট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। ফলে আপনি সহজেই প্রিন্টিং সংক্রান্ত সকল কাজ আরও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে পারবেন।
প্রিন্টার কী? (What is a Printer?)
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, প্রিন্টার (Printer) হলো কম্পিউটারের একটি গুরুত্বপূর্ণ আউটপুট ডিভাইস, যা ডিজিটাল তথ্যকে কাগজে বা অন্য কোনো মাধ্যমে স্থায়ীভাবে রূপান্তর করে। কম্পিউটারের স্ক্রিনে আমরা যে লেখা, ছবি বা গ্রাফিক্স দেখি, তাকে বলা হয় ‘সফট কপি’ (Soft Copy)। আর যখন সেই তথ্য প্রিন্টারের মাধ্যমে কাগজে ছাপানো হয়, তখন তাকে বলা হয় ‘হার্ড কপি’ (Hard Copy)। বর্তমান যুগে ব্যক্তিগত কাজ থেকে শুরু করে অফিসের নথিপত্র তৈরি, শিক্ষাক্ষেত্র বা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে প্রিন্টারের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এটি মূলত কম্পিউটারের দেওয়া নির্দেশনা বা কমান্ড অনুসরণ করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কালির বা টোনারের সাহায্যে কাগজে তথ্য ফুটিয়ে তোলে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট সংরক্ষণ, শেয়ার বা উপস্থাপন করা অনেক সহজ হয়ে যায়।
প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে প্রিন্টারের ধরনেও এসেছে বৈচিত্র্য। কাজের ধরন ও ব্যবহারের উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে প্রিন্টারের কয়েকটি প্রধান ধরন রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো Inkjet Printer, যা সাধারণত ছবি ও রঙিন প্রিন্টের জন্য ব্যবহৃত হয়; Laser Printer, যা দ্রুত এবং উচ্চমানের প্রিন্টের জন্য পরিচিত; Dot Matrix Printer, যা মূলত বিল বা মাল্টি-কপি ডকুমেন্টে ব্যবহৃত হয়; Thermal Printer, যা রসিদ বা লেবেল প্রিন্ট করতে ব্যবহৃত হয়; এবং All-in-One Printer, যা প্রিন্ট, স্ক্যান ও কপি—সবকিছু একসঙ্গে করতে সক্ষম।
সব মিলিয়ে, প্রিন্টার আমাদের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর করে তুলেছে।
- Inkjet Printer
- Laser Printer
- Dot Matrix Printer
- Thermal Printer
- All-in-One Printer
প্রিন্টারের প্রকারভেদ: কাজের ওপর ভিত্তি করে
প্রযুক্তি ও কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে প্রিন্টার মূলত কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। তবে বাজারে এবং অফিস-আদালতে নিচের তিন ধরনের প্রিন্টার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।বর্তমানে অফিস এবং ব্যবসার ধরন অনুযায়ী কাজের গতি বাড়াতে ও খরচ কমাতে এই মূল তিন ধরনের প্রিন্টারের উপযোগিতা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া আধুনিক সময়ে বহুমাত্রিক কাজের জন্য অল-ইন-ওয়ান বা মাল্টিফাংশনাল প্রিন্টারের জনপ্রিয়তাও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
১. লেজার প্রিন্টার (Laser Printer)
- কীভাবে কাজ করে: এই প্রিন্টারে কোনো তরল কালি ব্যবহার করা হয় না। এতে 'টোনার' (Toner) নামক এক ধরনের শুকনো গুঁড়ো কালি এবং লেজার রশ্মি ব্যবহার করে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে প্রিন্ট করা হয়।
- ব্যবহার: অফিস-আদালত বা যেখানে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে টেক্সট বা ডকুমেন্ট প্রিন্ট করতে হয়, সেখানে এটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।
২. ইনকজেট প্রিন্টার (Inkjet Printer)
- কীভাবে কাজ করে: এই প্রিন্টারে তরল কালি (Liquid Ink) ব্যবহার করা হয়। প্রিন্ট হেড থেকে ছোট ছোট কালির ফোঁটা কাগজের ওপর স্প্রে করে লেখা বা ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়।
- ব্যবহার: রঙিন ছবি, গ্রাফিক্স বা ল্যাবরেটরির নিখুঁত কালার প্রিন্টিংয়ের জন্য ইনকজেট প্রিন্টার সেরা।
৩. অল-ইন-ওয়ান বা মাল্টিফাংশন প্রিন্টার (All-in-One / MFP)
- কীভাবে কাজ করে: এটি এমন এক ধরনের প্রিন্টার যার মধ্যে প্রিন্ট করার পাশাপাশি স্ক্যান (Scan), ফটোকপি (Photocopy) এবং অনেক সময় ফ্যাক্স (Fax) করার সুবিধাও থাকে।
- ব্যবহার: বর্তমান সময়ে বাসা বা ছোট অফিসের জন্য এটি সবচেয়ে সাশ্রয়ী এবং জনপ্রিয় সমাধান।
প্রিন্ট করার বেসিক ও অ্যাডভান্সড কমান্ড (Printing Shortcuts & Commands)
প্রিন্ট কমান্ড হলো এমন নির্দেশনা যার মাধ্যমে কম্পিউটার কোনো ডকুমেন্টকে প্রিন্টারের কাছে পাঠায়। প্রিন্ট করার সময় মাউস দিয়ে বারবার ক্লিক করার চেয়ে কীবোর্ড শর্টকাট জানা থাকলে কাজ অনেক দ্রুত হয়। নিচে প্রয়োজনীয় সব কীবোর্ড শর্টকাট (Windows & Mac) দেওয়া হলো:
- Ctrl + P (Windows) / Cmd + P (Mac): এটি যেকোনো সফটওয়্যার (যেমন: MS Word, Excel, Chrome Browser) থেকে প্রিন্ট উইন্ডো খোলার ইউনিভার্সাল কমান্ড।
- Ctrl + Shift + F12: মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে দ্রুত প্রিন্ট অপশনে যাওয়ার বিকল্প শর্টকাট।
- Alt + F, তারপর P: কীবোর্ড মেনু নেভিগেশনের মাধ্যমে প্রিন্ট উইন্ডো ওপেন করা।
রান কমান্ড (Run Command) এর মাধ্যমে প্রিন্টার ম্যানেজমেন্ট
উইন্ডোজের Run ডায়ালগ বক্স (Win + R চেপে) ব্যবহার করে সরাসরি প্রিন্টার সেটিংসের গভীরে যাওয়া যায়:
- control printers: এটি লিখলে আপনার কম্পিউটারে কানেক্টেড সব প্রিন্টারের তালিকা (Devices and Printers) চলে আসবে।
- printmanagement.msc: অ্যাডভান্সড ইউজার বা অফিস অ্যাডমিনদের জন্য, যেখানে সব প্রিন্টারের ড্রাইভার এবং প্রিন্ট কিউ (Queue) এক জায়গা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
উইন্ডোজে প্রিন্টার সেটিংস খুঁজে পাওয়ার সহজ উপায়
কম্পিউটারে নতুন প্রিন্টার কানেক্ট করার পর বা কোনো ডিফল্ট সেটিংস পরিবর্তন করতে চাইলে প্রথমেই আমাদের উইন্ডোজের প্রিন্টার অপশনে যেতে হয়। উইন্ডোজ ১০ এবং ১১ অপারেটিং সিস্টেমে আপনি প্রধানত ৩টি উপায়ে খুব সহজে প্রিন্টার সেটিংস খুঁজে পেতে পারেন:
- পদ্ধতি ১ (উইন্ডোজ সেটিংসের মাধ্যমে): কীবোর্ড থেকে Windows Key + I একসাথে চেপে সরাসরি Settings ওপেন করুন। এরপর বাঁদিকের মেনু থেকে Bluetooth & devices (উইন্ডোজ ১১) অথবা Devices (উইন্ডোজ ১০) অপশনে ক্লিক করে ডানপাশে থাকা Printers & scanners-এ যান। এখানে আপনার সব প্রিন্টারের তালিকা পেয়ে যাবেন।
- পদ্ধতি ২ (কন্ট্রোল প্যানেলের মাধ্যমে): কীবোর্ডের Windows Key চেপে টাইপ করুন Control Panel এবং এন্টার দিন। কন্ট্রোল প্যানেল ওপেন হলে Hardware and Sound অপশনের নিচে থাকা View devices and printers-এ ক্লিক করুন। নির্দিষ্ট প্রিন্টারের ওপর রাইট-ক্লিক করে Printing preferences বা Printer properties-এ গিয়ে যেকোনো অ্যাডভান্সড সেটিংস পরিবর্তন করতে পারবেন।
- পদ্ধতি ৩ (টাস্কবার সার্চের মাধ্যমে): টাস্কবারের নিচে থাকা সার্চ বক্সে সরাসরি লিখুন "Printers"। ওপরের ফলাফলে Printers & scanners (System settings) চলে আসবে, সেখানে ক্লিক করলেই এক ক্লিকে মূল সেটিংস পেজটি খুলে যাবে।
- প্রো-টিপ: আপনি যদি কোনো প্রিন্টারকে সবসময় ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট করে রাখতে চান, তবে সেই প্রিন্টারের সেটিংসে গিয়ে "Set as default" অপশনটি অন করে দিন।
পেইজ সেটআপের জাদুকরী নিয়ম (Page Setup Guide)
প্রিন্ট দেওয়ার আগে ডকুমেন্টের চেহারা কেমন হবে, তা নির্ধারণ করে পেইজ সেটআপ। প্রিন্ট করার আগে এই তিনটি বিষয় অবশ্যই চেক করবেন:
১) কাগজের সাইজ (Paper Size): আমাদের দেশে সাধারণত দুই ধরনের কাগজ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়:
- A4 Size (8.27" × 11.69"): অফিসিয়াল চিঠি, নোটিশ, অ্যাসাইনমেন্ট এবং সাধারণ ডকুমেন্টের জন্য এটি স্ট্যান্ডার্ড।
- Legal Size (8.5" × 14"): দলিল, চুক্তিপত্র, বা আইনি কাগজপত্রের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।
সতর্কতা: অনেক সময় আমরা কম্পিউটারে Legal সাইজ সেট করে প্রিন্টারে A4 কাগজ ঢুকিয়ে দিই। এর ফলে নিচের দিকের লেখা কেটে যায়। তাই কাগজের সাথে সফটওয়্যারের সাইজ মেলাতে ভুলবেন না।
২) ওরিয়েন্টেশন (Orientation): কাগজটি লম্বালম্বি নাকি চওড়াভাবে প্রিন্ট হবে, তা এখান থেকে ঠিক করা হয়।
- Portrait (লম্বালম্বি): সাধারণ চিঠি, উপন্যাস বা রিপোর্টের জন্য।
- Landscape (আড়াআড়ি/চওড়া): বড় এক্সেল শিট, সার্টিফিকেট, বা টেবিল-চার্ট প্রিন্ট করার জন্য এটি আদর্শ।
৩) মার্জিন সেটআপ (Margins): কাগজের চারপাশের খালি জায়গাকে মার্জিন বলে।
- Standard Margin: চারদিকে ১ ইঞ্চি (1 inch) খালি রাখা।
- Narrow Margin: চারদিকে ০.৫ ইঞ্চি খালি রাখা (যখন পাতায় অনেক বেশি লেখা বা তথ্য থাকে)।
গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্টার সেটিংস (Essential Printer Settings)
প্রিন্ট বাটনে ক্লিক করার আগে প্রিন্ট ডায়ালগ বক্সের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস আমাদের জানা দরকার, যা কাগজ ও কালি দুটোই বাঁচাবে।
১. Print Range (কোন কোন পাতা প্রিন্ট করবেন?)
- All Pages: ডকুমেন্টের সব পাতা প্রিন্ট হবে।
- Current Page: বর্তমানে আপনার স্ক্রিনে যে পাতাটি খোলা আছে, শুধু সেটি প্রিন্ট হবে।
- Pages (Custom Range): ধরুন আপনার ৫০ পাতার একটি পিডিএফ আছে, কিন্তু আপনার লাগবে শুধু ৫ নম্বর থেকে ১২ নম্বর পাতা এবং ২০ নম্বর পাতা। তখন বক্সে লিখবেন: 5-12, 20।
২. Copies & Collate (কপি এবং সাজানো)
- Copies: একটি ডকুমেন্টের কত সেট বা কত কপি চান (যেমন: ৫ কপি)।
- Collate: ধরুন ৩ পাতার একটি ডকুমেন্টের আপনি ৫ কপি প্রিন্ট করবেন।
- Collate অন থাকলে: প্রথমে ১,২,৩ পাতা প্রিন্ট হয়ে এক সেট হবে, তারপর আবার ১,২,৩ হয়ে দ্বিতীয় সেট হবে।
- Collate অফ থাকলে: আগে ১ নম্বর পাতা ৫ বার প্রিন্ট হবে, তারপর ২ নম্বর পাতা ৫ বার, তারপর ৩ নম্বর পাতা ৫ বার। (অফিসে কাজের সুবিধার্থে Collate অন রাখাই ভালো)।
৩) Print Quality / Resolution (প্রিন্ট কোয়ালিটি)
- Draft/Eco Mode: অফিসিয়াল সাধারণ খসড়া বা রাফ কাজের জন্য এটি ব্যবহার করুন। এতে কালি (Ink/Toner) খুব কম খরচ হয় এবং দ্রুত প্রিন্ট হয়।
- Standard/Normal: দৈনন্দিন কাজের জন্য।
- High/Best: ছবি, প্রেজেন্টেশন বা ফাইনাল প্রজেক্ট প্রিন্ট করার জন্য।
৪.) Two-Sided Printing / Duplex (কাগজের দুই পিঠে প্রিন্ট): কাগজ বাঁচাতে এবং ডকুমেন্টকে বইয়ের মতো রূপ দিতে এই অপশনটি ব্যবহার করা হয়।
- Print on Both Sides (Flip on long edge): সাধারণ বই বা রিপোর্টের মতো উল্টানোর জন্য।
- Print on Both Sides (Flip on short edge): ক্যালেন্ডার বা প্যাডের মতো ওপর-নিচ উল্টানোর জন্য।
এক্সেল এবং পিডিএফ প্রিন্ট করার বিশেষ ট্রিকস
ওয়ার্ড ফাইল প্রিন্ট করা সহজ হলেও এক্সেল (Excel) এবং পিডিএফ (PDF) প্রিন্ট করতে গিয়ে অনেকেই ঝামেলায় পড়েন।
- Page Setup-এ যান।
- Scaling অপশন থেকে Fit to 1 page wide by 1 page tall সিলেক্ট করুন।
- এতে পুরো টেবিলটি সংকুচিত হয়ে একটি পাতার মধ্যেই সুন্দরভাবে চলে আসবে।
পিডিএফে "Actual Size" বনাম "Fit to Printable Area": পিডিএফ প্রিন্ট করার সময় সবসময় Fit বা Shrink oversized pages অপশনটি চেক করে দিন। এতে পিডিএফের সাইজ প্রিন্টারের কাগজের চেয়ে বড় হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাগজের ভেতরে ফিট হয়ে যাবে, কোনো অংশ কাটবে না।
সাধারণ প্রিন্টার সমস্যা ও তার সহজ সমাধান (Troubleshooting)
ব্লগের পাঠকদের জন্য কিছু বোনাস টিপস, যা তাদের সাধারণ প্রিন্টার সমস্যা থেকে বাঁচাবে:
- Spooler Error / প্রিন্ট আটকে যাওয়া: অনেক সময় প্রিন্ট কমান্ড দিলে প্রিন্ট হয় না, কিউ (Queue) তে আটকে থাকে। এর সমাধান হলো উইন্ডোজ সার্চে Services লিখে সেটি ওপেন করুন। তালিকায় Print Spooler খুঁজে বের করে রাইট ক্লিক করে Restart দিন।
- আবছা বা ঝাপসা লেখা (Faded Print): কার্টিজে কালি শেষ হয়ে এলে এমন হয়। লেজার প্রিন্টার হলে টোনারটি বের করে হালকা ঝাঁকিয়ে আবার ঢুকিয়ে সাময়িকভাবে কাজ চালানো যায়। আর ইনকজেট প্রিন্টার হলে সফটওয়্যার সেটিংসে গিয়ে Head Cleaning অপশনটি রান করুন।
- কাগজ আটকে যাওয়া (Paper Jam): জোর করে কাগজ টানবেন না। প্রিন্টারের পেছনের বা সামনের কভার খুলে আলতো করে কাগজের গতিপথের দিকে টেনে বের করুন।
প্রিন্টিংয়ের জন্য কিছু কার্যকর টিপস
- প্রিন্টের আগে Print Preview দেখুন।
- Draft Mode ব্যবহার করে কালি সাশ্রয় করুন।
- প্রয়োজন না হলে Color Printing এড়িয়ে চলুন।
- Duplex Printing ব্যবহার করে কাগজ বাঁচান।
- নিয়মিত Driver আপডেট করুন।
- ভালো মানের কাগজ ব্যবহার করুন।
কম্পিউটার প্রিন্টার শুধু একটি আউটপুট ডিভাইস নয়; এটি দৈনন্দিন কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রিন্ট কমান্ড, প্রিন্টার সেটিংস, পেজ সেটআপ, প্রিন্ট কিউ এবং প্রয়োজনীয় শর্টকাট সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকলে কাজের গতি যেমন বাড়ে, তেমনি সময় ও খরচও কমে। তাই প্রিন্টার ব্যবহারের পাশাপাশি এর গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস এবং শর্টকাটগুলো সম্পর্কে জানা প্রতিটি কম্পিউটার ব্যবহারকারীর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
প্রিন্টার সংক্রান্ত সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. প্রিন্টারের কালি বা টোনার শেষ হয়ে গেছে কি না বুঝব কীভাবে?
উত্তর: সাধারণত প্রিন্ট করার সময় যদি লেখায় বা ছবিতে হালকা দাগ পড়ে, লেখা অস্পষ্ট বা ফ্যাকাসে হয়ে আসে, তবে বুঝবেন কালি বা টোনার শেষ হয়ে আসছে। আধুনিক প্রিন্টারগুলোতে স্ক্রিন বা কম্পিউটারের পপ-আপ মেসেজের মাধ্যমেও কালির লেভেল চেক করা যায়।
২. প্রিন্ট করার সময় মার্জিন ঠিক থাকার পরেও লেখা কেটে যাচ্ছে, কী করব?
উত্তর: এটি সাধারণত পেপার সাইজ (Paper Size) ভুল থাকার কারণে হয়। চেক করে দেখুন আপনি যে কাগজে প্রিন্ট করছেন (যেমন: A4 বা Legal), সফটওয়্যারের সেটিংসেও সেই সাইজ সিলেক্ট করা আছে কি না। এছাড়া প্রিন্ট প্রিভিউ (Print Preview) দেখে নিন যে টেক্সটগুলো 'Printable Area'-এর ভেতরে আছে কি না।
৩. প্রিন্ট কমান্ড দেওয়ার পর ফাইল প্রিন্ট হচ্ছে না, কী করব?
উত্তর: প্রথমে দেখুন প্রিন্টারের পাওয়ার কেবল ও ডাটা ক্যাবল (USB) সঠিকভাবে লাগানো আছে কি না। সমস্যা না মিটলে উইন্ডোজের 'Services' থেকে 'Print Spooler' সার্ভিসটি রিস্টার্ট দিন। এছাড়া আপনার প্রিন্টারটি 'Default Printer' হিসেবে সিলেক্ট করা আছে কি না, তা যাচাই করে নিন।
৪. প্রিন্টারে কাগজ আটকে গেলে (Paper Jam) করণীয় কী?
উত্তর: কাগজ আটকে গেলে কখনোই জোর করে টান দেবেন না, এতে প্রিন্টারের যন্ত্রাংশের ক্ষতি হতে পারে। প্রিন্টারের পেছনের বা সামনের কভারটি সাবধানে খুলুন এবং যেদিকে কাগজ বের হওয়ার কথা, সেদিকে ধরে আস্তে করে টেনে বের করে আনুন।
৫. ড্রাফট মোড (Draft Mode) কি প্রিন্টারের ক্ষতি করে?
উত্তর: না, ড্রাফট মোড প্রিন্টারের কোনো ক্ষতি করে না। এটি একটি সফটওয়্যার সেটিংস যা কালি সাশ্রয় করতে সাহায্য করে। এটি মূলত অফিসিয়াল রাফ বা খসড়া ডকুমেন্টের জন্য তৈরি, যা প্রিন্টিংয়ের গতি বাড়ায় এবং কম কালি ব্যবহার করে।
৬. এক্সেলে বড় টেবিল প্রিন্ট করলে কেটে যায়, পুরো টেবিল এক পাতায় কীভাবে আনব?
উত্তর: এক্সেল প্রিন্ট করার সময় 'Page Setup' মেনুতে যান। সেখানে 'Scaling' অপশনে গিয়ে 'Fit to All Columns on One Page' অথবা 'Fit to One Page' সিলেক্ট করুন। এতে টেবিলটি ছোট হয়ে এক পাতার ভেতর চলে আসবে।
৭. কালার প্রিন্টার দিয়ে কি শুধু কালো-সাদা (Black & White) প্রিন্ট করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, যায়। আপনি প্রিন্টারের 'Printing Preferences' বা প্রোপার্টিজ-এ গিয়ে কালার মোড থেকে 'Grayscale' বা 'Black & White' সিলেক্ট করে দিলে রঙিন প্রিন্টার দিয়েও শুধু কালো-সাদা ডকুমেন্ট প্রিন্ট করতে পারবেন। এতে রঙিন কালি সাশ্রয় হয়।
৮. ডুপ্লেক্স প্রিন্টিং (Duplex Printing) কেন ব্যবহার করব?
উত্তর: ডুপ্লেক্স প্রিন্টিং বা কাগজের উভয় পাশে প্রিন্ট করার সুবিধাটি কাগজ সাশ্রয় করতে সাহায্য করে। এটি আপনার ডকুমেন্টের ওজন কমায় এবং নথিপত্রকে বই বা রিপোর্টের মতো সুন্দর রূপ দেয়।



