হাতি শব্দের হাতাহাতি: বাংলা প্রবাদ-প্রবচনের রঙিন ভাণ্ডার
হাতি শব্দের সাথে হাতাহাতি: বাংলা প্রবাদ-প্রবচনের রঙিন ভাণ্ডার:
আমাদের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য প্রাচীন ও সমৃদ্ধ। এর প্রবাদ-প্রবচন জীবনের নানা দিককে সংক্ষেপে প্রকাশ করে এবং ভাষার সৌন্দর্য ও বুদ্ধিমত্তা ফুটিয়ে তোলে। বিশেষত হাতি শব্দটি শুধু একটি প্রাণী নয়, বরং শক্তি, স্থিরতা ও মহত্ত্বের প্রতীক হিসেবে বাংলার প্রবাদে প্রচলিত।এই লেখায় হাতি শব্দের উৎস, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ এবং বাংলা প্রবাদ-প্রবচনে হাতি শব্দের সঙ্গে হাতাহাতি বিষয়ক রঙিন ভাণ্ডার জানতে পারবে। সাথে শুধু শব্দের ইতিহাসই নয়, বাংলার প্রবাদে হাতির ব্যবহার, তাৎপর্য ও সামাজিক বার্তাও।
বাংলা ব্যাকারন ও ভাষায় - হাতি
বানান বিশ্লেষণ: হ্+আ+ত্+ই
উচ্চারণ: হাতি
শব্দ-উৎস: সংস্কৃত হস্তিন্>প্রাকৃত হত্থি> বাংলা হাথী>হাতী>হাতি
পদ: বিশেষ্য
সমার্থক শব্দ: ইরম্মদ, করী, করেণু, কুঞ্জর, ক্ষুদ্রাক্ষ, গজ, দন্তী, দ্বিপ, দ্বিরথ, দ্রুমারি, নগ, নাগ, নাগেন্দ্র, পিল, পুষ্করী, বারণ, মাতঙ্গ, রদনী, সিন্ধুর, স্তম্ভরেম, হস্তী, হাতি।
বিপরীতার্থক শব্দ: মাদি হাতি।
যুক্তশব্দ: হাতিখেদা, হাতিশালা, পাগলাহাতি।
বানান বিশ্লেষণ: হ্+আ+ত্+ই
উচ্চারণ: হাতি
শব্দ-উৎস: সংস্কৃত হস্তিন্>প্রাকৃত হত্থি> বাংলা হাথী>হাতী>হাতি
পদ: বিশেষ্য
সমার্থক শব্দ: ইরম্মদ, করী, করেণু, কুঞ্জর, ক্ষুদ্রাক্ষ, গজ, দন্তী, দ্বিপ, দ্বিরথ, দ্রুমারি, নগ, নাগ, নাগেন্দ্র, পিল, পুষ্করী, বারণ, মাতঙ্গ, রদনী, সিন্ধুর, স্তম্ভরেম, হস্তী, হাতি।
বিপরীতার্থক শব্দ: মাদি হাতি।
যুক্তশব্দ: হাতিখেদা, হাতিশালা, পাগলাহাতি।
🟩 হাতি বিষয়ক বাংলা প্রবাদ-প্রবচন:
১। হাতির পাঁচ পা দেখা ।
২। পুরুষের দশ দশা, কখন হাতি কখন মশা।
৩ । হাত দিয়ে হাতি ঠেলা- অসম্ভব ব্যাপারকে সম্ভব করার চেষ্টা করা।
৪। সামনে দিয়ে গেলে হাতি, পিছন দিয়ে গেলে মাছি- পিছনের খবর কেউ রাখে না; সামনের দিকেই যত নজর।
৫। সুচ চলে না সদরে, হাতি চলে অন্দরে- নিয়ম-কানুনের মধ্যে বিরাট ফাঁক।
৬। হাতির মুখে দুব্বো ঘাস- প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই কম।
৭। থলির মধ্যে হাতি পোড়া- অসাধ্যসাধনের প্রয়াস।
৮। হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল।
১১। হাতির শুড় আসে যায়, ব্যাঙ দেখে ভয় পায়।
১২। হাতির দম্ভ চূর্ণ হয় পাহাড়ের কাছে।
১৩। জমি ওয়ালার সাথে হাতি ওয়ালা পারে না।
১৪। মরলে হাতির পায়ের তলে পড়ে মরা ভাল।
১৫। পা সরিলে হাতিও পড়ে।
১৬। পেট কাটলে মশাও মরে, হাতিও মরে।
১৭। ব্রর্জ, বিদ্যৎ জল আগুণ আর হাতি ইহাদের সহিত তামাশা না করি।
১৮। হাতি জোগাড় হলে শেকলও জোগাড় হয়।
১৯। হাতি জোগাড় হলে শেকলও জোগাড় হয়।
২০। শুয়োর বড় হলেও হাতি হয় না।
২১। মশার সঙ্গে হাতির দ্বন্দ্ব।
২২। মশা হাতির ওজন জানতে চায়।
২৩। কুড়ে ঘরে হাতি ঢোকানো।
২৪। গরিবের ঘরে হাতির পারা।
২৫। মরদ কি বাত হাতি কি দাঁত।
২৬। হাতির দাঁত সোনা দিয়ে বাঁধানো।
২৭। হাতি চলে আপন পথে- হাতির পিছনে কুকুর ভুখে।
২৮। কাকের সঙ্গে গিয়ে হাতিও পাকে পড়ে।
২৯। ব্রাহ্মণে আর চণ্ডালে, হাতি আর বেরালে।
৩০। না চাইলে ঘোড়াটা পাই, চাইলে বুঝি হাতিটা পাই।
৩১। হাতি চিনি দঁতে, মরদ চিনি বাতে।
৩২। হাতি গর্তে পড়লে চামচিকাও লাথি মারে।
৩৩। হাতিব পিঠে চড়ে কুকুর কে ভয় করে ।
৩৪। হস্তী মূর্খ।
৩৫। হাতির পাঁচ পা দেখচ্ছো।
৩৬। মুখে মুখে হাতি মারা।
৩৭। অন্ধের হাতি দেখা।
৩৮। হাতি বাঁচলেও লাখ টাকা, মরলেও লাখ টাকা।
৩৯। খাওয়াবে হাতির ভোগে, দেখবে বাঘের চোখে- ছেলে মানুষ করার স্বীকৃত গৃহে শিক্ষার শুরু।
৪০। হাতি যেমন খায় তেমনি পাদে।
৪১। কুনকি হাতি (বাগধারা)- কৌশলে বশকারী।
২০১২ সাল থেকে প্রতি বছর ১২ আগস্ট পালন করা হয় বিশ্ব হাতি দিবস। পৃথিবীর প্রতিটি দেশে এই দিবসটি উদযাপনের মূল উদ্দেশ্য হলো হাতিদের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং তাদের বাসস্থান রক্ষার প্রচেষ্টা করা। বর্তমানে হাতির সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। হাতি পৃথিবীর বৃহত্তম স্থলচর প্রাণী এবং তাদের দুটি প্রজাতি আছে আফ্রিকান হাতি এবং এশিয়ান হাতি। এই দুটি প্রজাতিরই অস্তিত্ব বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে।
🟩 হাতি নিয়ে স্মৃতি-
আমি প্রথম পথ হারাই হাতির পিছনের বাঁচ্চাদের সাথে হাটতে হাটতে। মজার হলো তখন আমিও বাচ্চা। হাতি যাচ্ছে এ পাড়া ওপাড়া ঘুরে ঘুরে। আর কত মানুষ হাতির পিছনে। কিভাবে যে এত দূরে চলে আসছিলাম বুঝতে পাড়ি নাই। মাগরীবের আজান হতেই ভয় শুরু হয়। এখন কিভাবে যাই আরেকটা ব্যাপার মনে পড়তেই সাড়া শরীর ঠান্ডা হয়ে যায় আমার সাইকেলটা খেলার মাঠে ফেলে আসছি। রিক্সাও নাই নিরব একটা রাস্তা পাশে একটা হোমিও প্যাথির দোকান ঐটার সামনে যেতেই বলে তুমি কে বাবা। আমিও বললাম আমি শহরের ঐ এলাকাতে থাকি ক্লাশ সিক্সে পড়ি। হাতির পিছনে হাটতে হাটতে এত দূর চলে আসছি। ঐ লোকটা বলে ভয়ের কিছু নাই তোমাকে বাসায় পাঠানোর ব্যবস্থা হবে তবে সময় লাগবে। রিক্সা না একজনের সাইকেলের পিছনে চড়ে চলে আসি বাসায়। মা একটু বকা দেয় আর সবচেয়ে খুশি হই তখন যখন দেখি মাঠ থেকে সাইকেলটা কেউ বাসায় দিয়ে গেছে। মা বলে তুই হাতির পিছনে গিয়েছিস দোকানদার কামাল দেখেছে। আহা শৈশব। সময় ১৯৯৭ স্থান মুন্সিগঞ্জ জেলার কোন এক উপজেলায়। আরেকটা ছিলো আমার বাবার সাথে মূলত। ২০০০ বা ২০০১ হবে। বাবার সাথে এসেছিলাম মিরপুর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন। সেখানে থেকে গিয়েছি ঢাকা চিড়িয়াখানা ঘুড়ে ফিরে দেখতে। হাতির সামনে যেতেই আলোচনা করি কত বড় প্রানী। বাবা বলো তো হাতি যদি কুরবানি দেবার জন্য নির্ধারিত হতো কি এক সমস্যায় পড়তে হতো। আর বাবা রেগে যায় যত উল্টাপাল্ট চিন্তা।
---বাউল পানকৌড়ি
ছোট এই চিহ্ন (@) তিন হাজার বছরের পুরনো, যা এখন আমাদের প্রতিদিনের ঠিকানার পদচিহ্ন






